দ্য সুলতান

অসত্য তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াকু মিকদাদ

অথোর- টপিক- /লিড স্টোরি

মুসলিম হিরোজ— ০১


এই যুবকের পুরো নাম মিকদাদ ভার্সি। ভুল আর অসত্য তথ্যের বিরুদ্ধে অসম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গত বছর (২০১৬) একটি পত্রিকা যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদন করেছিল। ওই খবর চ্যালেঞ্জ করেন মিকদাদ ভার্সি। তার প্রতিবাদে পত্রিকাটি তাদের সংবাদ সংশোধন করতে বাধ্য হয় । তারপর থেকেই মিকদাদ কোমার বেঁধে মাঠে নেমেছেন।

এমনিতে যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমগুলো প্রায় প্রতিদিনই ইসলাম কিংবা মুসলিমদের নিয়ে কোনো না কোনো সংবাদ প্রকাশ করে। এসব খবরের কত ভাগ সত্য আর কত ভাগ মিথ্যা, সে বিষয়ে সঠিক হিসাব পাওয়া সম্ভব না হলেও বলা যায়— এসব সংবাদের অধিকাংশই ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য নেতিবাচক। সুযোগ পেলেই ‘ইসলাম’ কিংবা ‘মুসলিম’ শব্দগুলো টেনে আনার অভিযোগ আছে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে।

এটাই মিকদাদকে একটি নতুন লড়াই শুরু করার প্রেরণা যুগিয়েছে ।

মিকদাদ প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিম শব্দ দুটির ওপর বিশেষভাবে নজর রাখেন। অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্ট খবরের সত্যতা না পেলে তিনি প্রতিবাদ করেন এবং সেটি প্রত্যাহার বা সংশোধন করতে বাধ্য করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় গত কয়েক মাসে ২০টি সংবাদের সংশোধনী ছেপেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। তাঁর করা আরও ২০টি অভিযোগ বর্তমানে ‘ইন্ডিপেনডেন্ট প্রেস স্ট্যান্ডার্ড অরগানাইজেশন’-এ সুরাহার অপেক্ষায়। মুসলিমদের জড়িয়ে ভুল বা অসত্য সংবাদ দেখলেই অভিযোগ ঠুকে দেন মিকদাদ।

ভুল ও অসত্যের বিরুদ্ধে মিকদাদের এ কার্যক্রম নিয়ে গত ২২ জানুয়ারি সংবাদ প্রচার করে বিবিসি। দ্য গার্ডিয়ানসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। বিবিসির শিরোনাম ছিলো— ‘কোনো ভুল কোরো না’। আর দ্য গার্ডিয়ান শিরোনাম করে— ‘সংবাদমাধ্যমগুলো মুসলিমদের নিয়ে অসত্য খবর ছেপেই যাচ্ছে’। এ পর্যন্ত ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিকদাদের অন্তত ২০ টিরও অধিক প্রতিবাদী লেখা ছেপেছে :

—Stop using other marginalized groups as an excuse to attack Muslim

—The British media shares the blame for Anjem Choudary’s influence

—Muslims like me are asked the same questions after any terrorist attack. For the record, here are our answer

—Isis battle is only propaganda while PM befriends Saudi extremists কিপ রিডিং…

আমার হুরুমামু সৈয়দ মুজতবা আলী | আসমা আব্বাসী

অথোর- টপিক- /লিটারেচার

যেন রূপকথার জাদুকর। রম্যরচনার কিংবদন্তি। এমন লেখনী ক’জনের। বাংলাভাষী লাখ লাখ পাঠকের হৃদয়ে সম্রাটের মতো তার অবস্থান। প্রিয়জন হুরুমামু, সিলেটি ভাষায় ছোটজনকে বলা হয় ‘হুরু’। লতাপাতা বুনোফুল বনজঙ্গলের শ্যামলিমা মনু নদীর ঢেউ তোলা সুরধ্বনির মায়াবী পরিবেশের মৌলবীবাজার, সেখানে শহরের মাঝখানে চওড়া একটি রাস্তা, একপাশে সাদা পাথরে কালো হরফে লেখা খান বাহাদুর সৈয়দ সিকান্দার আলী সড়ক। টিনের চাল ইটের দেয়াল, চারপাশে বেলি জবা টগর স্থলপদ্ম গন্ধরাজ মাধবীলতা শিউলি ফুলের সুবাসমাখা বাড়িটিতে জন্ম আমার হুরুমামু সৈয়দ মুজতবা আলীর। কিপ রিডিং…

বাঙালি এক দানবীর সুলতান হাজী মহসীন

অথোর- টপিক- /সুলতান স্টোরি

হাজী মুহাম্মদ মহসীন (১৭৩২-১৮১২) ভারতীয় উপমাহদেশের বাংলার একজন জনহিতৈষী, দানবীর। দানশীলতার জন্য তিনি মানুষের কাছ থেকে দানবীর খেতাব পেয়েছিলেন। পুরো বাঙালী জাতি মুসলিম হিন্দু সকলের কাছে সমান শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। দান, দয়া এবং মানবতার ইতিহাসে তিনি এক কিংবদন্তি পুরুষ। তাঁর দয়া ও মহানুভবতার কথা আজও প্রচলিত আছে রূপকথার মত। আপামর সাধারণ মানুষের কাছে তার জীবন কাহিনী এমনভাবে ছড়িয়ে আছে যে, রূপকথার অনেক কল্প কাহিনীকেও তা হার মানায়। পুরো জীবন তিনি অসহায় মানুষের সেবায় নিজের সমস্ত ধন সম্পদ দু’হাতে বিলিয়ে গেছেন ।

তিনি ১৭৩২ সালের ৩রা জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আগা ফয়জুল্লাহ, মাতার নাম জয়নব খানম। হাজী মহসিনের পূর্ব পুরুষরা অত্যন্ত ধনী ছিলেন। তারা আগে পারস্য দেশের অধিবাসী ছিলেন। হাজি মুহাম্মদ মহসীনের পিতা হাজী ফয়জুল্লাহ এক জমিদারের বিধবা স্ত্রীকে বিয়ে করেন। সেই জমিদারের নাম ছিল আগা মোতাহার। আগা মোতাহার ১৭২৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তখন তার সংসার অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। তা ছাড়া তার কোনো পুত্র সন্তানও ছিল না। একমাত্র নাবালিকা কন্যা মন্নুজানকে রেখে তিনি চির বিদায় নেন। এই সময় তাদের পরিবার ও ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনার জন্য একজন বিশ্বস্ত অভিভাবকের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তাই এই দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মুরাই থেকে ফয়জুল্লাহকে আনা হয়। তিনি এসে সমস্ত ভার নিলেন। আর এই পরিবারের বিষয় সম্পত্তির মালিক হলেন মন্নুজান।

এক সময় জমিদারের বিধবা স্ত্রীর জয়নব খানমের সাথে ফয়জুল্লার বিয়ে হয়। আর তাদের কোল আলোকিত করেই জন্ম নেয় হাজী মোহাম্মদ মহসিন। তখন মন্নুজানের বয়স মাত্র বার বছর। মন্নুজান ও মহসিন সৎ ভাই বোন হলেও মন্নুজান মহসিনকে আপন ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন। মহসিন দিন দিন বড় হতে লাগলেন। একসময় তাকে তৎকালীন নাম করা পণ্ডিত সিরাজী সাহেবের কাছে পড়াশোনা করার জন্য পাঠানো হলো। অল্পদিনের মধ্যে তিনি আরবী, ফারসি শিক্ষা শেষ করেন। এরপর তিনি গিয়ে ভর্তি হন মুর্শিদাবাদের এক মাদরাসায়। অল্প দিনের মধ্যে মহসীনের মনের গভীরতার পরিচয় পেয়ে মাদ্রাসার ওস্তাদগণ অবাক বনে গেলেন।

কিপ রিডিং…

গো টু টপ