হালাল প্রসাধনী মুসলিম-অমুসলিম সবার জন্য উপকারী : সাইমন

অথর- টপিক- ইন্টারভিউ/লিড স্টোরি

সাইমন ইমরান হায়দার- তারুণ্যদীপ্ত এন্টারপ্রেইনর। শৈল্পিক মানসিকতাবাহী একজন বিজনেস আইকন। সাইমন ইমরানের পিতার নাম ইউসুফ হায়দার এবং মাতার নাম জাহানারা হায়দার। সাইমনের বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা আর মা গৃহিণী। ১৯৮৩ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন হায়দার। পড়াশুনা করেছেন ধানমন্ডি সরকারি হাই স্কুল, ঢাকা সিটি কলেজ এবং প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়া উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক কোর্স সম্পন্ন করেছেন অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে। ব্যতিক্রমধর্মী ৭ টি প্রতিষ্ঠানের মাদার কোম্পানি সাইমন এ্যানমির সিরিয়াল এন্টারপ্রেইনর ও সম্মানিত চেয়ারম্যান তিনি। ছোটবেলা থেকেই ডিবেটিং, কাউন্সিলিংসহ নানাবিধ সমাজসেবামূলক কাজের সাথে জড়িত সাইমন বর্তমানেও ইনহ্যাবিটেন্ট হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামক একটি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান।

ব্যক্তিগত জীবনে পিতা ইউসুফ হায়দারের একমাত্র সন্তান সাইমনও এখন একমাত্র সন্তান ইয়াশাল হায়দার ইয়াছরিফের পিতা।  সাইমনের স্ত্রী সারাহ চৌধুরী আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর।

সৃজনশীল মানসিকতাকে ব্যবসায় খাটানো এবং সফলতা অর্জন করার শৈল্পিক মানসিকতা নিয়ে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, মিসর, চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভারত, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন সাইমন এবং অর্জন করেছেন বিচিত্র অভিজ্ঞতা। খুব অল্প সময়েই সাইমন কর্তৃক গৃহীত ব্যবসায়িক পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের মার্কেটে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং  বোদ্ধা মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। হালাল প্রসাধনী ও হালাল পণ্যে সাতসতের নিয়ে তার সাথে কথা বলেছেন মিরাজ রহমান

বিভিন্ন ধরনের পণ্যের ব্যবসা থাকতে আপনি হালাল পণ্য বা হালাল কসমেটিক্সের ব্যবসায়  কেন যুক্ত হলেন বা কেন এলেন?

প্রথমত, আমি ব্যবসায়িক দিক থেকে যেটা চিন্তা করি সেটা হলো, বাজারে গ্যাপটা কোথায়? ব্যবসার চাহিদা নির্ণয় করাটাকে আমি প্রথম গুরুত্ব দেই। একটা সময় মানুষ জুতা পরতো না। তখন কী হতো? আমাদের পায়ে ময়লা লেগে থাকতো। কাটার আঁচড় লাগতো। সুতরাং ধীরে ধীরে একটা প্রয়োজন সৃষ্টি হলো এবং এই প্রয়োজন পূরণেই কিন্তু জুতার আবিষ্কার হয়েছে। শুধু জুতা না; এভাবে আপনি যদি যে কোনো পণ্য বা বস্তুকে নিয়ে গবেষণা করেন দেখবেন যে, কোনো না কোনো প্রয়োজন বা চাহিদা থেকেই সে পণ্য বা বস্তুটির প্রসার ঘটেছে এবং এই প্রচার-প্রসারকে কেন্দ্র করে ব্যবসা গড়ে ওঠেছে। এই নীতিকে গাইডলাইন মেনে আমি একটি গ্যাপ আবিষ্কার করেছি এবং সেই গ্যাপটা পূরণের মানসিকতায় হালাল কসমেটিক্সের ব্যবসাটিকে নির্বাচন করেছি। তাছাড়া এই নীতি মেনে যে আমি কেবল এই একটি ব্যবসা করছি এমনটা নয়- আমাদের আরও কিছু ব্যবসা রয়েছে সবগুলো ব্যবসাকেই আমরা এমন কিছু মৌলিক নীতিমালায় গেঁথে পথ চলছি। এছাড়া ব্যবসার দুইটি দিক থাকে- একটি হচ্ছে শুধু লাভের চিন্তা করে ব্যবসা করা। আরেকটা হচ্ছে ব্যবসার মাধ্যমে মানুষের উপকার ও কল্যাণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া। মূলত এই দ্বিতীয় বিষয়টা মাথায় রেখেই আমি বা আমরা কাজ করার চেষ্টা করি। আমাদের ব্যবসার মূলনীতি হলো- পণ্য থেকে আসলে মানুষ কতটা উপকৃত হবে, সেটা প্রাধান্য দেওয়া। আর এই নীতিটাকে গ্রহণ করেছি বলেই হয়তো অন্য অনেক বা বিভিন্ন ব্যবসাকে নির্বাচন না করে হালাল কসমেটিক্সের ব্যবসাকে গ্রহণ করেছি। এরপর আমরা আরও দেখলাম বাংলাদেশে কোনো হালাল ব্র্যান্ডের কসমেটিক্সও নেই। এসব চিন্তা-গবেষণা করার পর আমরা উদ্যোগ নিলাম এবং আমরাই প্রথম বাংলাদেশে হালাল ব্র্যান্ডের কসমেটিক্স নিয়ে এলাম।

হালাল কসমেটিক্স বা অন্য কসমেটিক্স ব্যবহার করা এবং এই সব পণ্যের দ্বারা সাজসজ্জা করা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে। হালাল কসমেটিক্স ব্যবহারের সাথে ইসলামের সম্পর্ক কোথায়, যদি একটু খুলে বলতেন…

ইসলামে নারীদের সাজসজ্জা করার সুন্দর একটা বিধান অবশ্যই রয়েছে। কারণ, আমি এটা জানি এবং মানি যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। মুসলিম নারীরা অনেক আগে থেকেই সাজসজ্জা গ্রহণ করে আসছেন, কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় এই সাজসজ্জা করার কারণে অনেক নারীর স্কিনে বিভিন্ন প্রকার রোগ হয়। অনেকে আক্রান্ত হন বিভিন্ন ক্যান্সারেও। আমরা এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখলাম যে, মহান আল্লাহ আমাদের জন্য যে সব বিষয়কে বৈধ করে দিয়েছেন; আমরা যখন সেটার পরিবর্তে অন্য কিছু ব্যবহার করি তখনই মূলত সমস্যা হয়। আমরা সাধারণ মানুষেরা মনে করে থাকিÑ হালাল হারামের বিষয়টা শুধু খাবারের সাথেই যুক্ত। আবার অনেকে মনে করে এটা শুধু উপার্জনের সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। একজন মুসলিমের জীবনে ছোট-বড় সব বিষয়েই হালাল-হারামের গুরুত্ব রয়েছে। কসমেটিক্স বা  প্রসাধনীর ক্ষেত্রে এই হালাল-হারামের গুরুত্বটা আরও বেশি। কারণ আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যে সব কসমেটিক্স ব্যবহার করি সেসব পণ্যে পশুর চর্বি ব্যবহৃত হয়। অনেক প্রসাধনীতে তো সরাসরি শূকরের চর্বি ব্যবহার করা হয়। যেটা ব্যবহার করা একজন মুসলিমের জন্য   কোনোভাবেই বৈধ নয়। তাছাড়া অনেক প্রসাধনীতে অ্যালকোহল ব্যবহার করা হয়- এটাও মুসলিমদের জন্য বৈধ নয়। আরেকটু ব্যাপকভাবে আমি যদি বলি তাহলে বলব যে, দেখুন প্রসাধনী বা বিভিন্ন পণ্যের হালাল হারামের বিষয়টা শুধু মুসলিমদের জন্যই কল্যাণকর কেবল তা নয়। এটা সবার জন্যই কল্যাণকর ও মঙ্গলজনক। অনেক খ্রিস্টানরাও হালাল পণ্য ব্যবহার করে শুধু এটার সুফল নেওয়ার জন্য। কাজেই আল্লাহপাক আমাদের জন্য যা হালাল করেছেন তা ব্যবহার করলে আমাদেরই উপকার হবে আর যা নিষেধ করেছেন তা ব্যবহার করলে ক্ষতি হবে।

আপনারা যেসব প্রসাধনী বাজারে এনেছেন, একজন ক্রেতা হিসেবে আমি কীভাবে নিশ্চিত হবো যে এগুলো শতভাগ হালাল?

প্রথম কথা হচ্ছে, আমরা যেসব প্রসাধনী বাজারজাত করছি সেগুলোতে শূকরের চর্বি ব্যবহার হয় না এবং অ্যালকোহল ব্যবহার হয় না। এখন কথা হচ্ছে এই দুইটা জিনিস ব্যবহার না হলেই কি প্রসাধনীটি বা পণ্যটি পরিপূর্ণ হালাল হয়ে যায়? আমি বলব- না। আমাদের জন্য গরু হালাল, মুরগি হালাল। কিন্তু এই সব যদি শুদ্ধভাবে জবেহ করা না হয় তাহলে কিন্তু এগুলো আর হালাল থাকে না। আমাদের পণ্যগুলো মূলত ইন্দোনেশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে। ইন্দোনেশিয়া একটি মুসলিম দেশ। মুসলিম প্রধান এলাকা। সেই দেশে একটি হালাল শরিয়াহ কাউন্সিল রয়েছে, যেটা আন্তর্জাতিক হালাল শরিয়াহ বোর্ডের সাথে সংযুক্ত। ইন্দোনেশিয়াতে যারা এই প্রসাধনী উৎপাদন করেন তারা এই শরিয়াহ কাউন্সিলের সর্ব প্রকার অনুমোদন নিয়েই প্রসাধনী উৎপাদন ও বাজারজাত করে থাকেন। একটি পণ্য উৎপাদনের সব প্রক্রিয়ায়-কর্ম ক্ষেত্র থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণের শেষ ধাপ পর্যন্ত যে সকল নিয়ম রক্ষা করলে একটি পণ্য হালাল হয় সকল নিয়ম রক্ষা করেই প্রসাধনীগুলো প্রস্তুত হয় এবং সাধারণ মানুষের হাত পর্যন্ত পৌঁছে। একটি ইন্টারন্যাশনাল শরিয়াহ বোর্ডের সার্বিক দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী সব কিছু পরিচালনা করা হয়। এছাড়া আমরা যে ব্রা-ের প্রসাধনী বাংলাদেশে এনেছি সেটা ইন্টারন্যাশনালি স্বীকৃত একটি হালাল ব্র্যান্ড। তাই আমরা বলতে পারি, আমাদের সব পণ্যই হালাল। এর বাইরে আরও যে সব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি সব কিছু ম্যানটেইন করেই আমরা ব্যবসাটি পরিচালনা করছি।

হালাল শব্দটি একটি ধর্মীয় শব্দ। আমরা জানি বাংলাদেশে ইসলামী শব্দ বা লেবেল ব্যবহার করে ব্যবসা করার ভালো ও খারাপ উভয় দিকই রয়েছে। জানতে চাচ্ছি, আপনারা যেহেতু একটি ইসলামী শব্দ বা লেবেল নিয়ে ব্যবসা করছেন। এভাবে ব্যবসা করতে গিয়ে আপনাদের ভালো ও খারাপ অভিজ্ঞতা কী হয়েছে?

জি, আপনি ঠিকই বলেছেন। বাংলাদেশে ধর্মীয় শব্দ বা লেবেল ব্যবহার করে ব্যবসা করার ভালো দিক যেমন রয়েছে তেমন মন্দ দিকও রয়েছে। এটা খুবই সেনসেটিভ একটি মার্কেট। কারণ বাংলাদেশের প্রায় শতকরা ৯২ ভাগ মুসলিম এবং তাদের ধর্মীয় অনুভূতির জায়গাটা প্রখর। আমাদের অভিজ্ঞতার প্রথম বিষয়টি হচ্ছে, অনেকেই মনে করে আমাদের ব্যবহৃত হালালটা হচ্ছে নিছক একটা মার্কেটিং টুলস। ব্যবসা ভালো করার জন্য আমরা হালাল শব্দ ব্যবহার করছি। এটা একেবারেই ভুল ধারণা বা মিথ্যা ধারণা। আমাদের এই হালাল কসমেটিক্সের ব্যবসার এ টু জেড আলহামদুলিল্লাহ হালাল ব্যবসার সব প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি মেনে পরিচালিত হয়। এই ক্ষেত্রে আমি একটি কথা বলতে চাই, কেউ যদি হালাল পণ্যকে অ-হালাল বা হারাম পন্থায় বিক্রি করে তাহলেও কিন্তু তার ব্যবসাটা হারাম হয়ে যাবে। আমার ব্যবসাটা আর হালাল থাকবে না। বাংলাদেশে যারা কসমেটিক্সের ব্যবসা করেন বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরই পণ্য আসে লাগেজে। আর বেশিরভাগ লাগেজ বাংলাদেশে ঢুকানো হচ্ছে সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে। সো আপনি হালাল পণ্যের ব্যবসা করছেন সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে এবং হারাম পদ্ধতির কারণে আপনার ব্যবসাটি আর হালাল রইল না। কিন্তু আমরা সেটা করি না। একে তো আমাদের আমদানিকৃত কসমেটিক্স আন্তর্জাতিকভাবে হালাল পণ্য হিসেবে স্বীকৃত পাশাপাশি আমরা আমাদের ব্যবসার সব প্রসেস বা পদ্ধতিও হালাল পন্থায় পরিচালিত করার শতভাগ চেষ্টা করি।  এছাড়া আবার অনেকে মনে করে এটা যেহেতু হালাল পণ্য তাহলে এটা শুধু যারা হিজাব পরে তারা ব্যবহার করবে। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মূল বিষয়টা কিন্তু এমন নয়। হালাল পণ্যটি সবার জন্য উপকারী। এমনকি এটা অমুসলিমরাও ব্যবহার করতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে   অমুসলিমরা হালাল কসমেটিক্স ব্যবহার করছেন শুধু এর উপকারিতার কথা বিবেচনা করে। সুতরাং আমি বলব, হালাল পণ্য বা হালাল কসমেটিক্স মুসলিম-অমুসলিম সবার জন্য উপকারী।

দেখুন হালাল কসমেটিক্স বললে স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায় যে হারাম কসমেটিক্সও আছে। কসমেটিক্স বা প্রসাধনী পণ্য সম্পর্কে আমি দুইটা বিষয় জানতে চাই- প্রথম হচ্ছে এই সব পণ্যে কী কী ব্যবহার করলে তা হারাম হয় এবং কী কী প্রক্রিয়া অবলম্বন করলে এর উৎপাদন প্রক্রিয়াটিও হারাম হবে?

খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং মৌলিক প্রশ্ন। উপরের আলোচনায় আমি কিছুটা টাচ দিয়েছি। এখানে বিস্তারিতভাবে বলছিÑ ইসলাম ধমের্র নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু বিষয় বা বস্তুকে কোনো পণ্যের মাঝে ব্যবহার করা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন, কোনো হারাম পশুর চর্বি, ইউরিনাল জাতীয় কোনো বস্তু, শূকরের চর্বি বা অন্য কোনো অংশ অথবা হারাম পণ্য জাতীয় কোনো বিষয় বা বস্তু- এগুলো কোনো ধরনের কোনো পণ্য বা প্রসাধনীতে ব্যবহার করলে সে প্রসাধনী বা পণ্যটি ইসলামের দৃষ্টিতে আর হালাল বা বৈধ থাকে না। আমাদের পণ্যের ক্ষেত্রে যেটা করা হয় সেটা হলো- এখানে কোনো ধরনের কোনো হারাম পশুর চর্বি ব্যবহার করা হয় না। এছাড়া পণ্য বা প্রসাধনী হালাল হওয়ার জন্য আরও একটি বড় বিষয় হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। একটি পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে আপনি ‘বিসমিল্লাহ’ বলে শুরু করলেন, আবার কোনো গালাগালিও করলেন না কিন্তু পণ্য তৈরির প্রক্রিয়ার মাঝে আপনি শরীরের ঘাম ফেলে দিলেন- তাহলেও কিন্তু এই পণ্যটা হালাল থাকবে না। হালাল শব্দটি একটি ছোট শব্দ, কিন্তু তাতে যে কী পরিমাণ ব্যাপকতা রয়েছে তা আমরা কখনো ভেবেও দেখি না।

সারা বিশ্বে হালাল কসমেটিক্সের মান, চাহিদা ও সফলতা কেমন? এই তুলনায় বাংলাদেশে আপনি কী অবস্থা দেখছেন?

আন্তর্জাতিক বাজার গবেষক দেলত্তি তমাতসু বলেন, গত এক বছরে হালাল পণ্যের বিক্রির হার ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালে মোট বিক্রীত হালাল পণ্যের মধ্যে শুধু প্রসাধনী বিক্রির হার ১১ শতাংশ। নগদ আর্থিক মূল্যে তা এক ট্রিলিয়ন ডলারের অধিক। মালয়েশিয়ায় বেশ কয়েক বছর আগেই স্থানীয়ভাবে অনেক হালাল পণ্য উৎপাদন করা শুরু হয়েছে।  সেই বাজারগুলোই ধরতে চাইছে খ্যাতনামা কোম্পানিগুলো। এদিকে কোম্পানিগুলো বলছে, দ্রুত বর্ধনশীল মুসলিম মধ্যবিত্তদের মধ্যে ক্রমেই বিভিন্ন প্রসাধনীর চাহিদা বাড়ছে। তবে তারা হালাল প্রসাধনীর ব্যাপারে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। এমনকি কৃত্রিম চুল থেকে শুরু করে অন্যান্য সব নিত্যব্যবহার্য হালাল পণ্য ব্যবহারের ব্যাপারে মুসলিম অধ্যুষিত মালয়েশিয়াসহ অন্য রাষ্ট্রগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে ইন্দোনেশিয়া। জার্মান প্রসাধনী কোম্পানি ল’রিয়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘হালাল’ হলো একটি অফিসিয়াল স্বীকৃতি, যেটা নিশ্চিত করে যে পণ্যটি ইসলামী শরিয়াহ   অনুসারে উৎপাদিত হয়েছে। এর মানে হলো, পণ্যগুলোর মধ্যে শূকর, অ্যালকোহল এবং রক্ত জাতীয় কোনো পদার্থের মিশ্রণ নেই। পরিষ্কার এবং দূষণমুক্ত। এটি নিশ্চিত করতে পারলে বিশ্বের ১৫০ কোটি মুসলমানের মধ্যে আলাদাভাবে ব্যবসায়িক সুবিধা পাওয়ার একটা সুযোগ আছে। এতে বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর এক-চতুর্থাংশ পরিমাণ মানুষের মূল্যবোধের প্রতিও সম্মান দেখানো হয় এবং বিশ্বব্যাপী কোম্পানিগুলোর ব্যবসার বিস্তৃতিও নিশ্চিত হবে।

আমরা গত পাঁচ বছর থেকে বাংলাদেশে এটা নিয়ে কাজ করছি, যদিও বাংলাদেশে বাজারজাত করণ শুরু হয়েছে মাত্র ছয়  মাস থেকে। বাংলাদেশে আমরাই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা অনেক গবেষণা করে এই ব্যবসাটা শুরু করেছি। সবচেয়ে মজার তথ্য হচ্ছে, কসমেটিক্স ব্যবহারে মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশ এখন ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে।  সারা বিশ্বের মার্কেটে হালাল প্রসাধনীর চাহিদা বেশ ভালো এবং খুব ভালো মানের আন্তর্জাতিক অনেক কোম্পানি বিভিন্ন প্রসাধনী বাজারজাত করছে। সারা বিশ্বে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে মানুষ হালাল প্রসাধনী ক্রয় করছেন এবং ব্যবহার করছেন। পণ্যের ভিতরে কী আছে সেই বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের ততটা আগ্রহ থাকে না। তারা বরং পণ্যের রং দেখে পণ্য কিনে থাকে। তবে আমাদের পণ্যে হালাল লেখা থাকার কারণে অনেকে এই বিষয়ে জানতে আগ্রহী হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে আগ্রহ বাড়ছেই। একটা নতুন বিষয় চালু হতে একটু সময় লাগে- এটাই স্বাভাবিক।

সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হয়েছে- ০৫ জানুয়ারি ২০১৭

দ্য সুলতান- এটি দ্য সুলতান.কমের একটি অফিসিয়াল আইডি। যাদের নামে কোনো আইডি দ্য সুলতানে নেই, তাদের নাম লেখার মাঝে ব্যবহার করে আমরা সাধারণত এই আইডির মাধ্যমে তাদের লেখাগুলো দ্য সুলতান.কমে প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

লেটেস্ট ফরম

গো টু টপ