আধুনিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১৫ জন অমুসলিম মনীষীর দৃষ্টিতে পবিত্র কুরআন

অথর- টপিক- বিলিভারস

পবিত্র কুরআন— আল্লাহ মহান প্রেরিত সর্বশেষ আসমানী কিতাব। মানবজাতির কল্যাণকর সংবিধান। পবিত্র কুরআন নিয়ে বগু গবেষণা হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। কুরআন শুধু মুসলিম জাতির পিথনিদের্শনার গ্রন্থ নয়। পবিত্র কুরআ গোটা মানবজাতির জন্য কল্যাণকর সংবিধান। পবিত্র কুরআন সম্পর্কে নানা সময়ে মুসলিম-অমুসলিম মনীষীগণ বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। পবিত্র কুরআন সম্পর্কে আধুনিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১৫ জন অমুসলিম মনীষীর মন্তব্য নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন— আধুনিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১৫ জন অমুসলিম মনীষীর দৃষ্টিতে পবিত্র কুরআন। লিখেছেন আমাতুল্লাহ ইউসরা

১. এ. জে. আরবেরী (A. J. Arberry) : এ. জে. আরবেরী তার ‘Holy Quran’ (London, ১৯৫৮) পুস্তকে লিখেছেন— আমি এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিঃসন্দেহ যে, কুরআন হল একটি অলৌকিক ঐশ্বরিক সৃষ্টি।

২. ডাব্লিউ মন্টোগোমারী ওয়াট (W. Montgomery Watt) : কুরআন আলৌকিক বাণী। ইহা মুহাম্মদ (সা)-এর কথা হতে পারে না। (Life of Muhanumad at Meeca, by Mr W. Montogomery Watt, P-52, 53, 57)

৩. প্রফেসর ডা. লাওয়েন ভ্যাজিলীয়ারী (Prof. Dr. Lawen Vagilieri) : ইটালীর প্রফেসর ডা. লাওয়েন ভ্যাজিলীয়ারী ইসলাম সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছেন। বইটি ১৯৫৮ ইং সনে পাকিস্তান হতে ইংরেজীতে অনুদিত হয়ে প্রকাশিত হয়। এই বইতে তিনি লিখেছেন— কুরআন মুহাম্মদ (সা)-এর মনগড়া কোন কথা নয়। এটি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি নাজিল করা প্রত্যাদেশ।

৪. উইলিয়াম এস. হাস (William S. Haas) : উইলিয়াম এস. হাস তাঁর ‘ইরান’ (New York, ১৯৪৬) পুস্তকের ১৫৮ ও ১৫৯ পৃষ্ঠায় লিখেছেন— কুরআন শুধুমাত্র পরলৌকিক নাজাতের পথই নয়, বরং এটি একটি আইন সংহিতা। কুরআন সকল সামাজিক, রাজনৈতিক, এমনকি আন্তর্জাতিক সমস্যা সমূহের সমাধানে পথ নির্দেশ প্রদান করে।

৫. টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রূণতত্ত্বের প্রফেসর ডা. কিথ মুর : ডা. মুরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কিত কুরআনের বাণীকে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?’ তাঁর জবাব ছিল— এটা একমাত্র ঐশ্বরিকভাবেই নাজিল হতে পারে। এ সব মানুষের জানার সাধ্যের বাইরে।  

৬. প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদ গ্ল্যাডষ্টোন : প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদ গ্ল্যাডষ্টোন পবিত্র কুরআনের অসীম প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন— যতদিন পর্যন্ত কুরআন মুসলমানদের হাতে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত তোমরা, হে ইউরোপবাসী, কখনো তাদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না, আর তোমরা তাদের থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে না।

৭. ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট প্রধান : ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট প্রধান এক খন্ড কুরআন হাতে নিয়ে বলেন— হে ইংল্যান্ডবাসী! তোমরা যদি বিশ্বের সকল জাতির উপর কর্তৃত্ব করতে চাও, তাহলে তোমাদের এই গ্রন্থের (কুরআনের) প্রতি মনোযোগী হতে হবে।

৮. প্রখ্যাত পাশ্চাত্য চিন্তাবিদ মি. কূন (Mr. Coon) : কুরআনের সবচাইতে বড় গুন হল এর ভাষার সৌন্দর্য। সুন্দর ও শুদ্ধ উচ্চারণের কুরআন তেলাওয়াত শ্রবণ করলে আরবী বুঝুক আর না বুঝুক যে কেউ মুগ্ধ হবে।

৯. জর্জ র‌্যাটভ্যান্ড (George Ratvand) : জর্জ র‌্যাটভ্যান্ড তার লিখিত পুস্তক ‘Realities’ (Paris)-এ লিখেছেন— প্রকৃতির প্রতি রোমাঞ্চকর কাব্যিক ভালবাসা আল-কুরআনের সৌন্দর্যকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে। যখন আপনি কুরআন পড়বেন, বণাণীর কলকাকলী আর সমুদ্রের কলতান যেন আপনার কানের সামনে বাজতে থাকবে!

১০. শিখ ধর্মের নেতা গুরু নানক : বেদ ও পুরানের যুগ চলে গেছে। এখন দুনিয়াকে পরিচালিত করার জন্য কুরআনই একমাত্র গ্রন্থ।

১১. প্রফেসর এ. গুইলামি (Prof. A. Guillaume) : প্রফেসর এ. গুইলামি তার “Islam on the March” পুস্তকে আল-কুরআনের সৌন্দর্য সম্পর্কে লিখেছেন¾ আল-কুরআন বিশ্ব বিখ্যাত সাহিত্যগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানীয়। অনুবাদের চাইতে মূল আরবী কুরআন অনেক বেশী আকর্ষণীয়। আল-কুরআনের আশ্চর্য সুন্দর ছন্দ মনোমুগ্ধকর। আরব খৃষ্টানরাও কুরআনের ভাষারীতির উচ্চসিত প্রশংসা করে থাকে। যখন উচ্চস্বরে কুরআন তেলাওয়াত করা হয়, তখন শ্রবণকারীদের উপর এটা একটা মোহোনীয় প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

১২. প্রফেসর লুয়ারা ভ্যাসিয়া (Prof. Luara Veccia) : আল-কুরআন কোন মানুষের রচনা হতে পারে না। সর্বশক্তিমান আল্লাহপাক, যিনি ইহ ও পরকালের যাবতীয় জ্ঞানের আধার, কেবল মাত্র তাঁর পক্ষেই এমন একটা গ্রন্থ নাজিল করা সম্ভব। আল-কুরআন যে আল্লাহর কালাম তার একটি বড় প্রমাণ হল, নাজিল হওয়ার পর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত শত শত বছর ধরে এ মহা গ্রন্থটি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ ও অপরিবর্তিত অবস্থায় আছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। কুরআন বার বার পড়ার পরও পাঠকের মনে কোন বিরক্তি আসে না। আল-কুরআনের আর একটি বৈশিষ্ট্য হল, এটা মুখস্ত করা বা মনে রাখা অপেক্ষাকৃত সহজ। তাই কুরআনের হাফেজের সংখ্যাও অধিক।

১৩. রাশিয়ার সাহিত্য ও কাব্য সমালোচক আলকভ ফেব্রী : কমিউনিষ্ট রাশিয়া কুরআনকে গ্রহণ করলে বহু উন্নতি লাভ করতে সক্ষম হত-এতে সন্দেহ নেই। ধর্মহীন সমাজ স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ। কুরআনের মর্যাদা সাহিত্যিকদের নিকট অনেক বেশী। কেননা, কুরআন অত্যন্ত উচ্চাঙ্গের একটি সাহিত্য— একথা সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়। যদি বলা হয় যে, কুরআনই আধুনিক সাহিত্যের জন্মদাতা, তবে মনে হয় ভুল হবে না।

১৪. জাপানের চিন্তাবিদ মি. উমুরা : যুগে যুগে বাইবেল বার বার পরিবর্তিত হওয়ায় এর মৌলিকত্ব তত্ত্ব হারিয়েছে। কিন্তু পবিত্র কুরআন আল্লাহ্র পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এমন এক প্রত্যাদেশ, যা আজো সামান্যতম পরিবর্তন-সংশোধন ছাড়াই সম্পূর্ণ অবিকৃত অবস্থায় বিদ্যমান।

১৫. শীর্ষস্থানীয় বৃটিশ বিজ্ঞানী ডা. আর্থার জে. এলিসন : শীর্ষস্থানীয় বৃটিশ বিজ্ঞানী, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান, কয়েকটি আন্তর্জাতিক ইলেকট্রনিক্স কোম্পানীর উপদেষ্টা ডা. আর্থার জে. এলিসন বলেন— পবিত্র কুরআনে মানব সৃষ্টি সম্পর্কিত যে সব তথ্য বর্ণনা করা হয়েছে, সে সব নিয়ে দীর্ঘকাল ‘প্যারাসাইকোলজিক্যাল’ গবেষণার ফলশ্রুতিতে আমি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, কুরআন কোন মানুষের রচিত গ্রন্থ নয় এবং এ মহাগ্রন্থে নির্দেশিত ধর্মমতই প্রকৃত সত্য ধর্ম।

 

দ্য সুলতান- এটি দ্য সুলতান.কমের একটি অফিসিয়াল আইডি। যাদের নামে কোনো আইডি দ্য সুলতানে নেই, তাদের নাম লেখার মাঝে ব্যবহার করে আমরা সাধারণত এই আইডির মাধ্যমে তাদের লেখাগুলো দ্য সুলতান.কমে প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

লেটেস্ট ফরম

গো টু টপ