সিলেটি নাগরী : সুফিদের হাতে গড়া অনন্য বর্ণমালা

অথর- টপিক- অপিনিয়ন

সিলেটি ভাষা কোনো উপভাষা নয়, বরং সম্পূর্ণ পৃথক একটি ভাষা; প্রধানত দুটি কারণে— এক. সিলেটি ভাষার নিজস্ব সম্পূর্ণ ব্যাকরণ ও লিপি রয়েছে ।  দুই. বাংলা ভাষার পাশাপাশি এ-ভাষায় এখনো সিলেটের শিক্ষিত সমাজ সাহিত্যকর্ম এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কাজকর্ম সম্পাদন করে থাকেন ।

বাংলাভাষার মূল রীতির সাথে সিলেটি ভাষার—যাকে ‘ছিলটি’-ও বলা হয়—যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে, কেননা, সিলেটি ভাষা পূর্বাঞ্চলীয় এবং বাংলা ভাষার মূল রীতির ভিত্তি নদীয়া তথা পশ্চিমাঞ্চলীয় । বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল ছাড়াও এছাড়া ভারতের অন্তর্ভুক্ত অসম রাজ্যের দক্ষিণে শিলচর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ এবং ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের বহু সংখ্যক লোকে এই ভাষায় কথা বলে । এমনকি শুধু ভারত বা বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়, ক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিস্তৃতি লাভ করেছে । এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সিলেট অঞ্চল এবং ভারত ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ-ভাষা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭ লক্ষেরও বেশি। বৃহত্তর সিলেটের বর্তমান জনসংখ্যাই ১ কোটি । লন্ডনের ‘সিলেটি রিসার্চ অ্যান্ড ট্র্যান্সলেশন সেন্টার’-এর উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে— সিলেট অঞ্চলসহ সমগ্র বিশ্বে বর্তমানে ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের মুখের ভাষা সিলেটি । সিলেটের প্রচুর লোক যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর সুবাদে সেখানেও সাম্প্রতিককালে এ-ভাষার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে।

শ্রেণিবিচার

ভাষার শ্রেণিবিচারে সিলেটি ভাষাও ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার একটি সদস্য ভাষা । তবে এটি ইন্দো-ইরানীয়, ইন্দো-আর্য ও মাগধী প্রাকৃত/পূর্ব ভারতীয় ইন্দো আর্য্য, অর্ধ মাগধী, পূর্বী অপভ্রংশ/অপভ্রংশ অবহট্ট, বাংলা অহমীয়া ভাষা হয়ে বাংলা-অসমিয়া ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে । গ্লটলগে এই ভাষার কোড হলো— sylh1242।[1] আর আইএসও ইন্টারন্যাশনাল স্টান্ডার্ড কোড— ৬৩৯-৩ : syl ।[2] লিঙ্গুয়েজফেয়ার অবজারভেটরি কোড— 59-AAF-ui।

লিপি

ঐতিহাসিকরাও দাবি করেন— সিলেটি একটি প্রাচীন ভাষা এবং বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদের অনেকগুলো পদ সিলেটের আঞ্চলিক বাংলায় লিখিত । চর্যাপদের পদগুলো যে বিভিন্ন ভাষা থেকে সংগৃহিত সে-আলোচনা ইতোমধ্যেই আমরা রাজবংশী ভাষার আলোচনায় সেরে এসেছি । আগ্রহী পাঠক সেখান থেকে রেফারেন্স নিতে পারেন ।

যাই হোক— ভাষা গবেষক সৈয়দ মোস্তফা কামাল ও অধ্যাপক মুহম্মদ আসাদ্দর আলীর মতে— জটিল সংস্কৃত-প্রধান বাংলা বর্ণমালার বিকল্প লিপি হিসেবে ‘সিলটী নাগরী’ লিপির উদ্ভাবন হয়েছিলো খ্রিষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে । গবেষকদের ধারণা— ইসলাম প্রচারক সুফী দরবেশ এবং স্থানীয় অধিবাসীদের মনের ভাব বিনিময়ের সুবিধার জন্যে নাগরী লিপির উদ্ভাবন হয়েছিলো । এ-ভাষা প্রাচীনকাল হতে বাংলার অন্যান্য অঞ্চলের মতো বাংলা লিপিতে লেখা হলেও মধ্যযুগে ইসলামের আগমনের পর বাংলার পাশাপাশি সিলেটি নাগরী লিপি (বা ছিলটি নাগরী) প্রচলিত হয়। ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বাস করা হয়— বাংলালিপি হলো ব্রাহ্মি লিপি, অর্থাৎ হিন্দুধর্মমতে স্রষ্টা ব্রহ্মার পক্ষ থেকে দেওয়া একটি লিপি, তাই সিলেটের মুসলমানগণ এই লিপি ব্যবহার করে তাদের সাহিত্যরচনা কিংবা লেখালেখী করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন । আর একারণেই ধর্মীয় অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়ে তারা আরবি আর ফার্সি হরফকে নিজেদের হরফ বলে ধরে নিয়ে আলাদা একটি লিপি তৈরি করে নেয়ার তাড়না অনুভব করেন । এরই ধারাবাহিকতায় জন্ম হয় নাগরী লিপির ।

তবুও লিপিটির উৎস সম্পর্কে পরস্পর-বিরোধী বিভিন্ন ধারণামূলক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। এর কারণ হলো, মুসলমানরা এই লিপির উদ্ভাবক হলেও সাধারণত তুলনামূলক নিচু জাতের লোকেরা এই লিপির চর্চা করতেন। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রমুখের মতে— বিখ্যাত ধর্মীয়-পরিব্রাজক জনাব শাহ জালাল রহ. ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতাব্দিতে যখন সিলেট আগমন করেন, তিনিই এই লিপি সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন। নাগরী লিপিতে রচিত বিপুল সংখ্যক এবং সিংহভাগ সাহিত্যকর্মই সুফিবাদ অনুসরণ করে বলে এই ধারণা অমূলক মনে হয় না। অন্যদিকে ড. আহমদ হাসান দানীর মতে— আফগান শাসনের সময়, অর্থাৎ আফগানরা যখন সিলেটে অবস্থান করতেন, ঐ সময়ই তাঁদের দ্বারা এই লিপির উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে। এই মতকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয় আফগান মুদ্রায় উল্লেখিত লিপি, যার সাথে সিলেটি নাগরীর কয়েকটি বর্ণের মিল রয়েছে। তাছাড়া সিলেটে আফগান অভিবাসীরাও সংখ্যায় ছিলেন অনেক । কারও মতে— সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতাব্দিতে বিহার যুক্তপ্রদেশ থেকে আগত মুসলমান সিপাহী ও বিদেশাগত মুসলমানদের সুবিধার জন্য সিলেটি নাগরী লিপির সৃষ্টি হয় ।[3] আরেকটি মত হলো— যৌক্তিকতা কিংবা উৎস নির্দেশ না করেই বলা হয় কোনো এক সুচতুর মুসলমান মুসলিম জনগণের মধ্যে সাধারণ লেখাপড়া চালু করার নিমিত্তে বাংলা লিপি থেকেই এই নাগরী লিপি তৈরি করে নেন। এটা মূলত লৌকিক বিশ্বাস।[4]মূলত প্রতিবেশী নেপাল ইত্যাদি দেশ থেকে আগত বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মাধ্যমে এই লিপি সিলেটে উদ্ভাবিত হয় ।[5] ভারতের বিহার রাজ্যের কৈথী লিপির সাথেও সিলেটি নাগরী লিপির সম্পর্ক রয়েছে । যদিও এর প্রকৃত উৎপত্তি সম্পর্কে এখনো জানা যায় নি ।

সিলেটের এই নাগরী লিপিটি একসময় ‘সিলেটি নাগরী’ ছাড়াও জালালাবাদী নাগরী, ফুল নাগরী, [6]মুসলমানী নাগরী, মোহাম্মদী নাগরী নামেও পরিচিত ছিলো।[7] তবে বর্তমানে নাগরী লিপি তেমন চোখে পড়ে না, লেখার জন্য এখন শুধু বাংলা বর্ণমালাই ব্যবহৃত হয়।

এই লিপি বাংলা ভাষার মতোই ডানদিক থেকে বাম দিকে লেখা হয় ।

ব্যপ্তি ও প্রচলন

সিলেটের বাইরে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ভারতের আসামের কাছাড় এবং করিমগঞ্জেও এই লিপির প্রচলন ছিল বলে জানা যায় । লিপিটি মূলত বাংলা, আরবি, কাইথি এবং দেবনাগরী থেকে উদ্ভূত এবং এতে আরবি ও ফার্সি অক্ষরের মিশ্রণ লক্ষ করা যায়। এই লিপি দিয়ে শুদ্ধ বাংলা, সংস্কৃত কিংবা প্রাকৃত নয়, বরং সিলেটি ভাষাই লেখা হতো।[8]একই সাথে মুদ্রণজনিত কারণে পরিব্যাপ্ত হয়েছিলো কলকাতা, শিলং প্রভৃতি স্থানেও। পণ্ডিতদের লেখনী থেকে বাঁকুড়ায় এই লিপির ব্যাপ্তি ছিলো বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।  তবে বিভিন্ন উৎস থেকে জানা যায় বরিশাল, চট্টগ্রাম, নোয়াখালি প্রভৃতি অঞ্চলেও ব্যাপৃত ছিল।[9]শ্রীপদ্মনাথ দেবশর্ম্মা’র বিবরণী থেকে পাওয়া যায়— পূর্ব্বে এই অক্ষর শ্রীহট্ট শহরের আশে পাশে প্রচলিত ছিলো । ছাপার পর এইক্ষণে শ্রীহট্ট জেলার সমগ্র, কাছাড়, ত্রিপুরা, নোয়াখালি, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও ঢাকা অর্থাৎ পদ্মার পূর্ব্বদিকে বঙ্গভূমির সর্ব্বত্র এই অক্ষর মোসলমান জনসাধারণের মধ্যে প্রচলিত হয়েছে।[10]চট্টগ্রাম ও বরিশালে এই লিপির ব্যপ্তি হয়েছে মূলত নৌপথের যাত্রীদের মাধ্যমে ।



বর্ণমালা

নাগরী লিপিতে ৩২টি অক্ষর বা বর্ণ রয়েছে। “ং” (অনুস্বার)-কে “০” হিসেবে ধরে এর সংখ্যা ৩৩টি; এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৫টি, ব্যঞ্জণবর্ণ ২৮টি। যদিও বিভিন্ন গ্রন্থে আরো ক’টি স্বরবর্ণের উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন— শ্রী অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধি প্রণীত শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত বইয়ের পরিশিষ্টে “শ্রীহট্টের মোসলমানী নাগরাক্ষর” শিরোনামে উল্লেখ করা নাগরী বর্ণমালায় স্বরবর্ণ দেখা যায় ৬টি । সেখানে সর্বসম্মত ৫টি বর্ণের পাশাপাশি “ঐ” উচ্চারণের আরেকটি চিহ্নের উল্লেখ আছে। উল্লেখ্য যে, বর্ণমালার স্বরবর্ণের অক্ষরসমূহের ধারবাহিকতা হুবহু বাংলা বর্ণমালার ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে না ।

উচ্চারণ ও ধ্বনি

সিলেটি ভাষার (এখানে ভাষা মানে উপভাষাই) চরিত্র লক্ষণ ধরা পড়ে এর উচ্চারণে। জাতিসঙ্ঘের সার্বজনীন মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের ধারাগুলো সিলেটি ভাষায় লেখা হয়েছে এভাবে— সব মানুষ স্বাধীনভাবে জন্ম হয় ইজ্জত আর অধিকার লইয়া . তারার হুশ আর আকল বুদ্ধি আছে আর তারা একজন আরকজনর লগে রুহানি ভাইট্টা ব্যবহার তাকত । স্ট্যান্ডার্ড বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায়— সমস্ত মানুষ স্বাধীনভাবে সমান মর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে বিবেক এবং বুদ্ধি আছে তাঁদের; সুতরাং সকলেরই একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোভাব নিয়ে আচরণ করা উচিত । ধ্বনি বিবেচনায় সিলেটি বাষার মূলরূপটি বুঝতে আমরা আরও কয়েকটি উদাহরণ দিচ্ছি—

স্পৃষ্টধ্বনি : যে কুআড়ং (বিপজ্জনক) পত (রাস্তা), কিগুএ কইব শিলচর এগু টাউন। আড্ডির জুড়া খআইয়া (খসিয়ে) আইসি। ইচ্ছা করে এ মন্ত্রী চুর ইতার গগা (নলি) টিপিয়া ধরতাম।— অর্থাৎ, যে বিপজ্জনক রাস্তা, কে বলবে শিলচর একটা টাউন। হাড়ের জোড়া খসিয়ে এসেছি। ইচ্ছে করে চোর মন্ত্রীর গলার নলি চেপে ধরি।

উষ্ম ব্যাঞ্জন ধ্বনি : শাইর করিয়া বেটাবেটি দারাইছইন। অর্থাৎ—  সারি বেধে পুরুষ নারীরা দাঁড়িয়েছেন।

শ্বাসাঘাত : ইগু একেবারে আউআ (বোকা)। ঘর আউআ (উদোম) করি আগাত (হাগতে) গেছে। জব্বর আলিআও ই বেটা। আর ডুলা গফ মারাত এক নম্বর। তার মউআয়ও (মেশো) ই কতা কইছইন। অর্থাৎ, ও একেবারে বোকা। ঘর উদোম রেখে হাগতে গেছে। বড় অলসও এ বেটা। মিথ্যা কথা বলতে ও ওস্তাদ। তার মেশোই এ কথা বলেছেন।

দ্বিত্ব ব্যঞ্জন ধ্বনি : ছাততা (ছাতা) মাথাত দিয়া তাইন আইছইন। তা ন তো পাক্কার ঘর বাড়ি। কিন্তু বেটা ছাত একেবারে বাটটি।

ধ্বনি লোপ : আমার গতরো এবো জুর আছে। অর্থাৎ, আমার গায়ে এখনও জোর আছে।

অপিনিহিতি : রাইক্ষসে (রাক্ষসে) দরছে তারে। মেউকরর (মেকুরের) মতো চায় দেখ না। কাইল (কাল) হারা রাইত (রাত) গাইল (গালি) গাইল্যাইছে (গালি দিয়েছে)। অর্থাৎ—  ওকে রাক্ষসে ধরেছে। বেড়ালের মতো চাহনি। কাল সারা রাত গালাগালি করেছে।

হকারী ভবন : হে তার হালির লগে পেম করে। অর্থাৎ—  সে তার শ্যালিকার সঙ্গে প্রেম করছে।
শিস্ ধ্বনি : গোরুয়ে ঘা খাইন না। অর্থাৎ—  গরু ঘাস খাচ্ছে না।

সিলেটি নির্দেশক সর্বনাম তো জগৎ বিখ্যাত । ইগু, ওগু, হগু ছাড়াও আবার আছে possessive case-এ এর উচ্চারণ দাঁড়ায়— আমারগু, তুমারগু, তারগু; প্রশ্নবোধক কিগু, কুনগু, কয়গু।

সিলেটি ভাষার গালিসম্ভার

সিলেটি ভাষার অন্যতম উপাদান হলো এর বর্ণাঢ্য গালিসম্ভার, যেগুলো সিলেটে বহমান কাল থেকে বাসরত প্রান্তিক মানুষদের আনন্দ-বেদনা-হতাশা এবং স্মৃতি-বিস্মৃতির অনেক ইতিহাস ধারণ করে আছে। সিলেটিরা একে অপরকে যখন গালি দেয় তখন নিজের উপভাষাটিই ব্যবহার করে থাকে। যদিও অঞ্চলভেদে সিলেটি ভাষার রূপভেদ রয়েছে, তবে এর স্থানিক গুরুত্ব ক্ষুণ্ন হয় নি এতোটুকু। সিলেটের বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক আহমদ সিরাজ সিলেটের নানান অঞ্চল ঘুরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় দেড়শতাধিক গালি সংগ্রহ করেছেন। এগুলোর কোনো কোনোটি অব্যহৃত হতে হতে বিস্মৃতির পর্যায়ে চলে গেছে। কোনোটির প্রকৃত ব্যাখ্যাও অনেক সময় খুঁজে পাওয়া যায় না ।

সিলেটি ভাষায় গালি কিভাবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় তার কিছু নমুনা দেখা যাক— ১. বেত্তমিজর পুয়ার মাত হুন ( বেতমিজ ছেলের কথা শোন) । ২. হারামজাদির পুড়ি দেখসসনি খিতা করে (হারামজাদি মেয়ে কি করে দেখ) । ৩. আউকাল করস কেনে (ঝামেলা করছো কেন) । ৪. উবাচুবা মাতিয়া বেরা লাকসে (তাড়াহুরায় কথা বলে সমস্যা হয়েছে) । ৫. পুন্দাপুন্দি এখন বারর (গভীর সম্পর্ক এখন বের হচ্ছে) । ৬. আছুদার মাত হুনচনি (বেকুবের কথাগুলো শুনেছো) । ৭. বেঠির তাল দেখ্রায়নি (মহিলার তামাশা দেখেছো) । ৮. হর্ বেঠা আরুয়া (সর ব্যাটা আহম্মক) । ৯. আদুমছুদুম মাতিস না ( বাজে বকো না) । ১০. তুমি আমার বগা করিলাইবায় (তুমি আমার কিছুই করতে পারবে না) । [11]
এ ছাড়া শাব্দিভাবে গালিগুলো হলো—  ১. কুত্তার ছাও, ২. ছামার (চামার) ৩. ডেকা (গরুর বাচ্চা, নষ্ট ছেলে), ৪. মুড়াহুরইনদি ( ঝাড়ুর শেষাংশ দিয়ে), ৫. হেঙ্গা ( ২য় বিয়ে), ৬. হেঙ্গী ( ২য় বিয়ে, স্ত্রীবাচক), ৭. গাউয়া (গ্রাম্য), ৮. বাতাই খাউরি (নিজ দোষে ভাইহারা), ৯. চুদিরফুত (অবৈধ সন্তান), ১০. পুংগা( জারজ), ১১. বগা (পুং জননাঙ্গ), ১২. জাউয়ার (ঠগ), ১৩. উটলু (স্থানচ্যুত), ১৪. পেলপড়রা (নি;স্তেজ যৌনাঙ্গ), ১৫. মুতিচেংড়া (ছোটলোক), ১৬. আছুদামি (বেকুবি), ১৭. লাং (২য় স্ত্রী), ১৮. ইল্লত (জন্জাল), ১৯. বইতল (কর্মহীন), ২০. আলুয়া (হালচাষী) ইত্যাদি।[12]



বিদেশি শব্দ

সিলেটি বিশেষণের ভাণ্ডার অফুরন্ত। আরবি-ফার্সি শব্দের বাহুল্যও দেখা যায় ।যেমন— খন্নাস (দজ্জাল) পুড়ির বাফও বড় খবিচ (দুষ্ট)। আর লগে আছে তাইর পিছলা (ছ্যাচোর) বাই। হালা টিফরা (ঝিমানো অভ্যাস যার) যে জাত খারুয়া (অসাবধানী)। আমি দিছলাম তারে আমার ছাততি। বাঙ্গিয়া ফিরৎ দিছে বেটা ধাউড় (ঠগ)। অর্থাৎ— এ দজ্জাল মেয়ের বাপও দুষ্ট। আর সঙ্গে আছে তার ছ্যাচোর ভাই। শালা অলস যে কীরকম অসাবধানী, আমি দিয়েছিলাম আমার ছাতা। ফেরৎ দিয়েছে ভেঙে। এক নম্বরের ঠগ বেটা ।

ফার্সি থেকে সিলেটিতে ঢুকে পড়ার একটি চমৎকার উদাহরণ এভাবে দেয়া যেতে পারে— দোস্ত, যেজাত নাস্তানাবুদ অইছি আন্দাজ করতে পারতায় না। ইতা যে কার কারদানি জানি না। গেছলাম খুশমিজাজে ঈদর পোষাক খরিদ করতাম করি, ভাবলাম থুরা গোস্ত লইয়া যাই। দোকানর দরজার সামনে দাড়াইতেউ তার শাগরিদ বেশরম বেটায় কয় আইছইন পথর বাদসা বিনপয়সার খরিদ্দার, খরচ লইতা। কী জাত কতা রে বাবা। এর একটা হেস্তনেস্ত করতে অইব। (বুঝলে বন্ধু, কী রকম নাস্তানাবুদ হয়েছি কল্পনা করতে পারবে না। দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছি আর ওর নির্লজ্জ চ্যালা বলে, এসে গেছেন রাস্তার বাদশা, বিনে পয়সার খরিদ্দার, জিনিস কিনবেন। কী ধরনের কথাবার্তা রে বাবা! এর একটা হেস্তনেস্ত করতে হবে) ।

আবার ইংরেজির  লজেন্স হয়েছে লেবেঞ্চুস, এ শব্দের মধ্যে লজেন্সের স্বাদও ধরা পড়েছে, কী করে খেতে হয় (চুষে চুষে), তাও শব্দের মধ্যে নিহিত। গার্জিয়ান হয়েছে গার্জেন্ট; মিলিটারি থেকে মেলেটারি; ব্যারিস্টার থেকে বালেস্টর; ডিউটি থেকে ডিবটি; পকেট থেকে পেকেট; গ্যাসট্রিক থেকে গেসটিং; প্রেসার থেকে পেসার; পেনসন থেকে পেনসিল (যেমন— ইংরেজ অধিগ্রহণের পর কাছাড়ের ডিমাসা রানীর পেনশনের যে কাগজ কোম্পানি দপ্তর থেকে ইস্যু হয়েছিল, তার শিরোনামায় লেখা রয়েছে– ‘মহারণী ইন্দুপ্রভার পেনসিলের ফারম’)।

প্রবাদ-প্রবচন

সিলেটি ভাষায় কয়েকটি প্রবাদ হলো—

১. আইতে জাইতে পচার বাপ, আম পাকলে মৌয়া । অর্থাৎ, এমনিতে আমাকে ডাকে পচার বাপ বলে, আর আমার কাছে কোনো প্রত্যাশা নিয়ে এলে বলে মেশো।
২. জমানারে ধরছে ভুতে, যুবা নারীয়ে চাটিত মুতে । অর্থাৎ, সবকিছু উলট পালট হয়ে গেছে।
৩. চিনেনা ভুবির গুড়ি বিয়া করতে চায় মৌলবির পুড়ি । অর্থাৎ, কোন কাজের নয়, আবার শখ আছে।
৪. আন্দুদুন্দু পলো বায়, আল্লায় দিলে মাছ পায় । অর্থাৎ, বুড়বাকের মতো কাজ করা, ভাগ্যে থাকলে ফল হয় নয়তো বৃথা পরিশ্রম করে।
৫. চেংও উজাইন, ব্যাংও উজাইন, কৈয়া পুটি তাইনও উজাইন । অর্থাৎ, সবার দেখাদেখি এগিয়ে যাওয়া।
৬. যার পড়ে গাই উড়ো (গরু কাদায় পড়েছে) তাইন ধরইন লেঞ্জো মুড় (লেজ আর মাথা) । অর্থাৎ, যার বিপদ তিনিই সবচেয়ে বেশি সচেষ্ট।
৭. যাচতে জামাই খাইন না, খুজতে জামাই পাইন না । অর্থাৎ, সাধাসাধি করা হল গ্রহণ করলেন না, এখন প্রার্থনা করেও পাচ্ছেন না।
৮. হাই মরলো হাঞ্জা বেলা, কান্দি উঠল পতাবেলা । অর্থাৎ, সময় মতো কোন প্রতিক্রিয়া নেই, অসময়ে তর্জন গর্জন।

রচনা ও সাহিত্য

ধর্মীয় ভাবকে পুঁজি করে যেখানে এই লিপির জন্ম হলেও ধর্মীয় সাহিত্য রচিত হওয়ার পাশাপাশি সিলেটীদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কার্যাকার্যেও লিপিটি স্থান করে নিয়েছিলো । এই ভাষাতেই লেখা হয়েছে চিঠি, হিসাবপত্র, এমনকি সরকারি দলিল-দস্তাবেজের মার্জিনে একসময় সাক্ষীরা স্বাক্ষরও করেছেন। তৎকালীন বিভিন্ন প্রসিদ্ধ সাহিত্য হালতুননবী, জঙ্গনামা, মহব্বতনামা, নূর নছিহত, তালিব হুছন ছাড়াও রচিত হয়েছে চিকিৎসাশাস্ত্র, জাদুবিদ্যার পুস্তক। রচিত হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কবিতা। তবে সর্বপ্রাচীন খোঁজ পাওয়া পাণ্ডুলিপিটি হয় ১৫৪৯ অথবা ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দের । যদিও পাণ্ডুলিপিতে তারিখ লিপিবদ্ধ ছিলো, কিন্তু লেখা থেকে তা পরিষ্কার নয়।

নাগরী লিপির সহজবোধ্যতা আর সহজসাধ্যতাই সাধারণ্যের সাহিত্য রচনার দুয়ার উন্মোচন করেছিলো, তৎকালীন শ্রীহট্ট শহরের ইসলামীয়া প্রেস, সারদা প্রেস ও কলিকাতার জেনারেল প্রিন্টিং প্রেসে নাগরী লিপিতে লেখা ছাপা হতো। নাগরী লিপিতে রচিত পুঁথি কিছুটা গল্প ও উপন্যাস-শ্রেণীর।[13] তবে কবিতাও কম রচনা হয়নি এই লিপিতে। এসকল কবিতা যথেষ্ট ভাবমণ্ডিত। নাগরী লিপিতে পএআর ছন্দে লেখা সিলেটি ভাষার একটি কবিতার প্রথম ৮ চরণ এরকম—

ওহে মন বুইদধি জদি থাকে তর মাজে।

মিলিওনা তুমি কভু নাদান শমাজে।
নাদান জাহেল জারা মুরখ জগতের।
ভালো কাম নাহি ফলে ছহবতে তাদের।
জাহিল হইতে শদা তফাত রহিবে।
তার শাতে দুস্তি কইলে বিপদে ঠেকিবে।
দুস্ত নাদান থাকি দুশমন দানা।
শত গুনে ভালো হএ কি দিব তুলনা।[14]

ভিন্ন ভিন্ন সুত্র থেকে এ পর্যন্ত ‘সিলটী নাগরী হরফ’-এ লেখা ১৪০ খানা গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া গেছে।[15]



কম্পিউটার ফন্ট

সিলেটি নাগরী লিপির কোনো কম্পিউটার ফন্ট ছিলো না। পরবর্তিতে ১৯৮০-এর দশকের শেষাংশে ফকির আবদুল ওহাব চৌধুরীর উত্তরপুরুষ যুক্তরাজ্যপ্রবাসী জলিল চৌধুরী তার ভাতিজা এনায়েত চৌধুরীকে দিয়ে সিলেটি নাগরী লিপির একটি কম্পিউটার সফটওয়্যার তৈরি করিয়ে নেন। তারা এই সফ‌টওয়্যার দিয়ে সিলেটি নাগরী লিপি শিক্ষার একটি পুস্তিকাসহ আবদুল ওহাব চৌধুরীর বেশ কিছু বইও প্রকাশ করেন। ওদিকে যুক্তরাজ্যস্থ সংগঠন সিলেটি ট্রান্সলেশন অ্যান্ড রিসার্চ (STAR)-এর জেমস লয়েড উইলিয়ামস ও ড. সু লয়েড উইলিয়ামস দম্পতি, এবং রজার গোয়েন নাগরী লিপির জন্য আলাদাভাবে আলাদাভাবে পৃথক দুটি সফ্‌টওয়্যার তৈরি করেন। তবে উদ্ভাবিত সিলেটি নাগরীর সফ্‌টওয়্যার ও ফন্টগুলো পাশাপাশি নিলে STAR কর্তৃক প্রণীত “New Surma” ফন্টটিই সিলেটি নাগরীর সাথে যথেষ্ট সাজুয্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে— এই ফন্টের বাঁকা (italic) রূপটিই মূল সিলেটি নাগরীর সবচেয়ে কাছাকাছি।[16]

ইতোমধ্যেই সিলেটি নাগরী লিপিকে, সিলেটি ট্র্যান্সলেশন অ্যান্ড রিসার্চ (STAR) সরবরাহকৃত “New Surma Font”-এর সহায়তা নিয়ে ‘ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম’ ইউনিকোডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ।[17] যদিও সেখানে “সিলেটি নাগরী” নয়, বরং “সিলটি নাগরী” বা “ছিলটি নাগরী” (Syloti Nagri) নামে স্থান দেয়া হয়েছে এই লিপিকে। ইউনিকোড U+A800 থেকে U+A82F পর্যন্ত স্থান পেয়েছে সিলেটি নাগরীর ৪৪টি হরফ এবং চিহ্ন। সর্বশেষ ইউনিকোড ভার্ষণ 6.0-তে এই ফন্টগুলো পাওয়া যায় ।[18]

গীত-সঙ্গীত

সিলেটি ভাষার গীতের নমুনা হলো—

আমার এক কিনারায় শাহজালাল, আর কিনারায় নিমাইচান্দরে
নদীর নামটি সুরমা আমার সিলট জিলা নাম–
সুরমা নদীর তীরে আমার ঠিকানা
বাবা শাহজালালর দেশ সিলটভূমিরে।
আমার জনম সিলট মরণ সিলট সিলট জানর জান রে
বাবা শাহজালালর দেশ সিলটভূমিরে।।

আইছি সিলট, জাইমু সিলট, সিলট থাকমু শুইয়া
যে মাটিত ঘুমাই আছইন তিনশো ষাইট আউলিয়া
সিলট আমার, সিলট তুমার, সিলট জানর জান রে। বাবা শাহজালালর দেশ…

কান্দিয়া যে মাটিত ঘুমাইন হাসন রাজা
যার কান্দনে আইজ কান্দ রাইতর চন্দ্র তারা
কান্দে আরকুম শিতালং শা, কান্দে রাধারমণ রে
বাবা শাহজালালর দেশ, বাবা শাহ পরাণর দেশ, বাবা শ্রীচৈতন্যর দেশ
সিলট ভূমিরে।।[19]

বর্তমান অবস্থান ও ব্যবহার

অবাক হওয়ার মতো একটি তথ্য হলো— ফ্রান্সের বিখ্যাত ভাষা যাদুঘরে পৃথিবীর অসংখ্য ভাষার মধ্যে বাংলাদেশের কেবল দু’টি ভাষার কথা বলা হয়েছে—একটি স্ট্যান্ডার্ড বাংলা এবং অন্যটি সিলেটি।

সিলেটি ভাষা সিলেটি শব্দ ও বাক্যভাণ্ডার দিয়ে রচিত লেখনী ছাড়াও অ-সিলেটি, অ-বাংলা রচনাও রচিত হয়েছে সিলেটি নাগরী লিপিতে । তবে প্রতিষ্ঠানবিরোধী চরিত্র এই লিপির জন্ম থেকে সম্পৃক্ত ছিলো বলে কখনো বিদ্যায়তনে আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি এই লিপি। তবুও সাধারণ্যের সরল জীবনে ছড়িয়ে যেতে এই লিপির বাধা পেতে হয়নি। এমনকি বাংলা লিপিতে লেখা জানতেন না এমন অনেক স্বল্প শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত ব্যক্তি নাগরী লিপিতে লিখতে জানতেন কিংবা স্বাক্ষর করতে পারতেন। সিলেটি নাগরী লিপি খুবই সরল স্বভাবের একটি লিপি ছিলো । এর অন্যতম একটি কারণ হলো, এর অক্ষর সংখ্যা ছিলো বাংলা লিপির চেয়েও কম । তা ছাড়া এই লিপিতে ছিলো না কোনো যুক্তাক্ষরও।

তবে আজকাল সিলেটিরা সংলাপ-বার্তায় সিলেটি ভাষা ব্যবহার করলেও সকল দপ্তরিক কাজে বাংলাই ব্যবহার করেন।



গবেষণা

সিলেটী ভাষা নিয়ে দেশ-বিদেশে অনেক গবেষণা চলছে। ‘সিলেটী নাগরী” লিপি, ভাষা ও সাহিত্য’ নিয়ে গবেষণার পর জনাব গোলাম কাদির ১৯৮৩ খৃষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। একই বাংলা ভাষায় দুইটি আলাদা আলাদা লিপির মাধ্যমে সাহিত্য সাধনার এমন নিদর্শন নজিরবিহীন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমনটি আর কোথাও নেই । এ ছাড়াও সিলেটি ভাষার উপর এ পর্যন্ত যারা পিইএচডি ডিগ্রী অর্জন করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন— যার মধ্যে আব্দুল মোছাব্বির ভূঁইয়া, মোহাম্মদ সাদিক প্রমুখ। রয়েছেন বৃটিশ নাগরিক জেমস লয়েড।

তবে আশ্চর্যের কথা হলো, বর্তমানে তাদের মতো অনেকে বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেটি ভাষার ওপর গবেষণা ও পড়াশুনা চালিয়ে গেলেও এবং বিদেশের মাটিতে সিলেটী ভাষা শিক্ষার জন্যে ‘সিলেট অ্যাকাডেমি ইউকে অ্যান্ড ইউরোপ’, বার্মিংহাম সিলেটি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র’, ‘কলকাতা শ্রীহট্র সম্মিলিনী’র মতো আন্তর্জাতিক ইন্সটিটিউট থাকলেও বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানিকভাবে সিলেটী ভাষা শিক্ষার কোনো ক্ষেত্র নেই । [20]

সবিশেষ—  বহুভাষাবিদ ড·সৈয়দ মুজতবা আলীর মতে— সিলেটি একটি ভাষা এবং বহু দিক দিয়ে এ ভাষা অনন্য বৈশিষ্ট্যের দাবিদার। সিলেটে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির অষ্টম জাতীয় ইতিহাস সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশিত ও বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক আসাদ্দর আলী সম্পাদিত স্মারকগ্রন্থ সিলেট দর্পণে এ সম্পর্কে ড. আলীর একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা রয়েছে।[21]তবে আজকাল অনেকেই, বলা হয় সুনীতি চট্টপাধ্যায়ের ছাত্র বাণীকান্ত কাকতি বাদে প্রায় সমস্ত অসমিয়া ভাষাতাত্বিক সিলেটিকে অসমিয়া বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টা করেন। তবে আমাদের অভিমত হলো—  মাতৃভাষার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকারের মতোই সংরক্ষণের দাবি রাখে । তাই অবহেলা বা লোকমানুষের ভাষা হিসাবে দুরে ঠেলে না দিয়ে এসব লোকজ উপাদানের অনুসন্ধান ও সংরক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজন; কারণ এর সাথে জড়িয়ে আছে হাজার বছরের লোকঐতিহ্য, ভৌগলিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের বিবর্তন। এখনই এ বিষয়ে সচেতন না হলে আমাদের ঐতিহ্যের মতো অস্তিত্বও একদিন হুমকির মুখে পড়বে— এ আশংকা একেবারে অমূলক নয় ।

 


তথ্যসূত্র :

[1] নোরধোফ, সেবাস্টিয়ান; হামারস্ট্রাম, হারাল্ড; ফোস্কেল, রবার্ট; হাস্পেলম্যার্থ, মার্টিন, সম্পাদকবৃন্দ (২০১৩)। গ্লোটোলগ। লিপজিগ: বিবর্তনীয় নৃতত্ত্বে ম্যাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট। glottolog.org/resource/languoid/id/sylh1242

[2] www-01.sil.org/iso639-3/documentation.asp?id=syl

[3] প্রাগুক্ত

[4] শ্রীহট্ট-নাগরী লিপির উৎপত্তি বিকাশ”, আহমদ হাসান দানী; বাঙলা একাডেমী পত্রিকা, প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় সংখ্যা, ভাদ্র-অগ্রহায়ণ, ১৩৬৪ বঙ্গাব্দ; পৃষ্ঠা ১।

[5] হজরত শাহ্‌ জালাল সিলেটের ইতিহাস”, সৈয়দ মুর্তাজা আলী; উৎস প্রকাশন, ঢাকা; জুলাই ২০০৩; ISBN 984-889-000-8; পৃষ্ঠা ১৪৮ (২০০)। পরিদর্শনের তারিখ: ০৬ মে ২০১১ খ্রিস্টাব্দ।

[6] শ্রীহট্টে নাগরী সাহিত্য (জন্মকথা)”, এম. আশরাফ হোসেন সাহিত্যরত্ন; শ্রীহট্ট সাহিত্য-পরিষৎ-পত্রিকা, ১ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা; ১৩৪৩ বঙ্গাব্দ; পৃষ্ঠা ৯৮। উদ্ধৃতি: সহজ সুন্দর বলিয়া জনসাধারণ ইহার অপর এক নাম দিয়াছিলেন সিলেটে ‘ফুল নাগরী’।”

[7] সিলেটি নাগরী:ফকিরি ধারার ফসল”, মোহাম্মদ সাদিক; বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ঢাকা; ডিসেম্বর ২০০৮; ISBN 984-300-003029-0। পরিদর্শনের তারিখ: ৫ মে ২০১১ খ্রিস্টাব্দ।

[8] সিলেটি নাগরী”, মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম; বাংলাপিডিয়া, ১০ম খণ্ড; বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ঢাকা। মার্চ ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ। পৃষ্ঠা ১৯৭। পরিদর্শনের তারিখ: মে ৬, ২০১১ খ্রিস্টাব্দ।

[9] সিলেটি নাগরী:ফকিরি ধারার ফসল”, মোহাম্মদ সাদিক; বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ঢাকা; ডিসেম্বর ২০০৮; ISBN 984-300-003029-0। পরিদর্শনের তারিখ: ৫ মে ২০১১ খ্রিস্টাব্দ।

[10] সিলেট নাগরী”, শ্রী পদ্মনাথ দেবশর্ম্মা; সাহিত্য-পরিষৎ-পত্রিকা, ৪র্থ সংখ্যা; ১৩১৫ বঙ্গাব্দ, পৃষ্ঠা ২৩৬।

[11] প্রাচীন যুগে শ্রীহট্টের রাজনৈতিক সংযুতি – ড. কামাল উদ্দীন

[12] সিলেটি উপভাষা ও গালি নিয়ে কিছু কথা, আহমদ সিরাজ, চারবাক, মে ‘২০০৫, www.amarblog.com/alamgirkumkum/posts/91384

[13] হজরত শাহ্‌ জালাল সিলেটের ইতিহাস”, সৈয়দ মুর্তাজা আলী; উৎস প্রকাশন, ঢাকা; জুলাই ২০০৩; ISBN 984-889-000-8; পৃষ্ঠা ১৪৮ (২০০)। পরিদর্শনের তারিখ: ০৬ মে ২০১১ খ্রিস্টাব্দ।

[14] সিলেটের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান”(পরিশিষ্ট ৬), সংকলন, গ্রন্থনা ও সম্পাদনা: আহমেদ আমিন চৌধুরী; উৎস প্রকাশন, ঢাকা; নভেম্বর ২০০৯। ISBN 984-701-830015-6। পরিদর্শনের তারিখ: ৬ মে ২০১১ খ্রিস্টাব্দ। সিলেটের নাগরীর পহেলা কিতাব দুইখুরার রাগ”, সম্পাদনা: অনুরাধা চন্দ্র; দে’জ পাবলিশিং, কলকাতা, ভারত।

[15] ফরীদ আহমদ রেজা,সিলেটঃ ইতিহাস ও ঐতিহ্য……….

[16] সিলেটি নাগরী:ফকিরি ধারার ফসল”, মোহাম্মদ সাদিক; বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ঢাকা; ডিসেম্বর ২০০৮; ISBN 984-300-003029-0। পরিদর্শনের তারিখ: ৫ মে ২০১১ খ্রিস্টাব্দ।

[17] ফন্ট এ্যাকনোলেজমেন্ট্‌স, www.unicode.org। পরিদর্শনের তারিখ: ৫ মে ২০১১ খ্রিস্টাব্দ। http://www.unicode.org/charts/fonts.html

[18] (ইউনিকোড তালিকা, version 6.0), ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম। পরিদর্শনের তারিখ: ৫ মে ২০১১ খ্রিস্টাব্দ। http://unicode.org/charts/PDF/UA800.pdf

[19] প্রসঙ্গ সিলেটি ভাষা, বাঙ্গালনামা, সঞ্জীব দেবলস্কর, সেপ্টেম্বর, ১৩, ২০১০; দ্বিতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা https://bangalnama.wordpress.com/2010/09/13/prasango-sylheti-bhasha/

[20] “সিলেটী” ভাষা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাষা এবং এর একটা নিজস্ব লিপি আছে , http://heronsylhet.blogspot.com/2013/05/blog-post.html

[21] ফরীদ আহমদ রেজা, সিলেট: ইতিহাস ও ঐতিহ্য

আমি মনযূরুল হক। সার্টিফিকেটে নাম মো. মনযূরুল হক মোর্শেদ। পেশা ও নেশা লেখালেখি। পড়াশুনার পাশাপাশি কাজ করছি দ্য সুলতান.কমের হেড অব কনটেন্ট হিসেবে। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা নিতান্তই কম না- ৭টি। ২০১৫ সালে সামওয়্যারইনব্লগে সেরা লেখা নির্বাচিত হয়ে পুরুস্কৃত হয়েছি। এই তো, এখন সর্বাঙ্গে জড়িত আছি দ্য সুলতান.কমের সাথে।

1 Comment

  1. ome people, especially those running on busy daily schedules tend to use the pills to help maintain weight since they can not afford to follow all the diet programs. This is not advised. It is recommended that one seek advice from a professional in this field before using the pills. This can save one from many dangers associated with the misuse.

    The diet pills should always be taken whole. Some people tend to divide the pills to serve a longer period of time. This is not advised and can lead to ineffectiveness. If it is required that one takes a complete tablet, it means that a certain amount of the ingredients are required to achieve the desired goal. It is also recommended that one does not crush the pill and dissolve it in beverages. Chemicals found in beverages have the potential of neutralizing the desired nutrients in the pill thereby leading to ineffectiveness. The best way to take the tablets is swallowing them whole with a glass of water.

    https://www.cialissansordonnancefr24.com/acheter-cialis-ou-levitra/

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

লেটেস্ট ফরম

গো টু টপ