ঐতিহাসিক টেস্টে স্মরণীয় জয়

অথর- টপিক- স্পোর্টস

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক শততম টেস্ট জয় দিয়ে স্বরণীয় করে রাখলেন বাংলার টাইগাররা। শ্রীলঙ্কাকে কলম্বো টেস্টে ৪ উইকেটে হারালো বাংলাদেশ দল। ক্রিকেট ইতিহাসে চতুর্থ দল হিসেবে নিজেদের শততম টেস্ট জিতলো বাংলাদেশ। এক আগে মাইলফলক স্পর্শ করা এ ম্যাচ জেতে অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান।


১০০ টেস্টে এটি বাংলাদেশের নবম জয়। এর আগে সর্বশেষ তারা গত বছরের শেষ দিকে ঢাকার মাঠে ইংল্যান্ডকে হারায়।


বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর দেড় যুগে অনেকবারই শ্রীলঙ্কা সফরে গেছে, শ্রীলঙ্কাও এসেছে বাংলাদেশে। তবে টেস্টে কখনই লঙ্কানদের হারাতে পারেনি লাল-সবুজের দল। অবশেষে শততম টেস্টেই এলো লঙ্কা বধের উপলক্ষটা।

কলম্বোতে টসে জিতে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করে ৩৩৮ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিক দল। জবাবে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪৬৭ রানে। ১২৯ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১৯ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯১ রান। ৬ উইকেট হারিয়েই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।অথচ আজকের দিনটা শুরু হয়েছিল একটা শঙ্কা জাগিয়ে। আগের দিন অপরাজিত থাকা শ্রীলঙ্কার দুই ব্যাটসম্যান দিলরুয়ান পেরেরা-সুরঙ্গা লাকমলকে ফিরিয়ে দিয়ে শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করে ৩১৯ রানে। বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৯১ রান।

বাংলাদেশ দল নেমে ৮ ওভারের মধ্যেই ২২ রানে ২ উইকেট হারায়। রঙ্গনা হেরাথকে কেন ওভাবে ডাউন দ্য উইকেটে মারতে গেলেন সৌম্য সরকারই ভালো বলতে পারবেন। বাঁহাতি ওপেনারের আত্মাহুতির পর ফিরে যান ইমরুল কায়েসও। হেরাথের পরের বলেই স্লিপে গুনারত্নেকে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফেরেন ইমরুল। কিন্তু শুরুর ধাক্কা সামলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ২ উইকেটে ৩৮ রান তুলে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর এসে যেন অন্য এক বাংলাদেশ! তামিম-সাব্বির খেলতে থাকেন স্বচ্ছন্দে। ৮৭ বলে টেস্টে নিজের ২২তম ফিফটিটিও পেয়ে যান তামিম। সবচেয়ে বড় কথা সাব্বির রহমানের সঙ্গে জুটি গড়ে বাংলাদেশের শততম টেস্ট জয়ের স্বপ্নটা উজ্জ্বল করে তোলেন। তবে জেতার জন্য যখন ৬০ রান দরকার, পেরেরাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হয়ে যান তামিম। লং অনে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেছেন চান্ডিমাল। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১৮ রান দূরে তখন বাংলাদেশ ওপেনার। ভেঙে যায় ১০৯ রানের জুটি।

অন্যদিকে সাব্বির সঙ্গী হারিয়ে তিনিও যেন অধৈর্য হয়ে গেলেন। পেরেরাকে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়লেন। মাঠের আম্পায়ার শ্রীলঙ্কানদের আবেদনে সাড়া না দিলেও রিভিউতে বাঁচতে পারেন সাব্বির। পরপর দুই ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে আবার কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। দায়িত্বটা গিয়ে পড়ে সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান মুশফিক আর সাকিবের কাঁধে। ৪ উইকেটে ১৫৬ রান নিয়ে চা বিরতিতে যাওয়া বাংলাদেশ বিরতির পর এসে আবার একটা ধাক্কা খায়। সেই পেরেরার বলেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্লেড-অন হয়ে যান সাকিব। ২ উইকেটে ১৩১ থেকে ৫ উইকেটে ১৬২ হয়ে যায় বাংলাদেশ! সবার তখন চিন্তিত মুখ।জয় হবে তো বাংলাদেশের! আবার সেই মুখে আরও অন্ধকার নামে যখন পেরেরার বলেই মুশফিককে এলবিডব্লিউ দিয়ে দেন আম্পায়ার সুন্দরম রবি। রিপ্লে নিয়ে অবশ্য বেঁচে যান মুশফিক। শেষ পর্যন্ত মিরাজকে সঙ্গী করে সেই মুশফিকসবার মুখে হাসি ফুটিয়ে মাঠ ছাড়লেন।বাংলাদেশ তার ঐতিহাসিক শততম টেস্ট জয় দিয়ে স্বরণীয় করে নিলেন।

দ্য সুলতান- এটি দ্য সুলতান.কমের একটি অফিসিয়াল আইডি। যাদের নামে কোনো আইডি দ্য সুলতানে নেই, তাদের নাম লেখার মাঝে ব্যবহার করে আমরা সাধারণত এই আইডির মাধ্যমে তাদের লেখাগুলো দ্য সুলতান.কমে প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

লেটেস্ট ফরম

গো টু টপ