পোপ ফ্রান্সিস কেন এতোটা প্রভাবশালী?

অথর- টপিক- অপিনিয়ন/হাইলাইটস


আসিফ সোহান। সারা বিশ্বের নজর এখন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিসের দিকে। তার মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফর নিয়ে এখন সরগরম আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। বরাবরই দেখা যায়, পোপকে নিয়ে যতোটা মাতামাতি হয়, অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতা কিংবা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা অথবা বিনোদন জগতের কোনো তারকাকে নিয়েও তা হয় না। কেন পোপ এতো গুরুত্বপূর্ণ? কেন এতোটা প্রভাশালী তিনি? মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে। ওই বিশ্লেষণ অনুযায়ী আন্তঃদেশীয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এবং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রভাবের কারণে তিনি এতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।

রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ। তিনি এমন একটি পদের অধিকারী, যা বিশ্বে অন্য কোনো ধর্মে নেই। বর্তমান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কোনো ধর্মেই এমন অনুক্রমিক কাঠামো নেই, যার ফলে কোনো একজনকে নেতা মানা হয় না। কিন্তু ক্যাথলিক ধর্মে এই কাঠামো রয়েছে। পোপ এমন এক সংগঠনের নেতা, যা প্রায় দুই হাজার বছর পুরনো। সারা বিশ্বের গির্জাগুলোর কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে একটা ক্রমতন্ত্র (চেইন অব কমান্ড) মেনে চলা হয়। আর এই কর্তৃত্বতন্ত্রের নেতৃত্বের ভূমিকা ভ্যাটিকানের। সেই ভ্যাটিকানের শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে পোপ সারা বিশ্বে ক্যাথলিক আদর্শ বিস্তারে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মগুলোতে একাধিক গোষ্ঠী ও নেতা রয়েছেন। কিন্তু ক্যাথলিক ছাড়াও আরো কিছু ধর্মে অনুক্রমিক কাঠামো রয়েছে (অ্যাংলিকান কমিউনিয়ন) কিন্তু এই ধর্মালম্বীদের সংখ্যা ১২০ কোটি ক্যাথলিকদের সঙ্গে কোনো তুলনা হয় না। একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র ভ্যাটিকানের মাধ্যমেই বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিক চার্চের প্রভাব দৃশ্যমান হয়। ভ্যাটিকান বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। ভ্যাটিকানের প্রধান হিসেবে পোপ যখন কোনো দেশ সফর করেন তিনি শুধু ধর্মীয় নেতা থাকেন না, তিনি একটি দেশেরও প্রধান। এর ফলে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানদের চেয়ে পোপের সফর অনন্য হয়ে ওঠে।

ব্রিটেনের রানিও একই সঙ্গে অ্যাংলিকান চার্চ ও কমনওয়েলথের প্রধান। কিন্তু তার প্রভাব পোপের মতো নয়। কারণ পোপের মতো কর্তৃত্ব তার নেই। ফলে ব্রিটেনের রানির তুলনায় পোপের প্রভাব অনেক বেশি।

শুধু আন্তঃদেশীয় নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অংশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নাগরিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে ক্যাথলিক চার্চ। স্থানীয় গির্জাগুলোর নেতৃত্বে থাকেন স্থানীয় বিশপ, আর্চবিশপ ও কার্ডিনালরা। এদের সবাইকে নিয়োগ দেন পোপ নিজে এবং তারা তার কাছেই জবাবদিহি করেন। ফলে এসব স্থানীয় গির্জাগুলো পোপের নির্দেশনা দ্বারা পরিচালিত হয়।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষমতা বাদ দিলেও পোপের রয়েছে মানুষকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা। বিশ্বের মানুষের বড় একটি অংশই ক্যাথলিক গির্জায় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন। এসব গির্জা থেকেই মানুষকে একটি নৈতিক ও অর্থপূর্ণ জীবনযাপনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

রোমান ক্যাথলিক গির্জার প্রধান হিসেবে পোপের কর্তৃত্ব সেন্ট পিটারের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেন্ট পিটারকে যিশু খ্রিস্টের শিষ্য বলে মনে করেন ক্যাথলিকরা। তিনিই ছিলেন প্রথম পোপ। ফলে পোপের ধর্মীয় বক্তব্য বড় ধরনের তাৎপর্য বহন করে এবং ক্যাথলিক ধর্মের পবিত্রতা তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ব্যাপক। ক্যাথলিকদের প্রধান হিসেবে অন্যান্য ধর্ম, অন্য খ্রিস্টান ধর্মালম্বী বা ধর্মনিরপেক্ষ বিশ্বে পোপই প্রতিনিধিত্ব করেন।ধর্মীয় বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডই শুধু নয়, পোপ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সব সময় গুরুত্ব পেয়ে থাকেন।

পোপের ভাষণগুলো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গুরুত্ব দিয়েই প্রকাশ করে। আর পোপরা শুধু ব্যক্তিগত নৈতিকতা ও পূণ্যলাভের বিষয়ে কথা বলেন না, তারা বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে নিয়মিত কথা বলেন। বিশ্বের বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয় নিয়েও অতীতে কথা বলেছেন তারা।

রোমান ক্যাথলিক প্রধান হিসেবে যে ক্ষমতা রয়েছে তাতে যে কোনও পোপই বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ক্ষমতা যখন পোপ ফ্রান্সিসের হাতে তখন তা বিশ্বের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নতুন পোপ হিসেবে নির্বাচিত ও ফ্রান্সিস নামকরণের পর যখন সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে মানুষের মুখোমুখি হন তিনি তখন থেকেই রোমান ক্যাথলিক গির্জার চেতনা বাড়তে থাকে।

ভ্যাটিক্যান সিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে এসেছেন তিনি। বাংলাদেশের আর্চ বিশপ কার্ডিনাল ডি রোজারিও জানিয়েছেন, সফরে বিপন্ন রোহিঙ্গা ও জলবায়ু উদ্বাস্তুসহ দরিদ্র মানুষদের ভাগ্যোন্নয়নের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেবেন পোপ। সফরে ধর্মীয় সম্প্রীতি আর সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অধিকারের সুরক্ষার প্রশ্ন তুলতে পারেন তিনি। [সূত্র :  দ্য হাফিংটনপোস্ট]

লেখক : বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলাদেশের খবর

দ্য সুলতান- এটি দ্য সুলতান.কমের একটি অফিসিয়াল আইডি। যাদের নামে কোনো আইডি দ্য সুলতানে নেই, তাদের নাম লেখার মাঝে ব্যবহার করে আমরা সাধারণত এই আইডির মাধ্যমে তাদের লেখাগুলো দ্য সুলতান.কমে প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

লেটেস্ট ফরম

গো টু টপ