সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত অসাধারণ একজন প্রেসিডেন্ট— ড. মাহমুদ আহমাদিনেজাদ

অথর- টপিক- /সুলতান স্টোরি

ঘটনাটা ২০০৮ সালের। ইরানের প্রেসিডেন্টের ছেলের বিয়ে। দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু ঠিক বিয়ের দিন দেখা গেলো অতিথিদের তেমন কোনো সাড়া নেই। তাহলে কি কট্টরপন্থী আখ্যা পাওয়া প্রেসিডেন্টকে বয়কট করতে শুরু করেছে সর্বশ্রেণির মানুষ? এনবিসি নিউজ চ্যানেলের সাংবাদিক বিয়ের বর মাহদিকেই ধরে বসলেন। জানতে পারলেন বিয়েতে মাত্র ৪৫ জন অতিথিকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। তার মধ্যে ২৫ জন নারী এবং ২০ জন পুরুষ। খোদ প্রেসিডেন্টের কাছেই সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন— এটা কি নিরাপত্তাজনিত কারণে? প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত হাসিমুখে বিনয়ের সাথে বললেন— এর চাইতে বেশি মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। দেখা গেছে— বিয়ের অনুষ্ঠানে শুধু কমলা, আপেল, কলা ও ছোট এক টুকরো কেক দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়েছে। এই প্রেসিডেন্টই হলেন ড. মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। পৃথিবীতে এমন অনেক ক্ষমতাধর নির্বাচিত হন বিভিন্ন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে । যথা নিয়মে তারা চলে যান এবং মানুষ তাদের ভুলে যায়, স্মৃতি হাতড়েও খুঁজে পায় না। এর ব্যতিক্রম যারা রয়েছেন আহমাদিনেজাদ তাদের অন্যতম। তিনি তার জীবনের সূচনালগ্ন থেকেই এমন সব নজির উপহার দিয়েছেন, যা কেবল ইসলামের সোনালী যুগের স্বর্ণমানবদের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় ।

তিনি ক্ষমতা বা অবস্থানের থেকে কাজটিকেই সবচে’ বেশি গুরুত্ব দিতেন। ধরুন, তিনি একটি তেহরান শহরের মেয়র। তার কাজ কী— তার থেকেও বেশি বিবেচনা করছেন সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম কাজটি কী। তাই তিনি সকাল বেলা নিজ হাতে তেহরানের রাস্তা ঝাড়ু দিতেন ।

আশির দশকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সময়ও মাহমুদ ছিলেন একজন সক্রিয় কর্মী। ১৯৭০ সালের শেষের দিকে ‘সারকর্ড’ শহরের মেয়রের উপদেষ্টা হিসেবে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন বলা হয়, ১৯৭৯ সালে আমেরিকান দূতাবাস আক্রমণ করে ৫৩ জন কূটনীতিককে বন্দী করা হাজারো আহমেদিনেজাদ ছিলেন একজন। ১৯৮০ সালে তিনি আর্মিতে যোগদান করেন। পরে তিনি তুর্কী বর্ডারের কাছে ‘মাকু’ শহরের মেয়র পদে নিযুক্ত হন। ১৯৯০-এর শেষের দিকে ডক্টরেট করা অবস্থায় নতুন প্রদেশ তিনি ‘আরদাবিল’ শহরের গভর্নর পদে নিযুক্ত হন। কিন্তু খাতামি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে তাকে অপসারণ করা হয়, তাই তিনি আবার শিক্ষকতায় ফিরে আসেন। ধীরে ধীরে তিনি হার্ডলাইন রেভুলেশনারি গার্ডের বিশেষ বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন। এবং এরপরই তিনি রাজনীতিতে তুমুলভাবে আত্মপ্রকাশ করেন।

২০০৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হন তেহরানের। এ-সময় শহরের মিউনিসিপ্যালিটি অফিসগুলোতে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা আলাদা এলিভেটর স্থাপন, শহরের ট্রাফিক সিস্টেমে পরিবর্তন, গরিবদের জন্য ফ্রি স্যুপের ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে ধর্মীয় মুল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া, তেহরানের ঝাড়ুদারদের সাথে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া এবং সর্বপরি তার অতি সহজ সরল জীবন যাপনের কারণে তিনি আলোচনায় আসেন এবং আস্তে আস্তে ইরানিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

যাইহোক, ২০০৫ সালে আহমাদিনেজাদ ৬২% ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। নির্বাচনী প্রচারণায় তার স্লোগান ছিল— এটা সম্ভব এবং আমরা এটা করতে পারি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে তিনি মন্তব্য করেন— ইরানের উন্নতির জন্য যুক্তরাস্ট্রের সাহায্যের কোনও প্রয়োজন নেই। তার এই কথা সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হন।

প্রেসিডেন্সি তার পেশা নয়, একটা সেবামূলক কাজ বৈকি। এমনকি তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে কোনো অর্থও গ্রহণ করেন নি। বরং তিনি শিক্ষাজীবনের পর থেকেই পেশায় একজন পিএইচডিধারী সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। একই কারণে তিনি তেহরান ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এখান থেকে মাসে ২৫০ ডলার বেতন পান এবং এটা দিয়েই সংসার পরিচালনা করেন। বিবিসির পক্ষ থেকে এ-বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন— সকল সম্পদ রাষ্ট্রের, আর আমি হলাম এই সম্পদের পাহারাদার।

তার জন্ম হয় ১৯৫৬ সালের ২৮ আক্টোবর। তখন ইরানের সেমনান প্রদেশের গারমশার নামক এক প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা ছিল তার পরিবার। কামার পেশায় উপার্জক্ষম একজন ব্যক্তির পরিবার যে হতদরিদ্র অবস্থায় দিনানিপাত করবে, তাতে আর সন্দেহ কী। জানা যায়, আহমাদিনেজাদের মাহেয়র নাম খানম, তবে তাকে ‘সাইয়েদা’ বলা হতো নবীবংশের মেয়ে বলে।

আহমেদিনেজাদের বাবা ছিলেন একজন সামান্য কামার। এই সূত্র ধরে বিশ্ব মিডিয়ায় ‘কামারের ছেলে থেকে প্রেসিডেন্ট’ শিরোনামেও এসেছেন বহুবার। যদিও বিশ্বে এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। তবে দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও নিজেকে অর্থলোভী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন নি, এমন উদাহরণ খুব একটা নেই ।

সম্ভবত দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে বেরুবার তাড়নায় আহমেদিনেজাদের তার বাবা পরিবারসহ তেহরানে চলে আসেন। তখন আহমাদিনেজাদের বয়স যখন চার বছর। তবে তেহরানে এসে তার বাবা নতুন কী পেশা গ্রহণ করে পরিবারকে নিম্ন মধ্যবিত্ত স্তরে নিয়ে আসেন, তা আর জানা যায় নি।

সুতরাং তেহরানেই আহমেদিনেজাদের স্কুল জীবনের সূচনা হয়। এক্ষেত্রে তার জীবনী লেখকরা জোর দিয়ে একটি তথ্য পরিবেশন করেন যে, ১৯৭৬ সালে আহমেদিনেজাদ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করলে ৪০ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩২তম স্থান দখল করেন। তিনি ইরান ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড টেকনোলোজিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৯৭ সালে তিনি ট্রান্সপর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্লানিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

প্রেসিডেন্ট হবার পূর্বে ও পরে এবং প্রেসিডেন্সি দায়িত্ব হস্তান্তরের পরেও তার জীবনযাত্রার মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য দেখা যায় নি। বিলাসিতাই তাকে কখনও স্পর্শ করতে পারে নি। এমনকি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে তার জন্য যে বিলাসবহুল ভবন অপেক্ষা করছিল, তা-ও তিনি অবহেলা করেছেন । পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সাধারণ দুই রুমের ছোট্ট বাড়িতেই বসবাস করতে চেয়েছেন। কিন্তু নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের অনুরোধে সেটা আর সম্ভব হয় নি। যদিও তিনি তার নিজের জীবন নিয়েও কখনোই শঙ্কা প্রকাশ করেন নি। অধিকাংশ সময় সামরিক বাহিনী ছাড়াই তিনি চলাফেরা করেছেন। বরং মনে করেছেন, মহান আল্লাহ তার সর্বোত্তম দেহরক্ষী। এর সর্বোত্তম প্রমাণ হলো, প্রেসিডেন্সির দায়িত্ব ছাড়ার পর এখনও তিনি তার কর্মস্থলে সাধারণ মানুষের মতোই বাসে করে যাতায়াত করেন।

এই সূত্রেই জানা গেছে, তার নিজ বাড়িতে কেবল কয়েকটি কাঠের চেয়ার ছাড়া উন্নত কোনো আসবাব নেই । ঘুমানোর জন্য রয়েছে মেঝের বিছানা। প্রেসিডেন্ট ভবনেও তিনি মেঝের কার্পেটে ঘুমাতেন।

নামাজের প্রতি তার যত্নের কথা প্রবাদের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ইরানে। কাজের চাপে কখনো রাস্তায় আটকা পড়লে নামাজের সময়ে সেখানেই ছোট্ট কাপড় বিছিয়ে  নামাজ আদায় করেন। মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়কালেও সবার সাথে মানুষের কাতার যেখানে শেষ হয়েছেন, সেখানে দাঁড়িয়েই নামাজ আদায় করেন— সামনের কাতারে যাওয়ার জন্য ‘প্রতিযোগিতা’ করেন না।

নিউইয়র্কস টাইম তার নিত্যদিনের জীবনযাত্রার একটি ছবি তুলতে গিয়ে লিখেছে— তার দিন শুরু হয় ভোর ৫ টায় এবং শেষ হয় রাত ২ টায়। মাঝখানের এই ৩ ঘন্টা সময় তিনি ঘুমান। এটা এভাবে যে, প্রতিদিন খুব ভোরে জেগে তিনি ফজর নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নেন । তারপর দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা শুরু হয় তার । রাতে এশার নামাজ শেষে ব্যক্তিগত কাজ ও দীর্ঘসময় স্টাডি শেষ করে ঘুমাতে যান। তার সময় প্রেসিডেন্ট অফিসে সপ্তায় পাঁচ দিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাধারণ ইরানিদের চিঠি গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়।

নির্বাচিত হয়েই প্রেসিডেন্ট ভবনের দামি কার্পেটগুলো তেহরানের মসজিদে দান করে দেন। পরিবর্তে সাধারণ মানের কার্পেট বিছানো হয় সেখানে। প্রেসিডেন্ট ভবনের ভিআইপি অতিথিশালাও বন্ধ করে দিয়ে একটি সাধারণ ঘরেই ভিআইপিদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা রাখা হয়।

আহমেদিনেজাদ সবসময় সময়ানুবর্তিতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে নিয়মিত সকাল ৭ টায় অফিসে গেছেন। সকালের স্ত্রীর হাতে বানানো সাদামাটা নাস্তা খেয়েছেন। কালো ব্যাগে সাথে রেখেছেন দুপুরের খাবার। দুপুরে অফিসে সবার সামনে মেঝেতেই সেই খাবার খেয়েছেন। দিনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় তিনি বাসার দারোয়ান, পথচারী ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে কাটান এবং তাদের সাথে সুখ-দুঃখ শেয়ার করেন। তবে তিনি তার মন্ত্রীদের বারবার স্মরণ করিয়ে দিতেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের ব্যক্তিগত হিসাব নিকাশ ও তাদের স্বজনদের কার্যকলাপও কঠিনভাবে মনিটর করা হচ্ছে।

৩ আগস্ট, ২০১৩ ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বিদায় নেওয়ার আগেও তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান আয়াতুল্লাহ সাদেক লারিজানির কাছে লেখা এক চিঠিতে আট বছরে অর্জিত সম্পদের হিসাব দিয়ে যান তিনি। যে হিসাবে দেখা যায়, ২০০৫ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার সম্পদে যে পরিবর্তন এসেছে, তা হলো— তিনি তার পুরোনো বাড়িটি পুনর্নির্মাণ করেছেন। এ-জন্য তিনি ব্যাংক ও প্রেসিডেন্ট দপ্তরের ফান্ড থেকে ঋণ নিয়েছেন, অন্য অনেক সাধারণ মানুষের মতো একজন সাধারণ একজন নাগরিক হিসেবেই। তবে সেই বাড়ি পুনর্নির্মাণে তার স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরাও সহযোগিতা করেছেন। এখন তার মালিকানায় রয়েছে ৪০ বছর আগে বাবার কাছ থেকে পাওয়া মাত্র ১৭৫ বর্গমিটার আয়তনের একটি জমি, তাতে নির্মিত Peugeot 504 নামের দুইতলা একটি ভবন এবং তাতে সাজানো চারটি ফ্লাট । যেখানে তিনি ও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করবেন। এখনও তার ঘরে শোয়ার জন্য খাট নেই। কারণ তিনি মনে করেন খাট ব্যবহার তাকে আরামপ্রিয় করে তুলবে। ব্যাংক একাউন্টে তার প্রতিমাসের বেতনের জমানো টাকা ছাড়া আর কোনও সম্পদ নেই।

বর্তমানে আবারও তিনি তার আসল পেশা শিক্ষকতায় ফিরে গেছেন। পাবলিক বাসে চড়ে ক্লাস নিতে যান। হাতল ধরে ঝুলে ঝুলে যান গন্তব্যে । সাবেক প্রেসিডেন্ট হয়ে পাবলিক বাসে চড়তে একটু অস্বস্তিতে ভোগেন না তিনি, তার সহকর্মী-সহযাত্রীদেরও দেখা যায় একেবারে স্বচ্ছন্দ।

ইরানের সংবিধান অনুসারে, কোনো প্রেসিডেন্ট টানা দুবারের বেশি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হতে পারবেন না। তাই এবারের নির্বাচন থেকে সরে থাকতে হয়েছে তাকে। তবে নির্বাচন থেকে সরে থাকলেও রাজনীতি থেকে দূরে নেই তিনি। ১৫ জুন ২০১৫ তারিখে, আহমাদিনেজাদের মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা মিলে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে, যাকে বলা হয় ইয়েকটা ফ্রন্ট ।

মেহের নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট করেছে যে, ক্ষমতা ছাড়ার পরে আহমাদিনেজাদ তেহরানে স্নাতকোত্তর গবেষণার জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় চালু করার জন্য সর্বোচ্চ সাংস্কৃতিক বিপ্লব পরিষদ থেকে অনুমতি পেয়েছেন।  ৫ আগস্ট ২০১৩ তারিখে সুপ্রিম লিডার আলী খামেনি অ্যামবিউন্ডিন কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে আহমেদিনজাদকে নিয়োগের একটি আদেশ জারি করে।  তবে তিনি ২০০৫ সাল থেকেই ডানপন্থী ইসলামী সোসাইটি অফ ইঞ্জিনিয়ার্সের একজন সক্রিয় ও বিশিষ্ট সদস্য। এ ছাড়া তিনি ‘ইসলামী বিপ্লবের সমর্থক সোসাইটি’রও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ।

এরইমধ্যে ২০১৭ সালে নতুন করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নাম নিবন্ধন করলেও ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর আয়াতুল্লাহ খোমেনির দফতর থেকে তা মঞ্জুর হয় নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর মুসলিমদের প্রতি নানান ধরনের বৈষম্য শুরু হলে আহমাদিনেজাদ ট্রাম্পকে একটি পত্র লিখে নিজের অবস্থানের কথা জানান দেন। তিনি সেই চিঠিতে বলেন— বর্তমান আমেরিকায় রয়েছে সব জাতির অবদান ।

তবে এরই মধ্যে শোনা গেছে, সরকার বিরোধী বিক্ষোভে উসকানি দেয়ার অভিযোগে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির সরকার। গত মাসের ২৮ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় আহমাদিনেজাদ পশ্চিমাঞ্চলীয় বুশেহের শহরে অবস্থান করছিলেন। তবে ইরান রাষ্ট্রীয়ভাবে এখনও সে-কথা স্বীকার করে নি।

নেতৃত্বে ও ক্ষমতায় থাকাকালে তার সিদ্ধান্ত কিংবা কার্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনা হতে পারে, হতে পারে চুলচেরা বিশ্লেষণ । সেখানে হয়তো তার কোথাও ভুলও ধরা পড়বে। কিন্তু তার মতো আদর্শ মানুষ, আদর্শ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পৃথিবী দ্বিতীয়টি খুঁজে পাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ করার মতো যথেষ্ট কারণ আছে । যেখানে যেভাবেই থাকুন, আল্লাহ তাকে ভালো রাখুন।

তথ্য সূত্র 


১.  “Ahmedinejad: Rose and Thorn”। The Diplomatic Observer। www.diplomaticobserver.com/news_read.asp?id=1871

২. Pronunciations for محمود احمدی‌نژاد http://bit.ly/2CFJv4x

৩.  Persian Grammar, p. 145: stress is word-final in simple, derived, and compound nouns and adjectives

৪. Smith, Matt (16 May 2011). “Ahmadinejad losing ground in Iran power struggle, analysts say”CNN. Retrieved 3 June 2016. http://cnn.it/2mbUo7J

৫. Milani, Abbas (3 August 2009). “Inside The Civil War That’s Threatening The Iranian Regime”The New Republic. Retrieved 3 June 2016. http://bit.ly/2EmYosz

৬. داستان داوود و محمود: داوود احمدی‌نژاد چرا عليه محمود احمدس‌نژاد سخنرانی می‌كند؟” [The Story of Davoud and Mahmoud: Why Davoud Ahmadinejad Speaks Against Mahmoud Ahmadinejad?]. Aseman Weekly (in Persian). 19 November 2011. Archived from the original on 20 August 2013. Retrieved 11 July 2016.  http://bit.ly/2CQYjB9

৭. Ehteshami, Anoushiravan; Zweiri, Mahjoob (2007), Iran and the Rise of Its Neoconservatives: The Politics of Tehran’s Silent Revolution, I.B.Tauris, p. 55, ISBN 0857713671

৮. ait, Robert (25 May 2007). “Iran interest rate cut sparks panic selling”The Guardian. Tehran. Retrieved 18 June 2011. http://bit.ly/2D6EEu0

৯. مدیریت و” برنامه ریزی منحل ش”, BBC Persian. Retrieved 29 July 2007. Archived17 August 2007 at the Wayback Machine. http://bit.ly/2D9Q6oV

১০. Erdbrink, Thomas (15 May 2011). “Ayatollah: Iran’s president ‘bewitched’ by senior aide”The Washington Post. Retrieved 11 January 2017. http://wapo.st/2m9OHav

১১. Fathi, Nazila (7 January 2008). “Ahmadinejad loses favor with Khamenei, Iran’s top leader”The New York TimesArchived from the original on 29 June 2011. Retrieved 18 June 2011. http://nyti.ms/2ElPMCJ


 

আমি মনযূরুল হক। সার্টিফিকেটে নাম মো. মনযূরুল হক মোর্শেদ। পেশা ও নেশা লেখালেখি। পড়াশুনার পাশাপাশি কাজ করছি দ্য সুলতান.কমের হেড অব কনটেন্ট হিসেবে। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা নিতান্তই কম না- ৭টি। ২০১৫ সালে সামওয়্যারইনব্লগে সেরা লেখা নির্বাচিত হয়ে পুরুস্কৃত হয়েছি। এই তো, এখন সর্বাঙ্গে জড়িত আছি দ্য সুলতান.কমের সাথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

লেটেস্ট ফরম

গো টু টপ