২০১৭ সালে সর্বাধিক বিক্রিত ১০টি বাংলা ইসলামী বই

নবী করিম (সা.) এক হাদিসে উল্লেখ করেছেন, এক ঘণ্টা জ্ঞান অর্জন করা সারা রাত ইবাদত করার থেকে উত্তম। এখানে জ্ঞান অর্জন করা বলতে মূলত বই পড়ার ওপর সর্বাধিক তাগিদ দেয়া হয়েছে। আল্লামা শেখ সাদী বলেছেন, জ্ঞানের জন্য তুমি মোমের মতো গলে যাও। কারণ জ্ঞান ছাড়া তুমি খোদাকে চিনতে পারবে না। একজন

হাইলাইটস

শীতকালীন প্রকৃতির ১১টি সেরা ছবি

অথোর- টপিক- ফটোগ্রাফি
  • w-01.jpg
  • w-02.jpg
  • w-03.jpg
  • w-04.jpg
  • w-05.jpg
  • w-06.jpg
  • w-07.jpg
  • w-08.jpg
  • w-09.jpg
  • w-10.jpg
  • w-11.jpg

শীত বাংলা সনের পঞ্চম ঋতু। পৌষ ও মাঘ মাস এই দুই মাস মিলে শীতকাল। শীত মানেই হিমহিম কনকনে ঠাণ্ডার অনুভূতি। কথায় বলে—’মাঘের শীতে বাঘ কাঁপে’। শুধু বাঘ নয়, পৌষ-মাঘে যখন কনকনে শীত পড়ে তখন অনেক মানুষও কাঁপে শীতে— বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের গরিব মানুষেরা। কিন্তু শীত শুধু হাড়ই কাঁপায় না; নানান বৈচিত্র্য আর মজাদার উপহারের ডালি নিয়েও আসে আমাদের জন্য। শীতে বাংলাদেশের গ্রাম-প্রকৃতি সন্ধ্যার আগে থেকেই শিশির আর কুয়াশার চাদর মুড়ি দিতে শুরু করে।

শীতকাল অন্যসব ঋতু থেকে আলাদা গুরুত্ব পেয়ে থাকে। বাংলার রূপ বৈচিত্র্যের অনেকখানি জায়গা জুড়ে শীতের অবস্থান। হেমন্তের সোনালি ডানায় ভর করে হিমেল হাওয়া সাথে নিয়ে কুয়াশার রহস্যময় চাদর জড়িয়ে আসে শীত। শীত বাঙালির প্রিয় ঋতু।

শীত আসে আমাদের প্রকৃতিকে বদল করে দিতে। নতুন করে প্রকৃতিকে সাজিয়ে দেবার পূর্বপ্রস্তুতি হলো শীত। শীতের রিক্ততা পুরনো পাতা ঝরিয়ে দিলেই নতুন পাতা নিয়ে আসে বসন্ত। তারপরই চলে যায় শীত।  শীতকে কেউ ভেবেছেন উৎসব, কেউ-বা মৃত্যু। অনেকে হতাশা ও আশাহীনতার কাল হিসেবে বিবেচনা করেছেন শীতকে। লেখকের লেখার টেবিল পাড়ি দিয়ে শীতকাল প্রভাব বিস্তার করেছে ক্যামেরাম্যানের ক্যামেরাতেও। শীতকালের শীতল স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য শীতকালীন প্রাকৃতি নানান আঙ্গিকের ছবি তুলেছেন ক্যামেরাপারসনগণ। শীতকালে তোলা বিখ্যাত কিছু ছবি নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন-  শীতকালীন প্রকৃতির ১১টি সেরা ছবি। ব্রেডপান্ডা.কম থেকে তথ্য নিয়ে ফিচারটি তৈরি করেছেন আমাতুল্লাহ ইউসরা

ছবি-০১

কিপ রিডিং…

ফিলিস্তিনি গল্প— শোধ

অথোর- টপিক- লিটারেচার

মূল— ইবরাহিম নাসরুল্লাহ। ভাষান্তর— মিরাজ রহমান


বড় বেশি রকম পীড়াপীড়ি করছে নিয়াজ। রামাল্লায় আজ তাকে যেতেই হবে। কারোরই নিষেধ শুনছে না সে। বাবা নিষেধ করছে, মাতা বাধা দিচ্ছে কিন্তু কারো কোনো কথাই আজ শুনছে না নিয়াজ। মানছে না কারো কোনো নিষেধই। পরিস্থিতি মোটেও অনুকূলে নয়, মিলিটারি চেকপয়েন্ট, হয়রানি, কষ্টকর যাত্রা কিংবা হঠাৎ গুম হয়ে যাওয়ার ভয় রয়েছে। তবুও  নিয়াজ  বললো, রামাল্লায় একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। দ্রুত সেটার সমাধান প্রয়োজন। যেভাবেই হোক আজকের মধ্যে রামাল্লায় আমাকে পোঁছতেই হবে। আর রাস্তার এসব কষ্ট, হয়রানি এবং এইসব অপমান— এতো আর নতুন কিছু নয়। হয়রানিকর এসব অস্বাভাবিকতাকে আমাদের জন্য স্বাভাবিক করে দিয়েছে ইসরায়েলিরা। অস্বাভাবিককতাকে মেনে নিয়ে জীবন তো আর থেমে থাকতে পারে না। কী আর করবো আমার? মৃত্যু না আসা পর্যন্ত এভাবেই চলতে হবে আমাদের, সম্মুখ পানে। জীবন যাপনের দিকে। আরো অনেক সামনে আমাদের গন্তব্য। এভাবে ঘরে বসে থাকলে তো আর সমাধান কিছু হবে না। কাজ চালিয়ে যেতে হবে। সামনে এগিয়ে চলতে হবে এবং সমস্যার সামাধান করতে হবে। আর এভাবেই এগিয়ে চলে একটি জীবন। ধীরে ধীরে এবং ধাপে ধাপে।

সবার কথা অমান্য কপর রামাল্লায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়িতে এসে বসলো নিয়াজ। রামাল্লায় আজ তাকে যেতেই হবে। বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে আজ সে রামাল্লায় পৌঁছাতে না পারলে। তাই সেখানে যেতে তাকে হবেই— সোজা পথে হোক কিংবা বাঁকা পথে। গাড়িতে চড়ে কিংবা পায়ে হেঁটে অথবা হামাগুড়ি দিয়ে— যে কোনো উপায় অবলম্বনে হোক যেতে আজ তাকে হবেই হবে। গাড়িতে আরো অনেক যাত্রী রয়েছে তার মতো। কেউ রামাল্লায়, কেউ বা অন্য কোথার যাত্রী। গাড়ি চলছে বিভিন্নভাবে, নানা উপায়ে— কখনো পিচঢালা পথ বেয়ে, কখনো বা পাথুরে রাস্তায়। এলোমেলো ভাবে এগুচ্ছে নিয়াজদের গাড়ি।

লোকজন সবাই বিকল্প পথ খুঁজছে। চেকপয়েন্টের হয়রানি, হুমকি-ধমকি, নিদারুন শান্তি এবং মানসিক দুর্দশা এড়াতে চোরাপথে অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছে সবাই। বর্তমান কালের ফিলিস্তিনি নাগরিকরা পিঁপড়ার দলের মতো অনেকটা। যখন পিঁপড়াদের ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে যায়, নষ্ট করে ফেলা হয় তাদের আবাসস্থল, তখন তারা বিকল্প আবাসন তালাশ করে। নতুন পথ আবিস্কার করে। দিনের পর দিন নতুনভাবে কাজ করে তারা। মাটির কণা-গুঁড়ি বয়ে নিয়ে যায় দূর থেকে বহুদূরে। ছোট ছোট সুড়ঙ্গ তৈরি করে চলাচলের জন্য। পাথুরে জমিনে কিংবা আরো ভয়াবহ কোনো জমিনই আটকাতে পারে না আবাসনহারা এই সব পিপিলিকার দলকে। হয়তো আবার এক মিনিট পড়েই ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা অন্য কারো ভুলে ভেঙ্গে যাবে তাদের এই নতুন আয়োজনও। তাই বলে কি থেমে থাকে পিঁপড়ারা। না, থেমে থাকে না তাদের জীবন, চলাচল। আবার শুরু হয় কাজ। আবার নির্মিত হয় বিকল্পধারা। নতুন আবাসন। নতুন ঘর-বাড়ি। নতুন রাস্তা-মোড়। ফিলিস্তিনি মানুষগুলোর অবস্থা এখন বলতে গেলে অনেকটাই পিঁপড়ার জীবন। নিত্য নতুন বিকল্প খুঁজতে হয় তাদেরকে। জীবন যাপনের বিকল্প, চলাচলের বিকল্প এবং আরো কত কি!

ধুলোয় ভরা পথ দিয়ে সামনের এগুতে থাকে মানুষগুলো। গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য যে কোনো কিছুতে চড়তে রাজি তারা— হাঁটবে সোজা পথ ধরে কিংবা চড়বে পাথুরে ভূমিতে। গাদাগাদি করে বসবে একই গাড়িতে অথবা উঠবে কোনো মাটির প্রাচীরের বেয়ে— মোট কথা বিকল্প পথের অসহ্য ভোগান্তি সহ্য করাটাই এখন ফিলিস্তিনিদের নতুন এক বিকল্প জীবন। হঠাৎ হয়ত বা একটি ভুলডোজার এসে ভেঙ্গে দিবে তাদের বিকল্প পথচলা। কালো কালো পি-গুলো দ্বারা বন্ধ করে দেয় হবে রাস্তা। তারপর শুরু হবে আবার পথ খোঁজা। নতুন বিকল্প পথ আবিস্কার করা এবং সামনে এগিয়ে চলা। নতুন নতুন বিকল্প পথ আর পথচলার অনেক ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে এই মাটিতে। কতো ইতিহাস রচিত হচ্ছে এবং আরো কত ইতিহাসের জন্ম ঘটবে— কোনো সীমারেখা নেই তার। এককথায়, অসীম দৃঢ়তার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি— বর্তমান ফিলিস্তিন। কিপ রিডিং…

২০১৭ সালে সর্বাধিক বিক্রিত ১০টি বাংলা ইসলামী বই

অথোর- টপিক- বুকস/লিড স্টোরি

নবী করিম (সা.) এক হাদিসে উল্লেখ করেছেন, এক ঘণ্টা জ্ঞান অর্জন করা সারা রাত ইবাদত করার থেকে উত্তম। এখানে জ্ঞান অর্জন করা বলতে মূলত বই পড়ার ওপর সর্বাধিক তাগিদ দেয়া হয়েছে।

আল্লামা শেখ সাদী বলেছেন, জ্ঞানের জন্য তুমি মোমের মতো গলে যাও। কারণ জ্ঞান ছাড়া তুমি খোদাকে চিনতে পারবে না। একজন সৃষ্টিশীল মানুষ পৃথিবীতে বইয়ের বিকল্প কিছুই চিন্তা করতে পারেন না। সমাজ বদলাতে হলে বই পড়ার বিকল্প নেই। বই মানুষের জীবন সঙ্গী। বই অবসরের প্রিয় বন্ধু। বই পাঠ মানুষকে সত্য পথে চলতে, মানবতার কল্যাণে অনুপ্রাণিত করে। বই সুখের সময় মানুষের পাশে থাকে। দুঃখের সময় মনোবল বাড়াতে সাহায্য করে। যে লোকটি বইকে নিত্যদিনের সঙ্গী বানিয়েছে, সেই লোকটি সমাজের অন্য ১০ জন মানুষ চেয়ে ভিন্ন। তার মন-মনন আলাদা। চিন্তাচেতনা ভিন্ন। সহিষ্ণুতা আর বিশ্বাসের ধরনটাও আলাদা। ইচ্ছা করলেই বিবেক বিক্রি করে তিনি নষ্ট পথে ধাবিত হতে পারেন না। এক কথায় যিনি জ্ঞানী তিনি কখনই সমাজ বিপর্যয়ী কাজে অংশ নিতে পারেন না। একজন পাঠক মাত্রই জ্ঞানের সাধক। সৈয়দ মুজতবা আলী বই পড়া প্রবন্ধে লিখেছেন- বই কিনে কেউ তো কখনো দেউলিয়া হয়নি। বই কেনার বাজেট যদি আপনি তিনগুণও বাড়িয়ে দেন, তবুও তো আপনার দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

বাংলাদেশে গড়ে ওঠা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে বই অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান রকমারি.কম। রকমারি.কম হচ্ছে বাংলাদেশে অন্যতম জনপ্রিয় পণ্য কেনার বা ই-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান। রকমারি.কম বলতে গোটা বাংলার মানুষের কাছে যে কথাটি স্পষ্ট সেটা হলো- বাংলাদেশসহ পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে প্রকাশিত বই ঘরে বসে কিনতে চাইলে রকমারি.কমের বিকল্প নেই। রকমারি.কম থেকে ২০১৭ সালে যে সব বাংলা ইসলামী বই বেশি বিক্রি হয়েছে, তার মধ্য থেকে সর্বাধিক বিক্রিত ১০টি ইসলামী বইয়ের তথ্য নিন্মে তুলে ধরছি।

১০. সিরাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) মহানবীর প্রথম বিশদ জীবনী। বইটির মূল লেখক, ইবনে ইসহাক। আর অনুবাদ করেছেন শহীদ আখন্দ। সিরাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর লেখা বইটি ইবনে ইসহাককে ইতিহাসে অমরত্ব দিয়েছে। ইসলাম ধর্ম, মহানবী (সা.) এবং সে সময়ের আরবের ইতিহাস জানার জন্য সারা পৃথিবীর নিবেদিতপ্রাণ ধর্মানুসারী থেকে নিষ্ঠাবান গবেষক পর্যন্ত সবাই এ বইয়ের কাছে ফিরে ফিরে এসেছেন। অসংখ্য ধর্মীয় ও গবেষণাগ্রন্থের মধ্য দিয়ে নানা ভাষায় এ বইয়ের উদ্ধৃতি ও বিশ্লেষণ পৃথিবীর কোনায় কোনায় ছড়িয়ে পড়েছে। মহানবী (সা.) মৃত্যুর পর লেখা এ বইটি তার প্রথম বিশদ জীবনী। বইটি প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশনী। বইটির মূল-১২৭৫ টাকা। ২০১৭ সালে রকমারি.কম থেকে যে সব ইসলামী বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে, সেই তালিকায় দশম স্থানে রয়েছে এই বইটি। রকমারি.কম থেকে বইটি কিনতে চাইলে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে এবং অর্ডার করুন। কিপ রিডিং…

আধুনিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১৫ জন অমুসলিম মনীষীর দৃষ্টিতে পবিত্র কুরআন

অথোর- টপিক- বিলিভারস

পবিত্র কুরআন— আল্লাহ মহান প্রেরিত সর্বশেষ আসমানী কিতাব। মানবজাতির কল্যাণকর সংবিধান। পবিত্র কুরআন নিয়ে বগু গবেষণা হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। কুরআন শুধু মুসলিম জাতির পিথনিদের্শনার গ্রন্থ নয়। পবিত্র কুরআ গোটা মানবজাতির জন্য কল্যাণকর সংবিধান। পবিত্র কুরআন সম্পর্কে নানা সময়ে মুসলিম-অমুসলিম মনীষীগণ বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। পবিত্র কুরআন সম্পর্কে আধুনিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১৫ জন অমুসলিম মনীষীর মন্তব্য নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন— আধুনিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১৫ জন অমুসলিম মনীষীর দৃষ্টিতে পবিত্র কুরআন। লিখেছেন আমাতুল্লাহ ইউসরা

১. এ. জে. আরবেরী (A. J. Arberry) : এ. জে. আরবেরী তার ‘Holy Quran’ (London, ১৯৫৮) পুস্তকে লিখেছেন— আমি এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিঃসন্দেহ যে, কুরআন হল একটি অলৌকিক ঐশ্বরিক সৃষ্টি।

২. ডাব্লিউ মন্টোগোমারী ওয়াট (W. Montgomery Watt) : কুরআন আলৌকিক বাণী। ইহা মুহাম্মদ (সা)-এর কথা হতে পারে না। (Life of Muhanumad at Meeca, by Mr W. Montogomery Watt, P-52, 53, 57)

৩. প্রফেসর ডা. লাওয়েন ভ্যাজিলীয়ারী (Prof. Dr. Lawen Vagilieri) : ইটালীর প্রফেসর ডা. লাওয়েন ভ্যাজিলীয়ারী ইসলাম সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছেন। বইটি ১৯৫৮ ইং সনে পাকিস্তান হতে ইংরেজীতে অনুদিত হয়ে প্রকাশিত হয়। এই বইতে তিনি লিখেছেন— কুরআন মুহাম্মদ (সা)-এর মনগড়া কোন কথা নয়। এটি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি নাজিল করা প্রত্যাদেশ।

৪. উইলিয়াম এস. হাস (William S. Haas) : উইলিয়াম এস. হাস তাঁর ‘ইরান’ (New York, ১৯৪৬) পুস্তকের ১৫৮ ও ১৫৯ পৃষ্ঠায় লিখেছেন— কুরআন শুধুমাত্র পরলৌকিক নাজাতের পথই নয়, বরং এটি একটি আইন সংহিতা। কুরআন সকল সামাজিক, রাজনৈতিক, এমনকি আন্তর্জাতিক সমস্যা সমূহের সমাধানে পথ নির্দেশ প্রদান করে।

৫. টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রূণতত্ত্বের প্রফেসর ডা. কিথ মুর : ডা. মুরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কিত কুরআনের বাণীকে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?’ তাঁর জবাব ছিল— এটা একমাত্র ঐশ্বরিকভাবেই নাজিল হতে পারে। এ সব মানুষের জানার সাধ্যের বাইরে।   কিপ রিডিং…

নবিওয়ালা দাওয়াত পৌঁছাতে ‘প্রযুক্তির আওয়াজ’ গ্রহণ করতে অসুবিধা কোথায়?

অথোর- টপিক- অপিনিয়ন

মাইক যেমন একটি প্রযুক্তি, ইন্টারনেটও তেমনি একটি প্রযুক্তি। মাইকের তুলনায় অনেক বেশি গতিময়, সহজ এবং ক্রিয়াশীল ইন্টারনেট। দূর থেকে দূরান্তে, দৃষ্টিসীমার ওপারে বাণী পৌছানোর ক্ষমতাও রাখে এই ইন্টারনেট। ইন্টারনেট-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ইজতেমার বাণী বিশ্বদরবারে পৌছে দেওয়া সম্ভব মুর্হূতেই। নবীওয়ালা দাওয়াত পৌঁছাতে ‘মাইকের আওয়াজ’ যেখানে গ্রহণ করা হচ্ছে, ‘প্রযুক্তির আওয়াজ’ গ্রহণ করতে সেখানে অসুবিধা কোথায়? লিখেছেন মিরাজ রহমান


ইন্টারনেট— গত শতাব্দীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠতম আবিস্কার। ইন্টারনেটের কল্যাণে গোটা পৃথিবী এখন একই সুতোয় গাঁথা। হাজার মাইল দূরের মানুষের সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনায়েসেই যোগাযোগ করা যায়। কথা বলা যায়, শেয়ার করা যায় অনুভূতি; এমনটি দেখাও যায়। বিশ্বব্যাপি তথ্য আদান-প্রদান; ব্যক্তিগত, সামাজিক, ব্যবসায়িক, ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় যে কোনো প্রকার যোগাযোগকে সহজ ও গতিময় করতে ইন্টারনেটের বিকল্প নেই। আর এই ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রাথমিক স্তর হলো ওয়েবসাইট। যাকে সহজ বাংলায় ইন্টারনেটভিত্তিক ঠিকানা বলা যায়। একেকটি ডোমেইনের আন্ডারে হাজার হাজার পেইজের ওয়েবসাইট নির্মাণ করা সম্ভব। আর ডোমেইন হলো ওয়েব ঠিকানা হিসেবে ব্যবহৃত একটি নাম। প্রত্যেকটি বাড়ির যেমন একটি হাউজিং-হোল্ডিং নম্বর থাকে, ডোমেইন হলো যে রকম একটি নাম-নম্বর। ২০১১ সালের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইন্টারনেটে মোট রেজিস্ট্রি করা ডোমেইনের সংখ্যা ৫৫ কোটি। (সূত্র : staticbrain.com) যার একেকটি ডোমেইনের আন্ডারে রয়েছে হাজার হাজার পৃষ্ঠার, লক্ষ-কোটি বিষয়ভিত্তিক অসংখ্য-অগণিত তথ্য সমৃদ্ধ ওয়েব সাইট এবং এসব ওয়েব সাইটের রয়েছে মিলিয়ন-বিলিয়ন দর্শক। ২০১২ সালের একটি পরিসংখ্যানে দেখানো হয়েছে শুধুমাত্র এশিয়াতে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০৭৭ মিলিয়ন বা প্রায় ১০৮ কোটি। একই সময় বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো প্রায় আশি লাখ। (সূত্র : internetworldstats.com)

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যার বৃদ্ধিগতি কেবল উর্ধ্বমমুখীই নয়, যে কোনো প্রকার গাণিতিক হিসেবকেও হার মানায় এই বৃদ্ধিগতি। বর্তমান বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের চেহারা হচ্ছে— প্রত্যেকজন মোবাইল ব্যবহারকারীই একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। মোট কথা গোটা বিশ্বব্যাপি মিলিয়ন-বিলিয়ন মানুষের কাছে কোনো তথ্য-বার্তা খুব অল্প সময়ে পৌছে দেওয়ার জন্য ইন্টারনেটের বিকল্প নেই। অন্যান্য বিষয় ও তথ্যের  মতো ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইসলাম প্রচারের বিষয়টি খুবই উর্বর ও যুগোপযুগী। হজরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে শেষ নবি হজরত মুহাম্মাদ (সা.) পর্যন্ত সব নবি-রাসুলদের দাওয়াতি জীবন পর্যালোচনা করলে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি উঠে আসে, সেটা হলো— প্রত্যেকজন নবি-রাসুলই ছিলেন তৎকালীন যুগোপযুগী বিদ্যা ও তথ্য-প্রযুক্তিতে পারদর্শী । প্রত্যেক নবি-রাসুলই দীনের দাওয়াতের কাজে ব্যবহার করেছেন তৎকালীন যুগশ্রেষ্ঠ মাধ্যম বা প্রযুক্তিকে। বর্তমান যুগ তথ্য-প্রযুক্তির স্বর্ণযুগ। ইন্টারনেট-মিডিয়ার যুগ। প্রযুক্তির উৎকর্ষময় এই যুগে ইসলামের প্রচার-প্রসারের কাজে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ইন্টারনেটের গতিময়তাকে কাজে লাগাতে হবে ইসলামের দাওয়াতি কাজে। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদ বলেছেন, ‘ইন্টারনেটের মোকাবিলা করতে হবে ইন্টারনেটের সাহায্যে। কম্পিউটারের মোকাবিলায় কম্পিউটার এবং কলমের মোকাবিলায় কলমের সাহায্যে গ্রহণ করতে হবে। উটের পিঠে চড়ে ‘ল্যান্ডক্রুজারে’র সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়া কখনোই সম্ভব না।’

কিপ রিডিং…

ইমাম আবু হানিফা— বুদ্ধিভিত্তিক জ্ঞানচর্চার পুরোধা

অথোর- টপিক- সুলতান স্টোরি/

গ্রেট ফকিহ অব ইসলাম— ০১ 


বিশিষ্ট তাবিয়ী বিদগ্ধ আলিম ও ইজতিহাদ জগতের মেহেরবান রাহনুমা ছিলেন হজরত ইমাম আবু হানিফা। জ্ঞান রাজ্যের শ্রেষ্ঠতম গৌরব। তিনিই সর্ব প্রথম পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর বুদ্ধিভিত্তিক গবেষণা কর্মের দুয়ার উম্মোচন করেন এবং মানুষের জীবন ও জগতের সকল পরিবর্তনশীলতার মাঝেও নববী আদর্শের নিখুত অনুসারী হয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক সফলতা অর্জনের পথ প্রদর্শন করেন। আজ মুসলিম উম্মাহর বিভিন্ন ক্ষেত্রে জ্ঞানচর্চার যত দিকপাল আমরা দেখি সবাই তাঁর কাছে ঋণী। সবাই এই ইমাম আবু হানিফার পথ ধরেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি ইসলামের বিশুদ্ধ গবেষণা ও ইজতিহাদের পথিকৃত, তিনি এই মহাজগতের পুরোধা, তিনি ইমাম আজম। পৃথিবীতে সক্রেটিস প্লেটো আইনস্টাইন প্রমুখ বিজ্ঞজন বিশ্বমানবতাকে জ্ঞান ও দর্শনের দীক্ষা দান করেছেন। তাঁরা মানুষের জীবন ও জগত সুডৌল করার পথ ও পদ্ধতি তুলে ধরেছেন। কিন্তু তাঁদের সে সব দর্শন ও দিকনির্দেশনা ছিল একপেশে, একদিকদর্শী ও অপূর্ণ।

তাদের দর্শনে জাগতিক সফলতার বহুবিদ উপকরন বিদ্যমান কিন্তু মানুষের অন্তর, মানুষের মননজগত, মানুষের মওত ও আখিরাতকে অভিষ্পিত পাওয়ার ব্যাপারে সেখানে কোন নির্দেশনা নেই। এক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা অনন্য। এক্ষেত্রে তিনি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি সাদা কালো নির্বিশেষে বিশ্ব মানবতার বিশ্বাস ও আকায়েদ, জ্ঞান ও চেতনা, নৈতিকতাবোধ, আচার আচরণ, দৈনন্দিন জীবন চলার নিখুত পথ ও পাথেয়, ইবাদত বন্দেগী, ওযীফা ওযায়েফ থেকে শুরু করে জীবনের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ ও সফলতার সহজসাধ্য নির্দেশনা পেশ করেন; তার সেই নির্দেশনা সকল পরিবর্তনশীলতার চাকার সাথে সর্বদা খাপ খাইয়ে চলার উপযোগী ও পূর্ণাঙ্গ।


লিখেছেন ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ


কিপ রিডিং…

জেরুজালেম নাকি জেরুসালেম, আল-কুদস তাহলে কি?

অথোর- টপিক- ফিচার

সাংবাদিকতা শব্দের ইংলিশ হলো- Journalism এখানে ইংরেজি ‘এস’ থাকলেও উচ্চারণ কিন্তু হচ্ছে- জার্নালিজম। এখানে যেভাবে ‘এস’ বর্ণের উচ্চারণ ‘জ’ দিয়ে হচ্ছে, ঠিক তেমনই জেরুসালেমের ‘এস’ বর্ণটিকে কেউ ‘জ’ এবং কেউ ‘স’ উচ্চারণ করছেন। এতেই মূলত পবিত্র শহরটির নাম কখনও সালেম এবং কখনও জালেম হচ্ছে।


বর্তমানে ফিলিস্তিনের একটি শহরকে ট্রাম্প ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দিয়েছেন। যা নিয়ে সারা বিশ্বে তোলপাড় হয়েছে এবং হচ্ছে। জাতিসংঘে ভোটে হেরে গেলেও হুমকি দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার চেষ্টা করছেন মিস্টার ট্রাম্প।

কেউ বলেন জেরুজালেম আবার কেউ বলছেন জেরুসালেম। ফিলিস্তিনের উল্লেখিত শহরটির শুদ্ধ নাম আসলে কি? তা নিয়েই আজ আমার আলোচনা। বিস্তারিত ইতিহাসে আজ যবো না, শুধু নামের বিশ্লেষণ থাকবে এ লেখায়।

ফিলিস্তিনের উল্লেখিত শহরটির মূল নাম হচ্ছে- আল কুদস অর্থাৎ পবিত্র। বিভিন্ন কারণেই উক্ত স্থানটি মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের কাছে শহরটি পবিত্র। এজন্যই মূলত যে নামেই ডাকা হচ্ছে বা নাম যেটাই হোক নামের অর্থ কিন্তু স্ব স্ব জাতির মতে পবিত্র। বাস্তবে নামের অর্থ থাক না থাক সেটা বড় ব্যাপার না।

আল কুদস আরবী শব্দ। ফিলিস্তিন যেহেতু আরব দেশ তাই তাদের ভাষা অনুসারে উক্ত শহরটির নামকরণ করা হয়েছে ‘আল কুদস’।

এরপর ইহুদিরা ছলেবলে যখন মাথা গোঁজার ঠাই হিসেবে ফিলিস্তিনিদের কাছে ভূখন্ড নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করল তখন থেকে আস্তে আস্তে ইহুদিরা ফিলিস্তিন দখলের ছক আঁকতে শুরু করেছে। সে ছক বাস্তবায়নের জন্য নানান বর্বরতা চালাচ্ছে প্রতিদিনই ফিলিস্তিনিদের উপর। নাম পরিবর্তনও সেই চক্রান্তের অংশ।

ইসরাইল যখন ‘আল কুদস’ দখল করেছে তখন থেকে তাঁরা এর অফিসিয়াল নাম দিয়েছে ‘ইউরসালাইম আল কুদস’। এ শব্দের অর্থও পবিত্র। আল কুদ্স নাম সে সময় বাদ দিলে ইসরাইলের অস্তিত্ব নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে যেত, এজন্য ধূর্ত ইহুদিরা নিজেদের শব্দের সাথে মূল আরবী শব্দ ‘আল কুদ্স’ও সংযুক্ত রেখেছে।

ইউরসালাইম আসলে কোন ভাষার শব্দ? ইসরাইলের ভাষা যেহেতু হিব্রু তাই অনেকের মতে ইউরসালাইম শব্দটি হিব্রু ভাষার শব্দ। কারো মতে শব্দটি মেসোপটোমিয়া শব্দ ‘ইউরসালাইমা’ থেকে নেয়া হয়েছে। যেখান থেকেই নেয়া হোক ইউরসালাইম শব্দটির অর্থও ইহুদিদের মতে পবিত্র। কিপ রিডিং…

সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত অসাধারণ একজন প্রেসিডেন্ট— ড. মাহমুদ আহমাদিনেজাদ

অথোর- টপিক- /সুলতান স্টোরি

ঘটনাটা ২০০৮ সালের। ইরানের প্রেসিডেন্টের ছেলের বিয়ে। দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু ঠিক বিয়ের দিন দেখা গেলো অতিথিদের তেমন কোনো সাড়া নেই। তাহলে কি কট্টরপন্থী আখ্যা পাওয়া প্রেসিডেন্টকে বয়কট করতে শুরু করেছে সর্বশ্রেণির মানুষ? এনবিসি নিউজ চ্যানেলের সাংবাদিক বিয়ের বর মাহদিকেই ধরে বসলেন। জানতে পারলেন বিয়েতে মাত্র ৪৫ জন অতিথিকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। তার মধ্যে ২৫ জন নারী এবং ২০ জন পুরুষ। খোদ প্রেসিডেন্টের কাছেই সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন— এটা কি নিরাপত্তাজনিত কারণে? প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত হাসিমুখে বিনয়ের সাথে বললেন— এর চাইতে বেশি মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। দেখা গেছে— বিয়ের অনুষ্ঠানে শুধু কমলা, আপেল, কলা ও ছোট এক টুকরো কেক দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়েছে। এই প্রেসিডেন্টই হলেন ড. মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। পৃথিবীতে এমন অনেক ক্ষমতাধর নির্বাচিত হন বিভিন্ন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে । যথা নিয়মে তারা চলে যান এবং মানুষ তাদের ভুলে যায়, স্মৃতি হাতড়েও খুঁজে পায় না। এর ব্যতিক্রম যারা রয়েছেন আহমাদিনেজাদ তাদের অন্যতম। তিনি তার জীবনের সূচনালগ্ন থেকেই এমন সব নজির উপহার দিয়েছেন, যা কেবল ইসলামের সোনালী যুগের স্বর্ণমানবদের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় ।

তিনি ক্ষমতা বা অবস্থানের থেকে কাজটিকেই সবচে’ বেশি গুরুত্ব দিতেন। ধরুন, তিনি একটি তেহরান শহরের মেয়র। তার কাজ কী— তার থেকেও বেশি বিবেচনা করছেন সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম কাজটি কী। তাই তিনি সকাল বেলা নিজ হাতে তেহরানের রাস্তা ঝাড়ু দিতেন ।

আশির দশকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সময়ও মাহমুদ ছিলেন একজন সক্রিয় কর্মী। ১৯৭০ সালের শেষের দিকে ‘সারকর্ড’ শহরের মেয়রের উপদেষ্টা হিসেবে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন বলা হয়, ১৯৭৯ সালে আমেরিকান দূতাবাস আক্রমণ করে ৫৩ জন কূটনীতিককে বন্দী করা হাজারো আহমেদিনেজাদ ছিলেন একজন। ১৯৮০ সালে তিনি আর্মিতে যোগদান করেন। পরে তিনি তুর্কী বর্ডারের কাছে ‘মাকু’ শহরের মেয়র পদে নিযুক্ত হন। ১৯৯০-এর শেষের দিকে ডক্টরেট করা অবস্থায় নতুন প্রদেশ তিনি ‘আরদাবিল’ শহরের গভর্নর পদে নিযুক্ত হন। কিন্তু খাতামি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে তাকে অপসারণ করা হয়, তাই তিনি আবার শিক্ষকতায় ফিরে আসেন। ধীরে ধীরে তিনি হার্ডলাইন রেভুলেশনারি গার্ডের বিশেষ বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন। এবং এরপরই তিনি রাজনীতিতে তুমুলভাবে আত্মপ্রকাশ করেন।

২০০৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হন তেহরানের। এ-সময় শহরের মিউনিসিপ্যালিটি অফিসগুলোতে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা আলাদা এলিভেটর স্থাপন, শহরের ট্রাফিক সিস্টেমে পরিবর্তন, গরিবদের জন্য ফ্রি স্যুপের ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে ধর্মীয় মুল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া, তেহরানের ঝাড়ুদারদের সাথে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া এবং সর্বপরি তার অতি সহজ সরল জীবন যাপনের কারণে তিনি আলোচনায় আসেন এবং আস্তে আস্তে ইরানিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

যাইহোক, ২০০৫ সালে আহমাদিনেজাদ ৬২% ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। নির্বাচনী প্রচারণায় তার স্লোগান ছিল— এটা সম্ভব এবং আমরা এটা করতে পারি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে তিনি মন্তব্য করেন— ইরানের উন্নতির জন্য যুক্তরাস্ট্রের সাহায্যের কোনও প্রয়োজন নেই। তার এই কথা সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হন। কিপ রিডিং…

ক্যামেরার চোখে ঘটনাবহুল ২০১৭

অথোর- টপিক- ফটোগ্রাফি/লিড স্টোরি

ফিরে দেখা ২০১৭


২০১৭ সালকে বিদায় জানিয়ে ২০১৮ সালে উপস্থিত আমরা।  এভাবেই চলে আসছে এবং চলতে থাকবে- একের পর একটি বছর শেষ হবে এবং শুরু হবে নতুন আরেকটি বছর।  বর্ষপরিক্রমার এই অমোঘ নিয়ম মেনেই চলছে সব।  সামনে এগুচ্ছে পৃথিবী।  ভারি হচ্ছে অভিজ্ঞতার ইতিহাস। সমৃদ্ধ হচ্ছে আগামীর পথচলা।  পেছনে ফেলা আসা বছরগুলোকে কি আমরা ভুলে যাই নাকি স্মরণ রাখি? সাদাসিদে উত্তর হলো- একেবারে ভুলেও যাই না আবার খুব বেশি স্মরণ রাখি না। যখন যতটুকু প্রয়োজন স্মরণ রেখে সামনে এগিয়ে চলা।

প্রত্যেকটি বছরই গুরুত্বপূর্ণ।  প্রতি বছরেই ঘটনাবহুল অনেক ইতিহাসের জন্ম হয়।  ২০১৭ সালও তার ব্যতিক্রময় নয়। এ বছরটিতে বিশ্বব্যাপি অনেক ঘটনা ঘটেছে। অনেক আয়োজন-উৎসব এবং উদ্ভব-আবিস্কারে স্নাত হয়েছে বিগত বছরের প্রতিটি মাস, প্রায় প্রতিটি দিন।  ২০১৭ সালে সংঘঠিত উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলীর ছবিনির্ভর ফিচার- ক্যামেরার চোখে ঘটনাবহুল ২০১৭। দ্য নিউ ইর্য়ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ছবি ও তথ্য নিয়ে ফিচারটি তৈরি করেছেন মিরাজ রহমান

জানুয়ারি

১।  নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের অভিষেক অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প।

২।  অভিষেক অনুষ্ঠানে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

৩।  নারীদের বিক্ষোভ মিছিলে দান করার জন্যে ‘পুশি হ্যাট’ বানাচ্ছেন কিছু স্বেচ্ছাসেবক।

৪।  অভিষেক অনুষ্ঠানে ‘মাই ওয়ে’ গানে নাচছেন ট্রাম্প এবং মেলেনিয়া।

৫। ওয়াশিংটনে নারীদের বিক্ষোভ মিছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ত হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেকের পরই সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ বিক্ষোভকারী এতে অংশগ্রহণ করে।

৬।  প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতাগ্রহণের প্রতিবাদে ন্যাশনাল মলের দিকে লক্ষ লক্ষ মানুষের বিক্ষোভ যাত্রা।

৭।  মসুলকে সম্পূর্ণরূপে আইএস মুক্ত করার অভিযান চলাকালে আত্মঘাতী বোমা হামলার পরবর্তী মুহূর্ত পরীক্ষা করছে ইরাকি সেনাবাহিনী।

৮।  সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিবাদে ডালাস-ফোর্ট ওর্থ বিমানবন্দরে নামাজ পড়ছেন কিছু অভিবাসী।

৯। ‘দ্য ফোর টেম্পেরামেন্টস’ এর জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিউ ইয়র্ক সিটি ব্যালে কর্পোরেশনের একজন সদস্য। কিপ রিডিং…

২০১৭ সালে বাংলাদেশে যে ১০টি বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে

অথোর- টপিক- বুকস/লিড স্টোরি

উইকিপিডিয়ার ভাষায়, বই— বলতে লেখা, ছাপানো অক্ষর বা ছবিবিশিষ্ট কাগজ বা অন্য কোনও মাধ্যমের তৈরি পাতলা শীটের সমষ্টি বোঝায় যা এক ধারে বাঁধা থাকে এবং রক্ষামূলক মলাটের ভেতরে আবদ্ধ থাকে। এর প্রতিটি পাতলা শিটকে পৃষ্ঠা বা পাতা বলে। বইয়ের সমার্থক শব্দ গ্রন্থ, কিতাব। যে ব্যক্তি বই লিখেন তাকে লেখক বলে।

বিশ্বের প্রতিটি দেশে প্রায় সব ভাষাতেই নানা বিষয়ের বই রয়েছে। বাংলা ভাষাতেও এর ব্যাতিক্রম নয়। বাংলাদেশ নামক ছোট্ট এই দেশে বাংলা ভাষায় গ্রন্থ প্রকাশনা ও বিক্রির ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। হালে এসে প্রযুক্তির ডানায় ভর করে বই বিক্রির পদ্ধতিতে গতি এসেছে। সহজ হয়েছে বই ক্রয় করার পদ্ধতি। বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার মাধ্যমে অতীতের তুলনায় বাংলা ভাষায় প্রকাশিত বইয়ের বিক্রিও বেড়েছে, এমনটাই মতামত ব্যক্ত করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশে গড়ে ওঠা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে বই অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান রকমারি.কম। রকমারি.কম হচ্ছে বাংলাদেশে অন্যতম জনপ্রিয় পণ্য কেনার বা ই-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান। রকমারি.কম বলতে গোটা বাংলার মানুষের কাছে যে কথাটি স্পষ্ট সেটা হলো— বাংলাদেশসহ পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে প্রকাশিত বই ঘরে বসে কিনতে চাইলে রকমারি.কমের বিকল্প নেই। এছাড়া বই ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে রকমারি.কমকে বাংলার অ্যামাজনও বলা হয়।

রকমারি.কম থেকে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে যে সব বই বেশি বিক্রি হয়েছে, তার মধ্য থেকে সর্বাধিক বিক্রিত ১০টি বইয়ের তথ্য নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন— ২০১৭ সালে বাংলাদেশে যে ১০টি বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। ফিচারটি তৈরি করেছেন আমাতুল্লাহ ইউসরা। তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন রকমারি.কমের হেড অফ কমিউনিকেশন এন্ড ইনবাউন্ড মার্কেটিং মাহমুদুল হাসান সাদি

১০. শেষ চিঠি। বইটি লিখেছেন আয়েশা ফয়েজ। জীবনী ও স্মৃতিচারণ ক্যাটাগরির বই এটি। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত একুশে বইমেলাতে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে তাম্রলিপি। বইটির মূল্য ১৬০ টাকা। প্রচ্ছদ করেছেন আহসান হাবীব। ২০১৭ সালে রকমারি.কম থেকে যে সব বাংলা বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে, তার তালিকার দশম স্থানে রয়েছে এই বইটি। আয়েশা ফয়েজ বিখ্যাত একজন রত্নগর্ভা মা। তার ছেলেরা হলেন হুমায়ুন আহমেদ, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল এবং আহসান হাবীব। রকমারি.কম থেকে বইটি কিনতে চাইলে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে এবং অর্ডার করুন। কিপ রিডিং…

গো টু টপ