দ্য সুলতান

হাইলাইটস

নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীর আয়োজন

ফিলিস্তিনি গল্প— ছয় ওয়াক্ত নামাজ

অথোর- টপিক- লিটারেচার/লিড স্টোরি/হাইলাইটস

মূল— ইবরাহিম নাসরুল্লাহ । ভাষান্তর— মিরাজ রহমান


সময় তখন দুপুর ২টা বেজে ৩০ কিংবা ৩৫ মিনিট হবে। অজু করার জন্য পানি খুঁজছে আলিফ। বাথরুমে জমিয়ে রাখা পানিও প্রায় শেষ। একটু আগেও একবার অজু করেছিলো সে যোহরের নামাজ আদায় করার জন্য। এখন সে আবার অজু করবে। আবার অজু করার একটি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে এখন। কিন্তু কি সে প্রয়োজন!

আলিফের ছোট বোন শাহেদা জিজ্ঞেস করলো। এই মাত্র না তুমি নামাজ আদায় করে ফিরলে ভাইয়া? আবার অজু করবে কেন তুমি এখন? বার বার অজু করার মতো অত পানি কী এখন আছে আমাদের?

ছোট্ট বোনের অবুঝ মনের প্রশ্ন। যৌক্তিক আবদার। শুধু গাজা এলাকা নয়- সব ফিলিস্তিনিরাই এখন সর্ব সঙ্কটে দিন কাটান। নেই পর্যাপ্ত পানি, নেই কোনো জীবনের আস্থা। অজুর পর অজু করার মতো অবস্থা এখন আর ফিলিস্তিনে নেই। আজকের ফিরিস্তিন। গতকালও যে এলাকাটি নবিদের পদভারে আলোড়িত ছিলো।

আলিফ ভাবলো ওর এই প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। আবার আসল কথাটি বলতেও চাইলো না সে।

আলিফ— আছে আপু মনি। এখন একটি আমল আছে আমার। অজু ছুটে গেছে তো তাই আবার অজু করে আমলটি করতে হবে। পানি কম বলে তো আর বিনা অজুতে আমল করা যাবে না শাহেদা!

শহেদা— আচ্ছা তাহলে যাও। অজু করো এবং আমল করো।

আপন মনে চলে গেল আলিফ। অজু করলো এবং সারি বদ্ধভাবে দাঁড়ানো মানুষদের নিয়ে একটি আমল পূর্ণ করলো।

আলিফ। ফিলিস্তিনের গাজা মহল্লার ২২ বছর বয়সি এক কিশোর। অদম্য তরুণ। সারা অঙ্গ জুড়ে নুর আর নুর। আলো আর আলো। চেহারার আলোর সাথে মিশে একাকার হয়ে আছে পোশাক আশাকের শুভ্র আলো। ব্যবহারের আলো। মানসিকতার শুভ্রতা। ফেরেশতার মতো দেখতে অনেকটা। গাজার ছোট্ট এক ফলের দোকানি আবু আনসারের সন্তান আলিফ। গাজায় প্রতিষ্ঠিত একটি মাদরাসা থেকে হাফেজি শেষ করার পর উচ্চ মাধ্যমিক জামাতের ছাত্র এখন সে। দাদা-দাদি, নানা-নানি, বাবা-মা, ফুপা-ফুপি, খালা-খালু আর ছোট্ট একটি বোন— সব মিলে বেশ বড় একটি পরিবারের একজন ছোট্ট সদস্য আলিফ। ছোট্ট সদস্য হলেও আলিফের সমাদরে মুখরিত গোটা পরিবার। কারণ হলো বংশ পরমপরায় আলফিই একমাত্র সদস্য যে পবিত্র কোরআন হিফজ করেছে। আলিম হচ্ছে। দাদার ইচ্ছা ছিলো তার সন্তানকে আলিম বানাবেন কিন্তু সে স্বপ্ন তার পূরণ হয়নি। আলিফকে নিয়ে তাই তার স্বপ্ন অনেক বড়।


তোমার জানার খুব ইচ্ছা ছিলো নামাজের সময় ছাড়া অসময়ে কী আমল করি আমি! শুধু আমি নই হে বোন আমার! আমরা সব ফিলিস্তিনিরাই এখন প্রতিদিন ছয় ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি। ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার পাঁচ ওয়াক্ত সাথে জানাজার এক ওয়াক্ত নামাজ আমরা এখন প্রতিদিনই আদায় করি। আর আজও আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার পর ষষ্ঠ ওয়াক্তে তোমার জানাজার নামাজ আদায় করছি।


ভাইয়া! তুমি আজো অসময়ে অজু করছো? এখন আবার কোন ওয়াক্তের নামাজ আদায় করবে তুমি? একটু আগেই না তুমি মাগরিবের নামাজ পড়ে এলে?

আলিফকে মাগরিবের নামাজের পর আবার অজু করতে দেখে এক শ্বাসে প্রশ্নগুলো ছুঁড়লো শাহেদা। বড় ভাই আলিফকে খুব পছন্দ করে শাহেদা। সারাক্ষণ শুধু ভাইয়া ভাইয়া জিকির তার। এখন ভাইয়া কি করছে, একটু পরে আলিফ কি করবে? শাহেদার সব জানা থাকা চাই-ই চাই। ভাইয়ার সব কাজ নিয়ে শাহেদার তাই একটু বেশি কৌতুহল।

কি হলো ভাইয়া কিছু বলছো না কেন? আবার অজু করবে কেন তুমি? কি আমল আছে এখন তোমার?

কিপ রিডিং…

এরদোগান— অ্যা গ্রেট সুলতান

অথোর- টপিক- /লিড স্টোরি/হাইলাইটস

দ্য গ্রেট সুলতান— ০১


কবি এবং ফেরিওয়ালা—এ-দুটির মধ্যে সাজুয্য খুঁজে পাওয়া এবং খুঁজতে যাওয়া অসম্ভব এবং সে-ক্ষেত্রে ব্যক্তি যখন হবেন একজন রাজনীতিক, তখন আপনি বিস্মিত হবেন। হতে চাইবেন। ভেবেও বসবেন, আসলে তিনি কবি নন। তিনি রাজনীতিকই বটেন। হয়তো রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে কিংবা কাউকে ডিকটেশান দিয়ে লিখিয়ে দুয়েকবার কাব্য করেছেন। আমরা আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি, অন্তত এরদোগানের বিষয়ে আপনার ভাবনা অমূলক।

এরদোগান শুধু কবি নন, তিনি কবিতার জন্য জেলে খেটেছেন এমন এক সময়ে, যখন তিনি দেশের ক্ষমতাধর একজন। এমনকি তার দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির তখন জয়জয়কার। ২০০২ সালের নভেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিজয়ী হয়েও এরদোগান প্রধানমন্ত্রী হতে পারছেন না। কারণ, ইস্তাম্বুলের মেয়র থাকা অবস্থায় একটা কবিতা পাঠের অপরাধে তিনি শাস্তি ভোগ করছিলেন। শাস্তির মেয়াদ তখনও পূর্ণ হয় নি।

যদিও ২০০৩ সালের ১৪ মার্চ অবশেষে নানা আইনি জটিলতা পেরিয়ে তিনি তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এ-জন্য প্রথমে তার দলের সিনিয়র সদস্য এবং পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ গুলকে তার আসন থেকে পদত্যাগ করে সে-আসনে উপনির্বাচনে নিবাচিত হয়ে পার্লামেন্টে আসতে হয়েছে।

আমরা ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে, যে-কবিতাটি এরদোগান পাঠ করেছেন, তার রচয়িতা তিনি ছিলেন না। তবে তিনি সেনাবহিনীকে ‘দোয়া’ করার অসিলায় তুর্কি জাতীয়তাবাদী কবি জিয়া গোকাল্পের কবিতাটি পাঠ করেছিলেন দক্ষিণ তুরস্কের জনসভায়। সেদিন ছিলো ১৯৯৭ সালের ১২ ডিসেম্বর। Mosques are our barracks. domes our helmets, minarets our bayonets, believers our soldiers—এই হলো কবিতা। যার তর্জমা করলে দাঁড়ায়— মিনার আমাদের বেয়োনেট, গম্বুজ হেলমেট, মসজিদ আমাদের ব্যারাক, মুমিনরা আমাদের সৈন্য। কবিতার শেষে আবার ‘আল্লাহু আকবার’ শব্দগুচ্ছও আছে। সুতরাং খুবই মুসলমানি কবিতা। এই মুসলমানি ছুৎমার্গ থেকে পবিত্র করার জন্য তুরস্কের সেক্যুলার সরকার তাকে প্রায় অর্ধযুগ কারাপ্রকোষ্ঠো আটকে রাখে ।

মনে রাখা দরকার, শুধু মুসলমান নয়, যদিও সে-দেশের আকছার মুসলমান, তবে ধর্মই তুরস্কের ক্ষমতাসীন মানুষের সবচে’ বড় ভীতি ছিল। নাকি এখনও আছে? কেননা, এরদোগানের দল একেপিকে তুরস্কের সেক্যুলার দল বলেই সে-দেশে গণ্য করা হয়। এবং এরদোগানকে তুরস্কের জাতির পিতা (আতুতুর্ক) মোস্তফা কামাল পাশার উত্তসূরিও ভাবা হয়; যিনি ছিলেন আধুনিক তুরস্কের প্রথম রাষ্ট্রপতি। ১৯২২ সালে অটোম্যান সম্রাজ্যের পতন করে ১৯২৩ সালে সেক্যুলার রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। সেক্যুলারিজমকে সে-দেশে কামালিজমও বলা হয়। আতুতুর্ক ঘোষণা দিয়েছিলেন— ধর্ম বলতে কিছুই নেই, ধর্ম হলো মানুষকে শাসন করার একটা পদ্ধতি মাত্র। কোনো জাতির উন্নতির জন্য ধর্মমুক্ত হওয়া ছাড়া কোন পথ নেই । তাই আজ থেকে আমার রাষ্ট্রকে ধর্ম মুক্ত হিসাবে ঘোষণা করলাম। কিপ রিডিং…

রাসূল (সা.) কোন সাতটি স্থানকে বেশি ভালোবাসতেন?

অথোর- টপিক- বিলিভারস/হাইলাইটস

রাসূল (সা.) সাতটি স্থানে বেশি বেশি যেতেন এবং এই স্থানগুলোকে খুব বেশি ভালোবাসতেন। আমাদেরও উচিত এই স্থানগুলোতে যাওয়া এবং এগুলোকে ভালোবাসা। যাতে করে আমরা নবীর (সা.) ভালোবাসা লাভ করতে পারি। নিন্ম রাসূল (সা.) যে স্থানগুলোকে ভালোবাসতেন সেগুলোর পরিচয় তুলে ধরা হলো-১. মক্কা আল-মোকাররমা : নবী মুহাম্মাদ (সা.) মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি নবুয়ত প্রাপ্তও হন মক্কাতে। বায়তুল্লাহ মুসলমানদের কিবলা। মসজিদে হারামে ইবাদত করলে অন্য যে কোনো স্থানে ইবাদত করার তুলনায় বেশি সাওয়াব পাওয়া যায়। (সহীহ ইবনে মুজাহ) অন্য আরো একটি হাদিসে এসেছে, মক্কা একটি পবিত্র স্থান। সেখানে সকল প্রকার রক্তপাত নিষিদ্ধ। (তিরমিজি)

রাসূল (সা.) মক্কাকে খুব বেশি ভালোবাসতেন। যেদিন তিনি হিজরত করে মদিনাতে চলে যাচ্ছিলেন সেদিন বারবার মক্কার দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলেন।২. আল-মদিনা আল-মুনাওয়ারা : আমাদের প্রিয় নবী (সা.) মদীনাকেও খুব বেশি ভালোবাসতেন। তিনি বেশিরভাগ সময় তার দোয়াতে বলতেন, হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে মক্কা ও তার অধিবাসীদের থেকেও বেশি ভালোবাসুন। (বুখারী)

৩. আল আকসা মসজিদ : মক্কা ও মদিনার পরে জেরুসালেম তথা মসজিদে আল আকসা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা  ও পবিত্র স্থান। জেরুসালেম শহরে অনেক নবীদের আগমন ঘটেছে। এই শহর থেকেই নবী (সা.) মিরাজের উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলেন। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লহপাক ইরশাদ করেছেন,  পবিত্র তিনি যিনি নিয়ে গেছেন এক রাতে নিজের বান্দাকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার পরিবেশকে তিনি বরকতময় করেছেন, যাতে তাকে নিজের কিছু নিদর্শন দেখান। আসলে তিনিই সবকিছুর শ্রোতা ও দ্রষ্টা। (সূরা- বনী ইসরাইল, আয়াত-১) কিপ রিডিং…

আহারে আমাদের সেই মায়েরা, আহারে আমাদের এই মায়েরা!

অথোর- টপিক- উইমেন/হাইলাইটস

লিখেছেন তারিক সিদ্দিকী


আমাদের মায়েরা বড়ই মায়া ধরে বুকে! তারা সন্তানের অমঙ্গল কামনা করাকে অস্তিমজ্জার বাতিক বলে ভাবেন। তারা তাদের সন্তানকে নিজের মত, আপন মানুসিকতায় বেড়ে উঠার মনোবৃত্তি নিয়ে বেড়ে উঠতে সচেতন ভাবেই প্রলুব্ধ হউন। এমন দৃশ্য প্রায়শই দেখে থাকবেন, ভোরের শুরুতেই রাস্তা ভরে মায়েরা তাদের সন্তানদের নিয়ে কোথাও যাচ্ছেন? ছেলে অথবা মেয়েটির কাঁধে বোঝার মতো স্কুল ব্যাগ দেখেই আপনি বুঝবেন মায়েদের গন্তব্য সীমা। মোটামুটি ৫০ বছর আগেও মায়েদের দৈনন্দিন কাজের সাথে সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বটি তুলনামূলক অভিনব। সেই সব মায়েদের বুকভরা থাকত সন্তানের জন্য শুভ কামনা। খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে গোসলসহ রাতে ঘুম পর্যন্ত মায়ের একটা চোখ খোলাই থাকত (তাঁর ঘুমের মাঝেও) সন্তানের ভাল মন্দের অতন্ত্র প্রহরী রুপে। আপনি এমন বাঙ্গালি পাবেন না- যে কিনা তাঁর জননীর আদরের অন্তহীন প্রশংসায় আকুলিত না হবেন। সে কবি জসিমউদ্দীন হতে পারেন বা ক্ষেপা নজরুল অবধি সকলেই মায়ের কথায় আবেগের উচ্চতায় পৌঁছাবেন। সেই সময়ের মায়েরা অবসরে প্রশংসায়, রাগে-বিরাগে-অভিমান মিশ্রণে আপন আপন পুত্রটির গুণাবলি নিয়ে আবশ্যিকতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতেন আঙিনা আড্ডায়, সে নিশ্চিত। গুণধর বা অগুণ পুত্রটি চোখের আড়াল খুব বেশিক্ষণ হলেই গ্রামের দূর দিয়ে হেটে যাওয়া লোকটির কানে যেত তাঁকে (সন্তান) বাজারে দেখলে যেন মনে করিয়ে দেয় বাড়ি ফেরার কথা। সন্তানের শরীর খারাপ হলে সেসব মায়েদের দিবা রাত্রির নির্ঘুম চোখ জেগেই থাকত। আশ্চর্য সেই মায়েরা!

তফাতটা কোথায়? সময়কে পুরো দোষটা চাপিয়ে দেয়া যায় অথবা যাকে আধুনিকতা বলে তাকেও মায়েদের নিতুই কমতে থাকা সন্তান উপলব্ধি বা আদরের হ্রাস হেতু হিসেবে ভাবা যায়। ক্ষেপে যেতে পারেন অনেকেই এমন শুদ্ধ বচনে। আবার অনেকেই আমার কথায় নিম সায় দেবেন। মায়েরা বদলে গেছেন বা যাচ্ছেন এটা ভাবতে গেলে অনেকটাই বদলে যাওয়া ছেলে মেয়ের মনেও ধাক্কা লাগে। (এখনকার সন্তানেরা মাতৃগর্ভ থেকেই ধাক্কা বিষয়টির সাথে পরিচিত হয়েই জন্মান বলে আমার খেয়াল। বেখালি ভ্রুন পৃথিবীর আলোর মুখ দেখবে কি দেখবে না সেটি অনিশ্চয়তায় আঁতকে থাকে প্রতি মুহূর্তে)

মায়েরা যেন বদলাবার নয়। না ভেবেই বলা যায় আজ যারা এমনটা ভাবছেন কালই হয়ত সে বা তাঁর বোন বা পাশের বাড়ির মেয়েটিই মায়ের রুপ পরিগ্রহ করবে। যে কিনা আধুনিকতর জীবনে পরিপূর্ণ বদলে যাওয়া সামাজিকতায় সাবলিল ছিল। সেই আধুনিক মেয়েটি দীর্ঘ ৯ মাস প্রায় হাঁসফাঁস করে, চারপাশ তিক্ততায় ভরিয়ে হাসপাতালে গিয়ে সার্জারি করে তীব্র যন্ত্রণার অবসানে স্বস্থি পান। সে তীব্র প্রসববেদনা লাঘব করাকে পূর্বের মা কেবলমাত্র স্রষ্ঠা আর নিরক্ষর দাইমার হাতেই ছেড়ে দিতেন আশ্চর্য সাহসের বলে। প্রথম সন্তানের বেলায় সে তীব্র ব্যাথাময় সময়টার মেয়াদ পুরো এক দিনও হতে পারত ক্ষেত্রবিশেষে। হয়তবা নিভৃতে সয়ে যাওয়া সেই তীব্র বেদনার পরমার্থ সেসব মায়েদেরকে প্রকৃতি ঠিক তততাই ভালবাসাময় মাতৃরুপের মাধুর্যে ভরিয়ে তুলতো। মায়ের দুধ খেয়ে বেড়ে উঠা সন্তানকে অনেকটা বীরের প্রতীক রুপে দেখা হয়। এই একটি বিষয়ে আধুনিকতর মায়ের ভিন্ন অভিমত থাকাটা অস্বাভাবিক না হলেও সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের জন্য বুকের দুধের চেয়ে অধিক বা সম পরিমান পুষ্টি সমৃদ্ধ কৌটো দুধের মার্কেট বিস্তৃতি সম্ভাবনাময় হয়ে উঠা নির্ভর করে। আর তাতে পূর্ব মায়ের বুকের দুধ পান করা বীর পুত্রটির চেয়ে কৌটো দুধ পান করা সন্তানটির মেধার তারতম্য ঘটে কিনা সে বিজ্ঞান বা ডাক্তারের উক্তই বা কি হবে, আমি জানিনা। তবে বর্তমান মায়ের আত্ম সচেত্নতাবোধ উপলব্ধ হয়। পূর্বের মায়েরা তাঁর আদরের সন্তানকে বুকের দুধ পান করাতে কার্পণ্য করতেন না, স্কুলে দিয়ে আসা- নিয়ে আশার দায়িত্ব পালন বিরত রাখলেও। আহারে আমাদের সেই মায়েরা, আহারে আমাদের এই মায়েরা! কিপ রিডিং…

এক ডিমের মসজিদ

অথোর- টপিক- ফিচার/বাংলাদেশ/হাইলাইটস


ফয়সল চৌধুরী। লোকমুখে প্রচার পৃথিবীতে একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বেঙ্গির মা নামে এক মহিলা। ‘ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়’ প্রবাদ বাক্যটি যেমন সত্য, তেমনি লক্ষ্য যদি থাকে আপনার অটুট একদিন সফলতা আসবেই। কবি গুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে হয় ‘ছোট ছোট বালু কণা, বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তুলে মাহাদেশ সাগর অতল। এই কবিতাটুকু পড়লে মনে হয় কবিগুরুর কোন বাস্তব ঘটনা থেকেই কবিতাটি রচনা করেছিলেন। তেমনি আচার্য্যজনক এক ঘটনা ঘটেছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন এক মহিলা। তাকে সবাই ‘বেঙ্গির মা’ বলে ডাকলেও একটি মহৎ উদ্দ্যোগ নিয়ে এক আন্ডা (ডিম) গড়ে তুলেছেন একটি মসজিদ। এলাকাবাসী নাম দিয়েছেন এক আন্ডা’র মসজিদ। মসজিদটির নাম এখন সবার মুখে। এক আন্ডা থেকে কি ভাবে এক মসজিদ সে কথা শুনলে সবাই অবাক হন। মানুষের অসাধ্য কিছু নেই, মানুষ সাধনা করে আকাশে উড়েছে, পৌঁছেছে চাঁদের দেশে। তেমনি এক বেঙ্গির মা বাংলাদেশে জন্ম দিয়েছে এক ইতিহাস। আর তার রেখে যাওয়া স্মৃতি দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ আসে বেঙ্গির এক আন্ড’র (ডিম) মসজিদ দেখতে।

জানা যায়, জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের প্রজাতপুর গ্রামের তৎকালীন এক কৃষক সরফ উল্লার স্ত্রী বেঙ্গির মা ১৯০২ ইং, ১৩০৭ বাংলায় প্রজাতপুর ও লালপুর দুটি গ্রামের মাধ্যবর্তী স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদ নির্মাণের শেষে এলাকাবাসীকে জড়িত করে মসজিদটির নাম করণ করেন ‘এক আন্ডা (ডিম)র মসজিদ’। তখন মসজিদের নামকরণ নিয়ে জনতার মধ্যে প্রশ্ন জাগলে তিনি ঘটনাটি খুলে বলেন। বেঙ্গির মা এলাকাবাসীকে জানান, তিনি একটি মুরগীর ডিম মসজিদের নামে মান্যত করে রাখেন। ঐ ডিমটি থেকে মুরগীর উতলে দিলে তা থেকে একটি বাচ্চার জন্ম হয়। পরবর্তীতে ঐ বাচ্চাটি বড় হলে তা থেকে আরো ৭টি ডিম হয়। পরবর্তীতে ঐ ৭টি ডিম থেকে ৭টি বাচ্চার জন্ম হয়। এভাবে এক পর্যায়ে মুরগীর খামার গড়ে তুলেন। ঐ খামারের মুরগী বিক্রি করে বেঙ্গির মা টাকা জমাতে থাকেন। তৎকালীন সময়ে তিনি এক লক্ষ টাকা জমা করে মসজিদটি তার স্বামীর মাধ্যমে নির্মাণ করে দেন। বেঙ্গির মা ছিলেন নিঃসন্তান। ঘটনা এলাকায় জানাজানি হওয়ার পরে মসজিদটির নাম সর্বত্র ছড়িয়ে পরে। মসজিদ নির্মাণের শত বছর অতিবাহিত হলেও এখন এ কাহিনী সবার মুখে মুখে। অনেকই মনে করেন একটি আন্ড (ডিম) থেকে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘটনা ইতিহাসে এই প্রথম। তাও আবার একজন মহিলা কর্তৃক মসজিদ নির্মাণ সবাইকে অবাক করেছে। প্রজাতপুর ও লালপুর গ্রামবাসী ২০০৯ সালে মসজিদটির বর্ধিত অংশ সংস্কার করেছেন। কিন্তু বেঙ্গির মার মুল মসজিদটি এখনও বিদ্যমান রয়েছে। চলতি বছরে মসজিদটি নতুন করে রং করা হয়েছে।

এক আন্ডা (ডিম) এর মসজিদের খতিব মাওলানা আলমাছ উদ্দিন বলেন, আমি মসজিদ নির্মাণে বেঙ্গির মার এক এন্ডার গল্প শুনে অবাক হয়েছি। ইচ্ছা থাকলে মানুষ কিনা করতে পারে। তার ছেলে সন্তান না থাকলেও এই মসজিদটি পৃথিবী যতদিন থাকবে ততদিন স্বাক্ষী হয়ে রবে। বেঙ্গির মার প-পৌত্র প্রজাতপুর গ্রামের রাকিল হোসেন বলেন আমার পুর্ব পুরুষ নিঃসন্তান সরফ উল্লার স্ত্রী বেঙ্গির মা এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা। আমি আমার বাবার কাছ থেকে শুনেছি পরিদাদী বেঙ্গির মা একটি আন্ডা থেকেই এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে এলাকাবাসী কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করে মসজিদের সুন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য সংস্কার করেছেন। মসজিদের মোতাওল্লী লন্ডন প্রবাসী আব্দুল হারিছ। কিন্তু তিনি দেশের বাহিরে থাকায় থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। প্রজাতপুর গ্রামের প্রবীণ উলফর উল্লাহ বলেন, আমাদের গ্রামের বেঙ্গির মা এমন একটি কাজ করেছেন, যা সারা জীবনেও ভুলার মত নয়। আমি বেঙ্গির মার কাছ থেকে শুনেছিলাম তিনি একটি ডিম থেকে একটি মুরগীর খামাড় গড়ে তুলেছিলেন। ঐ খামারের একটি টাকাও তার সংসারের কাজে ব্যয় করেন নি। সম্পূর্ণ টাকা দিয়ে মসজিদ নির্মাণ করেন। কিপ রিডিং…

জেরুসালেম তাহলে কার?

অথোর- টপিক- অপিনিয়ন/লিড স্টোরি/হাইলাইটস

কোনো ধর্মমত বিবেচনায় না এনে যদি প্রশ্ন করা হয়— এই মসজিদটি কার? আপনার বাড়ির পাশে কিংবা আপনার ঘরের কাছেই যে মসজিদটি আছে, যেখানে আপনার বাবা কিংবা দাদার দানকৃত ভূমি রয়েছে, সেটা কি আপনার উত্তরাধিকার? কিংবা ওই মন্দিরটি? সেটাও কি একইভাবে আপনার বন্ধু তন্ময় কিংবা সঞ্জয় তাদের মিরাস সম্পত্তি বলে দাবি করতে পারে? আপনার শহরে অবস্থিত গির্জাটি নিয়েও কিন্তু আমরা একই প্রশ্ন করতে পারি। হতে পারে এমন প্রশ্নের মুখে আপনাকে কখনও পড়তে হয় নি, কেননা, এভাবে কেউ প্রশ্ন করে না। চমকানো সুন্দর মসজিদ (একইভাবে মন্দির বা গির্জা) হলে হয়তো সর্বোচ্চ জিজ্ঞেস করা হতে পারে— এটা কে করেছে? আপনার জানা থাকলে অবলীলায় বলে দিলেন— শরফুদ্দিন সান্টু ইত্যাদি। তারপরও যদি কেউ আপনাকে এমন বেমক্কা প্রশ্ন করেই বসে, আপনি তাকে হয়তো নাস্তিক ভাববেন, কিংবা ঈমানের জোর বেশি থাকলে বলবেন— কার আবার? আল্লাহর। ভিন্ন ধর্মের হলে বলবেন— মুসলমানদের।

যদিও মসজিদ কারও ব্যক্তিগত সম্পদ হয় না। মসজিদ আল্লাহর ঘর, বাইতুল্লাহর অংশ। যেখানে মসজিদ একবার নির্মিত হয়ে যায়, কেয়ামত দিবস অবধি সেটা আল্লাহর মালিকানায় চলে যায়। তাই যদি কোনো মসজিদে সাধারণের প্রবেশাধিকার না থাকে, তাহলে সেখানটায় জুমাবারের সালাত আদায় হবে না— এ-ই ইসলামের বিশ্বাস। কেননা, মালিক যেহেতু আল্লাহ, সুতরাং আল্লাহর বান্দা হিসেবে সেখানের কর্তৃত্ব সবার সমান, একক কারও হতে পারে না।

সন্দেহ নেই, উপসনালয়ের ব্যাপারে একই ধরনের বিশ্বাস ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকেই লালন করে পৃথিবীর তাবৎ ধর্মপ্রাণ মানুষ। তাদের নিজেদেরই হাতে গড়া এবাদতগাহ নির্মাণের পর আর তাদের নিজেদের থাকে না, সেখানে শুধু তাদের এবাদতেরই অধিকার থাকে, অন্য কিছু নয়। এবাদতের স্থানটুকু ঈশ্বরের নামে প্রদত্ত পবিত্র ভূমি।



ভিয়া ডলোরোসা, যে-পথে নবী ঈসাকে (আ.) নিজের ক্রস বয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিলো। ছবি  : সংগৃহীত


একই কথা প্রজোয্য জেরুসালেমের ব্যাপারেও। অন্তত তা-ই হওয়া উচিত। সম্ভবত সব মানুষ সেটা জানেও এবং মানেও। কিন্তু জেরুসালেমের ক্ষেত্রে পার্থক্য হলো, অন্য যে-কোনো স্থানের বেলায় যে-ধর্ম যেখানটাকে ‘পবিত্র ভূমি’ বলে স্বীকৃতি দেয়, সেখানটা শুধু সেই ধর্মের লোকদেরই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় থাকে, অন্য ধর্মের লোকেরা অল্প-বিস্তর মতানৈক্য না-থাকলেও শান্তি বজায় রাখার নিমিত্ত সেটা মেনেও নেয়। ছোট ‘পবিত্র ভূমি’ যেমন মসজিদ, মন্দির প্যাগোডা, গির্জা, টেম্পল ইত্যাদির ক্ষেত্রে হাতে গোণা সামান্য কয়েকটি উদাহরণ বাদ দিলে সারা পৃথিবীতেই আপন আপন ধর্মের লোকেরা আধিপত্য বজায় রাখতে পেরেছে। একান্ত তীর্থভূমি নিয়েও খুব একটা বিরোধ বাঁধে না। হিন্দুদের কাশি, বৌদ্ধদের শোয়েডগ প্যাগোডা এবং মুসলমানদের মক্কা-মদিনা নিয়ে কোনো উৎপাত নেই। কিন্তু জেরুসালেমের বিপত্তি এখানেই যে, এই একই ‘পবিত্র ভূমি’ যখন বিশ্বের ধর্মের এবং তিনটিই আসমানি ধর্ম— ইহুদি, খ্রিষ্ট ও ইসলাম। এ-কারণেই জেরুসালেম অনন্য। এখানেই সাধারণ যে-কোনো তীর্থভূমি বা পবিত্র ভূমির সঙ্গে জেরুসালেমের তফাত।

অবশ্য এটা ঠিক যে, আমরা কখনও কখনও কয়েকটি ধর্মের উপাসনালায় পাশাপাশি অবস্থান করতেও দেখি। মসজিদের পাশেই গির্জা। গির্জার ঘন্টার ধ্বনি ও মসজিদের আজান ধ্বনি সেখানে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। মসজিদ কিংবা গির্জাবাসীরা একে অপরের উপাসনালয় দখল করতে যায় না। কিন্তু জেরুসালেমে কী এমন রয়েছে যে, এখানে নিজ নিজ ধর্মের অনুসারীরা কেবল নিজেদের উপাসনালয়ে এবাদত করেই সন্তুষ্ট নয়, বরং এই ভূমিটাই তাদের দখলে রাখতে হবে? অথচ তিন ধর্মই প্রভু হিসেবে আল্লাহকে মান্য করে এবং এটাও বিশ্বাস করে যে, পবিত্র ভূমির মালিকানা কোনো মানুষের নয়—আল্লাহর। তাহলে দ্বন্দ্বটা কিসের? ঈশ্বরের মালিকানা নিয়ে?

এমনও নয় যে, এই দ্বন্দ্ব দুয়েকবার ঘটেই শেষ হয়েছে। বরং জেরুসালেমের দীর্ঘ ইতিহাসে, শহরটি কমপক্ষে দুইবার ধ্বংস হয়েছে, ২৩ বার অবরোধ হয়েছে, ৫২ বার আক্রমণ হয়েছে এবং ৪৪ বার দখল এবং পুনর্দখল হয়েছে।[1]ধর্মের লড়াইয়ের সাথে সাথে এখানে অধর্মের কাজও যে কম হয়েছে, তা নয়। আজও শহরে কোনো প্রত্নতত্ত্ব সন্ধান করতে গেলেই দেখা যায়, কোনো মসজিদের নীচে ইহুদি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ অথবা কোনো গির্জার নীচে দেখা গেলো মসজিদের চিহ্ন। যদি অধর্মই না হবে, তাহলে রোমান খ্রিষ্টানদের হাতে এই শহর ধ্বংস হবে কেনো? খ্রিষ্টানদের পবিত্র ভূমি কী করে খ্রিষ্টানদের হাতেই রক্তাক্ত পারে?

বহু জটিলতা আর বহু প্রশ্ন জড়িয়ে আছে জেরুসালেম কার এই প্রশ্নে সাথে। আমরা ইতিহাস ও বর্তমান জেরুসালেমের পবিত্র নিদর্শনগুলো খুঁজতে খুঁজতে সে-সব প্রশ্ন খতিয়ে দেখার প্রয়াস পাবো।

এক. আজ যেখানে জেরুসালেম নামে বিখ্যাত নগরী উপস্থিত, ইতিহাসের প্রারম্ভে, প্রায় ৫০০০ বছর আগে, সেখানে ছিলো একটি ছোট্ট গ্রাম। উঁচুনিচু মরুভূমির অভ্যন্তরে একটি সবুজ উপত্যকার মধ্যে খেজুর ও জলপাই গাছে ঢাকা গ্রামটিতে ঠিক কী ছিলো যা মোজেস, আব্রাহাম, যিশুখ্রিষ্ট (নবী মুসা, ইব্রাহিম ও ঈসা আ.) থেকে মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সবাইকে আকর্ষণ করে এসেছে? এখানকার মাটিতে কী আছে যা তিন-তিনটে বিরাট ধর্মের জন্ম দিয়েছে?

শহরের গা ঘেঁষে উঁচু টিলা—মাউন্ট অব অলিভ, জলপাই পাহাড়। মুসলিমরা বলে যাইতুন, কোরআনে এই ফলের কসম খেয়েছেন আল্লাহ। জেরুসালেমসহ এ-অঞ্চলের মানুষের অত্যন্ত্র প্রিয় ও প্রধান খাদ্যেরও একটি অলিভ। এই মাউন্ট অব থেকে সারা জেরুসালেম দেখা যায়। দেখা যায় পাথরে গাঁথা ৫০০০ বছরের পুরোনো শহর (Old City) ও তার মধ্যমণি সোনার পাতে মোড়া ডোম অব রক (Dome of the Rock)। ২০০০ বছর আগে নবী ঈসা (আ.) যখন জেরুসালেম দেখেছেন সেই, কেমন ছিলো শহরটা তখন? হয়তো পুরোনো শহরের আশেপাশে তখন ছিলো শুধু কাঁটাঝোপ। আজকের মতো রাস্তাঘাট, অট্টালিকার চিহ্নও ছিলো না। তখনও কি তিনি জানতেন নিয়তি তাকে কোথায় নিয়ে যাবে? ওই জেরুসালেমের মধ্যে দিয়েই ভারি ক্রশ পিঠে চাপিয়ে তাকে বধ্যভূমিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো।



৬-নং স্টপ-এ ভেরোনিকা তৃষ্ণার্ত নবী ঈসাকে আ. জল দিতে চেয়েছিলেন। ছবি : সংগৃহীত


কিপ রিডিং…

পোপ ফ্রান্সিস কেন এতোটা প্রভাবশালী?

অথোর- টপিক- অপিনিয়ন/হাইলাইটস


আসিফ সোহান। সারা বিশ্বের নজর এখন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিসের দিকে। তার মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফর নিয়ে এখন সরগরম আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। বরাবরই দেখা যায়, পোপকে নিয়ে যতোটা মাতামাতি হয়, অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতা কিংবা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা অথবা বিনোদন জগতের কোনো তারকাকে নিয়েও তা হয় না। কেন পোপ এতো গুরুত্বপূর্ণ? কেন এতোটা প্রভাশালী তিনি? মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে। ওই বিশ্লেষণ অনুযায়ী আন্তঃদেশীয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এবং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রভাবের কারণে তিনি এতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।

রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ। তিনি এমন একটি পদের অধিকারী, যা বিশ্বে অন্য কোনো ধর্মে নেই। বর্তমান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কোনো ধর্মেই এমন অনুক্রমিক কাঠামো নেই, যার ফলে কোনো একজনকে নেতা মানা হয় না। কিন্তু ক্যাথলিক ধর্মে এই কাঠামো রয়েছে। পোপ এমন এক সংগঠনের নেতা, যা প্রায় দুই হাজার বছর পুরনো। সারা বিশ্বের গির্জাগুলোর কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে একটা ক্রমতন্ত্র (চেইন অব কমান্ড) মেনে চলা হয়। আর এই কর্তৃত্বতন্ত্রের নেতৃত্বের ভূমিকা ভ্যাটিকানের। সেই ভ্যাটিকানের শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে পোপ সারা বিশ্বে ক্যাথলিক আদর্শ বিস্তারে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মগুলোতে একাধিক গোষ্ঠী ও নেতা রয়েছেন। কিন্তু ক্যাথলিক ছাড়াও আরো কিছু ধর্মে অনুক্রমিক কাঠামো রয়েছে (অ্যাংলিকান কমিউনিয়ন) কিন্তু এই ধর্মালম্বীদের সংখ্যা ১২০ কোটি ক্যাথলিকদের সঙ্গে কোনো তুলনা হয় না। একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র ভ্যাটিকানের মাধ্যমেই বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিক চার্চের প্রভাব দৃশ্যমান হয়। ভ্যাটিকান বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। ভ্যাটিকানের প্রধান হিসেবে পোপ যখন কোনো দেশ সফর করেন তিনি শুধু ধর্মীয় নেতা থাকেন না, তিনি একটি দেশেরও প্রধান। এর ফলে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানদের চেয়ে পোপের সফর অনন্য হয়ে ওঠে।

ব্রিটেনের রানিও একই সঙ্গে অ্যাংলিকান চার্চ ও কমনওয়েলথের প্রধান। কিন্তু তার প্রভাব পোপের মতো নয়। কারণ পোপের মতো কর্তৃত্ব তার নেই। ফলে ব্রিটেনের রানির তুলনায় পোপের প্রভাব অনেক বেশি।

শুধু আন্তঃদেশীয় নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অংশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নাগরিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে ক্যাথলিক চার্চ। স্থানীয় গির্জাগুলোর নেতৃত্বে থাকেন স্থানীয় বিশপ, আর্চবিশপ ও কার্ডিনালরা। এদের সবাইকে নিয়োগ দেন পোপ নিজে এবং তারা তার কাছেই জবাবদিহি করেন। ফলে এসব স্থানীয় গির্জাগুলো পোপের নির্দেশনা দ্বারা পরিচালিত হয়।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষমতা বাদ দিলেও পোপের রয়েছে মানুষকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা। বিশ্বের মানুষের বড় একটি অংশই ক্যাথলিক গির্জায় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন। এসব গির্জা থেকেই মানুষকে একটি নৈতিক ও অর্থপূর্ণ জীবনযাপনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

কিপ রিডিং…

নবীজিকে (সা.) আমরা কেনো ভালোবাসবো?

অথোর- টপিক- বিলিভারস/হাইলাইটস

আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন— তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ আমি তার কাছে তার পিতামাতা, সন্তান-সন্ততি ও সকল মানুষ থেকে প্রিয়তর না হবো। [বোখারি, হাদিস ১৫; মুসলিম, হাদিস ৪৪]

আবু হোরাইরা রা. বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন— সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ আমি তার কাছে তার পিতামাতা ও সন্তান থেকে বেশি প্রিয় না হবো। [বোখারি, হাদিস ১৪; নাসায়ি, হাদিস ৫০৩৫]

এই হাদিস দুটি এত স্পষ্ট যে, এর কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় না। হাফেজ ইবনে হাজার রহ. বলেন— কাজি আয়াজের বক্তব্যে রয়েছে, এটা হলো ঈমান বিশুদ্ধ হওয়ার শর্ত। [ফাতহুল বারী, খ- ১, পৃষ্ঠা ৫৯] সুতরাং ইসলামের বিধানমতে নবীজিকে ভালোবাসা ফরজ, নবীজির আনুগত্য করা ফরজ। কথা হলো, ভালোবাসা ফরজ— এ-বিষয়টি ইসলামের গতিপ্রকৃতি যার জানা নেই, তার কাছে অদ্ভুত মনে হবে। সন্দেহ নেই, ভালোবাসা হলো একটি মানবীয় আবেগ। আর আবেগ-অনুভূতি কখনো আদেশ-নিষেধের ছাউনিতে দাখিল হয় না। বলতে গেলে কারও ব্যক্তিক ইচ্ছার পরিধিতেও আসে না। এমনকি নবীজি আপন অন্তরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন— হে আল্লাহ, এটা আমার অংশ, যার মালিক তুমি। সুতরাং যার মালিক তুমি, আমি নই, তার ব্যাপারে আমাকে ভর্ৎসনা করবেন না। [দেখুন— লেখকের কৃত ‘যাওয়াইদুস সুনান আলাস সহিহাইন, হাদিস ৪৫০৪] আয়েশা রা. বলেন— এখানে ‘এটা আমার অংশ’ দ্বারা উদ্দেশ্য ‘কলব’।

ভালোবাসার অনুভূতি তো মানুষের ক্ষমতার আওতাধীন কোনো বিষয় নয় যে, তার ওপর সে কর্তৃত্ব খাটাবে; বরং তা মানুষের হৃদয়ে ধীরে ধীরে আসে ইচ্ছার ক্ষেত্রের বাইরে থেকে। একই সাথে শরীয়তও এটা চায় না যে, অন্তরে এটা আদেশের মাধ্যমে আসুক। কেননা, মানুষ অনেক সময়ই আদেশ পালন করে তাকে বাধ্য করা হয় বলে এবং এই দীনের নীতিমালায় বাধ্যবাধকতা বাতিল হিসেবে গণ্য— দীনের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই। [সূরা বাকারা, আয়াত ২৫৬]

কিন্তু ভালোবাসা হলো, এমন একটা সম্পর্ক, যা মুসলমান এবং নবীর মধ্যে এবং মুসলমান ও তার ধর্মের মধ্যে বন্ধন সৃষ্টি করে। তা এমন নিদর্শন, যা এই পদ্ধতিতে সৃষ্টফল ব্যতীত মানুষের সম্পর্ক তা বুঝতে পারে না। [লেখকের কৃত ‘আন আযওয়াই আলা দিরাসাতিস সীরাহ’, পৃষ্ঠা ১৬-১৮]

কিভাবে ভালোবাসা হবে

প্রশ্ন আসে— তা হলে এই ভালোবাসার ব্যাখ্যা কীভাবে করবো?

কাজি আয়ায রহ. বলেন— ভালোবাসার প্রকৃতি হলো, মানুষ তার অনুকূল বিষয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তার অনুকূল বিষয়টা তার জন্যে হয়—

এক. হয়তো প্রাপ্তির মাধ্যমে উপভোগ করার জন্যে। যেমন— সুন্দর চেহারা, চমৎকার কণ্ঠ, সুস্বাদু খাবার ও পানীয় এবং এ-ধরনের বিষয়াবলিকে ভালোবাসা; যার প্রতি সকল সুস্থ-স্বভাব ধাবিত হয়। কেননা, এগুলো তার অনুকূল বিষয়।

দুই. অথবা, তার বিবেকবোধ ও আন্তরিক অনুভূতি অভ্যন্তরীণ অবস্থা উপলব্ধি করে তৃপ্তি পাওয়ার জন্যে। যেমন— সজ্জন, ওলামা, বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের ভালোবাসা, যাদের সুন্দর জীবন-কাহিনি ও চমৎকার কৃতকর্মের বিবরণ কিংবদন্তী হয়ে আছে। কেননা, মানুষের স্বভাব এ-জাতীয় লোকদের সম্মোহনে আকৃষ্ট হয়।

তিন. অথবা, তার ভালোবাসাটা কেবলই হবে তাকে কারও অনুগ্রহ ও দান-দক্ষিণা থাকার কারণে। কেননা, অন্তরের স্বভাব হলো, সে তাকেই ভালোবাসবে, যে তার প্রতি অনুগ্রহ করবে।

উপর্যুক্ত সিদ্ধান্ত যখন স্থির হলো, তখন আপনি দেখুন, এই বিষয়গুলি নবী স.-এর ক্ষেত্রেও বিদ্যমান রয়েছে কি না। দেখবেন, ভালোবাসার যে যে তিনটি কারণ রয়েছে তার সবগুলো বৈশিষ্ট্যেরই অধিকারী নবীজি স.।

—দেখুন, বাহ্যিক আকৃতি ও সৌন্দর্যে তিনি অনন্য।

—সচ্চরিত্র ও আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ ।

—তা ছাড়া দেখুন, উম্মাহের প্রতি তার করুণা ও অনুগ্রহের অবদান, দেখুন তার রহম ও দয়া, উম্মাহকে হেদায়াতের পথ দেখানো, তাদের প্রতি তার সীমাহীন মমতা, জাহান্নাম থেকে তাদের পরিত্রাণের বিষয়টি। যার ফলে কোরআনে বিভিন্ন উদ্ধৃতি এসেছে যে, নিশ্চয় তিনি মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল ও দয়াবান, বিশ^বাসীর জন্যে রহমত, তিনি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এবং তিনি আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী তারই নির্দেশে, আর তিনি দীপ্যমান সূর্যালোক।

মুমিনদের প্রতি তার যে অনুগ্রহ, তারচে’ বড় ও মহান অনুগ্রহ কী আছে? যেহেতু, তিনিই হলেন উম্মাহের হেদায়াতের উসিলা, অজ্ঞতা থেকে মুক্তিদাতা, সাফল্যের আহ্বায়ক, প্রতিপালকের সমীপে পৌঁছার মাধ্যম, তাদের সুপারিশকারী ও মুখপাত্র, তাদের সাক্ষী এবং তাদের চিরায়ত আবাস ও চিরস্থায়ী নেয়ামতের ব্যবস্থাপক।

যখন কোনো বাদশাকে তার উত্তম চরিত্রের কারণে, কিংবা কোনো শাসককে তার প্রভাব সৃষ্টিকারী পরিচালনা পদ্ধতির কারণে, অথবা কোনো উপদেশদাতাকে তার জ্ঞান গভীরতা ও উত্তম স্বভাবের কারণে স্বাভাবিকভাবে ভালোবাসা হয়, তাহলে তো নবীজি ভালোবাসা পাবার সর্বোচ্চ অধিকারী এবং হৃদ্যতার সর্বাধিক যোগ্য। কেননা, এই সকল সদগুণ ও স্বভাব-প্রকৃতির চূড়ান্ত স্তর ও পরিপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তার মধ্যে বিরাজমান ছিলো, তাতে সন্দেহের লেশমাত্র কারও নেই। [কাজি আয়ায কৃত ‘আশ-শিফা’, খ- ২, পৃষ্ঠা ৫৭৯-৮১] কিপ রিডিং…

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০ মুসলিম ব্যক্তিত্ব

অথোর- টপিক- ওয়ার্ল্ড/হাইলাইটস

দ্য ওয়ার্ল্ডস ফাইভ হানড্রেড মোস্ট ইনফ্লুনসিয়াল মুসলিম-জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অবস্থিত দ্য রয়েল ইসলামিক স্ট্যাটিজিক স্টাডিজ সেন্টার দ্বারা পরিচালিত একটি আয়োজন। যারা মূলত বিশ্বব্যাপি প্রতিবছর প্রভাশালী মুসলিম ব্যক্তিত্ব নির্বাচনকেন্দ্রিক একটি জরিপ পরিচালনা করে থাকে। এটি একটি সম্পূর্ণ বেসরকারি স্বাধীন গবেষণা সংস্থা। প্রতি বছরের মতো ২০১৭ সালে পরিচালিত জরিপে উঠে এসেছে বিশ্বময় ছড়িয়ে থাকা ৫০০ প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের নাম। ৫০০ প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের নাম নির্বাচন করার পর আরো দুই ধাপে দুটি জরিপ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০ জন ব্যক্তিত্বকে নির্বাচন করা হয় এবং দ্বিতীয় ধাপে সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০জন ব্যক্তিত্বকে নির্বাচন করা হয়। ২০১৭ সালের নির্বাচিত বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্ব কারা নির্বাচিত হয়েছেন? চলুন জেনে নেই বিশ্বের সবেচেয়ে প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচয়।

১. অধ্যাপক ড. শেখ আহমদ মুহাম্মদ আল-তৈয়ব: বিশ্বের সবেচেয় প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার প্রথমে রয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালের জরিপে তিনি দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। তার দেশ মিশর। জন্ম- ১৯৪৬ সালে। মূলত প্রশাসনিক ক্ষমতার কারণে তিনি প্রভাশালী নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি একজন ঐতিহ্যবাহী সুন্নি মুসলিম। বর্তমানে তিনি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রান্ড শায়খ এবং আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের গ্রান্ড ইমাম হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। এরপূর্বে তিনি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রায় সাত বছর এবং মিশরে সবচেয়ে শক্তিশালী ধর্মীয় নেতা বা গ্র্যান্ড মুফতি হিসাবে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।

২. কিং আবদুল্লাহ (দ্বিতীয়) ইবনে আল হুসাইন: বিশ্বের সবেচেয় প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব তিনি। ২০১৬ সালের জরিপে তিনি প্রথম ছিলেন। তার দেশ জর্ডান। জন্ম- ১৯৬২ সাল অনুযায়ী বর্তমানে তার বয়স ৫৪ বছর। রাজনীতি এবং ঐতিহ্যবাহী বংশের বিবেচনায় তিনি প্রভাবশালী নির্বাচিত। তিনিও একজন ঐতিহ্যবাহী সুন্নি মুসলিম নেতা। বর্তমানে তিনি জর্ডানের হাশেমাইট কিংডমের রাজা এবং জেরুজালেমের বিভিন্ন অঞ্চলের জিম্মাদার হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। মুসলিম বিশ্বের দুটি বিরাট দ্বন্দ্ব নিরসনে ভূমিকা পালন করার মাধ্যমে কিং আবদুল্লাহ (দ্বিতীয়) বিশ্বব্যাপী পরিচিতি অর্জন করতে সক্ষম হন।

৩. কিং সালমান বিন আবদুল আজিজ কিন আল সৌদ: বিশ্বের সবেচেয় প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার তৃতীয় স্থান অধিকার করে আছেন তিনি। ২০১৬ সালের জরিপেও তিনি তৃতীয় স্থানে ছিলেন। তার দেশ সৌদি আরব। জন্ম- ৩১ ডিসেম্বর ১৯৩৫ মোতাবেক তার বয়স ৮০ বছর। রাজনৈতিক ক্ষমতার বিবেচনায় তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। কিং সালমান বিন আবদুল আজিজ মর্ডারেট সালাফি মুসলিম নেতা। বর্তমানে তিনি রয়েল সৌদি আরবের বাদশাহ এবং সৌদি আরবে অবস্থিত পবিত্র দুই মসজিদের জিম্মাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি এই পদে আসীন হন। এর পূর্বে তিনি ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে সৌদি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিপ রিডিং…

দৈনিক ইত্তেফাক : একাল-সেকাল

অথোর- টপিক- ফিচার/হাইলাইটস

দৈনিক ইত্তেফাক বাংলাদেশের প্রাচীনতম দৈনিকগুলোর একটি। ১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর দৈনিক ইত্তেফাক সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়; এর আগে এটি ছিল সাপ্তাহিক। এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়ে থাকে। ভাষা : বাংলা। এছাড়া অনলাইন একটি ইংরেজি ভার্সনও রয়েছে।

জন্মলগ্ন থেকে ইত্তেফাক সাধু ভাষা রীতি অনুসরণ করে আসলেও পরবর্তী সময়ে চলতি ভাষা রীতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী এ পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তাসমিমা হোসেন। তিনি একাধারে একজন সফল উদ্যোক্তা এবং সম্পাদক। দীর্ঘদিন ধরে সম্পাদনা করছেন দেশের সবচেয়ে প্রচলিত নারীবিষয়ক পত্রিকা পাক্ষিক ‘অনন্যা’। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রণ করা হয়। পত্রিকাটির দাপ্তরিক ওয়েবসাইট :http://www.ittefaq.com.bd/

দৈনিক ইত্তেফাকের নিয়মিত আয়োজনে আছে- প্রথম পাতা, শেষ পাতা, অন্যান্য খবর, সম্পাদকীয়, দৃষ্টিকোন, চিঠিপত্র, বিশ্ব সংবাদ, রাজধানীর আশেপাশে, অনুশীলন (শিক্ষাবিষয়ক পাতা) খেলার খবর, ইত্তেফাক সাময়িকী (সাহিত্য ও শিল্প-সংস্কৃতি বিষয়ক), কড়চা, প্রজন্ম, আইটি কর্ণার, তথ্যপ্রযুক্তি, শেয়ার বাজার, রাশিফল, তরুণকন্ঠ, অর্থনীতি, এই ঢাকা, বন্দর নগরী, স্বাস্থ্য পরিচর্যা, মহিলা অঙ্গন, ক্যাম্পাস, কচি-কাঁচার আসর, ধর্মচিন্তা, বিনোদন প্রতিদিন, আনন্দ বিনোদন। কিপ রিডিং…

গো টু টপ