শুভ নববর্ষ ১৪২৪ শুভ হোক

অথর- টপিক- অপিনিয়ন

“এসো হে বৈশাখ, এসো এসো/তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষরে দাও উড়ায়ে/বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক।/যাক পুরাতন স্মৃতি যাক ভুলে যাওয়া গীতি/অশ্রু বাষ্পে মুছে যাক জরা/অ্গ্নীস্নানে শূচি হোক ধরা।”

রাতের আঁধারের ঘোমটা সরিয়ে ভোরের আকাশ-দশদিগন্তে আলোর নাচন ছড়িয়ে যে সূর্যটা উঠেছে; সে সূর্য সবার জীবনে বয়ে আনুক নতুন এক সুখানুভূতি। স্বাগত হে বাংলা নববর্ষ ১৪২৪। জীবন বাঁকের্ আরও একটা বছরের শেষ হলো, শুরু হলো নতুন আর একটা। দূঃখ-বেদনা আর ব্যাথাহতের পর জীবনের নতুন রূপ দেয়ার এক গভীর প্রত্যয় নিয়ে বৈশাখের রুদ্র পদভারে ঘোষিত নতুনের কেতন উড়িয়ে ১৪২৪ বঙ্গাব্দ আমাদের জীবনে বয়ে আনুক এক নতুন অধ্যায়। বাঙ্গালী সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যে পয়েলা বৈশাখের গুরুত্ব অপরিসীম। নববর্ষকে কেন্দ্র করে আমরা কতইনা স্বপ্ন বুনি। স্বপ্ন বুনি নতুনের, ভবিষ্যতের; প্রত্যাশা করি বিগত বছরের চেয়ে সুন্দরের। এত স্বপ্ন আর প্রত্যাশায় ঘেরা নববর্ষের শুরুটাও যেন হয় বিগত সময়ের চেয়ে আলাদা। আসুননা আমরা সবাই মিলে একটি অনন্য ও ব্যতিক্রমধর্মী বছর শুরু করি। অঙ্গিকার করি পরিবর্তনের-শুধু নিজেকে নয় গোটা সমাজকে, জাতীকে। এরই মানসে নিন্মোক্ত প্রস্তাবের আলোকে আমরা সাজাই নতুন বছরের প্রথম দিনকে; সার্থক করে তুলি এ দিনের গুরুত্বকে।

১. আমাদের প্রথম অঙ্গিকার হোক অন্ততঃ এ নববর্ষ যেন শুধু মাত্র আনন্দ ফূর্তি আর উৎসব-উদযাপনের মধ্যে শেষ হয়ে না যায়। এ সময়ে আমাদের জনগোষ্ঠির মধ্যে বাঙ্গালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য চর্চার যে আগ্রহ দেখা যায় তা যেন দিন শেষ হওয়ার সাথে শেষ হয়ে না যায়।


পরিশেষে একটা কথা বলতে চাই, পয়েলা বৈশাখ শুধু সূচনা করেনি একটি মাসের, আমাদেরকে এনে দিয়েছে একটি নুতন বছর। বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে পয়েলা বৈশাখ এবং নববর্ষ জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ সংস্কৃতি যেন কোন কারণে কুলষিত না হয়, পরিণত না হয় অপসংস্কৃতিতে সে দায়িত্ব আমাদের সকলের। এটা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, একান্ত আপনার ঐতিহ্য। নববর্ষকে কেন্দ্র করে আমাদের সব আয়োজন যেন শুধু ক্ষণিকের আনন্দদায়ক আর উপভোগ্য না হয় বরং নতুন বছরের সূচনার মত নতুন কিছু স্বপ্নেরও যেন সূচনা হয় এ দিনে।


২. নববর্ষকে বরণ করার উদ্দেশ্যে আর স্মরণ রাখার মানষে আমরা এমনটাউ করতে পারি যে সবাই অন্ততঃ একটা বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে বুকে লালন করে থাকব অপরদিকে একটা বিদেশী অপসংস্কৃতিকে ত্যাগ করব।

৩. বিশেষ করে যুবক বয়সী ছেলে-মেয়েদের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতিকে ভুলে বিদেশী সংস্কৃতির প্রতি ঝুকে পড়া লক্ষ করা যায়। আবার তারাই এ দিনে খাঁটি বাঙ্গালী হওয়ার চেষ্টা করে। অন্ততঃ এ দিনের ভাললাগা একটা সংস্কৃতিকে তারা সারা বছর ধরে রাখতে পারে।

৪. এ দিনকে স্মরণ রাখার জন্যে এটাও করা যেতে পারে যে, অন্ততঃ একজনের সাথে হলেও শত্রুতা ভুলে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা। পারতঃপক্ষে কারও সংগে ঝগড়া বিবাদ মিটিয়ে ফেলা যেতে পারে। যেমন: যেসব ছোট বয়সী ছেলে-মেয়েদের বা বন্ধুদের মধ্যে ঝগড়া আছে; এ দিনে একে অপরের কাছে “দুঃখিত” বলে বিষয়টা মিমাংসা করে নিতে পারে। আবার বড়রা তাদের বৈষায়িক কোন বিষয়ে জামেলা থাকলে বা কারও সাথে কোন প্রকার শত্রুতা থাকলে সেটা মিটিয়ে নিতে পারে। দেশের রাজনীতিবীদরা এ দিনে জনসার্থে এবং দেশের জন্যে যে কোন একটি বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছুতে পারে, ওয়াদা করতে পারে জাতীয় স্বার্থে আমরা কোনদিন কারও বিরোধীতা করব না। এভাবে প্রতিটা স্তরের জনগণ যদি অন্ততঃ পক্ষে একটা করে পদক্ষেপ নেয় তাহলে তা গোটা দেশের জন্যে অনেক বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।

৫. বন্ধুত্ব বাড়াবার লক্ষে একে অপরকে নববর্ষ উপলক্ষে উপহার দেয়া যেতে পারে। স্বামী তার স্ত্রীর জন্যে, স্ত্রী তার স্বামীর জন্যে, ভাই-বোন একে অপরের জন্যে একইভাবে একে-অন্যের জন্যে উপহার দিতে পারি। যার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হবে।

৬. সচ্ছলতার বিচারে যে কেউ যে কোন অসচ্ছল, গরীব-মিসকীনকে এ দিনে সাহায্য করা যেতে পারে। মনে করুন এ দিনের সকালটা কাউকে না কাউকে সাহায্য করার মধ্য দিয়ে শুরু করবেন অথবা সন্ধাটা শেষ করবেন। সারা বছরের সবদিনে হয়ত করে উঠতে পারেন না কিন্তু শুরুর দিনটাতো স্মরণ রাখুন। এমনটাও হতে পারে যে, আমরা জানি বৈশাখের সাথে বৈশাখী মেলা আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির সাথে ওৎপ্রত জড়িত। এ মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের বর্ষবরণের অন্যরকম এক অনুভূতির প্রকাশ পায়। মেলা থেকে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রায় সব বয়সিরাই কিছু না কিছু কিনে আনন্দটাকে আরো একটু বাড়িয়ে তুলি। কিন্তু আমাদের এই গরীব দেশে এমন অনেক অনাথ, গরীব-দূঃখী অথবা পথশিশু আছে যাদের কেনার আগ্রহ থাকলেও সামার্থ্য নেই। তাদের যে কোন একজনকেও কিছু একটা কিনে দিয়ে স্পল্প সময়ের জন্যে হলেও নতুন বছরের প্রথম দিনে তাদের মুখে এক চিলতি হাসি দেখতে পারেন। দেখবেন আপনারও অনেক ভাল লাগবে। শৈশবের এই ছোট্ট উপহারটা তাদের কাছে যে অনেক বড়। শৈশবের এই স্মৃতিচরণ করে এক ইংরেজ কবি তাই লিখেছেন- “বাল্যে যখন মেলায় গিয়েছি/পকটে পয়সা নাস্তি/কিনি না কিছুই, শুধু চেয়ে থাকি/দুঃসহ সেই শাস্তি।/এখন সময় বদলে গিয়েছে/কিনে নিতে পারি ওইসব/পয়সাও আছে, মেলাও রয়েছে,/নেই মুধু সেই শৈশ্ব। (অনুবাদ: আবদর রশীদ)

৭. নতুন বছরে আমরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নতুন হিসাবের খাতা খুলে থাকি। পুরানো বছরটার হিসেব শেষ করে নতুন বছরের জন্যে পরিকল্পনা করি। ঠিক এই কাজটি আমরা আমাদের ব্যক্তি জীবনেও করতে পারি। এ দিনে অথবা রাতের যে কোন একটা সময়ে নিজের জীবনে গত হওয়া বছরটার হিসেব করে দেখতে পারি। কী পরিমাণ ভাল কাজ করেছি বা নিজের অজান্তে কতটা অন্যায়-অপরাধ করে ফেলেছি তার হিসেব করে দেখা যেতে পারে। তার মাধ্যমে অন্ততঃ এটা বুঝা যাবে যে গত বছরটা কেমন গেল। ভাল কাজের জন্যে সৃষ্টিকর্তার প্রশংসা করে খারাপ কাজের জন্যে অনুশোচনা করতে পারি। প্রতিজ্ঞা করতে পারি নতুন বছরটা যেন গত বছরের তুলনায় আরো বেশী ভাল যায়।

৮. নিদৃষ্ট করে গত বছরের একটা স্মরণীয় ও কাংখিত ঘটনার কথা মনে করুন। কেন আপনি সেটা করতে সক্ষম হয়েছিলেন সেটা এক নজরে ভেবে নিন। ভাল মুহুর্তটা কেমন কেটেছে তা আর একবার মনে করার চেষ্টা করুন। দেখবেন ভবিষ্যতে এরকম আরও ভাল কাজ কিভাবে করা যায় তার জন্যে নিজের অজান্তে উৎসাহিত হবেন। অপরদিকে, একটা খারাপ সময়ের কথা মনে করুন। চেষ্টা করে বের করুন আপনার কোন ভুলের জন্যে এটা হয়েছিল। আপনিতো এটা চাননি; প্রত্যাশাও করেননি। তাহলে কেন এমনটি হলো? পিছনের রহস্যটা কী ছিল? সেটা নিদৃষ্ট করুন আর ঠিক করুন যেন একই ভুল করে নতুন এ বছরে ঐরকম আর একটা সময়ের মুখোমুখি না হতে হয়। জীবনে যেন ঐ মুহুর্তটার পূণরাবৃতি না ঘটে।

৯. বর্তমান সমাজের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হচ্ছে দাম্পত্য জীবনে কলহ। দাম্পর্ত সম্পর্কে কলহ যেমন স্বামী-স্ত্রী উভয়ের স্বাভাবিক জীবন দূর্বিসহ করে তোলে তেমনি সন্তান-সন্তুতিসহ সংসারের অন্যান্যদের উপরে তার বিরূপ প্রভাব পড়ে। মনস্তাত্বিতকবীদদের মতে, বাবা-মায়ের মধ্যে সম্পর্কের প্রভাব সন্তান-সন্তুতিদের উপর পড়ে। বাবা-মায়ের মধুর সম্পর্ক যেমন শিশুদের মানসিক বিকাশ ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে তেমনি একটি খারাপ সম্পর্ক তাদের মানসিক বিকাশে বাধাঁ সৃষ্টি করে। ফলে, পিতা-মাতার কলিজার টুকরোরা তাদের প্রত্যাশা পুরুন করতে ব্যর্থ হয়। শুধু তাদের জন্যে নয়, আপনার নিজের জন্যেও একটা ভাল সম্পর্ক, ভাল মুহুর্ত খুবই দরকার। সুতরাং দাম্পত্য জীবনের একটা ভাল বুঝাপড়া, একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা, সুমধুর ভালবাসার বন্ধন একটা পরিবার থেকে শুরু করে সমাজে পর্যন্ত শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে পারে। তাই আজকের দিনের যে কোন একটা সুবিধাজনক সময়ে দাম্পর্ত জীবনের প্রথম দিকের কিছু কাংখিত সুন্দর মুহুর্তের কথা স্মরণ করুন। এতে একে-অপরের প্রতি ভালবাসা বাড়বে। আর সুযোগ বুঝে এ কথাটা আর একবার বলে ফেলুন “আমি তোমাকে ভালবাসি” (I Love You)। হোকনা সেটা জীবনের এই গোধুলী লগ্নে, মধ্য বয়সে কিংবা শুরুর দিকে। তবুও আর একবার তাকে জানতে দিন আপনার মনের কথাটাকে। প্রকাশ করুন মরিচীকা ধরা অথবা টগবগে সুপ্ত ভালবাসাকে।

১০. স্মরণ করতে পারেন আপনার নিকট আত্বীয় থেকে শুরু করে পরিচিতজনদের মধ্যে গত বছরের এই দিনটিতে যারা ছিল আজ হয়ত তাদের মধ্যে অনেকে নেই তাদেরকে। যাদেরকে হারালেন তাদের জীবনটা এক নজরে মনে করতে পারেন। এর মাধ্যমে দু’টো লাভ হবে। যেমনঃ ১. এ ব্যাপারটা আরও একবার নিশ্চিত হবেন যে মৃত্যু আমাদের যে কোন সময়ে হতে পারে। তার জন্যে নিদৃষ্ট কোন বয়স, সময় কিংবা পরিস্থিতি নেই। সুতরাং মৃত্যুর জন্যে নিজেকে সবসময় প্রস্তুত রাখতে পারবেন। যার ফল আপনি আপনার বাস্তব জীবনে সবসময় পাবেন বলে আমার বিশ্বাস। এবং ২. যারা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন তাদের প্রতি আপনারসহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের অনূভুতিটা জানতে পারবেন। ফলে, আগামীর জন্যে, ভবিষ্যতের জন্যে, ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্যে নিজের অজান্তে যেসব ভুল বা অন্যায়গুলো করতে কোন দ্বিধা করিনা; সে বিষয়টা একটু হলেও নতুন বছরে কমে যাবে। উপকৃত হবেন আপনি নিজে, উপকৃত হবে অন্যরা। একটা কথা মনে রাখবেন, ইংরেজ কবির ভাষায় বলি: “Harried and worried/ Until we are buried/ There’s no certain call/ The life is a very funny proposition after all.”

পরিশেষে একটা কথা বলতে চাই, পয়েলা বৈশাখ শুধু সূচনা করেনি একটি মাসের, আমাদেরকে এনে দিয়েছে একটি নুতন বছর। বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে পয়েলা বৈশাখ এবং নববর্ষ জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ সংস্কৃতি যেন কোন কারণে কুলষিত না হয়, পরিণত না হয় অপসংস্কৃতিতে সে দায়িত্ব আমাদের সকলের। এটা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, একান্ত আপনার ঐতিহ্য। নববর্ষকে কেন্দ্র করে আমাদের সব আয়োজন যেন শুধু ক্ষণিকের আনন্দদায়ক আর উপভোগ্য না হয় বরং নতুন বছরের সূচনার মত নতুন কিছু স্বপ্নেরও যেন সূচনা হয় এ দিনে। পরবাস জীবনে জাতীয় এই দিনটাকে, এই সব আয়োজনগুলোকে আমরা খুব মিস করব। দূর থেকে তবুও আহসান হাবীবের কবিতার ভাষায় বলব “… মৃগনাভী ছলনায় নিজেকেই নিজে মুগ্ধ রেখেছো/ঊষার লালিত্যে/আর মধ্য দিনের আগুনে তুমি অকৃত্রিম/তোমাকে আমি কী দিতে পারি/কী দেবো বলে হে বৈশাখ?/আমি তামার সঙ্গী অথবা তুমিই আমার।”

ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া থেকে উসূলুদ্দিন ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের উপর পি.এইচ-ডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি সহকারী অধ্যাপক (ইসলামি শিক্ষা) হিসাবে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত আছেন। তাঁর পিতা অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ আমিন উদ্দীন গাজী এবং মাতা মরহুমা সুফিয়া আমিন। ড. ওবায়দুল্লাহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার এবং কনফারেন্সে ২৫ টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি তুরস্ক, নাইজেরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদিআরব, বাহরাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও ইন্ডিয়া ভ্রমন করেছেন। তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থ ইতিমধ্যেই পাঠক সমাজে সাড়া জাগিয়েছে এবং বেশ কয়েকটি মৌলিকগ্রন্থ প্রকাশের অপেক্ষায়। তাঁর লেখা ২৩ টি গবেষণা প্রবন্ধ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রিসার্স জার্ণালে প্রকাশিত হয়েছে। দ্য সুলতানে লিখছেন অতিথি লেখক হিসেবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

লেটেস্ট ফরম

গো টু টপ