আয়-ব্যয়ের হিসাব দিচ্ছে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

অথর- টপিক- এডু-নিউজ

শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের(ইউজিসি) কাছে প্রত্যেকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের নিয়মিত হিসাব দেওয়ার আইন থাকলেও বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই সেই হিসাব জমা দিচ্ছে না। আবার যারা দিচ্ছে, তারাও নিয়মিত নয়।

ইউজিসি’র তথ্যানুযায়ী, দেশে মোট ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে নয়টি তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেনি। আর এক বছর পূর্ণ না হওয়ায় ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় ব্যয় হিসাবের বাইরে থাকবে। এছাড়া বাকি ৮০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের হিসাব মন্ত্রণালয় ও কমিশনের কাছে হিসাব দিতে বাধ্য থাকবে।

কিন্তু এর মধ্যে কেবল মাত্র আটটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত আয়-ব্যয়ের হিসাব মন্ত্রণালয় ও কমিশনে জমা দিচ্ছে। ইউজিসি জানায়, এ ব্যাপারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার তাগিদ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। এছাড়া যেসব প্রতিবেদন কমিশনে জমা হচ্ছে তাতেও প্রকৃত তথ্য উঠে আসছে না বলে শঙ্কা ইউজিসির।

এ প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইন মানতে বাধ্য। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে অডিট রিপোর্টের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে। কমিশন এবং মন্ত্রণালয়ে এই রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় তা মানছে না।’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন এর ৪৪ (৫) ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক আর্থিক বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ববর্তী বছরের আয় ব্যয়ের হিসাব এবং সংরক্ষিত তহবিল এবং সাধারণ তহবিলের হিসাব নিকাশ কমিশন এবং সরকারের কাছে পাঠাতে হবে।

চট্টগ্রামের ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৯৩ সালে। ইউজিসি বলছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি অর্থবছর পর্যন্ত অর্থাৎ ২২ বছর কোনো আয় ব্যয়ের হিসাব দেয়নি তারা। এছাড়া রাজধানীর সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৯৩ সালে। এই বিদ্যালয় ২০১১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিলেও এর আগের ১৭ বছরের প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হয়নি।

একইভাবে আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১১ বছর, দি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ১৪ বছর, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ১২ বছর, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ৯ বছর, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ৫ বছর, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি ১০ বছর, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি ১০ বছর, রয়েল ইউনিভার্সিটি ১২ বছর, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৭ বছর, ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ১২ বছর, জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১২ বছর অডিট রিপোর্ট কমিশনে জমা দেয়নি।

অন্যদিকে, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট কমিশনে জমা হচ্ছে তাতেও প্রকৃত তথ্য উঠে আসছে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করে ইউজিসি বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত তিনটি  অডিট ফার্মের মধ্য থেকে সরকার একটি অডিট ফার্মকে মনোনয়ন দেন। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের পছন্দের তালিকা থেকে একটি ফার্মকে বাছাই করা হয়। এর ফলে প্রকৃত তথ্য পাওয়া কঠিন। তাই শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক নিরপেক্ষ ফার্ম নিয়োগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাব নিরীক্ষা করান প্রয়োজন।

সূত্রানুযায়ী, বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে  ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা কোনো নীতিমালা না মেনে ইচ্ছেমতো অর্থ ব্যয় করে। শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাবদ আদায় করা টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা ইচ্ছেমত খরচ করে। এভাবে ব্যয়ের কারণে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষামানের উন্নয়নে কোনো অর্থ ব্যয় করা হয় না। এ কারণে আয় ব্যয়ের হিসাব এবং এ সংক্রান্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন মন্ত্রণালয় ও কমিশনে জমা দিতে অনাগ্রহ।

সূত্র: ইত্তেফাক

দ্য সুলতান- এটি দ্য সুলতান.কমের একটি অফিসিয়াল আইডি। যাদের নামে কোনো আইডি দ্য সুলতানে নেই, তাদের নাম লেখার মাঝে ব্যবহার করে আমরা সাধারণত এই আইডির মাধ্যমে তাদের লেখাগুলো দ্য সুলতান.কমে প্রকাশ করে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

লেটেস্ট ফরম

গো টু টপ