অভিনয়ের যাদুকর হুমায়ূন ফরীদি

অথর- টপিক- এন্টারটেইনমেন্ট/

হুমায়ূন ফরীদি। বাংলাদেশের একজন শক্তিমান অভিনয়শিল্পী। দেশের মানুষের প্রিয় এই অভিনেতা  ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি-পহেলা ফাল্গুনে পৃথিবী ছেড়ে প্রস্থান করেছিলেন। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। আজ তার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। মাত্র ৬০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

প্রয়াত নাট্যজন আতিকুল হক চৌধুরী হুমায়ূন ফরীদি সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘হুমায়ুন ফরীদির মতো শিল্পী যেকোনো দেশে জন্মাতে যুগ যুগ সময় লাগে, শতাধিক বছর লাগে। ও একজন ভার্সেটাইল শিল্পী। তাঁকে জিনিয়াসই বলা যায়।’

মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্রের শক্তিমান এই অভিনেতাকে নিয়ে সংস্কৃতিজগতের প্রায় সবাই একমত যে, অভিনেতা হিসেবে তিনি যেমন শক্তিমান, মানুষ হিসেবেও ছিলেন অনন্য। সেইসঙ্গে আরেক নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেছিলেন, ‘হুমায়ুন ফরীদি যখন প্রথম মঞ্চনাটকে অভিনয় করা শুরু করল, তখনই আমি সবাইকে বলেছিলাম এই ছেলে মঞ্চ কাঁপাবে। অবশ্য ফরীদি কিন্তু মঞ্চের চেয়েও তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল চলচ্চিত্রে। তার রসবোধ ছিল প্রখর। কোনো একটা সিরিয়াস মুহূর্তকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরিয়ে দিতে তাঁর তুলনা ছিল না।’

হুমায়ুন ফরীদি মঞ্চ, টিভি ও সিনেমায় অভিনয় করে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য নির্মাণে সক্ষম হয়েছিলেন। ফরীদি তার কয়েক দশকের কর্মময় জীবনে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ফরীদি অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে ‘শ্যামল ছায়া’, ‘জয়যাত্রা’, ‘আহা!’ , ‘হুলিয়া’, ‘একাত্তরের যীশু’, ‘দহন’, ‘সন্ত্রাস’, ‘ব্যাচেলর’ প্রভৃতি।

উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নীল নকশার সন্ধানে’ (১৯৮২), ‘দূরবীন দিয়ে দেখুন’ (১৯৮২), ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’ (১৯৮৩), ‘ভবের হাট’ (২০০৭), ‘শৃঙ্খল’ (২০১০) প্রভৃতি।

বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ধারাবাহিক ‘সংশপ্তক’ নাটকে ফরীদির অনবদ্য অভিনয়ের কল্যাণে ‘কান কাটা রমজান’ চরিত্রটি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।


বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনে হুমায়ুন ফরীদি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চে সমান দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। অর্জন করেছেন দেশ-বিদেশের লাখো-কোটি ভক্তের ভালোবাসা


দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত ও রোমান্টিক মানুষ হুমায়ুন ফরীদি আশির দশকের শুরুতে বেলি ফুলের মালা দিয়ে ফরিদপুরের মেয়ে মিনুকে বিয়ে করেন। তাঁর এ বিয়ে সে সময় সারা দেশে বেশ আলোচিত ছিল। সে সংসারে দেবযানী নামে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। পরে হুমায়ুন ফরীদি সংসার শুরু করেন অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে। ২০০৮ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর থেকে একাকী জীবন যাপন করে গেছেন তিনি। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে হুমায়ুন ফরীদি তাঁর অভিনয় দিয়েই মুগ্ধ করে রেখেছিলেন অগুনতি দর্শক-সমালোচককে।

ঢাকার নারিন্দায় ১৯৫২ সালের ২৯ মে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন ফরিদী। তার বাবার নাম এটিএম নূরুল ইসলাম ও মা বেগম ফরিদা ইসলাম। চার ভাই-বোনের মধ্যে তার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। ইউনাইটেড ইসলামিয়া গভর্নমেন্ট হাই স্কুলের ছাত্র হুমায়ূন ম্যাট্রিক পাস করার পর চাঁদপুর সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিশিষ্ট নাট্যকার সেলিম আল-দীনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে অভিনয়ে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন।

অসাধারণ অভিনয় আর স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাঁকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ বছর পূর্তি উৎসবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরিচিতজন ও ভক্তদের মতে, হুমায়ুন ফরীদির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটা যুগের অবসান হয়েছে। তাঁর দুর্দান্ত অভিনয়ে মুগ্ধ ও বিস্মিত হননি এমন মানুষ খুব একটা পাওয়া যাবে না।

মঞ্চ থেকে চলচ্চিত্র সর্বত্রই ছিল তার সাবলীল ও রাজসিক পদচারণা। অভিনয়ের ভেতরে চলে যাওয়ার অপূর্ব ক্ষমতা। মিশে যাওয়া অভিনয়ের সাথে। এর নাম হুমায়ুন ফরীদি। মৃত্যু হবে। তাই বলে এমন মৃত্যু! ৬০ বছর নেহাত কম নয়। কিন্তু কারও কারও ক্ষেত্রে যেন খুবই কম! বিশেষ করে ফরীদির মত লোকদের। অভিনেতা যায়, আসে। কিন্তু কিংবন্তি তৈরি হয় খুবই কম। একবার গেলে আর আসে না। নজরুলের ধুমকেতুর মত-‘আমি যুগে যুগে আসি; আসিয়াসি পুনঃ মহাবিপ্লব হেতু। এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধুমকেতু’। ফরীদিরা বার বার আসে না। যুগেই আসেন। একবার। এসে বিপ্লব সাধন করেই চলে যান

দ্য সুলতান- এটি দ্য সুলতান.কমের একটি অফিসিয়াল আইডি। যাদের নামে কোনো আইডি দ্য সুলতানে নেই, তাদের নাম লেখার মাঝে ব্যবহার করে আমরা সাধারণত এই আইডির মাধ্যমে তাদের লেখাগুলো দ্য সুলতান.কমে প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

লেটেস্ট ফরম

সোনাক্ষির “নূর”!

বলিউডে দাবাং গার্ল খ্যাত সদা হাস্যময়ী সোনাক্ষি সিনহা নতুন রুপে ফিরছেন বড়

দাপুটে রইস…

বক্স অফিস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শাহরুখের ‘রইস’। মুক্তি পাওয়ার তিন দিন শেষে ৫৯

দিনে গড়ে ১৫০০ সেলফি!

সেলফি বাতিকে কাঁপছে বিশ্ব। আর এ কাঁপাকাপিতে জীবনও দিয়েছেন অনেকেই। কিন্তু তাতে
গো টু টপ