অ্যামানসিও ওর্তেগা : শ্রমিক থেকে শীর্ষ ধনী

অথর- টপিক- এন্টারপ্রেনারশিপ/হাইলাইটস

কঠোর পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে তিনি সুপরিচিত। ইনটেক্সের দীর্ঘদিনের পুরনো সাবেক সিইও এবং ওর্তেগার ব্যবসার অংশীদার জোসে মারিয়া ক্যাস্টেলানো ৩১ বছর ধরে তার সঙ্গে রয়েছেন । তিনি বলেন, ওর্তেগা তার প্রতিষ্ঠানের ছোট ছোট দলগুলোর সঙ্গে খুব সময় নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের জন্য প্রচুর সময় দেন তিনি।


অ্যামানসিও ওর্তেগা। বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় ধনকুবের হিসেবে তাকে অভিহিত করা হয়।এরআগে  বিল গেটসকে পেছনে ফেলে তিনি শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছিলেন । সম্প্রতি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ম্যাগাজিন ফোর্বস-এর তৈরি করা বিশ্বের সেরা ধনীদের তালিকায় তিনি রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ৬৭ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বখ্যাত পোশাক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জারা ফ্যাশনের প্রতিষ্ঠাতা তিনি।

শ্রমিক থেকে শীর্ষ ধনী : স্পেনের সাধারণ এক রেলওয়ে কর্মকর্তার ঘরে জন্ম অ্যামানসিও ওর্তেগার। নিজের ব্যবসা শুরু করার আগে তিনি কাজ করতেন একটি দোকানের নিম্ন কর্মচারী হিসেবে। এরপর ১০০ ডলারেও কম অর্থ নিয়ে শুরু করেন নিজের ব্যবসা। তিনি এবং তার স্ত্রী রোসালিয়া মেরা বাসায় বসে পাজামা, রাতের পোশাক তৈরি করতেন। সেই থেকে শুরু। ১৯৭৫ সালে এই দম্পতি একটা ছোট দোকান খোলেন। যার নাম দেন ‘জারা’। এরপর দীর্ঘ আট বছর পর সেই ছোট দোকানের নয়টি শাখা গড়ে ওঠে স্পেনের আটটি অঞ্চলে। আর ১৯৮৪ সালে ওর্তেগা চালু করেন ১০ হাজার বর্গমিটারের এক বিশাল ব্যবসায়িক কেন্দ্র।

বিশ্বের ফ্যাশন হাউস জগতে রীতিমতো বিপ্লব সৃষ্টিকারী অ্যামানসিও ওর্তেগা থাকেন স্পেনের লা করুনায়। নর্থ স্পেনে তার জন্ম। ওর্তেগার বাবা ছিলেন রেলওয়ে বিভাগের একজন সাধারণ শ্রমিক। মা বিভিন্ন বাসায় কাজ করে অর্থ উপার্জন করতেন। মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকেই অর্থের অভাবে বিভিন্ন ধরনের শ্রমিকের কাজ করতে হয়েছে ওর্তেগাকে। ১৯৭২ সালে প্রথম ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। সর্বশেষ ২০১২ সালের অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, জারা ফ্যাশন হাউসের সারা বিশ্বে ১,৭২১টি আউটলেট রয়েছে। ২০১১ সালে তিনি বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন হাউস ইন্ডিটেক্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অ্যামানসিও জারার মালিক। প্যারেন্ট কম্পানি ইনডেক্সের মালিকও বটে। এ ছাড়া তার অধীনে রয়েছে স্প্রলিং ব্রিক্স এবং মর্টার ফ্যাশন সাম্রাজ্য। যার ৭ হাজার স্টোর রয়েছে গোটা বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন ৯১টি বাজারে। সব মিলিয়ে তার নেট সম্পদের পরিমাণ ৮৬ বিলিয়ন ইউরো। তার ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা প্রচলিত নিয়মের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এ ছাড়া তিনি স্পেনের জারা ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার। বর্তমানে ফ্যাশনের গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে পা দিচ্ছেন তিনি। তার মালিকানায় রয়েছে এপিক হোটেল, একটি ৫৪তলার বিলাসবহুল ভবনসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ ধনীদের সঙ্গে যদি তুলনা করা হয়,তাহলে এই বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তিটির নাম অ্যামানসিও ওর্তেগা। তার সম্পদ প্রতিবছর বৃদ্ধি পায় ১ বিলিয়ন ইউরো করে।

স্পেনের মোগল ব্যবসায়ী : স্পেনের ব্যবসার মোগল হিসাবে এই স্পেনিশ ব্যবসায়ীর অস্বিত্ব কর্পোরেট জগতে তেমনভাবে উপলব্ধি করা যায় না। সবকিছুই তার যেন ব্যক্তিগত বিষয়। এটা হয়তো তার বিপুল সফলতার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। জারার ৫৫ শতাংশ উৎপাদনই ঘটে স্পেন, পর্তুগাল এবং মরোক্কোতে। কিন্তু অন্যান্য বড় বড় ফ্যাশন হাউজগুলো এশিয়াতেই তাদের পণ্য বানিয়ে থাকে। উল্লেখ্য যে, জারার স্টোরগুলোতে পণ্য অন্যান্য ফ্যাশন হাউজের তুলনায় দ্বিগুন হারে জমা পড়ে। ইনডেক্সের শেয়ারের মূল্য দশগুণ হারে বৃদ্ধি পায়। প্রতিযোগীদের তুলনায় তা অনেক বেশি হারেই বাড়ে।

বিগত বছরের মার্চে প্রকাশিত ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭,৯২০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ নিয়ে শীর্ষে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ওর্তেগার সম্পদ ৬,৪৫০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৮০০০ কোটি ডলার। তবে এই সময়ে বিল গেটসের প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের শেয়ার দাম ওঠানামা করায় তার মোট সম্পদ আর বাড়েনি।

বিশেষ কিছু গুণাবলী 

এক. ওর্তেগার কাছের মানুষদের মতে, তার কখনো নিজের অফিস ছিল না। তার নেই কোনো টেবিল বা কম্পিউটার। বরং সহকর্মীদের সঙ্গে জারার অফিসের একটি কক্ষে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সারেন তিনি।

দুই. কঠোর পরিশ্রমী মানুষ হিসাবে তিনি সুপরিচিত। ইনটেক্সের দীর্ঘদিনের পুরনো সাবেক সিইও এবং ওর্তেগার ব্যবসার অংশীদার জোসে মারিয়া ক্যাস্টেলানো ৩১ বছর ধরে তার সঙ্গে রয়েছেন । তিনি বলেন, ওর্তেগা তার প্রতিষ্ঠানের ছোট ছোট দলগুলোর সঙ্গে খুব সময় নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের জন্য প্রচুর সময় দেন তিনি।

তিন. বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানি এ ধরনের আলোচনা ই–মেইলের মাধ্যমে করে থাকেন। কিন্তু ওর্তেগা এসব আলোচনা মুখোমুখি করে থাকেন।

চার. কোম্পানির কাগজপত্র সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ তিনি নিজেই সামলান। যদিও এটাই অন্যান্য কাজ থেকে সবচেয়ে বিরক্তিকর ও ঝামেলার অংশ। যথাসম্ভব ওর্তেগাই এসব সমাধান করে দেন।

পাঁচ. প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা বলেন বেশি। কিন্তু এর বিপরীতে চলেন ওর্তেগা। তিনিই তার কর্মীদের কথা শুধু শুনেই যান। আত্মকেন্দ্রিক হিসাবেও খ্যাতি রয়েছে তার। বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলা বা সম্মাননা নিতে কুণ্ঠাবোধ করেন । তাই তাকে মিডিয়াতে খুব একটা দেখা যায় না।

আমি তারিক আজিজ। ঘুরে-বেড়ানো আমার প্রথম শখ ও আনন্দ। সাংবাদিকতা, লেখালেখি আর উদ্ভাবনমূলক বিষয়কে একীভূত করে নিয়েছি জীবনের সঙ্গে। তাই হেড অফ ক্রিয়েটিভ পদে দ্য সুলতানের সঙ্গে যাত্রা। ছোট্ট একটি মানুষ স্বপ্নবাজ হয়ে ভাবনা-কাজের জগতেই থাকতে ভালবাসি। নির্জন-নির্মল প্রকৃতি আমায় অনেক কিছু শিখিয়ে বেড়ায়। তাই নিরন্তর সৃষ্টির গল্প খুঁজে ফিরি...!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

লেটেস্ট ফরম

গো টু টপ