দ্য সুলতান

কবি সাইদ সারমাদ : এখনো বেঁচে আছেন!

অথোর- টপিক- লিড স্টোরি/

উপমহাদেশে এক মহাবিস্ময় ছিলেন সারমাদ। কবিতা লিখেছেন, তবে কবিদের মতো ছিলেন না মোটেই। বিবস্ত্র হয়ে ঘুরে বেড়াতেন, অথচ ধর্মের আলখেল্লা জড়ানো সূফিরা তাকে নমস্কার জানাতে কুণ্ঠিত হতো না।


বেঁচে থাকার প্রশ্নটা এলো– কারণ সারমাদকে মারার চেষ্টাটাই হয়েছে সবচে’ বেশি। রাজার কালহাত পড়েছে কবির মাথায়। তারপরও কি বেঁচে থাকা যায় ? সারমাদকে মারতে কোন আয়োজন বাদ রেখেছেন আওরঙ্গজেব ? রাজ্যের যোগ্য উত্তরাধিকারী (ইতিহাস তো সেটাই বলে) ভাইকে হত্যা করেছেন তিনি; কেননা, সে সারমাদের ভীষণ ন্যাওটা ছিলো। নেংটা বাবা তো সারমাদ আগেই ছিলেন, এর ওপর এবার কলঙ্ক রটলো যে, সারমাদ আসলে মুসলিম নয়। তাতে কি ! মুসলিম হতে বয়েই গেছে সারমাদের ! কিন্তু সারমাদ যেহেতু কবি, তাই কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি তার অভিব্যক্তি জানালেন অকপটে–

ও রাজা, শোনো, নেংটা আমি বটে, কিন্তু অসাধু নই তোমার মতো

মসজিদেও যেতে পারি চাইলে কিন্তু তোমার মতো মুসলিম হয়ে নয়

উপমহাদেশে এক মহাবিস্ময় ছিলেন সারমাদ। কবিতা লিখেছেন, তবে কবিদের মতো ছিলেন না মোটেই। বিবস্ত্র হয়ে ঘুরে বেড়াতেন, অথচ ধর্মের আলখেল্লা জড়ানো সূফিরা তাকে নমস্কার জানাতে কুণ্ঠিত হতো না। তিনি হিন্দুদের কাছেও গর্বের ধন বলে বিবেচিত হতেন। অথচ তার পরিচয়ের সূত্র খুঁজতে গেলে বেড়িয়ে আসে, তিনি ছিলেন মূলত আর্মেনিয়ান ইহুদি। ১৬৬১ সালে যখন বাদশা আওরঙ্গজেব তাকে মৃত্যুদ- দিলেন, তারপর  থেকে অন্তত ৩৫০ বছর সারমাদকে এমনভাবে ‘নীলকুঠির চুনের গুদামে’ পুরে রাখা হয় যে, কর্পোরেট লেখকেরা কষ্ট করে তার দেহখানি আর তুলে আনার হিম্মতও পাচ্ছিলেন না। সন্দেহ নেই, আমাদের উপমহাদেশের মুসলিম কিংবা বেদীন সব ঐতিহাসিকেরা কমবেশি আওরঙ্গজেবের ভক্ত আছেন। তারও সঙ্গত কারণ আছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুই অর্থেই আওরঙ্গজেব ভারতবর্ষকে একটা বিত্ত-বৈভবের স্থানে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন। সতেরো শতাব্দিতে পুরো দুনিয়ার মোট জিডিপির চার ভাগের এক ভাগ (৩৭০ বিলিয়নের মধ্যে ৯১ বিলিয়ন) আয় ছিলো তখন ভারতের। বাদশাও এই সুযোগটি যথার্থই ব্যবহার করেছেন। নিজের পিতাকে বন্দি রাখা, ভাইদের হত্যা করা এবং সবশেষে সারমাদের মতো মহাপুরুষকে মৃত্যুদ- দেয়ার পাপ তিনি ঢাকতে চেয়েছেন নিজের সব উন্নতির নেমক ছড়িয়ে। তাই আওরঙ্গজেবে মূর্চ্ছিত ঐতিহাসিকেরা যথেচ্ছা গুণগান গেয়ে সারমাদকে সযত্নে ছেঁটে ফেলে দিয়েছেন তাদের ইতিহাস থেকে। কিপ রিডিং…

বিপ্লবী বীর মাস্টারদা সূর্য সেন

অথোর- টপিক- মেমোরিয়াল//সুলতান স্টোরি

বাঙলার নির্যাতিত মানুষের হৃদয়ে মাস্টারদা সূর্য সেন এক অনন্য সাহসী বিপ্লবী নেতা হিসেবে আসন গড়ে আছেন।তার বিপ্লবী আত্মার ত্যাগে সৃষ্টি হয়েছিল এক সোনালী স্বাধীনতার স্বপ্ন।


১৪ নভেম্বর ১৯৩৩ সালে হাইকোর্ট প্রদত্ত রায়ে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের দেয়া দন্ড বহাল রাখে। ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি মধ্যরাতে সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।


বৃটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বীর নায়ক বিপ্লবী সূর্য সেন ফাঁসির মঞ্চে ওঠার আগে সঙ্গীদের উদ্দেশে লিখে যান, ‘আমি তোমাদের জন্য রেখে গেলাম মাত্র একটি জিনিস, তা হলো আমার এটি সোনালি স্বপ্ন। স্বাধীনতার স্বপ্ন। প্রিয় কমরেডস, এগিয়ে চলো। কিপ রিডিং…

গো টু টপ