বাংলার বিখ্যাত পাঁচ কবির বাড়ি-ঘর

অথর- টপিক- ফিচার/লিড স্টোরি

বাংলার বিখ্যাত পাঁচ কবির বাড়ি-ঘর নিয়ে ফিচার। ১. মাইকলে মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩) : জন্ম যদি বঙ্গে তব…। ২. জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯–১৯৫৪) : বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি…। ৩. জসীমউদ্‌দীন (১৯০৩–১৯৭৬): তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে…। ৪. সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬–১৯৪৭) : বাংলার মাটি দুর্জয় খাঁটি…। ৫. সৈয়দ শামসুল হক (১৯৩৫–২০১৬) : জাগো বাহে কোনঠে সবায়…।

মাইকলে মধুসূদন দত্ত (১৮২৪১৮৭৩) : জন্ম যদি বঙ্গে তব…

কবি মাইকলে মধুসূদন দত্ত। ‘কপোতাক্ষ নদ’ যাঁর দেশপ্রেমের শ্রেষ্ঠ কবিতা। এই কবির বাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে। শৈশব স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে সাগরদাঁড়ি। সাগরদাঁড়ির জমিদারগৃহকে ঘিরেই কবির বাড়ি। সেখানে বসে মধুভক্তদের মিলনমেলা।

১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত সাগরদাঁড়ির জমিদারগৃহে মাতা জাহ্নবী দেবীর কোলজুড়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট আইনজীবী রাজনারায়ণ দত্ত। মাত্র ৪৯ বছর বয়সে তিনি ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন মৃত্যুবরণ করেন।

অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী মধুসূদন দত্তের বাড়িতে তাই ভিড় করে দেশ-দেশান্তরের মধুভক্তরা। কবির বাড়ির পুরোটাই জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর অধিগ্রহণ করেছে। এখানে তৈরি হয়েছে মধুপল্লি। মধুপল্লির ভেতরে রয়েছে কবির বাড়ির একটি অংশ ঠাকুরঘর, মনোমুগ্ধকর দিঘি। আমগাছগুলো সব সময় ছায়া-শীতল পরিবেশ তৈরি করে রাখে। কবিগৃহের প্রবেশদ্বার পার হলেই কবিদের ঠাকুরঘর। এই ঘরের পাশ দিয়েই কবিগৃহে ঢুকলেই কবি পরিবারের ব্যবহৃত জিনিসপত্র। ঘরগুলো এখনো পুরোনো স্মৃতি বহন করে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে সব সময় স্নিগ্ধ পরিবেশ তৈরি করে রাখে। শেষ প্রান্তে একটি তুলসীগাছ কবির জন্মস্থানকে জানান দেয়। এখানে কবির রচনাবলি সংরক্ষিত আছে। কবির বাড়ির দুই দিক ঘিরে রয়েছে কপোতাক্ষ নদ। যদিও কবির বর্ণনার সেই জৌলুশ এখন আর কপোতাক্ষে নেই। তবে কবির বাড়ির পেছনের অংশে স্মৃতিময় সেই বটগাছ আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে জানান দিচ্ছে তার অস্তিত্ব। এই বটবৃক্ষ নিয়ে কবি কবিতা লিখেছিলেন। কবির বাড়ি থেকে বেরিয়ে পশ্চিমে গেলেই আবারও কপোতাক্ষ নদের দেখা মিলবে। কপোতাক্ষ নদের পাশেই জেলা পরিষদের ডাকবাংলো রয়েছে। এই ডাকবাংলোর পেছনেই আছে বিদায় ঘাট। কথিত আছে কবি ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে একবার সাগরদাঁড়িতে আসেন। কিন্তু কঠিন সামাজিক প্রথা এবং জমিদারবাড়ির অনুশাসনের কারণে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে না পেরে তিনি বজরায় করে আবার ফিরে যান।

কবির শৈশব স্মৃতির অনন্য নিদর্শন হয়ে পাশের শেখপুরা গ্রামের মসজিদটি। এই মসজিদে কবি পারিবারিক শিক্ষার পাশাপাশি ফারসি শিখতেন। কবি সম্পর্কে জানতে কবির বাড়িতে প্রতিদিন পর্যটকেরা ভিড় জমায়। প্রতিবছর কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সাগরদাঁড়িতে মধুমেলা বসে। কবি সম্পর্কে জানার জন্য সাগরদাঁড়িতে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে কবি খসরু পারভেজের সংগ্রহশালা মধুসূদন মিউজিয়াম। এখানে কবির দুর্লভ কিছু ছবি, গ্রন্থ, অনুলিপি দলিল শোভা পাচ্ছে।

জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯১৯৫৪) : বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি…

বরিশালের আলপথ, অলিগলি, নদীর পাড়ে হাঁটতেন জীবনানন্দ দাশ। কর্মজীবনও কাটিয়েছেন মায়ামাখা স্বপ্নের শহর বরিশালে ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে এই বাংলায়…’ রূপসী বাংলার কবি, নির্জনতার কবি জীবনানন্দ দাশের এই কবিতায় বরিশাল ও বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। বরিশালের রূপবৈচিত্র্যে মুগ্ধ কবি তাঁর কবিতায় তুলে ধরেছেন সেসব কথা। এমন নান্দনিকতার টানেই কবি বারবার বরিশালে ধানসিড়ি নদীর তীরে আসতে চেয়েছেন।

কেন কবি বারবার এই বরিশালে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন, সেটা জানতে কবির বাসভবন, স্মৃতি পাঠাগারসহ রূপসী বাংলার পীঠস্থান বরিশালে কবিভক্তরা আসছেন দলে দলে। তাঁরা কবির কবিতায় খুঁজে ফেরেন তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতি। কেমন ছিল কবির বাড়ি? চলুন আমরা একবার ঘুরে আসি।

জীবনানন্দের শহর বরিশাল। এই বরিশালের আলপথ, অলিগলি, নদীর পাড়ে হাঁটতেন জীবনানন্দ দাশ। কর্মজীবনও কাটিয়েছেন মায়ামাখা স্বপ্নের শহর বরিশালে। এই নগরের কীর্তনখোলা নদী কবির নগরকে আরও নান্দনিক করেছে। লঞ্চ থেকে নামার আগেই সুন্দরের হাতছানি। সবুজের শহরে নেমে পায়ে হেঁটে কিংবা রিকশায় চেপে সামনে এগোলে ফজলুল হক অ্যাভিনিউ। এই সড়ক পার হয়ে ডানে ঘুরে বাঁয়ে মোড়। সড়কের নাম কবি জীবনানন্দ দাশ সড়ক (বগুড়া রোড)। এই সড়ক ধরে সামনে এগোলে চোখে পড়বে পামগাছের সারি। আর চারদিক সবুজে ঘেরা। ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে অক্সফোর্ড মিশনের গির্জা। জীবনানন্দ দাশের ভাষায় এটি লাল গির্জা হিসেবে পরিচিত। কথিত আছে, জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রেমিকা মুনিয়ার সঙ্গে এখানেই পরিচয় ঘটে। সে কারণেও এই গির্জার সঙ্গে কবির নিবিড় সম্পর্ক ছিল। লাল গির্জা ছাড়িয়ে কিছুটা সামনে গেলে চোখে পড়বে কবির বাসভবন ‘ধানসিড়ি’। চারদিকে সবুজে ঘেরা এই বাড়িতে থাকতেন কবি। বাড়ির বেশির ভাগ দখল হয়ে গেলেও বর্তমানে কবির স্মৃতিতে বসতভিটায় গড়ে তোলা হয়েছে জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি মিলনায়তন ও পাঠাগার। সেখানেই দর্শনার্থীরা আসেন কবিকে খুঁজতে। দোতলা এই ভবনে একটি মিলনায়তন আছে। সেখানে মাঝেমধ্যে কবিদের আড্ডা বসে। কবির জন্ম-মৃত্যুদিনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় কবিতা পরিষদ। ভবনের নিচতলাটি পাঠাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বেলা তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত পাঠাগারটি উন্মুক্ত থাকে।

জসীমউদ্‌দীন (১৯০৩১৯৭৬): তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে…

সড়কে, বাড়ির দেয়ালে, প্রচ্ছদ চিত্রকর্ম দিয়ে সুসজ্জিত অবস্থায় দেখে আপনার মনে হবে আপনি যেন কবির রচিত কাজের ভুবনে গুটি গুটি পায়ে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। গ্রামবাংলার প্রাণের কবি জসীমউদ্দীন শুয়ে আছেন ডালিমগাছের নিচে ফরিদপুর শহরতলির অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। ফরিদপুরে বেড়াতে এলে অনিবার্যভাবে যেসব দর্শনীয় জায়গায় পা ফেলতে হবে তার মধ্যে পল্লিকবির বাড়ি অন্যতম। এ বাড়িতে এলে গ্রামবাংলার শাশ্বত রূপ আপনাকে আকৃষ্ট না করে পারবে না।

১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেছিলেন কবি জসীমউদ্দীন। এক বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন তিনি। তিনি সেই কবি, ছাত্রজীবনে যে কবির লেখা কবিতা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন ৭৩ বছর বয়সে।

জসীমউদ্দীনের বাড়িতে তাঁর নিজের এবং ভাইদের ঘর সেই সাবেক আকারেই রয়েছে। বাড়ির পূর্ব দিকে রয়েছে কবির বাসভবন—ভিত পাকা, চারদিকে টিনের বেড়া ও ওপরে চৌচালা টিনের চাল। দক্ষিণ দিকে রয়েছে কবির বড় ভাইয়ের ঘর—চৌচালা টিনের চাল, চারদিকে পাকা দেয়াল। পশ্চিম দিকে রয়েছে কবির সেজো ভাইয়ের ঘর—ভিত পাকা, চারদিকে টিনের বেড়া ও ওপরে চৌচালা টিনের চাল। উত্তরে একটি একতলা ভবন। এ ভবনে বাস করতেন কবির বাবা, মা ও ছোট ভাই।

বাড়ির চত্বরেই ‘মনিমালার মনিহার’ নামে একটি জাদুঘর রয়েছে। ২০০৩ সালের ২৬ জানুয়ারি এ জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন কবির স্ত্রী মমতাজ জসীমউদ্দীন। এ জাদুঘরে কবির বিভিন্ন ব্যবহার্য সামগ্রী রয়েছে।

বাড়ির প্রবেশপথেই রয়েছে পারিবারিক কবর। ওই কবরেই ডালিমগাছের নিচে শুয়ে আছেন কবি। কবির জন্ম ও মৃত্যুদিনে এই কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয় জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে।
এ ছাড়া প্রতিবছর কবির জন্মদিন থেকে মাসব্যাপী জসীম পল্লিমেলার আয়োজন করা হয় কবির বাড়িসংলগ্ন কুমার নদের পাড়ে জসীম উদ্যানে। ওই সময় প্রতিদিন জসীম উদ্যানসংলগ্ন স্থায়ী জসীম মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় মাসব্যাপী।

কবির বাড়িতে এলে সড়কে, বাড়ির দেয়ালে, গাছের গুঁড়িতে আলপনাসহ কবির বিভিন্ন সময়ে রচিত কবিতা ও প্রকাশিত বইগুলোর প্রচ্ছদ চিত্রকর্ম দিয়ে সুসজ্জিত অবস্থায় দেখে আপনার মনে হবে আপনি যেন কবির রচিত কাজের ভুবনে গুটি গুটি পায়ে হেঁটে বেড়াচ্ছেন।

পরিশেষে বলি, ‘তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়/ গাছের ছায়ায়, লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়।…’ কবির এ ‘নিমন্ত্রণে’ সাড়া দিয়ে চলে আসুন ফরিদপুরের শহরতলির কুমার নদের পাড়ে কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিধন্য পুণ্যভূমে।

 

সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬১৯৪৭) : বাংলার মাটি দুর্জয় খাঁটি…

সাম্যের কবি চিরতারুণ্যের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের বাড়ি আমরা দেখে আসতে পারি খুব সহজেই। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে ছিল কবির পৈতৃক নিবাস। এই সময়ে ছায়াঢাকা নিভৃত গ্রাম কোটালীপাড়ার উনশিয়া যেন সাজে নতুন সবুজ সাজে। ছোট-বড় অসংখ্য পুকুর, ঝোপ, বাঁশের ঝাড় এই পল্লিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলে। আর বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। বড়সড় পুকুরগুলোতে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে ছিটকে যাওয়ার দৃশ্য আমাদের মনে নতুন কাব্য রচনার রসদ জোগাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। অনেক রকমের পাখিরও দেখা পাবেন এখানে।

কবির বাড়িতে রয়েছে একটি মিলনায়তন, একটি পাঠাগার। কবির লেখা বিভিন্ন বই এখানে পাবেন। দল বেঁধে এখানে এলে ছোটখাটো সমাবেশ করতে পারেন। কবির বাড়ির আঙিনায় এখন জবা, স্থলপদ্মসহ নানা রকমের বাহারি ফুল ফুটেছে। এসব আপনার মন ভালো করার বাড়তি অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করবে। সামনে বাঁধানো একটি ছোট্ট পুকুর রয়েছে। সেখানে বসতে পারেন। এই উনশিয়া ছিল মূলত একসময় এই অঞ্চলের শিল্প-সংস্কৃতির সূতিকাগার।

আমরা এখানে দেখতে পারি কবির বাড়ির পাশে ভট্টের বাগান। কথিত আছে, এখানে একসময় কপালিকেরা সাধন ভজন করতেন। বাড়ির পাশে গ্রাম্য কামারের দেখা মিলবে। দেখে নিতে পারবেন কী করে শক্ত লোহা আগুনে নরম করে পিটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন জিনিস। উনশিয়া প্রবেশের আগেই আপনাকে ঘাঘর ব্রিজ অতিক্রম করতে হবে।

আমরা ঢাকার গাবতলী বাসটার্মিনাল বা গুলিস্তান বিআরটিসি বাস ডিপো থেকে কোটালীপাড়াগামী দিগন্ত, টুঙ্গিপাড়া, ইমাদ, মধুমতি পরিবহনের যেকোনো একটি গাড়িতে কোটালীপাড়ার টিকিট কেটে উঠে পড়তে পারি। ভাড়া কমবেশি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। সময় লাগবে কম করে পাঁচ ঘণ্টা। পথে আপনাকে পদ্মা নদী অতিক্রম করতে হবে। দেখতে পাবেন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নির্মাণকাজ পদ্মা সেতু। যে কথা বলছিলাম, বাস থেকে নামবেন আপনি কোটালীপাড়ার পশ্চিমপাড়ে। এখান থেকে ভ্যানে আপনি উনশিয়ায় কবির বাড়ি যেতে পারবেন। যে কথা মাথায় রাখবেন, তা হলো আপনাকে সকাল সকাল বের হয়ে পড়তে হবে। সকাল ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে যে গাড়িগুলো ছেড়ে যায়, তার একটিতে চেপে বসবেন। পশ্চিম পাড়ে বাস থেকে নেমে বেশ কিছু ভালো মানের খাবারের হোটেল আছে, সেগুলোর একটিতে খেয়ে নিতে পারবেন।

সৈয়দ শামসুল হক (১৯৩৫২০১৬) : জাগো বাহে কোনঠে সবায়…

বছরে দুই-একবার জন্মভূমির মায়ার টানে বাড়িতে ফিরে আসতেন আর পুরো বাড়ি ও শহর ঘুরে স্মৃতি হাতড়ে বেড়াতেন কুড়িগ্রাম পুরোনো শহরে থানাপাড়ার মোড়ে আধা পাকা টিনের চালাটি যে কেউ দেখলে বুঝে নেবে এটা একটা পুরোনো বাড়ি। আর এই বাড়িতেই দেশবরেণ্য সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের জন্ম, শৈশব ও কৈশোরে বেড়ে ওঠা। এই বাড়িতেই লেখার উন্মেষ ঘটে সৈয়দ শামসুল হকের। বাড়ির কাঁঠাল কাঠের দরজা-জানালা আর জানালার পাশে বৃক্ষরাজি যেন তাঁর অনেক সাহিত্যকর্মের সঙ্গী হয়ে আছে। বর্তমানে বাড়িতে তাঁর ছোট ভাই অ্যাডভোকেট সৈয়দ আজিজুল হক পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, একসময় (স্বাধীনতার আগে) সৈয়দ শামসুল হকের বাবা ডা. সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন বাড়িটি নির্মাণ করেন। তিনি কলকাতায় থাকতে তৎকালীন কংগ্রেস নেতা কাজী এমদাদুল হকের সহায়তায় কুড়িগ্রামে এসে জায়গাটা কিনে ১৯২৯ সালে বাড়িটি নির্মাণ করেন। তিনি পেশায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ছিলেন। তাঁর পেশার কারণে অনেকে দূরদূরান্ত থেকে চিকিত্সার আশায় বাড়িটিতে ভিড় জমাত। অনেকটা বিনা পয়সায় তিনি চিকিত্সাসেবা দিতেন। একসময় বাড়ির সামনেই গড়ে তোলেন ‘দি হোমিও রইচি মেডিকেল কলেজ’। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন আসত কলেজে সেবাশিক্ষা অন্বেষণে। স্বাধীনতার পরও, আশির দশক পর্যন্ত কলেজটি থাকলেও একসময় তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে কলেজের জায়গাটিতে গড়ে ওঠে বেশ কিছু দোকানপাট।

বাড়িটির প্রবেশমুখে গেটফুল, ভেতরে হালকা বাগানের সমন্বয়, পাশের বৃক্ষরাজি এবং শহুরে রাস্তা, গলি ও ধরলা নদীর সঙ্গে সৈয়দ শামসুল হকের অনেক স্মৃতি বিজড়িত। তাই বছরে দুই-একবার জন্মভূমির মায়ার টানে বাড়িতে ফিরে আসতেন আর পুরো বাড়ি ও শহর ঘুরে স্মৃতি হাতড়ে বেড়াতেন। মৃত্যুর কয়েক মাস আগেও এসে বাড়িতে ঘুরে গেছেন। ২০১৪ সালে স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তিতে নাগরিক কমিটি ও প্রেসক্লাব যৌথভাবে পৌরসভার মাঠে তাঁকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়।

দেশবরেণ্য সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের সেই আধা পাকা টিনের বাড়িতে তাঁর ব্যবহৃত বেতের চেয়ার, দুধ বা পানি খাওয়ার ঘটি, আলমারিসহ বিভিন্ন জিনিস থাকলেও তা যথার্থ সংরক্ষণ না করায় সেগুলো প্রায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম।

সৌজন্যে : বন্ধুসভা, প্রথম আলো

দ্য সুলতান- এটি দ্য সুলতান.কমের একটি অফিসিয়াল আইডি। যাদের নামে কোনো আইডি দ্য সুলতানে নেই, তাদের নাম লেখার মাঝে ব্যবহার করে আমরা সাধারণত এই আইডির মাধ্যমে তাদের লেখাগুলো দ্য সুলতান.কমে প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

লেটেস্ট ফরম

এক ডিমের মসজিদ

ফয়সল চৌধুরী। লোকমুখে প্রচার পৃথিবীতে একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বেঙ্গির মা নামে এক
গো টু টপ