Author

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ has 10 articles published.

২০১৭ সালে সর্বাধিক বিক্রিত ১০টি বাংলা ইসলামী বই

অথোর- টপিক- বুকস/লিড স্টোরি

নবী করিম (সা.) এক হাদিসে উল্লেখ করেছেন, এক ঘণ্টা জ্ঞান অর্জন করা সারা রাত ইবাদত করার থেকে উত্তম। এখানে জ্ঞান অর্জন করা বলতে মূলত বই পড়ার ওপর সর্বাধিক তাগিদ দেয়া হয়েছে।

আল্লামা শেখ সাদী বলেছেন, জ্ঞানের জন্য তুমি মোমের মতো গলে যাও। কারণ জ্ঞান ছাড়া তুমি খোদাকে চিনতে পারবে না। একজন সৃষ্টিশীল মানুষ পৃথিবীতে বইয়ের বিকল্প কিছুই চিন্তা করতে পারেন না। সমাজ বদলাতে হলে বই পড়ার বিকল্প নেই। বই মানুষের জীবন সঙ্গী। বই অবসরের প্রিয় বন্ধু। বই পাঠ মানুষকে সত্য পথে চলতে, মানবতার কল্যাণে অনুপ্রাণিত করে। বই সুখের সময় মানুষের পাশে থাকে। দুঃখের সময় মনোবল বাড়াতে সাহায্য করে। যে লোকটি বইকে নিত্যদিনের সঙ্গী বানিয়েছে, সেই লোকটি সমাজের অন্য ১০ জন মানুষ চেয়ে ভিন্ন। তার মন-মনন আলাদা। চিন্তাচেতনা ভিন্ন। সহিষ্ণুতা আর বিশ্বাসের ধরনটাও আলাদা। ইচ্ছা করলেই বিবেক বিক্রি করে তিনি নষ্ট পথে ধাবিত হতে পারেন না। এক কথায় যিনি জ্ঞানী তিনি কখনই সমাজ বিপর্যয়ী কাজে অংশ নিতে পারেন না। একজন পাঠক মাত্রই জ্ঞানের সাধক। সৈয়দ মুজতবা আলী বই পড়া প্রবন্ধে লিখেছেন- বই কিনে কেউ তো কখনো দেউলিয়া হয়নি। বই কেনার বাজেট যদি আপনি তিনগুণও বাড়িয়ে দেন, তবুও তো আপনার দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

বাংলাদেশে গড়ে ওঠা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে বই অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান রকমারি.কম। রকমারি.কম হচ্ছে বাংলাদেশে অন্যতম জনপ্রিয় পণ্য কেনার বা ই-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান। রকমারি.কম বলতে গোটা বাংলার মানুষের কাছে যে কথাটি স্পষ্ট সেটা হলো- বাংলাদেশসহ পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে প্রকাশিত বই ঘরে বসে কিনতে চাইলে রকমারি.কমের বিকল্প নেই। রকমারি.কম থেকে ২০১৭ সালে যে সব বাংলা ইসলামী বই বেশি বিক্রি হয়েছে, তার মধ্য থেকে সর্বাধিক বিক্রিত ১০টি ইসলামী বইয়ের তথ্য নিন্মে তুলে ধরছি।

১০. সিরাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) মহানবীর প্রথম বিশদ জীবনী। বইটির মূল লেখক, ইবনে ইসহাক। আর অনুবাদ করেছেন শহীদ আখন্দ। সিরাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর লেখা বইটি ইবনে ইসহাককে ইতিহাসে অমরত্ব দিয়েছে। ইসলাম ধর্ম, মহানবী (সা.) এবং সে সময়ের আরবের ইতিহাস জানার জন্য সারা পৃথিবীর নিবেদিতপ্রাণ ধর্মানুসারী থেকে নিষ্ঠাবান গবেষক পর্যন্ত সবাই এ বইয়ের কাছে ফিরে ফিরে এসেছেন। অসংখ্য ধর্মীয় ও গবেষণাগ্রন্থের মধ্য দিয়ে নানা ভাষায় এ বইয়ের উদ্ধৃতি ও বিশ্লেষণ পৃথিবীর কোনায় কোনায় ছড়িয়ে পড়েছে। মহানবী (সা.) মৃত্যুর পর লেখা এ বইটি তার প্রথম বিশদ জীবনী। বইটি প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশনী। বইটির মূল-১২৭৫ টাকা। ২০১৭ সালে রকমারি.কম থেকে যে সব ইসলামী বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে, সেই তালিকায় দশম স্থানে রয়েছে এই বইটি। রকমারি.কম থেকে বইটি কিনতে চাইলে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে এবং অর্ডার করুন। কিপ রিডিং…

ওস্তাদ নোমান আলী খান— অ্যা গ্রেট টিচার অব হলি কোরআন

অথোর- টপিক-

গ্রেট প্রিচার অব ইসলাম— ০২


নোমান আলী খান— আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন একজন মুসলিম দাঈ। পবিত্র কুরআনের জ্ঞানে তার অসাধারণ গভীরতা এবং সুন্দর উপস্থাপনা শৈলীর কারণে সমগ্র বিশ্বের মুসলিম তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব। ওস্তাদ নুমান আলী খান যুক্তরাস্ট্রে অবস্থিত বাইয়্যিনাহ ইনস্টিটিউট নামক একটি আরবি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের CEO এবং প্রতিষ্ঠাতা। বায়্যিনাহর কোর্স ফান্ডামেনটালস অফ ক্লাসিক্যাল অ্যারাবিক এবং ডিভাইন স্পিচ -এর প্রধান বক্তা তিনি।

ওস্তাদ নোমান আলী খান বিশ্বাস করেন, মুসলিমদের দায়িত্ব হলো কেবল উন্নত ও সহজ পদ্ধতিতে কুরআনের বাণী পৌঁছে দেয়া; বাকি দায়িত্ব আল্লাহর। তিনিই সব করবেন। একই মাটিতে একই বৃষ্টির পানি পড়ার পরেও যেভাবে ভিন্ন ভিন্ন ফুলের জন্ম হয়, একই ওহী মানুষের কাছে পোঁছাতে পারলে সেরকম হাজার রকমের সম্ভাবনা ও পরিবর্তনের সূচনা হবে।

মুসলিম উম্মাহর ব্যাপারে অন্যরা যেখানে কেবল অভিযোগ আর সমস্যা চিহ্নিত করে, সেখানে নোমান আলী খান দেখেন সম্ভাবনা ও স্বপ্নের দ্বার। তিনি তরুণরে মাঝে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা দেখতে পান। উম্মাহর ৭০ ভাগ তরুণকে যদি কেবল সঠিক অনুপ্রেরণা দেয়া যায়, তার বিশ্বাস, বিশ্বের চেহারাটাই পাল্টে যাবে।

মানুষকে কেবল কুরআন শিক্ষা দিয়েই যিনি বিশ্বকে পরিবর্তন করে দিতে চান, তিনি হচ্ছে বর্তমানের সব থেকে আলোচিত ব্যক্তি নোমান আলী খান। কুরআনের চমৎকার শৈল্পিক সৌন্দর্য উপস্থাপনার জন্যে তিনি বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের মুসলিম তরুণ প্রজন্মের কাছে এক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। সারা বিশ্বের মুসলিম তরুণরা আজ তাকেই ফলো করে এবং তাকে নিজেদের মডেল হিসাবে কল্পনা করে। নিজেদেরকে নোমান আলীর মত করে গড়তে চান। কুরআনের শব্দচয়ন কতটা সৃজনশীল, ভাষা কতটা মনোমুগ্ধকর, অর্থ কতটা যৌক্তিক— এগুলোই নোমান আলী খানের চিন্তাভাবনা ও আলোচনার বিষয়। তার বক্তব্যে কুরআনের অন্তর্গত সৌন্দর্য ও মুজিযা মানুষের চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে ওঠে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সভা-সেমিনার ও অনলাইনে তার বক্তব্য শুনে অসংখ্য মানুষ আলোর পথে আসছে এবং ইসলাম গ্রহণ করছে। তিনি প্রায় ২০টিরও অধিক তাফসীর গ্রন্থ পাঠ করেছেন। ফলে কুরআন নাজিলের ইতিহাস, শব্দচয়নের কারণ, ভাষার অলঙ্কার, অর্থের গভীরতা, যুক্তির প্রখরতা এবং ব্যাকরণগত শুদ্ধতার বিষয়গুলো তাঁর আলোচনায় ফুটে উঠে। কিপ রিডিং…

ভিন্ন ধারার ইসলাম প্রচারক— ডা. জাকির নায়েক

অথোর- টপিক- /লিড স্টোরি

গ্রেট প্রিচার অব ইসলাম— ০১


ইসলাম শ্রেষ্ঠ ধর্ম। কুরআনে এই কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। ইসলামকে অসহনশীল হিসেবে তকমা দেয়া হয়, এটা আসলেই তাই, কিন্তু তা দুর্নীতি, বৈষম্য, অবিচার, ব্যাভিচার, মাদক এবং সকল খারাপ বিষয়বস্তুর প্রতি। ইসলাম হল সবচেয়ে “সহনশীল” ধর্ম, যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের মূল্যবোধের প্রতি সমর্থন ঠিক থাকে। এমনটাই বলেন ডা. জাকির নায়েক।

ডা. জাকির নায়েক। তিনি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম একজন ইসলাম ধর্মের প্রচারক। মানুষকে বিভিন্নভাবে ধর্মের পথে আহ্বান করাই তার কাজ। কখনো হয়তো তিনি বিভিন্ন ধর্মতত্ত্বের ব্যাখ্যা করে বা বিভিন্ন ধর্মের তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইসলামের অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করে মানুষকে ইসলামের পথে আহ্বান করছেন। আবার কখনো হয়তো কুরাআন হাদিসের আলোকে মানুষকে সঠিক পথের দিকে আহ্বান করছেন। থমাস ব্লম হানসেন লিখেছেন যে, ডা. জাকিরের ধর্মপ্রচার কর্মকা- মুসলিমদের মাঝে তাকে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তার আলোচনার বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে কয়েকটি হল, “ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞান”, “ইসলাম ও খ্রিস্টধর্ম”, এবং “ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ”।

জন্ম ও শিক্ষাকার্যক্রম : ১৯৬৫ সালের ১৮ অক্টোবর ভারতের মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার মূল নাম হচ্ছে, জাকির আবদুল করিম নায়েক। তিনি মুম্বাইয়ের সেন্ট পিটার’স হাই স্কুল (আই.সি.এস.ই) থেকে মাধ্যমিক এবং চেল্লারাম কলেজ, মুম্বাই থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর টপিওয়ালা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, নায়ের হসপিটাল, মুম্বাই থেকে পড়াশুনার পর মুম্বাই ইউনিভার্সিটি থেকে চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেন।

কিপ রিডিং…

বিবিসি স্পোর্টস পারসোনালিটি অব দ্য ইয়ার— স্যার মু ফারাহ

অথোর- টপিক- /স্পোর্টস

ইয়াং সুলতান— ০১


২০১৭ সালের বিবিসি স্পোর্টস পারসোনালিটি অব দ্য ইয়ার পুরস্কার জয়ী হয়েছেন ব্রিটিশ মুসলিম নাগরিক স্যার মু ফারাহ। ১১ জন প্রার্থীকে পিছনে ফেলে এই পর্বে পুরস্কার তুলে নেন তিনি। ফারাহ সর্বমোট ৮৩,৫২৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন এবং ৮০,৫৬৭ ভোট নিয়ে সুপারবাইকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জনাথন রিয়া দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। এই প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয়েছেন প্যারাঅলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন জোনি র‌্যাকক।

লিভারপুলে আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়া হয় এই পুরস্কার। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলেও একটি লাইভ ভিডিওতে তার অনুভূতি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিশ্বের এতো বড় বড় খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করাটা সত্যি আনন্দের। এই পুরস্কার অর্জন করতে আমার প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমি আসা করছি তরুণ প্রজন্মও আমার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কঠিন পরিশ্রম করতে শিখবে।

তিনি তার অর্জনে ইসলামের ভূমিকার কথাও বলেছেন। তিনি বলেন, আপনাদেরকে অবশ্যই আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। সবকিছুই কোন একটি কারণে হয়ে থাকে, যাতে করে আপনি সমস্যায় না পড়েন। আমি মনে করি, আমি যেমন সবকিছুই হালকাভাবে নেই, সকলেরই সবকিছু হালকাভাবে নিতে হবে। এটি অবশ্যই মুসলিম হওয়া এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত। কুরআনে বলা আছে, সব কাজেই আমাদেরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এইজন্যেই আমিও আমার ট্রেনিং-এ পরিশ্রম করেছি, এবং এটি আমাকে এই পর্যায়ে এনে দিতে সাহায্য করেছে। আমি সাধারণত দৌঁড়ানোর আগে নামাজ পড়ি আল্লাহর কাছে দোআ করি এবং মনে করি আমি এতদূর আসার জন্য এটাই সব থেকে বড় ভূমিকা।

কিপ রিডিং…

আনিসুল হক— একজন আলোকিত নগরপিতা

অথোর- টপিক- /লিড স্টোরি/সুলতান স্টোরি

জীবনের সাফল্যের নেপথ্যে তার মায়ের অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করতে গিয়ে তিনি নিজেই বলেছেন, জীবনে সাফল্য অর্জনের পথে প্রত্যেকটা মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গাটা কি জানো? সেটা হচ্ছে মায়ের দোয়া।


এই তো মাত্র কয়টা দিন আগের কথা। হঠাৎ-ই খবর এলো তিনি আর নেই। তিনি আমাদের সবাইকে ছেড়ে মহান রবের ডাকে সাড়া দিনে চলে গেছেন। তিনি আর কখনো আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন না। আমাদের এই ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে সারাক্ষণই তিনি কত চেষ্টাই না করেছেন। আমাদের এই শহরের যেকোন সংকটে রাত নেই, দিন নেই ছুটে গিয়েছেন। এতো ছোটাছুটি করতেন। কিন্তু  এই ছোটাছুটি বাবদ তিনি কখনও সরকারি অর্থ ব্যয় করতেন না। এমনকি নিজের প্রাপ্ত বেতনও দিয়ে দিতেন কর্মচারীদের।

বলছি সদ্যপ্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের কথা। তিনি শুধু মেয়রই ছিলেন না, ছিলেন নগরের অভিভাবক, নগরপিতা। একজন মেয়র হয়েও তিনি যেন ছিলেন সকলের স্বজন, একান্ত প্রিয়জন। পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন, স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়েও চলছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ-ই যেন সবকিছু থমকে গেলো! তিনি আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেলেন।

একজন আনিসুল হক : তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং টেলিভিশন উপস্থাপক। তিনি বিজিএমই-এর সভাপতি ছিলেন, পরে এফবিসিসিআইর সভাপতি হন। পরবর্তীতে সার্ক চেম্বারের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৫২ সালে চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালী জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তার শৈশবের বেশ কিছু সময় কাটে তার নানাবাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। সেখানেই তার প্রথমিক লেখাপড়। এর পরে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন এবং সর্বশেষ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।

একজন মায়ের দোয়া এবং আনিসুল হক : আনিসুল হকে জীবনের সাফল্যের নেপথ্যে তার মায়ের অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করতে গিয়ে তিনি নিজেই বলেছেন, জীবনে সাফল্য অর্জনের পথে প্রত্যেকটা মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গাটা কি জানো? সেটা হচ্ছে মায়ের দোয়া। সেই মা আমার মা, সেই মা তোমার মা, সেই মা সবার মা; সব মায়ের এক চেহারা। আমার মায়ের গল্পটা বলি। আমার মা খুব একটা শিক্ষিত ছিলেন না। আমার কিছু হলেই আমি মায়ের কাছে গিয়ে বলতাম, “আমার গায়ের ওপর একটা পা রাখো তো, আর আমাকে একটা ফুঁ দাও!” আমার জীবন এখনও ফুঁ’য়ের ওপর চলছে। আমি যখন মেট্রিক পরীক্ষা দিচ্ছি, একটা পরীক্ষার আগে আমার খুব জ্বর, একশো চার ডিগ্রী হবে। সকালবেলা উঠে আমি বললাম, মা, আমি তো পরীক্ষা দিতে পারবো না। মা বললেন, এটা কি হয় নাকি রে বাবা, পরীক্ষা না দিলে তুমি এক বছর পিছিয়ে যাবে না? আমি বললাম, আমার তো কোন উপায় নেই, আমি চোখে কিছু দেখছি না। উনি অনেক দোয়াটোয়া পড়ে আমাকে ফুঁ দিলেন, আমার হাত ধরে বললেন, চলো যাই। তিন ঘন্টার পরীক্ষা দুই ঘন্টা লিখে বেরিয়ে এলাম, বাইরে চিন্তত মুখে মা বসে আছেন। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, সবকিছু ঠিকঠাক লিখেছো? আমি বললাম, না মা, চৌত্রিশের উত্তর করে এসেছি। মা বললেন, পাশ কতোতে? আমি বললাম, তেত্রিশ। তোমার ফুঁ’তে আর কাজ হবে না মা। উনি বললেন, কাজ না হোক, এবার নামাজ পড়ে একটা ফুঁ দেই। মা সেখানে নামাজ পড়লেন দুই রাকাত, তারপর ফুঁ দিলেন সারা গায়ে। হয়তো এটা একটা কাকতালীয় ব্যপার হতেই পারে, কিন্ত পরীক্ষায় আমি চৌত্রিশে চৌত্রিশই পেয়েছিলাম!

এখনও কোন বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলে আমি মায়ের কবরের কাছে গিয়ে দাঁড়াই। মেয়র নির্বাচন করার প্রস্তাব যখন আমাকে দেয়া হলো, আমি খুবই বিপদে পড়ে গেলাম। এত কঠিণ একটা কাজ আমাকে দিয়ে হবে কিনা, এসব নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমার বাবার বয়স পঁচানব্বই, বাবাকে গিয়ে বললাম, বাবা, কি করবো? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান যে আমি মেয়র হই। বাবা বললেন, “তোমার মায়ের কাছে যাও। মায়ের কবরের কাছে গিয়ে দাঁড়াও, নিজেই বুঝতে পারবে কোনটা করা উচিত।” এটা একটা শক্তি, অন্যরকম একটা শক্তি। মানুষকে সাহসী করে তোলে।

কিপ রিডিং…

রাসূল (সা.) কোন সাতটি স্থানকে বেশি ভালোবাসতেন?

অথোর- টপিক- বিলিভারস/হাইলাইটস

রাসূল (সা.) সাতটি স্থানে বেশি বেশি যেতেন এবং এই স্থানগুলোকে খুব বেশি ভালোবাসতেন। আমাদেরও উচিত এই স্থানগুলোতে যাওয়া এবং এগুলোকে ভালোবাসা। যাতে করে আমরা নবীর (সা.) ভালোবাসা লাভ করতে পারি। নিন্ম রাসূল (সা.) যে স্থানগুলোকে ভালোবাসতেন সেগুলোর পরিচয় তুলে ধরা হলো-১. মক্কা আল-মোকাররমা : নবী মুহাম্মাদ (সা.) মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি নবুয়ত প্রাপ্তও হন মক্কাতে। বায়তুল্লাহ মুসলমানদের কিবলা। মসজিদে হারামে ইবাদত করলে অন্য যে কোনো স্থানে ইবাদত করার তুলনায় বেশি সাওয়াব পাওয়া যায়। (সহীহ ইবনে মুজাহ) অন্য আরো একটি হাদিসে এসেছে, মক্কা একটি পবিত্র স্থান। সেখানে সকল প্রকার রক্তপাত নিষিদ্ধ। (তিরমিজি)

রাসূল (সা.) মক্কাকে খুব বেশি ভালোবাসতেন। যেদিন তিনি হিজরত করে মদিনাতে চলে যাচ্ছিলেন সেদিন বারবার মক্কার দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলেন।২. আল-মদিনা আল-মুনাওয়ারা : আমাদের প্রিয় নবী (সা.) মদীনাকেও খুব বেশি ভালোবাসতেন। তিনি বেশিরভাগ সময় তার দোয়াতে বলতেন, হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে মক্কা ও তার অধিবাসীদের থেকেও বেশি ভালোবাসুন। (বুখারী)

৩. আল আকসা মসজিদ : মক্কা ও মদিনার পরে জেরুসালেম তথা মসজিদে আল আকসা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা  ও পবিত্র স্থান। জেরুসালেম শহরে অনেক নবীদের আগমন ঘটেছে। এই শহর থেকেই নবী (সা.) মিরাজের উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলেন। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লহপাক ইরশাদ করেছেন,  পবিত্র তিনি যিনি নিয়ে গেছেন এক রাতে নিজের বান্দাকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার পরিবেশকে তিনি বরকতময় করেছেন, যাতে তাকে নিজের কিছু নিদর্শন দেখান। আসলে তিনিই সবকিছুর শ্রোতা ও দ্রষ্টা। (সূরা- বনী ইসরাইল, আয়াত-১) কিপ রিডিং…

ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর অজানা ইতিহাস

অথোর- টপিক-

আলী আবদুল্লাহ সালেহ- একজন ইয়েমেনী রাজনীতিবিদ। একজন মুসলিম নেতা। প্রসিদ্ধ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। রাষ্ট্রপতি আহমদ আল-ঘশ্মির হত্যার পর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন যিনি। তিনি ১৭ জুলাই ১৯৭৮ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে উত্তর ইয়েমেনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সালের ২২ মে উত্তর ইয়েমেনের সাথে দক্ষিণ ইয়েমেনের মিলিত হওয়ার পর আবদুল্লাহ সালেহ নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য রাজনৈতিক দল জেনারেল পিপলস কংগ্রেসের পার্টি পক্ষ থেকে সাবেক প্রেসিডেন্টের আবদুল্লাহ সালেহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ৭৫ বছর বয়সী এই শক্তিশালী নেতা প্রায় তিন দশক ধরে ইয়েমেন শাসন করার পর ২০১২ সালে রাজনৈতিক চাপের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন।

আলী আব্দুল্লাহ সালেহ ১৯৪২ সালের ২১ মার্চ ইয়েমেনের বেয়াত এল-আহমার গ্রামে একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৮ সালে উত্তর ইয়েমেনী সশস্ত্র বাহিনীতে একটি পদাতিক সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। এরপূর্বে তিনি মালেমা গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর ১৯৬০ সালে উত্তর ইয়েমেন মিলিটারি একাডেমিতে ভর্তি হন। তিন বছর পর ১৯৬৩ সালে, তিনি আমর্ড কর্পসে দ্বিতীয় লেফটেন্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আলী আবদুল্লাহ সালেহ নাসরীর অনুপ্রাণিত আর্মি অভ্যুত্থানে অংশ নেন, যা কিং মুহম্মদ আল-বদরকে অপসারণ ও ইয়েমেন আরবি রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়কেআন্দোলনি ছিল। ১৯৭৮ সালের ১৭  জুলাই ইয়েমেনের আরব প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচন হন। একই সাথে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ও পদাতিক বাহিনীর পদে এবং সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ পদে দায়িত্ব পালন করেন। কিপ রিডিং…

নারীদের সফলতার রহস্যের ব্য়ান তুমি সৌভাগ্যের রানী

অথোর- টপিক- বুকস


তুমি সৌভাগ্যের রানী। বইটি লেখা হয়েছে মূলত একজন ঈমানদার নারীকে দীনের সৌভাগ্য এবং আল্লাহর করুণা ও দক্ষিণা নিসিক্ত করে দেয়ার উদ্দেশ্যে। এই বই বিষাদগ্রস্ত ও হতাশায় নিমজ্জিত হৃদয়গুলোকে আশা ও আনন্দের আঁচলে জড়িয়ে নেবে। এই বইটি তার পাঠককে ডেকে ডেকে বলে ধৈর্য ধরো এবং আল্লাহর কাছে প্রতিদান পাবার আশা রাখো। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যেয়ো না। মহান আল্লাহ তোমার জন্য সর্বাস্থায় তোমা সাথে আছেন। আল্লাহই তোমার সহায়ক, তোমার বন্ধু। সুতরাং তোমরা তার উপর আশা রাখ।

বাংলাদেশে বইটি প্রকাশ করেছে, আকিকপাবলিকেশন্স এদারায়েকুরআন। ১১/১ ইসলামী টাওয়ার, বাংলা বাজার ঢাকা। ফোন নম্বর: ৯৫৮৯৮৫২ ও ০১৭২৪-৬০৪১৩৬। এই প্রকাশনি বইটি প্রথম প্রকাশ করে ২০১৫ সালে। বইটি রকমারি.কম থেকে কিনতে প্রবেশ করুন এই লিঙ্কে…
কিপ রিডিং…

হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলি থানভির [রহ.] জীবন ও কর্ম

অথোর- টপিক- বুকস

হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলি থানভির [রহ.] জীবদ্দশায় বিশিষ্ট খলিফা খাজা আজিজুল হাসান মাজযুব (বি.এ. ও এল.এল.বি আলিগড়) ‘আশরাফুল সাওয়ানেহ’ নামে ৮৬৮ পৃষ্ঠার বিশাল কলেবরে জীবনী সংকলন করেছিলেন। হজরতের ইন্তিকালের পর এর সঙ্গে তিনি আরো ১৪১ পৃষ্ঠার উপসংহার যুক্ত করেন। এ বইটিতে সেই বিশাল ও বিপুল তথ্যভাণ্ডারকে সংক্ষিপ্ত করে ছোট সাইজের ২৫০ পৃষ্ঠার নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের মাত্রাতিরিক্ত ব্যস্ততার ও অনবসরতার পরিপ্রেক্ষিতে চার খরণ্ডর ভাষ্যকে সংক্ষিপ্তখভাবে এক খণ্ডে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। যার ফলে একজন ব্যস্ত মানুষ অতি অল্প সময়ে বইটি পড়ে উপকৃত হতে পারেন।


বইটি প্রকাশ করেছে মাকতাবাতুল ইসলাম। বইয়ের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬০। মাকতাবাতুল ইসলামের প্রধান বিক্রয়কেন্দ্র হচ্ছে ৬৬২ আদর্শনগর, মধ্যবাড্ডা, ঢাকা। যোগাযোগের নাম্বার ০১৯১১-৬২০৪৪৭


কিপ রিডিং…

দুই মলাটে ২৮৯ জন মনীষীর জীবনীতথ্য

অথোর- টপিক- বুকস

বই পরিচিতি : ইসলামে শ্রেষ্ঠ যাঁরা। এই বইটিতে রয়েছে মহাকালের মহা মনীষীদের সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য। এদের কেউ সাহাবি, তাবেয়িন, মুজাহিদিন, উলামা, খলিফা, কবি- সাহিত্যিক ও মহীয়সী নারীবৃন্দ। বইটিতে এই ব্যক্তিত্বদের জীবনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। যেমন, নাম, উপনাম, উপাধি, জন্ম-তারিখ, বাণী চিরন্তন, তাদের নিয়ে অন্যের মন্তব্য কিংবা সাহাবি হয়ে থাকলে রাসূল (সা.) থেকে তার বর্ণিত উল্লেখযোগ্য একটি হাদিস। সর্বোপরি তাদের জীবনীতথ্য বর্ণনার আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে। যাতে করে পাঠক দুই মলাট খোলা মাত্রই এক নিঃশ্বাসে মনীষীদের জীবনী পড়ে দম নিতে পারেন।

প্রকাশক যা বললেন : এই গুরুত্বপূর্ণ অনুবাদকর্মটি পাঠকের হাতে তুলে দিতে পেরে একজন প্রকাশক হিসেবে আমি খুবই আনন্দিত। দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ, উৎকৃষ্ট মুদ্রণ, অফসেট কাগজ ও মজবুত বাঁধাইয়ের মোড়কে বইটি তুলে ধরার চেষ্ট  করেছি। কোথাও কোনো মুদ্রণপ্রমাদ পরিলক্ষিত হলে জানিয়ে দেয়ার অনুরোধ রইলো।

কিপ রিডিং…

গো টু টপ