বিটকয়েন— পরিচিতি ও শরঈ পর্যালোচনা

বিটকয়েন : ‘বিটকয়েন’ বর্তমানে আলোচিত একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি (Cryptocurrency)। ‘ক্রিপ্টো’ মানে অদৃশ্য, গোপন, সিক্রেট। কারেন্সি মানে মুদ্রা। সহজে বললে এমন একটি মুদ্রা, যা  অদৃশ্য, সংকেত বা নাম্বারের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, এর না আছে নিজস্ব বস্তুগত কোন আকার, না তা স্পর্শযোগ্য। তেমনিভাবে এর না আছে নিজস্ব কোন মূল্যমান বা ফায়দা (Intrinsic Value)।

হাইলাইটস

অস্তিত্ব সংকটে দেশের নদ-নদী

অথোর- টপিক- এনভায়রনমেন্ট

দেখার কেউ নেই— ০১


ভয়াবহ পানিশূন্যতার ফলে বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীর অস্তিত্ব সংকটের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। পলি জমে কমপক্ষে ৯৫টি নদী বিলুপ্তির অপেক্ষায় ধুঁকছে। এ ছাড়া আরো ৪২টি নদ-নদী পলি সঞ্চয়ের দরুন চরের চাপে বিপন্ন হয়ে পড়েছে। পলি জমে চর পড়ায় শুকনো মৌসুমে এসব নদীতে পানি থাকে না। নদী গবেষণা জরিপে সঙ্গতভাবে এগুলোকে মৌসুমি নদী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ নদ-নদীর এ সঙ্গীন দশায় নদী বিশেষজ্ঞরা দেশের ভূ-প্রাকৃতিক ভারসাম্যের ওপর বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা করছেন। একদিকে উজানে পানি প্রত্যাহার, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে নদীগুলোর ওপর অবৈধ দখলবাজি, ভরাট এবং অপরিকল্পিতভাবে নানা স্থাপনা নির্মাণের কারণে দেশের অধিকাংশ নদীবক্ষ প্রথমে নাব্যতাহীন, অতঃপর পানিশূন্য হয়ে ধু ধু বালুচরে পরিণত হচ্ছে।

পানি ছাড়া প্রাণের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। আমাদের সভ্যতা, কৃষিব্যবস্থা এবং যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের মৌলিক মাধ্যমই হচ্ছে নদী। নদীর নাব্যতা হারানো, শুকিয়ে যাওয়া অথবা মারাত্মক দূষণ প্রক্রিয়া দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, জীববৈচিত্র্য, নৌপরিহন ব্যবস্থা, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হুমকি। এ হুমকি মোকাবিলার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আমাদের সার্বিক অর্জন, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে। যৌথ নদী কমিশনকে সক্রিয় করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নদী দখল ও দূষণরোধের সরকারি তৎপরতায় আরো গতি সঞ্চার ও নজরদারি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। গতানুগতিক ধারার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা, অতঃপর আবার দখলের প্রক্রিয়া থেকে নদীগুলোকে মুক্ত রাখার কঠোর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। একবার দখলমুক্ত করার পর দখলমুক্ত নদীতীর সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নদী তীরবর্তী এলাকা দখলমুক্ত রাখতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে অথবা সামাজিক বনায়নের আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। নদী দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। সেই সঙ্গে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা দ্রুতায়িত করা দরকার। ঢাকার চারপাশের নদীগুলো দখলমুক্ত করে চক্রাকারে নৌপথকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ বাস্তবায়নে অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারের কর্মকা- জোরদার হওয়া প্রয়োজন। প্রতিবছর শুকনো মৌসুমে নদীগুলোতে পানির স্তর নিচে নেমে যায়। নদী দখলমুক্তি বা উচ্ছেদ অভিযান ও নদীতীর সংরক্ষণ কার্যক্রম এখনই জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা লাখ লাখ টন পলি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে জমা হয়ে পানিপ্রবাহ বিঘিœত করছে এবং নাব্যতা সংকট বাড়িয়ে তুলছে। ব্যাপক আকারের ড্রেজিং পরিকল্পনা গ্রহণ এবং নদী ব্যবস্থাপনায় আরো অধিক গুরুত্ব দেয়া এখন সময়ের দাবি। আর জেআরসিকে সক্রিয় করে পানির ন্যায্য হিসসা আদায়ের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম হবে বলেও আমরা আশা করি।

নদীমাতৃক বাংলাদেশে মানুষের জীবন সম্পূর্ণভাবে পানির ওপর নির্ভরশীল। নদ-নদীর পানিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এদেশের মানুষের জীবনধারা। নদীকে ঘিরেই পত্তন হয়েছে শহর-বন্দর-গঞ্জ-গ্রামের। দেশের মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ এ দেশের নদ-নদীর সঙ্গে জড়িত দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। সাধারণত প্রাকৃতিক দুটি উৎস থেকে পানি পেয়ে থাকে বাংলাদেশের মানুষ। প্রথমটি হলো নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ও পুকুরের পানি। দ্বিতীয়টি হলো ভূগর্ভস্থ পানি। প্রথমটির ওপর দ্বিতীয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। দেশে ভূগর্ভস্থ পানি অফুরন্ত নয়। নদ-নদী শুকিয়ে যাওয়ায় শুকনো মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে সেচ ও পানীয় জলের জন্য ভূগর্ভস্থ পানি তোলায় আর্সেনিকে ভয়াবহভাবে আক্রান্ত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলকার মানুষ। নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে দেশের মৎস্য সম্পদ ও নৌপরিবহনে। ভূ-প্রকৃতিগতভাবে বাংলাদেশ একটি বন্দ্বীপ অঞ্চল। এর তিনদিকে ভারত ও মিয়ানমার আর একদিকে বঙ্গোপসাগর। বঙ্গোপসাগরের জোয়ার-ভাটার টানে সাগর থেকে আসে লোনা পানি। এই লোনা পানিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসা প্রতিরোধ করে উজান থেকে আসা নদ-নদীগুলোর মিঠাপানি। বাংলাদেশের প্রায় সব নদ-নদীর পানির পানিপ্রবাহের মূল উৎস সীমান্ত নদী। কিপ রিডিং…

ফিলিস্তিনি গল্প— ফিলিস্তিন এক্সপ্রেস

অথোর- টপিক- লিটারেচার

মূল— মাহমুদ রিমাবি। ভাষান্তর— মনযূরুল হক


কেবল যে এক দঙ্গল যাত্রী আর তাদের মালপত্রেই গাদাগাদি হয়ে আছে ট্রেনটা তা নয়, ভেতরে টইটম্বুর হয়ে আছে আরো একরাশ মানবীয় আবেগ ও উত্তেজনা। একটা ট্রেন, সৈন্যবাহী ট্রেনগুলোর মতো একটা পুরোনো ট্রেন। অথবা ট্রেনটা যুদ্ধের মুভিগুলোতে ধূসর রঙা যেমন ট্রেন দেখা যায় তেমনই। কিংবা হয়তো এটাই ফিলিস্তিন।

বানানোর পর প্রথম যেদিন স্টার্ট নিলো সেদিন থেকেই ট্রেনটা আমাদের নিয়ে ছুটছে— এভাবেই কথা শুরু করেছিলেন পঞ্চাশোর্ধ আমার ডাক্তার প্রতিবেশি। তার কথায় সন্দেহ করার কোনো বাসনা আমার ছিলো না। তখন আমি বরং ট্রেনে ওঠার আগেকার কোনো একটা স্মৃতি ঘাঁটছিলাম। ট্রেনের হৈ-হুল্লোড় আর অস্পষ্ট একটা ডাকে আমার ঘোর ভাঙলো। যদিও ট্রেনটা চলছে খুব দ্রুত। কিন্তু সময় আমাদের নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে অসম্ভব ধীর গতিতে। পাশেই চামড়া মোড়া আসনে বসে থাকা সহযাত্রীর সাথে আমি কথা বলছি খুব কম। প্রচ- ঝাঁকুনি হলে কেবল আমরা পরস্পর একটু দৃষ্টি বিনিময় করি। চারদিকের প্রচ- চিৎকার-চেঁচামেচি যেনো আমার কথা বলার যাবতীয় আগ্রহ শুষে নিচ্ছে। কয়েকবার এমন হয়েছে যে, আমি কিছু বলবো— অমনি বিদ্যুৎ চলে গেছে। হ্যাঁ, অন্ধকারেও আমি কথা বলে যেতে পারি এবং  গলা চড়িয়ে চিৎকার করে বললে তিনি আমার কথা শুনবেনও বটে। কিন্তু আলোতে বলা কথা আর অন্ধকারের কথা কি এক? তাছাড়া সহসা হামলে বসা এই অন্ধকার বিক্ষিপ্ত করে দিচ্ছে আমার সব চিন্তা-ভাবনার স্রোত; তার উপরে আবার জেঁকে আছে সুযোগের খোঁজে থাকা হঠাৎ ঘটে যেতে পারে এমনসব অপরাধের ভয়।

আমার সামনের দুই যাত্রীর একজন বেশ মোটা ও খাটো ধাঁচের, আরেকজন লম্বাটে ও টেকো মাথার মানুষ। লাভ-ক্ষতি, লেনদেনের রীতি, অব্যর্থ দারুণ কোনো সুযোগ কিংবা বৈধতা-অবৈধতা— এই সব নিয়ে কথার পর কথা তারা বলেই যাচ্ছে। স্বভাবতই তাদের বলতে হচ্ছে উচ্চৈ:স্বরে এবং হাঁপানো কণ্ঠে। বোঝা যায়, পরস্পরের বোঝাপড়া আছে বেশ। চেঁচামেচি, চিৎকার কিংবা সহসা হামলে পড়া অন্ধকার— কিছুই তাদের আলাপে বিঘ্ন ঘটাতে পারেনি। আমি বুঝতে পারছি যে,  অতি সত্বর আমার কিছু বলা উচিত। আর শুরু করার উদ্যোগটা নিতে হবে আমাকেই। কারণ, যারা নীরবতার সাথে নীরবতা বিনিময় করে এবং কথার সাথে কথা— আমার পাশের লোকটি হলেন সেই শ্রেণির লোক।

তো পাশের লোকটি আমার কানে ফিসফিস করে বললেন— গিরিপথ এলেই বিদ্যুৎ চলে যায় আর এ দিকের বেশিরভাগ গিরিপথগুলোই অনেক দীর্ঘ। সেটা দেখতে আপনি একটা খারাপ সময়ই বেছে নিয়েছেন।

আমি কী দেখবো? বরং এটাই ঘটবে, এমনই ঘটতে থাকবে সব।

কোনো একটা গিরিপথ ঘনিয়ে এলেই অজানা কারণে আমি কিছু বলার প্রয়োজন বোধ করি খুব। কিন্তু কখন যে কোন গিরিপথে ঢুকে পড়ছি, আমরা সেটা টের পাই না। এভাবেই সব ঘটতে থাকে।

গিরিপথ এলে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার যদিও একটা যুক্তি আছে, কিন্তু যাত্রীরা বিষয়টি চুপচাপ মেনে নেয়নি। বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রথমে শুরু হয় গুঞ্জন, এরপর বেজে ওঠে শোরগোল, তারপর আসে তীব্র প্রতিবাদ। কেবল এ সময়ই আমি কথা বলার সাহস পাই এবং কিছু বলতে শুরু করি।

ট্রেনটা আসলে এতো বড় ও বিকট আকৃতির, যে দেখলে ভয় লাগে। এতো বড় যে, আস্ত একটা শহরের সব বাসিন্দাকে বহন করতে সক্ষম। অনেক লম্বা ট্রেনটা। এতো লম্বা যে, এক মাথা থেকে আরেক মাথা অব্দি দেখা যায় না..। প্রত্যন্ত গ্রামের শীতের রাতের চেয়েও লম্বা। পুরো ট্রেন জুড়ে আছে অগণিত বগি। আর একেকটা বগিও এতো বড় যে, প্রতিটা বগি আস্ত এক ট্রেনের যাত্রীতে সংকুলান হয়ে গেছে; আর যাত্রীরাও সবাই সবাইকে চেনে। এমনকি যারা আগে থেকে একে অপরকে চিনত না— যেমন আমি আর আমার সফরসঙ্গী ডাক্তার লোকটি—তারাও যেতে যেতে সবার সাথে পরিচিত হয়ে গেছি। কারণ আমরা চলছি অত্যন্ত কঠিন অবস্থার ভেতর দিয়ে, এমনকি যতটা ভেবেছিলাম, তার চেয়েও দীর্ঘ একটা যাত্রার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা। মঞ্জিলে কবে যে পৌঁছবো সে সম্পর্কেও কোনো ধারণা নেই আমাদের। শুধু এইটুকুই জানি আমরা, ট্রেনটা যেহেতু দুটি লোহার লাইনের উপর দিয়ে ছুটে যাচ্ছে, তাই আজ হোক বা কাল একদিন না একদিন আমরা একটা গন্তব্যে পৌঁছবোই। কিপ রিডিং…

কাক— সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান পাখি

অথোর- টপিক- ফিচার

পবিত্র কুরআনের আলোচিত প্রাণী— ০১


কাক আমাদের অতি পরিচিত একটি পাখি। মহাগ্রন্থ পবিত্র কুরআনের দুই স্থানে কাকের কথা বর্ণিত হয়েছে। কাক মূলত কর্ভিডি জাতীয় একটি পাখি। এর ইংরেজি নাম— Crow. আর বৈজ্ঞানিক নাম— Corvus Brachyrhynchos. আরবিতে কাককে বলা হয় গোরাবুন। পবিত্র কুরআনে এই শব্দের মাধ্যমেই কাকের আলোচনা করা হয়েছে।

ইতিহাসের পাতা থেকে : উষ্ণম-লীয় সব মহাদেশে প্রায় ৪০ প্রজাতির কাক দেখা যায়। অধিকাংশ কাকের দেহবর্ণ কালো রঙের। কাকের উদ্ভব ঘটেছে মূলত মধ্য এশিয়ায়। সেখান থেকে এটি উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। কাককে পাখিজগতের সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান পাখি বলে মনে করা হয়। শুধু তাই নয়, প্রাণীজগতের অন্যতম বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে এদের গণ্য করা হয়। আধুনিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কাক যে কেবল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারে তাই নয়, যন্ত্রপাতি নির্মাণেও এরা পারদর্শী। বিশ্বের পাখি গবেষকদের মতে পৃথিবীতে বসবাসকারী পাখিদের মধ্যে কাকের জাতই সবচেয়ে বেশি।

হজরত নূহ (আ.) -এর যুগে মহাপ্লাবনের পর হজরত নূহ (আ.)-এর নৌকা থেকে সর্বপ্রথম কাককেই তিনি জমিনে ছেড়েছিলেন। পবিত্র কুরআনেও আল্লাহ তায়ালা কাককে জ্ঞানী পাখির চরিত্রে উপস্থাপন করেছেন। বাংলাদেশে কাক বলতে আমরা পাতিকাককেই বুঝি। পাতিকাক (Corvus splendens) (ইংরেজি— House Crow)। আমরা পাতিকাগ বা পাতিকাউয়া বলে থাকি। এর নামকরণ করা হয় ১৮১৭ সালে।

কাক পরিচিতি : কাক দখতে অনেকটা কবুতরের মতোই। এর দেহের রঙ কালো, তবে গলার রঙ ধূসর। এদের পা ও ঠোঁট খুবই সক্রিয়। এদের দলবদ্ধভাবে থাকতে দেখা যায়। একটি কাকের বাচ্চাকে আঘাত করা হলে দলবদ্ধভাবে অন্যান্যা কাকেরা তাড়া করে। বুদ্ধিমত্তার জন্য কাকের সুনাম আছে। কাক তার কর্কশ আওয়াজের জন্য বিখ্যাত। এদের কখনও উচ্চস্বরে কা-কা বা কখনও চাপা স্বরে ক-ক আওয়াজ করতে শোনা যায়। কাক সর্বভূক। অন্য পাখি, ছোট ব্যাঙ, কেঁচো, ফল, কীটপতঙ্গ এমনকি নোংরা আবর্জনাও এরা খায়। স্ত্রী কাক ও পুরুষ কাক তেমনভাবে আলাদা করা যায় না। এরা সাধারণত ২০-৩০ বছর বাঁচে। কিছু কিছু আমেরিকান কাক প্রায় ৫৯ বছর বাঁচে। এরা গাছের ডালে, ল্যাম্পপোস্টের উপর খড়কুটো, ন্যাকড়া, কাঠি প্রভৃতি দিয়ে বাসা বানায়।

নানা প্রজাতির কাক রয়েছে : এদের চারটি উপপ্রজাতি সনাক্ত করা হয়েছে— ১. splendens : ভারতীয় উপদ্বীপ, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান এদের পাওয়া যায়। ২. zugmayeri : খুব বেশি হালকা, অনেকসময় প্রায় সাদা বলে মনে হয়। দক্ষিণ-পূর্ব ইরান থেকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-মধ্য ভারত দেখা যায় এদের। ৩. Insolens : অনেকটা splendens এর মতোই, তবে কালো অংশগুলোর প্রান্তগুলো ক্রমে হালকা হয়ে গিয়েছে। চীনের দক্ষিণাঞ্চল, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয় উপদ্বীপের উত্তরাংশ ও ভারতের পশ্চিমাংশ এদের প্রধান আবাসস্থল। ৪. protegatus : প্রায় insolens এর মত, তবে দেহের হালকা অংশগুলো বেশি গাঢ়। দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ এদের প্রধান আবাসস্থল। মানুষ যেসব জায়গায় প্রথম বসতি স্থাপন করে, যেমন-চরাঞ্চলে, সেসব জায়গায় পাতিকাকও মানুষের সাথে সাথে বসতি করে। এর কারণ এরা সর্বভূক আর যেকোন প্রকারে বাসা বানিয়ে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। মানুষের উচ্ছিষ্ট খেয়েই এরা জীবনধারণ করে। এছাড়া আরো অনেক প্রজাতির কাক রয়েছে পাতি কাক। দাঁড় কাক। পাহাড়ি কাক। কিপ রিডিং…

ধর্মীয় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কি ‘মাদারাসা’ বলা উচিত?

অথোর- টপিক- অ্যাকাডেমি

আমাদের দেশে অর্থাৎ বাংলাদেশে নানান শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে। এক- কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা। দুই- আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা। তিন- সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থা। চার- ইংলিশ ভার্সন শিক্ষা ব্যবস্থা। পাঁচ- ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা ব্যবস্থা। ছয়- ওপেন ইউনিভার্সিটির অধীনে বয়স্ক বা এ জাতীয় অন্যদের শিক্ষা ব্যবস্থা।

ক্বওমি মাদরাসায় সাত বছর, ছয় বছর, দশ বছর এবং বারো বছরের কোর্স চালু আছে। আছে ক্যাডেট মাদরাসাসহ নানাবিধ মাদরাসা। সামান্য মাথা খাটালে এত শিক্ষা ব্যবস্থা যে এ দেশে প্রচলিত আছে সব হয়ত বের করা সম্ভব কিন্তু সাথে সাথে মাথা নষ্ট হওয়াও সম্ভব। বিশ্বের আর অন্য কোন দেশে এত ধরণ ও রকমের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে বলে আমি অন্তত জানিনা। আমি মনে করি সার্বজনীন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হওয়া দরকার।

যাই হোক, আমি বলতে চাচ্ছি- আমরা আমাদের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে মাদরাসা বলে সম্বোধন করে থাকি। এ সম্বোধন সঠিক নয়। কারণ- মাদরাসা আরবী শব্দ এর অর্থ হলো, বিদ্যালয়। যেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা দেওয়া হয় সেগুলোকে মাদরাসা বলা উচিৎ।

যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা দেওয়া হয় সেগুলোকে মাদরাসা বলা ভুল। আরবীতে বলতে হলে বলতে হবে- কুল্লিয়্যা, মাজমা বা হাশদা ইত্যাদি শব্দ। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা দেওয়া হয় যেসব প্রতিষ্ঠানে- সেসবকে জামিয়া বলা উচিৎ। জানা না থাকার কারণে অথবা আমাদের ভুল বুঝাবার কারণে আমরা সব লেভেলের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে মাদরাসা বলছি বা বলে থাকি। এরকমটা অত্যন্ত বেমানান। কিপ রিডিং…

সৌদি আরব সম্পর্কে ১০টি অজানা তথ্য!

অথোর- টপিক- ফিচার

মধ্যপ্রাচ্যের সাদা চোখ— ০১


সৌদি আরব সম্পর্কে আমরা কি জানি? অনেক কিছেই হয়তো জানি আবার অনেক কিছুই জানি না।  আমরা হয়তোবা জানি যে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত এবং এটি একটি অদ্ভুত এবং বিতর্কিত দেশ।  যেখানে পুরো পশ্চিমা বিশ্ব এটিকে বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে, তবুও নিজের চোখের সামনে দিয়ে কিছু মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে দেখা এই দেশে নতুন কিছুই নয়।  তবে যাই হোক- এটি তাদের নিজেদের রাষ্ট্র, তাদের সংস্কৃতি এবং তাদের সিদ্ধান্ত যে তারা তাদের দেশ কিভাবে শাসন করবে, তা যতই উদ্ভট অথবা বর্বর হোক না কেন।  চলুন আমরা দেখে নেই এই রাষ্ট্র সম্পর্কে ১০ টি অজানা তথ্য।

১। আপনি কি জানেন, ইসলামে মক্কা এবং মদিনা হচ্ছে সবচেয়ে পবিত্র শহর এবং এই পবিত্র শহরে কোন অমুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ?

২।  আপনি যদি মদ্যপ পানীয় নিয়ে চলাফেরা অথবা এই পানীয় পান করতে গিয়ে ধরা পড়েন, তাহলে আপনাকে বেত্রাঘাত করা হবে।

৩।  প্রকাশ্যে সমকামিতা এবং অমুসলিম বিশ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে ধরা পড়লে আপনাকে বেত্রাঘাত করা হবে। এই অপরাধে আপনার মৃত্যুও হতে পারে।

৪।  সৌদি আরবে নারী পুরুষের মধ্যে বৈষম্য হচ্ছে একেবারেই সাধারণ। একটি পরামর্শ হল, আপনি যদি একজন পুরুষ হন তাহলে কোন পরিস্থিতিতেই একজন নারীর সঙ্গে একসাথে কোথাও যেতে পারবেন না।

৫। সৌদি আরবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এইজন্যে আপনি কখনও কোন নারীর দিকে আপনার ক্যামেরা তুলতে পারবেন না। ছবি তোলার আগে অবশ্যই তাদের অনুমতি নিতে হবে, তাছাড়া আপনার ক্যামেরা ছাড়াও অনেককিছুই ভাঙতে পারে! কিপ রিডিং…

ইংরেজি বর্ষপঞ্জির কোন মাসের নাম কেন রাখা হয়েছে?

অথোর- টপিক- হিস্টোরি

লিখেছেন পাপীয়া অশ্রু


আমাদের প্রতিদিন চলার পথে দিন মাসের হিসেব রাখার গুরুত্ব আর নতুন করে বলার কিছু নেই। আমাদের ইট পাথরের দেয়ালে হয়ত আর বাঁধানো ক্যালেন্ডার এর শোভা আজকাল তেমন পাওয়া যায় না, তবুও হাতের স্মার্ট ফোনটিতে সময়ের হিসেবের সাথে দিন তারিখ মাসের হিসেব না চাইতেও ঠিকই ফুটে ওঠে। মাসের হিসেব আমাদের জন্য আরও একটু বেশিই তাৎপর্যপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হিসেব, রোজার মাস, ঈদের ছুটি, পূজার ছুটি এসব তথ্যের সাথে লুকিয়ে রয়েছে হরেক ধরনের পরিকল্পনা। সবকিছুই যেন এই মাসের ছক মেনেই চলে। গুটি গুটি পায়ে এক একটি মাস শেষ হয় আর আমরা যেন ততই নতুন আরেকটি বছরের দিকে অগ্রসর হতে থাকি। জানুয়ারি মাস থেকে বছরের শুরু করে ধাপে ধাপে এগারটি মাস পেরিয়ে যখন বারো মাসে বা ডিসেম্বর মাসে পোঁছায় তখন লেখার ছাপে এক বছর এগিয়ে আনার প্রত্যয় শুরু হয়, নয়ত আগের বছর লেখার ভুল হতে থাকে প্রতিনিয়ত। সে এক অন্য আলোচনা। কিন্তু এই ইংরেজি মাসের নামকরণ কিভাবে শুরু হলো তা কি জানেন? তাহলে চলুন ইংরেজি মাসের গোড়াপত্তন কিভাবে হল তাই জানা যাক।

ইংরেজি ক্যালেন্ডার : যুগ যুগ ধরে যে মাসের নামগুলো আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে সে সব নামের পাশে আছে এক একটি ইতিহাস বা কারণ। বিভিন্ন ঘটনা বা উল্লেখযোগ্য রোমান দেব-দেবী অথবা বিভিন্ন সংখ্যাধারা থেকে এসেছে এক একটি ইংরেজি মাসের নাম। প্রথমে আমরা যে ক্যালেন্ডার ব্যবহার করি তার উৎপত্তি সম্পর্কে একটু ধারণা দেয়া যাক। এখন যে ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা হয় তার নাম মুলত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার বা খ্রিস্টান ক্যালেন্ডার। ১৫৮২ সালে প্রথম এই ক্যালেন্ডার ব্যবহার শুরু করেন পোপ দ্বাদশ গ্রেগরি। এর পূর্বে যে ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা হত সেটি ছিল ‘জুলিয়ান ক্যালেন্ডার’। খ্রিস্টপুর্ব ৪৫ সালে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার এই ক্যালেন্ডারের প্রচলন শুরু করেন। দিনের হিসেবে সামান্য ফারাক থাকলেও মাসের নামগুলো কিন্তু দুটো ক্যালেন্ডারেই এক। তবে এখানে জেনে রাখা ভাল, জুলিয়ান ক্যালেন্ডার এর পুর্বসুরি ‘রোমান ক্যালেন্ডার’-এ মাসের নামগুলো ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। এই ক্যালেন্ডারে বছর শুরু হত মার্চ মাস থেকে। এখন যে-যে নামে আমরা মাস চিনি, তার নামকরণ হয় জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের সময় থেকেই। এবার এক এক মাসের পেছনের গল্পগুলো জানা যাক।

১. জানুয়ারি : ‘জানুস’ নামের একজন রোমান দেবতার নামে এই মাসের নাম রাখা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী দেবতা জানুস’কে বলা হয় ‘গড অফ ডোরস’। কোনও কিছু শুরু করার দরজা। বিভিন্ন জাদুঘরে এই দেবতার দু’দিকে দুটো মুখবিশিষ্ট মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়। এমনটা মনে করা হয় যে, ইনি ভূত এবং ভবিষ্যৎ দুটোই দেখতে পেতেন। তাই মনে করা হয় আগের বছরের শেষ আর নতুন বছরের শুরুর দিকে ঘোরানো তার দুই মুখ। কিপ রিডিং…

শিশুসাহিত্য সাধনায় মুসলমানদের অবদান

অথোর- টপিক- জার্নাল

ভাষার মাসে ভাষা-সাহিত্যের ইতিহাস— ০১


প্রাকআলোচনা : একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ- বীজ থেকে অঙ্কুর, অঙ্কুর থেকে চারা, চারা থেকে শিশুগাছ, শিশুগাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ একটি গাছের রূপ লাভ। [প্রকৃতির সদস্য প্রতিটি গাছের জীবনপ্রক্রিয়ার সঙ্গে মানবসন্তানদের জীবনপ্রক্রিয়ার চমৎকার মিল রয়েছে। একটি গাছকে মায়ের গর্ভের মতো করে মাটির গর্ভে কিছু সময় রাখতে হয়। এরপর হাছের বীজটি ছোট বাচ্চার মতো করে গজিয়ে ওঠে। তখন সে চারা গাছটিকে ছোট্ট একটি মানবসন্তানের মতো করে খাবার-পানীয়সহ সকল প্রকার প্রয়োজনঅয়তাকে সরবারহ করতে হয়। এর পর একটি গাছ যখন তার কৈশরে পৌছে তখন সে মানবসন্তানের মতোই কিছুটা হলেও পরিচর্যা বা লালন-পালনের মুখাপেক্ষী থাকে না। এর পর গাছটি ধীরে ধীরে সম্পূর্ণভাবে নিজেই একটি প্রাপ্ত আকার ধারন করে এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মাতো গাজ প্রজননের প্রক্রিয়া গ্রহণ করে অন্য আরো গাছের জন্ম প্রদান করে। মানবজীবনের বা একটি মানব সন্তানের ছোট থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার জীবন প্রক্রিয়ার সঙ্গে একটি গাছের জীবন প্রক্রিয়ার এই মিলকে ফুটিয়ে তোলার জন্য আলোচ্য প্রবন্ধের সূচনা পর্বে এই উপমা আকৃতির বাক্য লিখিত হয়েছে।] প্রকৃতির এ পালাবদলের মত আগামীদিনের পিতা- একজন শিশুর জীবনেও আসে কিছু পালাবদল। দিনবদলের সাথে সাথে আসে রূপ বদলের  মত কিছু ঝড়-ঝাপটা। মানবজীবনের এসব পালাবদলে টিকে থাকার জন্য চাই কিছু সুশিক্ষা। প্রয়োজন পরে কিছু সুদীক্ষার। চাই কিছু সুঠাম হাতের তত্ত্ববধায়ন। সুমতি লালনপালন।

আগামীদিনের রাহবার-আকাবিরকে [‘রাহবার’ ও ‘আকাবির’ শব্দদুটি আরবি। আরবি ভাষার শব্দনীতি মোতাবিক ‘রাহবার’ শব্দটি একটি বিশেষ্য বা ইসিম। আরবি ভাষায় যে কোনো পথ প্রদর্শককে ‘রাহবার’ বলা হয়।] দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য দরকার কিছু সুখপঠন সামগ্রী। কঁচি মন-ক্যানভাসে এখনই এঁকে দেয়া চাই সুর্দশনা-সুন্দর আদর্শময়া কিছু ছবি, কিছু মডেল।

কবে, কার হাতে, কীভাবে এবং কাকে উৎসর্গ করে বাংলাভাষায় শিশুসাহিত্যসাধনার জন্ম ঘটে, ঠিক বলা মুসকিল। তবে বঙ্গদেশে হিন্দু পন্ডিতদের হাতে শিশুসাহিত্যসাধনার দ্বার উন্মোচিত হয়- একথা যেমন সত্য, মুসলমান সাহিত্যিকদের এপথে বিলম্বে অংশগ্রহণের বিষয়টাও অসত্য নয়। বাংলাসাহিত্যের অনান্য শাখা-পল্লবের মত শিশুসাহিত্যসাধনায় মুসলমানদের অবদান-সূর্য অনেক বিলম্বে উদিত হয়। অনেক পরে হলেও সক্রিয় এবং স্বার্থক অংশগ্রহনের মাধ্যমে বিলম্বিতের দোষ এড়াতে পেরেছিল তারা, শতভাগ।

শিশুতোষ পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়ে বঙ্গদেশে শিশুসাহিত্যসাধনা শুরু হয়। বাংলাভাষাতে যারা প্রথম শিশুতোষ পাঠ্যপুস্তক রচনায় ব্রতী হন বলে আমরা ইতিহাস গবেষনায় দেখতে পাই- তারা ছিলেন র্ফোট উলিয়াম কলেজের খ্রীস্টান ও হিন্দু পন্ডিতগণ। পরবর্তীকালেও তাদের ধারাবাহিকতায় অনেক হিন্দু পন্ডিত এপথে আগ্রহী হন এবং সাধনামুখর জীবন গড়তে সক্ষম হন। বিদ্যাসাগর, অক্ষয়দত্ত, শিবনাথ শাস্ত্রী, রাজকৃষ্ণ, রাজেন্দ্রলাল, মধুসুধন মুখোপধ্যায়, যোগীন্দ্রনাথ সরকার প্রমুখ নাম হিন্দু শিশুপাঠ্য রচনা-আদিপর্বের গৌরব।

১৮০০ খ্রীস্টাব্দের প্রথম দিকে র্ফোট উলিয়াম কলেজের পন্ডিতরা মিশনারী এবং দেশী ছাত্রদের জন্য শিশু পাঠ্যপুস্তক রচনা আরাম্ভ করেন।  এ মিশনারী যুগেই তাদের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়, ‘কলিকাতা বুক সোসাইটি’ (১৮১৭),  ‘ভার্নকুলার লিটারেচার কমিটি’ (১৮৫০), এবং অনুবাদ সাহিত্য গড়ে তোলার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বঙ্গ অনুবাদ সমাজ’ (১৮৫০)। ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিশুতোষ পাঠ্যপুস্তকগুলি ১৮৫০-১৮৬৩ সালে প্রকাশিত হয়। অক্ষয় দত্ত রচিত ‘চারুপাঠ’ (৩খন্ড) প্রকাশিত হয় ১৮৫৩-১৮৫৯ সালে। মদন মোহন রচিত ‘র্তকালংকারে শিশুশিক্ষা’ ১৮৪৯-১৮৫০ সালে তিনখন্ডে প্রকাশ পায়।একদিকে শিশুতোষ পাঠ্যপুস্তক রচনা যেমন শিশুসাহিত্য সাধনার গতিকে তড়ানিত্ব কওে, তেমনি তৎকালে প্রকাশিত বিভিন্ন শিশুতোষ পত্রিকায় ছোটদের জন্য লেখা-রচনা সাহিত্যের এ ধারায় উন্নয়নের জোয়ার আনে।

যদ্দুর জানা যায়, ১৮১৮ খ্রীস্টাব্দে ‘দিকদর্শণ’ নামে সর্বপ্রথম এদেশে শিশুতোষ পত্রিকার প্রকাশ ঘটে। এরপর সময়ের সাথে সাথে ‘পঞ্চাবলী’ (১৮২৯) ‘বালকবন্ধু’ (১৮৭৮) ‘সখা’ (১৮৮৩) ‘বালক’ (১৮৮৫) ‘সাথী’ (১৮৯০) ‘সখা ও সাথী’ (১৮৯৪) ‘মুকুল’ (১৮৯৫) ‘প্রকৃতি’ (১৯০০) ইত্যাদি শিশুপাঠযোগ্য পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাভাষায় শিশুসাহিত্য সাধনায় নতুন প্রাণের জোয়ার আসে। নব উষার স্বর্নদ্বার উন্মোচিত হয়।  এসব পত্রিকার পাতায় তখন নতুন নতুন এবং শ্রেষ্ঠ সব শিশুসাহিত্যিকদের সমাগম ঘটতে থাকে।  এককথায় বলা চলে, সেকালে রচিত শিশুতোষ পাঠ্যপুস্তক এবং প্রকাশিত শিশুপাঠ্য পত্রিকার মাধ্যমে  সে যুগের বাঙালি শিশুদের জীবনযাপনের ও আনন্দ-উপভোগের যথাযথ  খোরাক বন্টন হয়েছিল।

শিশুচিত্তের চাহিদা মোতাবেক ধীরে সুধীরে  বাংলা শিশুসাহিত্যসাধনা প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠে। লেখক-প্রকাশক উভয় শ্রেনী উদ্ভুদ্ধ হয়ে ওঠেন শিশুতোষ প্রকাশনায়। ফলে আধুনিক বিশ্বের শিশুসাহিত্যসাধনার পাশাপাশি আমাদের বাঙালি শিশুসাহিত্যসাধনাও প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়। আর্ন্তজাতিক মহলে বাঙালি শিশুসাহিত্যকে গর্বিত-প্রশংসিত করে তোলার পিছনে যে সব শিশুপত্রিকা ভূমিকা পালন করেছে বলে দেখা যায়, তা হলো- ‘শিশু’ (১৯১৩) ‘ধ্রুব’ (১৯১৩) ‘সন্দেশ’ (১৯১৩) ‘মৌচাক’ (১৯২০) ‘বঙমশাল’ (১৯২০) ‘শিশুসাথী’ (১৯২২) ‘খোকাখুকু’ (১৯২৩) ‘রামধনু’ (১৯২৭) ‘মাসপয়লা’ (১৯২৮) ‘পাঠশালা’ (১৯৩৬) ইত্যাদি। কিপ রিডিং…

বিটকয়েন— পরিচিতি ও শরঈ পর্যালোচনা

অথোর- টপিক- অপিনিয়ন/লিড স্টোরি

বিটকয়েন : ‘বিটকয়েন’ বর্তমানে আলোচিত একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি (Cryptocurrency)। ‘ক্রিপ্টো’ মানে অদৃশ্য, গোপন, সিক্রেট। কারেন্সি মানে মুদ্রা। সহজে বললে এমন একটি মুদ্রা, যা  অদৃশ্য, সংকেত বা নাম্বারের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, এর না আছে নিজস্ব বস্তুগত কোন আকার, না তা স্পর্শযোগ্য। তেমনিভাবে এর না আছে নিজস্ব কোন মূল্যমান বা ফায়দা (Intrinsic Value)। আর ‘বিটকয়েন’-এ bit শব্দের অনেক অর্থ। যেমন, টুকরো, ছোট অংশ, অল্প, কিছুক্ষণ। এর আরেক অর্থ, কম্পিউটারে ব্যবহৃত সংক্ষিপ্ততম তথ্য। এখানে শেষোক্ত অর্থই উদ্দেশ্য। যেহেতু এটি কম্পিউটারের ক্ষুদ্র তথ্যকে ব্যবহার করে তৈরি হয়, তাই একে ‘বিটকয়েন’ বলা হয়।

ইন্টারনেটে ক্রিপ্টোকারেন্সি অনেক আছে। যেমন, Ripple, Ethereum ইত্যাদি। এসবের মধ্যে বর্তমানে ‘বিটকয়েন’ সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে আলোচিত ক্রিপ্টোকারেন্সি। এসব ক্রিপ্টোকারেন্সির কিছু কমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে, এবং কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা কারেন্সির প্রস্তুতকারীগণ নির্ণয় করে থাকেন। আমাদের বক্ষ্যমাণ আলোচনা কেবল বিটকয়েন নিয়ে, যার সাথে অন্যগুলোর কিছু পার্থক্য আছে এবং যা শরঈ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা জরুরী। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিটকয়েন মূলত একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি, যা ভার্চুয়াল মুদ্রা। এর শারীরিক (Physical) বৈশিষ্ট্য নেই। স্পর্শযোগ্য নয়। নিজস্ব কোন মূল্যও (Intrinsic Value) নেই। এটি বিশেষ হার্ডওয়্যার দ্বারা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সংকেত আকারে তৈরি হয়। অন্য কথায়, এটি একটি ভার্চুয়াল টোকেন, যাকে এর প্রস্তুতকারীগণ বিনিময়ের মাধ্যম বা মুদ্রা হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি করেছেন। অন্য যে কোনো পন্যের ন্যায় বিটকয়েনেরও চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতে অন্যান্য ফেইথ (Faite) মুদ্রার সাথে এর মূল্যমান কম-বেশি হয়ে থাকে।২০০৮ইং সনের নভেম্বরে এক অজ্ঞাত সংস্থা বা ব্যক্তি কর্তৃক একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। যার ছদ্ম নাম ‘সাতোশী নাকামোতো (Satoshi Nakamoto)’। এই আর্টিকেলের ভিত্তিতে ২০০৯ইং সনের জানুয়ারীতে প্রথম বিটকয়েনের ঘোষণা দেয়া হয়। ধারণা করা হয় এই ছদ্মনাম বিশিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ ২১ মিলিয়ন বিটকয়েনের মধ্যে মাত্র ৫% উৎপন্ন করেছে। এটি করা হয়েছে মাইনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে।

যেভাবে তা তৈরি হয় : কাগুজে মুদ্রা তৈরি হয় টাকা ছাপানোর মেশিনে। সরকার একে অনুমোদন করে। নিয়ন্ত্রন করে। এভাবে এতে সৃষ্টি হয় ক্রয়-ক্ষমতা (Purchasing power)। কিন্তু বিটকয়েন তৈরি হয় সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। এটি তৈরির প্রধান উৎস-‘ব্লক চেইন (Block chain) নামক এক উন্নত প্রযুক্তি। প্রযুক্তিটি আবিষ্কার হয়েছে ১৯৯১ইং সনে। ব্লকচেইন (Block chain) একটি প্রযুক্তিগত ফ্রেমওয়ার্ক, যার ওপর বিটকয়েন তৈরি করা হয়েছে। ব্লক চেইন একটি চমৎকার প্রযুক্তি। সংক্ষেপে তার বিবরণ দেয়া হলো।

ব্লক চেইন প্রযুক্তি : সাধারণত আমরা আরেক জনের কাছে টাকা পাঠাই তৃতীয় কোন মাধ্যমে। যেমন, ব্যাংক, পোস্ট অফিস ইত্যাদি। তদ্রুপ জমির মালিকানা হস্তান্তর করি ভূমি অধিদপ্তরের মধ্যস্থতায়। এসব তৃতীয় পক্ষ লেনদেনে মধ্যস্থতা করার পাশাপাশি অর্থ-সম্পদের নিরাপত্তাও প্রদান করে। আমাদের লেনদেনের যাবতীয় তথ্য তাদের নিকট সংরক্ষিত থাকে। এই মাধ্যমগুলো ব্যবহারের অনেক সুবিধার মাঝে তিনটি অসুবিধাও আছে। যথা-এক. অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। দুই. লেনদেন সম্পন্ন হতে অতিরিক্ত সময় ক্ষেপণ হয়। তিন.তৃতীয় পক্ষের নিকট সকল ডাটা চলে যায়। মূলত এই অসুবিধাগুলো দূর করতে আবিস্কৃত হয়েছে ইন্টারনেট ভিত্তিক এক বিশেষ ব্লক চেইন প্রযুক্তি। এর দুটি অংশ। যথা-

ক. Open Ledger বা উন্মুক্ত খাতা। ইন্টারনেটে ব্লক চেইন প্রযু্ক্তি ব্যবহার করে যখন কেউ কারো নিকট অর্থ বা অন্য কোন তথ্য পাঠায়, তখন ব্লক চেইন নেটওয়ার্কে যারা লেজার মেইন্টেইন করে তাদের লেজারে সেই ডাটাগুলো ব্লক হয়ে  যুক্ত হয়। যেমন- A-b-C-d-e-F । ধরা যাক A ১০০ টাকা পাঠিয়েছে B এর নিকট। তদ্রুপ B কিছু পাঠিয়েছে C এর নিকট। এভাবে প্রত্যেকে তার পরের জনের নিকট কিছু অর্থ পাঠিয়েছে। এই পাঠানো তথ্যগুলো জমা হবে তাদের নিকট যারা লেজার মেইন্টেইন করে। এখানে বড় হাতের ইংরেজী অক্ষর হলো সেই লেজার মেইন্টেইনকারী। পরিভাষায় তাদেরকে Minersও বলা হয়। মনে রাখতে হবে, এখানে যে লেনদেনগুলো হলো, এগুলো করার সাথে সাথে পূর্ণতায় পৌঁছে না। তথা সাথে সাথে বাস্তবেই অর্থ স্থানান্তর হয় না। বরং লেনদেনটি করা মাত্রই একটি ব্লক তৈরি হয়। উক্ত ব্লকে প্রতি দশ মিনিটের মধ্যে যেসব ট্রাঞ্জাকশন হয়, তা রেকর্ড হয়ে যায়। কিপ রিডিং…

প্রসঙ্গ পৃথিবী সৃষ্টি—  হুবহু মিলে গেলো কুরআনের বর্ণনা এবং বিজ্ঞানীদের গবেষনা!

অথোর- টপিক- সায়েন্স

মূল : আই. এ. ইবরাহীম, বঙ্গানুবাদ : মুহাম্মদ ইসমাইল জাবীহুল্লাহ


বর্তমান বিজ্ঞান পৃথিবীর বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ সৃষ্টি নিয়ে স্পষ্ট করে বলেছে যে, পৃথিবী সুদীর্ঘকাল মেঘাচ্ছন্ন ধোঁয়া ছিল। তা ছিল অধিক ঘনত্ববিশিষ্ট এবং উষ্ণ গ্যাসের সমষ্টি। এগুলো পৃথিবী সৃষ্টির মৌলিক উপাদানসমূহের মধ্যকার একটি বলে আধুনিক বিজ্ঞান নিশ্চিত করেছে। আধুনিক বিজ্ঞানীরা উক্ত ধোঁয়া থেকে সৃষ্ট নতুন নতুন তারকা দেখতে পান। (দেখুন ০১ ও ০২ নং চিত্র) রাত্রে যে তারকা দেখা যায় তা আগে উক্ত ধোঁয়ার অংশ ছিল। অর্থাৎ ধোঁয়া থেকেই এগুলোর উৎপত্তি হয়েছে।  আল্লাহ তাআলা বলেন, অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ। (সূরা হামীম আস-সাজদাহ, আয়াত- ১১)

চিত্র-০১ : চিত্রে গ্যাস ও ধুলোবালি (Nebula) থেকে উৎপাদিত নতুন তারকা দেখা যাচ্ছে যা আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির উপাদান উক্ত ধোঁয়ার অংশ। (The Space Atlas, Heather and Henbes, পৃষ্ঠা-৫০)

কিপ রিডিং…

শিল্পী হচ্ছেন খোলা আকাশে উড়ন্ত পাখির মতো : শিল্পী সাইফুল ইসলাম

অথোর- টপিক- ইন্টারভিউ/লিড স্টোরি

ভাষার মাসে শিল্পে হালচাল— ০১


শিল্পী সাইফুল ইসলাম- বর্তমানে বাংলাদেশে শিল্প যাদের পেশা, আঁকাআঁকি যাদের নেশা এবং রং-তুলি আর ক্যানভাস নিয়ে যাদের নিত্য সংসার তিনি তাদের অন্যতম। শিল্পপল্লীর প্রায় সব শাখা-পল্লবে প্রভূত পারদর্শিতা অর্জন করেছেন এবং ধীরে ধীরে সফলতার একটি শীর্ষমহলে এসে উপনীত হয়েছেন তিনি। পোট্রেট, ল্যান্ডস্কেপ, স্টিল লাইফ এবং ক্যালিগ্রাফিসহ শিল্পপল্লীর এমন কোনো বাগান নেই, যেখানে বিচরণ করেননি গুণী এই শিল্পী। মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১২ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরে। বাবা ছিলেন সরকারি চাকরি জীবী। শিল্পের সঙ্গে আছেন ১৯৫৮ সাল থেকে। সিরাজগঞ্জে থাকাকালে শ্রী নগেন রায়ের চিত্রকুটির কমার্শিয়াল আর্ট স্টুডিও থেকে সাইফুল শিল্প চর্চায় আসার প্রেরণা পান। নগেন দাদাই তার প্রথম ও প্রধান শিল্পগুরু। শিক্ষা জীবনে রাজশাহী   বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেন।

শিল্প বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন ১৯৭৫ সালে মস্কোর সুরিকভ ইন্সটিটিউটে। ১৯৭৬ সালে দেশে ফিরে নিবিষ্ট মনে শিল্পচর্চা শুরু করেন। এর আগে ১৯৭২ সালে সেজান আর্ট গ্যালারি প্রতিষ্ঠা করেন; যা ১৯৮১ সালে পরিপূর্ণ একটি আর্ট স্কুল ও গ্যালারি হিসেবে সুনাম অর্জন করে। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ান রাষ্ট্রদূত আলী বিন আব্দুল্লাহর আমন্ত্রণে সরকারি সফরে কুয়ালালামপুর ভ্রমণ করেন। ২০০৪ সালে ইরান সরকারের আমন্ত্রণে তেহরান কোরআন প্রদর্শনীতে তার আঁকা ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনের জন্য যান। ১৯৯৫ সালে তিনি জাতীয় সাহিত্যকেন্দ্রের পক্ষ থেকে স্বর্ণপদক লাভ করেছেন। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির অফিসের জন্য সাইফুল ইসলামের ক্যালিগ্রাফি কালেমা তাইয়েবা স্থাপন করা হয়। এছাড়াও তার আঁকা সূরা বাকারার ১২৬ নং আয়াতের ক্যালিগ্রাফি ঢাকা রাজঊক ভবনের উপরে শোভা পাচ্ছে। বাংলাদেশের একমাত্র শিল্পী হিসেবে তার ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী হয়েছে মালয়েশিয়া ও ইরানে। দেশের প্রতি নিরুপম দরদের প্রমাণ স্বরূপ তিনি এঁকেছেন বাংলাদেশের বিখ্যাত ৬০ ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি। পোট্রেট, ল্যান্ডস্কেপ, স্টিললাইফ, জেনারেল আর্ট এবং সর্বোপরি ইসলামী ক্যালিগ্রাফি করেছেন এবং এখনও করে চলেছেন অনবরত। শিল্পীর সাথে কথা বলেছেন মিরাজ রহমান

আপনি শিল্পী হলেন কেন? বা এই অঙ্গনে এলেন কেন? 

আল্লাহ মানুষকে অনেক রকম গুণ-ক্ষমতা দিয়ে পাঠান, সেই গুণ-ক্ষমতাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে শিল্পী সত্তা। আমি ইচ্ছা করে বা নিজ ক্ষমতায় এই অঙ্গনে এসেছি বা শিল্পী হয়েছি এমনটা বলা সত্যি কথা নয়। আমার বাবা একজন লেখক ছিলেন, তিনি এক ধরনের একটি সত্তাগত সৃজনশীল গুণের অধিকারী ছিলেন। আমার মনে হয় বংশগত ধারাবাহিকতায় জেনেটিক কারণে আমার মধ্যেও একটি শিল্পী সত্তা অঙ্কুরিত হয়েছে। এর প্রভাবেই হয়তো আমি অন্য কিছু না হয়ে শিল্পী হতে চেয়েছি। আমি একেবারে ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকি করতাম। বড় হওয়ার পর ছবি বিষয়ে সব কিছু যখন আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেলো- তখন আমি ভাবলাম বড় হয়ে তো অনেকেই অনেকে কিছু হয়, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার ইত্যাদি; আমি সেই সব কিছু হতে যাবো না। আমি একজন নামকরা শিল্পী হবো এবং আমি অনেক কিছু সৃষ্টি করব। এমনভাবেই আমার মাঝে শিল্পী হওয়ার বিষয়টা দানা বাঁধে এবং ধীরে ধীরে সেটার প্রকাশ ঘটে। কিপ রিডিং…

গো টু টপ