অবিকল চর্যাপদের ভাষা রাজবংশী

অথর- টপিক- অপিনিয়ন/লিড স্টোরি


‘টালত ঘর মোর নাহি পরবেসী,  হাড়িত ভাত নাই, নিতি আবেশী’

বাংলা ভাষার প্রাচীনত্ব প্রমাণ করা হয় চর্যাপদের ভাষা দিয়ে, অথচ ঢেণ্ঢনের লেখা চর্যাপদের ৩৩ তম এই পদটি পড়লে পরিষ্কার মনে হয়— চর্যাপদ বুঝি রাজবংশী ভাষাতেই লেখা।[1] এমন নয়, কাকতালীয়ভাবে চর্যাপদের ভাষাটা রাজবংশীর সাথে মিলে গেছে কিংবা এমনও নয় যে, চর্যাপদের সবটুকু ভাষাই রাজবংশী থেকে নেয়া। বরং বলার বিষয় হলো, চর্যাপদে যে ভাষার সাথে রাজবংশীর মিল রয়েছে, হাজার বছর ধরে এই ভাষাভাষীরা ঠিক সেই ভাষাতেই কথা বলছে, এতটুকু বদল ঘটে নি। অধ্যাপক আহমদ শরীফ যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছেন— “চর্যাপদ আদতে একটা সংগ্রহ। শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর নেপাল রাজদরবারে আমন্ত্রিত হলে এ অঞ্চলে প্রচলিত সহজিয়া পদগুলিকে সংগ্রহ করে ও লিপিবদ্ধ করে নিয়ে যান নেপালে। সংগ্রহের প্রশ্নে তখন বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন ভাষার পদ আসাটাই স্বাভাবিক ছিলো। অর্থাৎ চর্যাপদের সবগুলি পদ একই ভাষায় রচিত নয়। তাই কেউ যদি উপর্যুক্ত পদটি রাজবংশী ভাষায় লিখিত কোনো পংক্তি বলে আপনাকে নিরানব্বভাগ নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে আপনি না মেনে পারবেন না।

রাজবংশী ভাষাকেও বাংলার একটি উপভাষা বলা হয়ে থাকে, যদিও আজকাল অনেক গবেষকই অস্বীকার করেন। ভারতের উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. হরিপদ চক্রবর্তী দেখিয়েছেন— রাজবংশী ভাষায় বাংলা ও অসমির প্রাধান্য থাকলেও ভাষাটিতে অনেকাংশে তিব্বতী-বর্মন গোত্রের অন্তর্গত আদি বোড়োভাষার (বড়ুয়া ভাষার) বহুশব্দ বিদ্যমান রয়েছে। তাই রাজবংশী বাংলা বা অসমিয়ার উপভাষা বা শাখাভাষা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়।[2] এমনকি অনেকে এক কদম এগিয়ে বাংলাকেই রাজবংশীর অপভ্রংশ বলতে চান। সুনীতিকুমার ও ড. রফিকুল ইসলামও বাংলা ভাষায় বোড়ো প্রভাবের কথা উলেখ করেছেন। আবার অনেকের অভিমত— বাঙলা ভাষা রাজবংশী ভাষার সমসাময়িক একটি ভাষার পরের প্রজন্ম। হতে পারে, রাজবংশীর বিকশিত রূপ যখন প্রচলিত তখন তার প্রতিবেশী আরেকটি ভাষা পরবর্তীতে বিকশিত, বিবর্তিত হতে হতে আজকের বাংলা ভাষার রূপ নিয়েছে। ভাষার প্রাচীনত্বের বিবেচনায় এসব দাবিকে সর্বাংশে উড়িয়ে দেয়ারও উপায় নেই। ভাষাবিদদের গবেষণা বলে— রাজবংশী ভাষা ৪৮-৫৫ ভাগ বাংলা, ৪৩-৪৯ ভাগ মৈথিলি ও নেপালি শব্দ দ্বারা গঠিত। আবার অন্যদিকে রাজবংশীকে বুদ্ধানুসারীদের ধর্মীয় ভাষার ‘পালি’র নিকটাত্মীয়ও বলা হয়। হাচিসন ও ডালটনের লেখা থেকে জানা যায়—  ষোল শতকের দ্বিতীয়ার্ধে কোচ রাজা হাজোরের বংশধরগণ ‘কোচ’ ত্যাগ করে ‘রাজবংশী’ গ্রহণ করে। তারপর থেকেই এই ভাষার বিকাশ বৃদ্ধি পায়।


আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি ভাষার যথাসম্ভব সানুপুঙ্খ আলোচনার প্রয়াস পাবো । সত্যিকারের ভাষারূপ এবং ভাষাভাষী মানুষের শিক্ষা ও তিতিক্ষার ফসল তুলে আনতে আমাদের কসুর থাকবে না । পরবর্তী অধ্যায়গুলো দেখতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন । নজর রাখুন দ্য সুলতানে ।


বাহে ভাষাকে রাজবংশীর একটি উপভাষা বলা হয়ে থাকে।[3] তবে অনেকের মতে— বাহে আসলে রাজবংশীরই আরেকটি নাম। কেননা, রাজবংশী ভাষার একাধিক কথ্য রূপ প্রচলিত। একে পূর্ব, মধ্য, পশ্চিম এবং পাহাড়ী (কোচ) এই চার ভাগে ভাগ করা যায়। যদিও এই ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্য রাজবংশী ভাষায় অধিকাংশ লোকে কথা বলে। পশ্চিমা কথ্যরূপে এলাকাভেদে পরিবর্তিত হয়। তবে তিন কথ্যরূপের মধ্যে ৭৭-৮৯% মিল পাওয়া যায়।

এই ভাষার অন্য একটি নাম হলো— কামতাপুরী।

রাজবংশী নামটি একটু নতুন শোনালেও আসলে আমাদের দেশের রংপুরী ভাষাকেই অফিশিয়ালি ‘রাজবংশী’ নামে ডাকা হয়। ‘রংপুরী ভাষা’ বলেও এর স্বীকৃতি আছে, তবে অনেকেই রাজবংশী আর রংপুরীকে অভিন্ন বলে মানতে নারাজ; তাদের মতে— রংপুরী হলো রাজবংশীর অপভ্রংশ। যে যা-ই বলুক, ভারতের রাজবংশীই মূলত আমাদের দেশে এসেই কিছুটা উল্টেপাল্টে রংপুরী নাম গ্রহণ করেছে। শুধু তা-ই নয়, এই ভাষা আরও কয়েকটি নামে পরিচিত; যেমন— বাহে বাংলা, আঞ্চলিত বাংলা, কামতাপুরীয়া। ভারতে বলা হয়— কামতাপুরি, দত্তা, রাজবাঁশি, রাজবাশি, রাজবাংশি, গোয়ালপারীয়া, কোচ রাজবংশী; নেপালে বলে— তাজপুরি; আর আসাম অঞ্চলের মানুষ ডাকে— কোচ রাজবংশী নামে।

ভাষার শ্রেণিবিচারে রাজবংশী ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার একটি সদস্য ভাষা এবং ইন্দো-ইরানীয়, ইন্দো-আর্য ও পূর্বাঞ্চলীয় ভাষা হয়ে বাংলা-অসমিয়া ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গ্লটলগে এই ভাষার কোড হলো—  rang1265 ও rajb1243।[4] আর আইএসও ইন্টারন্যাশনাল স্টান্ডার্ড কোড—  ৬৩৯-৩ : rkt ও rjs।

রাজবংশী ভাষাকে বাংলাদেশের রাজবংশী সম্প্রদায় এবং ভারত ও নেপালের রাজবংসী ও তাজপুরিয়া সম্প্রদায়ের ভাষা বলে আখ্যায়িত করা হয়। কিন্তু অধুনা রংপুর অঞ্চলের মানুষের ভাষার দিকে নজর দিলে স্বভাবতই এই তথ্যের সাথে দ্বিমত করবার যথেষ্ট কারণ আছে। কেননা, যতদূর জানা যায়— রাজবংশী সম্প্রদায় বলে যাদের অভিহিত করা হয়, তারা ভারতের কোচবিহার অঞ্চল থেকে আগত কোচ ও পলিয়া জাতির মিশ্রণজাত সম্প্রদায় এবং এরা বাংলাদেশের রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী অঞ্চল, ভারতের পশ্চিমবঙ্গর ছয় জেলা— কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং জেলার সমতল অঞ্চল, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলার কিছু অংশজুড়ে বসবাস করে। তা ছাড়া আসামের গোয়ালপাড়া, ধুবড়ী, মেঘালয় ও নেপালের ‘ঝাপা’ জেলাতেও এই জাতিগোষ্ঠীর উল্লেখ পাওয়া যায়। বগুরা ও ময়মনসিংহ জেলাতেও কিছু সংখ্যক রাজবংশী রয়েছে। ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশে এদের মোট জনসংখ্যা ৫ হাজারের একটু বেশি। [5] বর্তমানে বাংলাদেশে তাদের সঠিক জনসংখ্যা বিষয়ে কোনো ধারণা নেই। সবমিলিয়ে ২০ হাজার বা তার বেশি হতে পারে। জাতিতেও তারা মুসলিম নয়, বরং প্রধানত হিন্দু ও বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী।[6] ধর্মীয় দিক থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় এদেরকে আদিবাসী রূপে পৃথক করে গণনা করাও হয় না। অথচ এখন, ঠিক এই সময়ে এসে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারি, গাইবান্ধা, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও এবং রাজশাহী অঞ্চলের জয়পুরহাটের বিপুল জনগোষ্ঠী রাজবংশী ভাষায় কথা বলে। ২০০৭ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে রাজবংশী ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি, যাদের সংখ্যাগুরু মুসলিম জনগোষ্ঠী,  এবং ভারত-নেপালসহ বিশ্বের মোট ১.৫ কোটি মানুষ রাজবংশী ভাষায় কথা বলে।[7]

একসময়কার কামতা রাজ্যের রাজভাষা হিসেবে স্বীকৃত এই সাহিত্য সমৃদ্ধ ভাষাটি এখন শুধু গ্রামীণ প্রান্তিক দরিদ্র ও অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ভাষায় পরিণত হয়েছে। এ অঞ্চলের শিক্ষিত মানুষেরা নিজেরাই রাজবংশীতে কথা বলতে বিব্রত বোধ করেন। তাই এই ভাষাভাষী জনগণ কার্যত দ্বিভাষী হয়ে পড়েছে এবং মাতৃভাষার পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে বাংলা, নেপালি ও অসমিয়া ভাষা ব্যবহার করে থাকে।

রাজবংশী ভাষার কোনো লেখ্যরূপ বা বর্ণমালা নেই।[8] বাংলা বর্ণমালাতেই এ ভাষার লেখাপড়া চলে। ভাষা বিচারে এটি বৃহত্তর বোড়ো ভাষা গোত্রভুক্ত হলেও বর্তমানে তা লুপ্ত হয়ে সেখানে বঙ্গকামরূপি> কামরূপি মিশ্রণ ঘটেছে ব্যাপকভাবে। তাই এ ভাষার সত্যিকারের লিখিত আদিরূপ সম্পর্কে এখন আর জানা যায় না। যেহেতু তাদের ভাষায় কোনো লিপি ছিলো না, সে-কারণে সাহিত্য-নিদর্শন বা কোনো প্রমানাদি নেই। কেবল বোড়ো ভাষার উৎস জাত শব্দাবলি ও বোড়ো ভাষার অপভ্রংশ শব্দ পরিলক্ষিত হয়। সে-হিসেবে এখনো এই ভাষাভাষীর বাংলা ক্রিয়া পদে ও বিশেষ্য পদের শেষে ও মাঝে ‘ঙ’, ‘ং’ এবং ‘ম’-এর উচ্চারণ ও ব্যবহার লক্ষ করা যায়।[9]



রাজবংশী ভাষার উদাহরণ

এ্যাকনা মাইনসের দুই কন্যা ব্যাটা আছিল। তার  ছোটোকোনা উয়ার বাপকে কইল,বা,মোর পইসা কড়ির ভাগ মোক দেও। ওই কতাতে তাঁয় উমার ঘরক সব বাটি দিল। অথবা একদিন চেংটু আসি দেওয়ানীক কইল বাহে, দেওয়ানীর ব্যাটা হটো তো অমপুর যাই। হামার এ্যাকনা মোকদ্দমা আছে। দেওয়ানী কইল মুই আইজ যাবার পাবার নও হামার বাড়িত আইজ সাগাই আসপে।

রাজবংশী শব্দ প্রকৃত শব্দ রাজবংশী ক্রিয়া প্রকৃত ক্রিয়া
অকে উহাকে দিখিম/যাইম দেখিব,দেখব,যাইব,যাব
অমপুর/অংপুর রংপুর যায়া যেয়ে
অক্ত রক্ত খায়া খেয়ে
আঙা রাঙ করিম করিম/করবো
আন্দন রান্ধন বলিম বলিব/বলব
আইগন্যা উঠোন দিয়া দিয়ে

রাজবংশী ভাষার কিছু প্রবাদ-প্রবচন হলো— ১. নটকো বাড়ি দিয়া সটকো পাটা বাড়ি দিয়া গিঁড়িত। ২. প্যালকা দশমনে পশু্যক। ৩. যার বাড়ত বিয়া তাঁয় পায় না গুয়া। ৪. বাপে বেটায় খায় তামাকু, জামাই বলে দেন তো বাপু,জাইত মারলে মোর সাদের তামাকু। ৫. পাচাত নাই ত্যানা, ভাসুরে বাজাযই ব্যানা। মেয়েলী খেলাধুলার মাধ্যমে রাজবংশী ভাষায় ছড়া কাটার প্রচুর নির্দশন আছে, যেমন— “ইকরি বিকরি চাম চিকরি/চামের আগায় দিনু পটি/আয় গোয়ালী ভাত খাই/না খাও তোর হাতে গবরি গবরি গোন্ধায়/এ্যাল পাত,ব্যাল পাত/ছিড়ি ন্যাংটি তোল এক হাত।” বিয়ের সময় বর বা কনেকে হলুদ মাখানো হয় এ ধরনের গীত গেয়ে— “মলমল গোন্দাও/মুখ খানা দেখ তোর নাটুয়াও। ”অথবা— ফোরল ডুববার গেনু মা মুই/কুমোর পাড়া দিয়া/ব্যারাও রই কুমারের মাইয়া/ হাতত দিয়ার নিয়া। “

রংপুর অঞ্চলের ভাওয়াইয়া ও পল্লীগীতি বিশ্ববদরবারে নন্দিত। এক্ষেত্রে ভাওয়াইয়া সম্রাট আববাস উদ্দীনের সীমাহীন প্রয়াসে এই সঙ্গীত লাভ করেছে অসামান্য মর্যাদা ও বিপুল জনপ্রিয়তা। তেমন কয়েকটি জনপ্রিয় ভাওয়াইয়া পল্লীগীতির হলো— “ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দেরে”, “ওকি গাড়িয়াল ভাই হাকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দর রে”,   আহারে কুংকুরার সুতা হলু নোহার গুনারে”, “কানিচাত নাগানু আকাশি আকালি আকালি ঝুমঝুম করে” ইত্যাদি। [10] ইন্দ্রমোহন রাজবংশী এই ভাষার একজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, যিনি মূলত লোকগানের শিল্পী।[11] এই ভাষার একজন খ্যাতিমান গবেষক হলেন শিলিগুড়ি শিবমন্দির এলাকার বাসিন্দা নগেন্দ্রনাথবাবু। প্রাথমিক স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত ওই শিক্ষক গীতাসহ বিভিন্ন গ্রন্থ রাজবংশী ভাষায় অনুবাদ করেছেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একাধিক গল্প ও কবিতারও অনুবাদ করেছেন।

এছাড়াও রাজবংশী ভাষার বহুগান, কবিতা, নাটকসহ প্রচুর সাহিত্য-কর্ম পাওয়া যায়। রামায়ণেও রংপুর অঞ্চল (প্রাগজ্যোতিষপুর) ও এর ভাষার বর্ণনা পাওয়া যায়।[12]

১৪১৭ বঙ্গাব্দ থেকে রাজবংশী ভাষায় দোতরার ডাং নামের একটি সাময়িকীও প্রকাশ হয়ে আসছে ভারতের কোচবিহারের নাজিরহাট থেকে। [13] “কুত্তি গেছে দাদার শালা,/ কুত্তি গেইছে বৌদি,/দেখতো বাপই এমন করি ভুটুস করিল কি?/মেজর সাহেব কয়া গেইল তাও না জানেন/যদি ওঠে ভুটুস করি,/ খাড়েয়া না থাকেন।”—  গোলাগুলির মধ্যে সীমান্ত এলাকার গ্রামের মানুষের জীবন নিয়ে জয়ন্ত সরকারের লেখা ভুটুস কবিতার অংশ এটি। কবিতাটি  ‘দোতরার ডাং’ পত্রিকার তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যাতে (কার্তিক মাস, ১৪২০) প্রকাশিত হয়। দোতার ডাং পত্রিকাটি ত্রিভাষিক। পত্রিকাটির সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায় ও নিলয় বর্মণ।

বাংলাদেশে সাংবিধানিকভাবে রাজবংশী বা রংপুরি যাই বলি না কেনো এর কোনো স্বীকৃতি নেই। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও নেপালে রাজবংশীর স্বীকৃতি আদায়ে রীতিমত আন্দোলন চলছে, প্রাইমারি পর্যায়ে রাজবংশী ভাষায় পাঠক্রম এবং পরবর্তী শিক্ষার পর্যায়ে সাবজেক্ট হিসাবে রাজবংশী ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন হয়ে আসছে। তবে তা আলোর মুখ দেখবে কি না সন্দেহ রয়েই যায়।  এর মধ্যদিয়েই পশ্চিমবঙ্গে রাজবংশী ‘ভাষা আকাদেমি গঠন হয় ২০১২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি; যা কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে।[14] আকাদেমির প্রথম ও বর্তমান চেয়ারম্যান বিজয় চন্দ্র বর্মন। এবং অন্যতম দু’জন সদস্য হলেন—  পার্থ প্রতিম রায়, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের আধিকারিক প্রবাল কান্তি ঘোষ।[15]২০১০ সালের ২৮ অক্টোবর, ভাষা আকাদেমি প্রতিষ্ঠারও ২ বছর আগে রাজবংশী ভাষার লেখক গিরিজাশঙ্কর রায়কে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার দেয়া হয়। এবং সে-কারণে এ- দিনটিকে রাজবংশী ভাষার ‘ভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজবংশী ভাষা আকাদেমি। ২০১৪ থেকে তা পালন করা শুরু হয়।[16] ২০১৫ সালে ২৮ অক্টোবর নগেন্দ্রনাথবাবু আকাদেমির পক্ষ থেকে সম্মাননা দেয়া হয়।[17]

রাজবংশী ল্যাংগুয়েজ এডুকেশন কাউন্সিল’ এর সাধারন সম্পাদক কেনেডি রায় জানিয়েছেন— রাজবংশী ভাষার শিক্ষার জন্য উত্তরবঙ্গ জুড়ে ২৫০টির বেশি স্কুল রয়েছে। যেখানে ভাষা,সংস্কতি সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়।[18]



তথ্যসূত্র : 

[1] www.istishon.com/?q=node/19671

[2] বড়োদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ড. হরিপদ চক্রবর্তী, পৃষ্ঠা ৯

[3] bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE

[4] নোরধোফ, সেবাস্টিয়ান; হামারস্ট্রাম, হারাল্ড; ফোস্কেল, রবার্ট; হাস্পেলম্যার্থ, মার্টিন, সম্পাদকবৃন্দ (২০১৩)। “Rangpuri”। গ্লোটোলগ। লিপজিগ: বিবর্তনীয় নৃতত্ত্বে ম্যাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট। http://glottolog.org/resource/languoid/id/rang1265

[5] আহমদ, রফিক। “রাজবংশী”। বাংলাপিডিয়া। সংগৃহীত ৬ এপ্রিল ২০১৫। bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%AC%E0%A6%82%E0%A6%B6%E0%A7%80

[6] দ্য রিপোর্ট, হানিফ, রানা (২২ মার্চ, ২০১৪)। “ধলেশ্বরী ও রাজবংশী বিলুপ্তির পথে”। সংগৃহীত ৬ এপ্রিল ২০১৫।

[7] www.ethnologue.com/18/language/rkt/

[8] আহমদ, রফিক। “রাজবংশী”। বাংলাপিডিয়া। সংগৃহীত ৬ এপ্রিল ২০১৫। bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%AC%E0%A6%82%E0%A6%B6%E0%A7%80

[9] ছোট কাগজ ‘দ্রোহ’, চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত, http://www.droho.net/?p=1297

[10] তথ্য সংগৃহিত- রংপুর সংবর্তিকা (মুহমমদ আলীম উদ্দীন) www.rangpur.gov.bd/node/1025119/%E0%A6%B0%E0%A6%82%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%B0%E0%A6%A3

[11] “লোকগানের শিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশী”। বিবিসি বাংলা থেকে ৬ এপ্রিল ২০১৫-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৬ এপ্রিল ২০১৫। www.bbc.com/bengali/multimedia/2015/02/150220_mb_gaangolpo_indramohan_rajbangshi

[12] http://www.somewhereinblog.net/blog/shohel18/30138343

[13] সংবাদমন্থন, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪, “রাজবংশী ভাষার পত্রিকা ‘দোতরার ডাং’”। সংগৃহীত ৬ এপ্রিল ২০১৫। songbadmanthan.com/%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%AC%E0%A6%82%E0%A6%B6%E0%A7%80-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%A6%E0%A7%8B/

[14] উদ্বোধন হলো রাজবংশী ভাষা আকাদেমির, দৈনিক গণশক্তি, ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=33002

[15] ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=57856

[16] আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৯ অক্টোবর, ২০১৫ । www.anandabazar.com/district/uttarbanga/%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%AC-%E0%A6%B6-%E0%A6%A4-%E0%A6%85%E0%A6%A8-%E0%A6%AC-%E0%A6%A6-%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8-%E0%A6%AF-%E0%A6%B8%E0%A6%AE-%E0%A6%AE-%E0%A6%A8-1.230559

[17] আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৯ অক্টোবর, ২০১৫ । www.anandabazar.com/district/uttarbanga/%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%AC-%E0%A6%B6-%E0%A6%A4-%E0%A6%85%E0%A6%A8-%E0%A6%AC-%E0%A6%A6-%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8-%E0%A6%AF-%E0%A6%B8%E0%A6%AE-%E0%A6%AE-%E0%A6%A8-1.230559

[18] “রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি”

কোলকাতা২৪ x ৭.কম, ২৭ জুন, ২০১৫, www.kolkata24x7.com/rajbanshi-to-be-constitutional-language-soon.html

আমি মনযূরুল হক। সার্টিফিকেটে নাম মো. মনযূরুল হক মোর্শেদ। পেশা ও নেশা লেখালেখি। পড়াশুনার পাশাপাশি কাজ করছি দ্য সুলতান.কমের হেড অব কনটেন্ট হিসেবে। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা নিতান্তই কম না- ৭টি। ২০১৫ সালে সামওয়্যারইনব্লগে সেরা লেখা নির্বাচিত হয়ে পুরুস্কৃত হয়েছি। এই তো, এখন সর্বাঙ্গে জড়িত আছি দ্য সুলতান.কমের সাথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

লেটেস্ট ফরম

গো টু টপ