আজারবাইজানের সেরা পাঁচ মসজিদ

অথর- টপিক- ফিচার/লিড স্টোরি

ককেশীয় অঞ্চলের দেশ আজারবাইজান। পূর্ব ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার সীমান্ত বরাবর এর অবস্থান। পূর্বে কাস্পিয়ান সাগর, উত্তরে রাশিয়া, উত্তর-পশ্চিমে জর্জিয়া, পশ্চিমে আর্মেনিয়া এবং দক্ষিণে ইরান। উত্তর-পশ্চিমে তুরস্কের সঙ্গেও এর সংক্ষিপ্ত সীমান্ত রয়েছে। আজারবাইজান তেল সম্পদে সমৃদ্ধ।


বিউটিফুল মস্ক ইন দ্য ওয়ার্ল্ড-০৮। আজারবাইজানের সেরা পাঁচ মসজিদ। লিখছেন আবু সাঈদ যোবায়ের


অবকাঠামো এবং সামরিক খাতে উন্নয়ন-সব ক্ষেত্রেই এই তেলের অর্থই ব্যবহার করে দেশটি। তেল সম্পদের কারণেই দেশটি বেশ সমৃদ্ধ এবং এর আঞ্চলিক প্রভাবও বাড়ছে। তবে একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে দুর্নীতি ও দারিদ্র্য, যা দেশটির ক্রমবর্ধমান উন্নয়নকে ব্যাহত করছে।

এ ছাড়া সরকারের দিক থেকে মানবাধিকারকর্মী এবং সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করার একটি চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, যা দেশটির একেবারে প্রারম্ভিক পর্যায়ে থাকা গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত দুই দশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আজারবাইজান অন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছে। তবে গণমাধ্যমের টুঁটি টিপে ধরার চেষ্টা এই অগ্রগতিকে অনেকাংশেই ম্লান করে দিয়েছে। ‘রিপোর্টারস উইদাউট বর্ডার’ নামে সাংবাদিকদের সংগঠন আজারবাইজানকে মোট ১৮০টি দেশ নিয়ে তৈরি করা এক সূচকে ১৬২তম স্থানে রেখেছে।

১.আগদাম মসজিদ : এই মসজিদটি আজারবাইজানের পুরনো মসজিদগুলোর একটি। এটি সে দেশের আগদাম প্রদেশে অবস্থিত। আজারবাইজানের প্রখ্যাত স্থপতি সাফিখান ১৮৭০ সালে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। এটি কারাবাখের আঞ্চলিক স্থাপত্যশৈলীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি স্থাপনা। নাগার্নো কারাবাখ যুদ্ধের সময় এই মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বর্তমানে এটি সংস্কার করা হয়েছে।

২. আযদার বেই মসজিদ : এই মসজিদটি আজারবাইজানের বাকু অঞ্চলের একটি প্রসিদ্ধ মসজিদ। ১৯১৩ সালে এই মসজিদটি নির্মাণ হয়। হাজি আযদার বেই মসজিদটির নির্মাণ ব্যয় বহন করেন। স্থপতি জিভার বেই মসজিদটির ডিজাইন করেন। মসজিদটির নির্মাণশৈলী বেশ সাদামাটা। তবে এর গম্বুজটি বিশাল। পাশেই আছে একটি সুউচ্চ মিনার। মসজিদের ভিতরে দেয়ালে নানাধরনের ক্যালিগ্রাফি শোভা পাচ্ছে।

৩. বিবি হাইবাত মসজিদ : এটি বাকু শহরের একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। ইমাম মুসা আল কাযিমের কন্যার কবরের পাশে তৈরি করা হয়েছে এই মসজিদটি।১৩ শতকে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন আজারবাইযান অঞ্চলের বিখ্যাত স্থপতি মুহাম্মদ সাদ এটি নির্মাণ করেন। প্রখ্যাত ফ্রেঞ্চ ঔপন্যাসিক আলেকজান্ডার দামুস ১৮৪০ সালে এই মসজিদটি পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে তিনি এই মসজিদ সম্পর্কে লিখেছেন। ১৯২০ সালে আজারবাইযান সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে চলে গেলে বহু ধর্মীয় স্থাপনার সাথে এই মসজিদটিকেও ধ্বংস করে দেয়া হয়। ১৯৩৬ সালে বলশেভিক বাহিনী এই মসজিদটি ধ্বংস করে। ১৯৯৪ সালে আজারবাইযান স্বাধীনতা অর্জন করে। তৎকালীন শাসক হায়দার আলীয়েভ মসজিদটি পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৯৯ সালে মসজিদটির উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রেসিডেন্ট হায়দার আলীয়েভ উপস্থিত ছিলেন।

৪. বাকু জামে মসজিদ : এটি বাকু বড় মসজিদ হিসেবে পরিচিত। এই মসজিদটি ১৮৯৯ সালে হাজি শিখাল দাভদোসের অর্থায়নে নির্মিত। মসজিদটির ভেতরের কারুকাজ খুবই সুন্দর।

৫. শহিদী জামে মসজিদ : এই মসজিদটি তুরস্কের অর্থায়নে ১৯৯০ সালে নির্মাণ হয়। বর্তমানে এটি আজারবাইযানে তুর্কি দূতাবাসের ধর্মীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহ্রত হচ্ছে। মসজিদটির সামনে বড় হরফে ক্যালিগ্রাফি করে সুরা বাকারার ১৫৪ নং আয়াত টি লেখা আছে। এই আয়াতটি শহীদের মর্যাদা সংক্রান্ত। তাই এই মসজিদকে শহীদী মসজিদ বলা হয়।

একনজরে আজারবাইজান


পুরো নাম : আজারবাইজান প্রজাতন্ত্র

রাজধানী : বাকু

সরকারি ভাষা : আজারবাইজানি

সরকারের ধরন : প্রেসিডেন্ট শাসিত প্রজাতন্ত্র

প্রেসিডেন্ট : ইলহাম আলিয়েভ

প্রধানমন্ত্রী : আরতুর রাসিজাদে

আইনসভা : জাতীয় পরিষদ

স্বাধীনতা লাভ: ৩০ আগস্ট ১৯৯১ (সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে)

আয়তন : ৮৬ হাজার ৬০০

বর্গকিলোমিটার

জনসংখ্যা : ৯৬ লাখ ২৪ হাজার ৯০০ জন

(২০১৫ সালের হিসাব)

ঘনত্ব : প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০৫ জন

গড় আয়ু : ৬৮ (পুরুষ), ৭৪ (নারী)

জিডিপি : মোট ১৬৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন

ডলার (২০১৫ সালের হিসাব)

মাথাপিছু আয় : ১৭ হাজার ৫০০ ডলার

মুদ্রা : মানাত।


 

জন্ম কুমিল্লায়। পড়াশোনা করেছেন মাদ্রাসায়। বর্তমানে একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। সম্পন্ন করেছেন ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক কর্তৃক আয়োজিত একাধিক আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ। লেখালেখি করেন ছোট বেলা থেকেই। ইসলামী সভ্যতা, ইতিহাস মুসলিম বিশ্বের নানা ঘটনা প্রবাহ নিয়ে লেখেন নিয়মিত। আরবী ইংরেজি থেকে অনুবাদও করেন। দ্য সুলতানের সাথে আছেন কন্ট্রিবিউটিং রাইটার হিসেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

লেটেস্ট ফরম

এক ডিমের মসজিদ

ফয়সল চৌধুরী। লোকমুখে প্রচার পৃথিবীতে একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বেঙ্গির মা নামে এক
গো টু টপ