বিবিসি স্পোর্টস পারসোনালিটি অব দ্য ইয়ার— স্যার মু ফারাহ

অথর- টপিক- /স্পোর্টস

ইয়াং সুলতান— ০১


২০১৭ সালের বিবিসি স্পোর্টস পারসোনালিটি অব দ্য ইয়ার পুরস্কার জয়ী হয়েছেন ব্রিটিশ মুসলিম নাগরিক স্যার মু ফারাহ। ১১ জন প্রার্থীকে পিছনে ফেলে এই পর্বে পুরস্কার তুলে নেন তিনি। ফারাহ সর্বমোট ৮৩,৫২৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন এবং ৮০,৫৬৭ ভোট নিয়ে সুপারবাইকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জনাথন রিয়া দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। এই প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয়েছেন প্যারাঅলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন জোনি র‌্যাকক।

লিভারপুলে আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়া হয় এই পুরস্কার। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলেও একটি লাইভ ভিডিওতে তার অনুভূতি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিশ্বের এতো বড় বড় খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করাটা সত্যি আনন্দের। এই পুরস্কার অর্জন করতে আমার প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমি আসা করছি তরুণ প্রজন্মও আমার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কঠিন পরিশ্রম করতে শিখবে।

তিনি তার অর্জনে ইসলামের ভূমিকার কথাও বলেছেন। তিনি বলেন, আপনাদেরকে অবশ্যই আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। সবকিছুই কোন একটি কারণে হয়ে থাকে, যাতে করে আপনি সমস্যায় না পড়েন। আমি মনে করি, আমি যেমন সবকিছুই হালকাভাবে নেই, সকলেরই সবকিছু হালকাভাবে নিতে হবে। এটি অবশ্যই মুসলিম হওয়া এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত। কুরআনে বলা আছে, সব কাজেই আমাদেরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এইজন্যেই আমিও আমার ট্রেনিং-এ পরিশ্রম করেছি, এবং এটি আমাকে এই পর্যায়ে এনে দিতে সাহায্য করেছে। আমি সাধারণত দৌঁড়ানোর আগে নামাজ পড়ি আল্লাহর কাছে দোআ করি এবং মনে করি আমি এতদূর আসার জন্য এটাই সব থেকে বড় ভূমিকা।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমেরিকার চারবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন মাইকেল জনসন বলেন, এই পুরস্কারটা তার প্রাপ্য। চলতি বছর ঘরের মাটিতে সে চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেন। এখনও সে উজ্জ্বলমান।

স্যার মু ফারাহ তার মূল নাম হলো স্যার মোহাম্মদ মুক্তার জামা। তিনি ১৯৮৩ সালের ২৩ শে মার্চে সোমালিয়ার মোগাদিসুতে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা একজন ব্রিটিশ । মাত্র আট বছর বয়সে সোমালিয়া থেকে পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। তখন ইংরেজিতে কথা বলতে পারতেন না মোটেও। কিন্তু ধীরেধীরে সেটাই তার ভাষা হয়ে পড়ে।

যুক্তরাজ্যে এসেই তার পিতা তাকে একটি ক্রীড়া সংগঠনে ভর্তি করিয়ে দেন। দূরপাল্লার দৌড়ে জুনিয়র পর্যায় থেকে সিনিয়র পর্যায়ে এসে একের পর এক কীর্তি গড়তে থাকেন। নিজেকে নিয়ে গেছেন কিংবদন্তি পর্যায়ে। এমন কি ক্রীড়াক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদ বলা হয় তাকে। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে দেয়া হয়েছে ‘স্যার’ উপাধি। ৩৪ বছর বয়সী এ দৌড়বিদ স¤প্রতি অবসর নিয়েছেন।

তার জীবনকালে বেশকিছু অনন্য রেকর্ডও রয়েছে। ব্রিটিশ ট্র্যাক অ্যাথলেটের ইতিহাসে অলিম্পিকে সেরা খেলোয়াড় মো ফারাহ। ২০১২ ও ২০১৬ অলিম্পিকে তিনি ৫০০০ ও ১০,০০০ মিটারে স্বর্ণ জেতেন। আধুনিক অলিম্পিকের ইতিহাসে টানা দুই অলিম্পিকে এই দুই ইভেন্টে স্বর্ণ জয়ের দ্বিতীয় ঘটনা এটি। এছাড়া ২০১৩ ও ২০১৫ বিশ্ব অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপেও তিনি এই দুই ইভেন্টে স্বর্ণ জেতেন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে এটাও সবে দ্বিতীয় ঘটনা।

২০০৬ সালে ক্যারিয়ার শুরু করা মো ফারাহ দূরপাল্লার দৌড়ে অলিম্পিক ও বিশ্ব অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি মোট ১০টি স্বর্ণ জিতেছেন। দূরপাল্লার দৌড়ের ইতিহাসে এত বেশি স্বর্ণ জয়ের রেকর্ড আর কারো নেই। যুক্তরাজ্যের নারী দৌড়বিদ জেসিকা এনিস হিলের স্বর্ণ আছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চারটি। এছাড়া জোনাথন এ্যাডওয়ার্ড, ডেলি থম্পসন ও ক্রিস্টিনের আছে তিনটি করে স্বর্ণ। এছাড়া সিনিয়র-জুনিয়র মোট মিলিয়ে তার নামের পাশে রয়েছে ১৭টি স্বর্ণ ও ৫টি রৌপ্য।

তথ্যসূত্র


১. মুসলিমস্টোরিজ.টপ

২. ডেইলিমেইল.কো.উইকে

৩. উইকিপিডিয়া


 

আগাগোড়া মাদরাসায় পড়ুয়া একজন মানুষ আমি। লেখালেখি এবং সাংবাদিকতার উচ্চ আকাশে উড়ার স্বপ্ন দেখি। সকাল, দুপুর এবং রাত গড়িয়ে ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসি লেখালেখিতেই। অন্যতম শখ ইংরেজিতে ভালো কিছু করা। এর প্রস্তুতিস্বরুপ ইংরেজি পড়াতে ব্যয় করছি আমার উল্লেখযোগ্য একটি সময়। দ্য সুলতানের সাথে লিখছি অতিথি লেখক হিসেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

গো টু টপ