দ্য সুলতান

শেখ সাদি : পথে পথে বেড়ে ওঠা মহামানব

অথোর- টপিক- /সুলতান স্টোরি/হাইলাইটস

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন ২০১২ সালের ৩০ আগস্ট তেহরান সফরকালে বলেন— নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তরে রয়েছে একটি মহৎ কার্পেট—আমার মনে হয়, জাতিসংঘের সবচে’ বড় কার্পেট সেটি। জাতিসংঘের প্রবেশপথের (আসলে নর্থ ডেলিগেট লাউঞ্জে) দেয়ালে সেঁটে থাকা সেই কার্পেটটি ইরানি জনগণের পক্ষ থেকে দেয়া উপহার বটে; যার মাঝখানে উৎকীর্ণ আছে ইরানের মহাকবি সাদির একটি চমৎকার কবিতা— সব মানুষ এক দেহের অঙ্গসম; যেহেতু সবার প্রথম উপাদান একই। যখন একটি অঙ্গ ব্যথায় আক্রান্ত হয়, বাকি অঙ্গও তখন স্থির থাকতে পারে না। অন্যের দুর্যোগে যদি উদ্বিগ্ন না হও, তবে তোমার নাম মানুষ হতে পারে না।[1]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০০৯ সালের মার্চ মাসে ইরানের নববর্ষ (নওরোজ) উপলক্ষে সে দেশের জনগণকে ভিডিও টেপের মাধ্যমে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান শেখ সাদির একই কাব্যাংশ কোট করে। তিনি বলেন— এটা ঠিক যে, আমরা নিজেদের মধ্যে কতগুলি বিভাজনের কারণে বিভক্ত হয়ে আছি। তবে আমরা সেই শব্দগুলো মনে রাখতে পারি, যা কবি সাদি লিখে রেখেছেন বহুবছর আগে— আদম সন্তান সবাই এক দেহের বিভিন্ন অঙ্গের মতো, যেহেতু সবাই একই উপাদান থেকে তৈরি।[2]

শেখ সাদির ‘গুলিস্তাঁ’ গ্রন্থে উদ্ধৃত এই কবিতাটির মূল ফার্সি পাঠ হলো—

بنى آدم اعضای یک پیکرند٭٭٭ که در آفرینش ز یک گوهرند

چو عضوى به درد آورد روزگار٭٭٭ دگر عضوها را نماند قرار

تو کز محنت دیگران بیغمی ٭٭٭ نشاید که نامت نهند آدمی 

সন্দেহ নেই কবিতাটি তিনি নবি মুহাম্মাদের স. একটি হাদিসের[3] প্রেরণা থেকে রচনা করেছেন।

কিপ রিডিং…

লক্ষ কোটি আলেমের চেতনার মুরব্বী আল্লামা শাহ আহমদ শফী

অথোর- টপিক- /


শাইখুল ইসলাম হজরত মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানীর (রহ.) অন্যতম খলিফা আল্লামা আলহাজ শাহ আহমদ শফী। তিনি বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন আলেমেদীন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক)-এর চেয়ারম্যান, দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক এবং চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে পরিচালিত অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ -এর আমীর হিসেব দায়িত্ব পালন করছেন।

আল্লামা আহমদ শফী ১৯৩০ খ্রীস্টাব্দ মোতাবেক ১৩৫১ হিজরী সনে বার আউলিয়ার পুণ্যভূমি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়া থানাধীন পাখিয়ারটিলা নামক গ্রামে এক অভিজাত সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যবাহী দীনদার আলেম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর মরহুম পিতার নাম জনাব বরকত আলী এবং মরহুমা মায়ের নাম মুসাম্মাৎ মেহেরুন্নেছা বেগম।

পিতা-মাতা শিশুকালেই তাঁকে কোরআন শিক্ষার জন্য জনাব মৌলভী আজিজুর রহ্‌মান (রহ.)-এর কাছে প্রেরণ করেন এবং কোরআর শিক্ষার ফাঁকে ফাঁকে নিয়মিত চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত মাতৃভাষাও শিক্ষা দান করেন। এরপর তিনি শরফভাটা মাদরাসায় প্রাথমিক কিতাব পাঠে মনোনিবেশ করেন। ছোটবেলা থেকেই আহমদ শফী অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, বিনয়ী, চিন্তাশীল, প্রখর মেধাবী ও সুবুদ্ধির অধিকারী হওয়ায় অতি অল্প বয়সেই কোরআনের তিলাওয়াত ও প্রাথমিক শিক্ষা-দীক্ষা সাফল্যের সাথে সমাপ্ত করে কৃতিত্ব অর্জন করতে সক্ষম হন।



কিপ রিডিং…

কথাশিল্পী শওকত ‍উসমান

অথোর- টপিক- /সুলতান স্টোরি

বাংলাদেশের আপসহীন এক সংগ্রামী কথাশিল্পী শওকত ওসমান (১৯১৭-১৯৯৮)। ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার খানাকুল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।তার প্রকৃত নামটি হচ্ছে শেখ আজিজুর রহমান। শওকত ওসমান ওরফে শেখ আজিজুর রহমানের বাবার নাম মোহাম্মদ ইয়াহিয়া এবং মায়ের নাম গুলজান বেগম। সাত ভাই-বোনের মধ্যে শওকত ওসমান ছিলেন সবার বড়। জন্মের পর থেকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্য দিয়ে শওকত ওসমান বেড়ে ওঠেননি। বাল্যকাল থেকে নানান ধরনের টানাপড়েনের মধ্যে তার দিন অতিবাহিত হতে থাকে।



শিক্ষাজীবন : ১৯২২ সালে সবলসিংহপুর গ্রামের মক্তবে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তার বাল্যশিক্ষা শুরু হয়। এরপর তিনি রূপচাঁদ গুপ্ত একাডেমিতে (নন্দনপুর) শিশু শ্রেণিতে পড়েন। এরপর তিনি ভর্তি হন (১৯২৬) সবলসিংহপুর গ্রামের জুনিয়র মাদ্রাসায়। ১৯৩৩ সালে ১৬ বছর বয়সে শওকত ওসমান ইংরেজিতে প্রবেশিক্ষা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৩৪ সালে ভর্তি হন কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। সেখানে ১৯৩৬ সালে প্রথম বিভাগে আইএ পাস করেন। আইএ পাসের পর ভর্তি হন বিএ (সম্মান) অর্থনীতিতে। কিন্তু পারিবারিক দুরবস্থার কারণে তার আর অনার্স পড়া হয়ে ওঠেনি। তাই ১৯৩৯ সালে বিএ পাস করে ভর্তি হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে এম এ শ্রেণিতে। ১৯৪১ সালে তিনি দ্বিতীয় শ্রেণিতে এম এ পাস করেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন তিনি। বাবা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া চাষাবাদ আর টুকটাক মিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাতেন। যার কারণে ছাত্র বয়সে সচ্ছলতা কাকে বলে তা শওকত ওসমান চোখে দেখেননি। অবশ্য মৃত্যুর আগ পর্যন্তও তাকে অর্থনৈতকি দুরবস্থার মধ্যেই জীবন কাটাতে হয়েছে। মাদ্রাসায় পড়ার সময় কিশোর বয়সেই তাকে ছাত্র পড়াতে হয়েছে। সপ্তম-অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি অন্যের বাড়িতে লজিং থেকে নিজের পড়ালেখা চালাতেন।



সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়ার সময় তার থাকার কোনো নির্দিষ্ট জায়গা ছিল না। যখন যেখানে সুযোগ পেতেন রাত কাটাতেন। টিউশনি করে নিজের পড়ালেখা চালানোর পাশাপাশি বাড়িতেও টাকা পাঠাতেন। আইএ পাসের পর বেশ কিছু দিন কেরানির চাকরি করেন কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনে। তার কিশোর বয়সের এসব সংগ্রামমুখর স্মৃতি এবং জীবনের বৈচিত্র্যময় টানাপড়েন নিয়ে তিনি ‘স্বজন সংগ্রাম’ নামে একটি উপন্যাস লেখেন। কিপ রিডিং…

গো টু টপ