দ্য সুলতান

বিলিভারস

প্রকৃত বিশ্বাসীরাই সাফল্য লাভ করে থাকে...!

বিশ্ব ইজতেমা, বিশ্ব ইস্তেমা নাকি বিশ্ব এস্তেমা— কোনটি সঠিক উচ্চারণ?

অনেক লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশে ইজতেমা বা ইস্তেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। যা বিশ্ব ইজতেমা বা বিশ্ব ইস্তেমা এবং বিশ্ব এস্তেমা নামে পরিচিত। এ প্রোগ্রাম মহান আল্লাহর এক অশেষ দান আমাদের ছোট্ট এ দেশের জন্য। ইজতেমা শব্দটির বহুবিধ ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়,  কেউ লিখেন ইজতেমা, কারো মুখে উচ্চারিত হয় ইস্তেমা বা এস্তেমা হিসেবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—শব্দটা আসলে কি- বিশ্ব ইজতেমা নাকি বিশ্ব ইস্তেমা অথবা বিশ্ব এস্তেমা?

অনেকে হয়ত ভেবেছি কিন্তু সেভাবে চিন্তা করা হয়ে ওঠে নাই। কোনটাই দোষনীয় নয়। তারপরেও কৌতূহল তো রয়েই যায়, তাই না?

আজ আমরা সেই কৌতূহল দূর করব।

ইজতেমা বা ইস্তেমা দুটিই আরবী শব্দ। ইজতেমা শব্দের অর্থ হল- একত্রিত হওয়া এবং ইস্তেমা বা এস্তেমা শব্দের অর্থ হল- শোনা অর্থাৎ সম্মিলিতভাবে কোনো কিছু শোনাকে ইস্তেমা বলা হয়।

বলতে পারি— বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমার ব্যপারে, ইজতেমা অথবা ইস্তেমা বা এস্তেমা দুটি শব্দের ব্যবহারই শুদ্ধ। কারণ ইজতেমার মাঠে অনেক মানুষ একত্রিত হন, সে দৃষ্টিকোণ থেকে ইজতেমা। অন্যদিকে ইস্তেমার মাঠে অনেক মানুষ একত্র হয়ে ধর্মের কথা শুনে থাকেন, সে দৃষ্টিকোণ থেকে ইস্তেমা বা এস্তেমা ।

কত চমৎকার তাই না?

হুম, এভাবেই আমরা সব কিছু সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করব, তাহলে আমাদের মন সুন্দর থাকবে, দেশ সুন্দর হবে এবং সুন্দর হবে এ জগৎ।

সচেতন পাঠক আবার রেফারেন্স চাইতে পারেন। আল মুনজিদ ও আল মুজামুল ওয়াসিত এ দুটি আরবী অভিধান দেখলে আপনি পেয়ে যাবেন আমার এই ব্যাখ্যার প্রমাণ।

আধুনিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১৫ জন অমুসলিম মনীষীর দৃষ্টিতে পবিত্র কুরআন

পবিত্র কুরআন— আল্লাহ মহান প্রেরিত সর্বশেষ আসমানী কিতাব। মানবজাতির কল্যাণকর সংবিধান। পবিত্র কুরআন নিয়ে বগু গবেষণা হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। কুরআন শুধু মুসলিম জাতির পিথনিদের্শনার গ্রন্থ নয়। পবিত্র কুরআ গোটা মানবজাতির জন্য কল্যাণকর সংবিধান। পবিত্র কুরআন সম্পর্কে নানা সময়ে মুসলিম-অমুসলিম মনীষীগণ বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। পবিত্র কুরআন সম্পর্কে আধুনিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১৫ জন অমুসলিম মনীষীর মন্তব্য নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন— আধুনিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১৫ জন অমুসলিম মনীষীর দৃষ্টিতে পবিত্র কুরআন। লিখেছেন আমাতুল্লাহ ইউসরা

১. এ. জে. আরবেরী (A. J. Arberry) : এ. জে. আরবেরী তার ‘Holy Quran’ (London, ১৯৫৮) পুস্তকে লিখেছেন— আমি এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিঃসন্দেহ যে, কুরআন হল একটি অলৌকিক ঐশ্বরিক সৃষ্টি।

২. ডাব্লিউ মন্টোগোমারী ওয়াট (W. Montgomery Watt) : কুরআন আলৌকিক বাণী। ইহা মুহাম্মদ (সা)-এর কথা হতে পারে না। (Life of Muhanumad at Meeca, by Mr W. Montogomery Watt, P-52, 53, 57)

৩. প্রফেসর ডা. লাওয়েন ভ্যাজিলীয়ারী (Prof. Dr. Lawen Vagilieri) : ইটালীর প্রফেসর ডা. লাওয়েন ভ্যাজিলীয়ারী ইসলাম সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছেন। বইটি ১৯৫৮ ইং সনে পাকিস্তান হতে ইংরেজীতে অনুদিত হয়ে প্রকাশিত হয়। এই বইতে তিনি লিখেছেন— কুরআন মুহাম্মদ (সা)-এর মনগড়া কোন কথা নয়। এটি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি নাজিল করা প্রত্যাদেশ।

৪. উইলিয়াম এস. হাস (William S. Haas) : উইলিয়াম এস. হাস তাঁর ‘ইরান’ (New York, ১৯৪৬) পুস্তকের ১৫৮ ও ১৫৯ পৃষ্ঠায় লিখেছেন— কুরআন শুধুমাত্র পরলৌকিক নাজাতের পথই নয়, বরং এটি একটি আইন সংহিতা। কুরআন সকল সামাজিক, রাজনৈতিক, এমনকি আন্তর্জাতিক সমস্যা সমূহের সমাধানে পথ নির্দেশ প্রদান করে।

৫. টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রূণতত্ত্বের প্রফেসর ডা. কিথ মুর : ডা. মুরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কিত কুরআনের বাণীকে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?’ তাঁর জবাব ছিল— এটা একমাত্র ঐশ্বরিকভাবেই নাজিল হতে পারে। এ সব মানুষের জানার সাধ্যের বাইরে।   কিপ রিডিং…

রাসূল (সা.) কোন সাতটি স্থানকে বেশি ভালোবাসতেন?

রাসূল (সা.) সাতটি স্থানে বেশি বেশি যেতেন এবং এই স্থানগুলোকে খুব বেশি ভালোবাসতেন। আমাদেরও উচিত এই স্থানগুলোতে যাওয়া এবং এগুলোকে ভালোবাসা। যাতে করে আমরা নবীর (সা.) ভালোবাসা লাভ করতে পারি। নিন্ম রাসূল (সা.) যে স্থানগুলোকে ভালোবাসতেন সেগুলোর পরিচয় তুলে ধরা হলো-১. মক্কা আল-মোকাররমা : নবী মুহাম্মাদ (সা.) মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি নবুয়ত প্রাপ্তও হন মক্কাতে। বায়তুল্লাহ মুসলমানদের কিবলা। মসজিদে হারামে ইবাদত করলে অন্য যে কোনো স্থানে ইবাদত করার তুলনায় বেশি সাওয়াব পাওয়া যায়। (সহীহ ইবনে মুজাহ) অন্য আরো একটি হাদিসে এসেছে, মক্কা একটি পবিত্র স্থান। সেখানে সকল প্রকার রক্তপাত নিষিদ্ধ। (তিরমিজি)

রাসূল (সা.) মক্কাকে খুব বেশি ভালোবাসতেন। যেদিন তিনি হিজরত করে মদিনাতে চলে যাচ্ছিলেন সেদিন বারবার মক্কার দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলেন।২. আল-মদিনা আল-মুনাওয়ারা : আমাদের প্রিয় নবী (সা.) মদীনাকেও খুব বেশি ভালোবাসতেন। তিনি বেশিরভাগ সময় তার দোয়াতে বলতেন, হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে মক্কা ও তার অধিবাসীদের থেকেও বেশি ভালোবাসুন। (বুখারী)

৩. আল আকসা মসজিদ : মক্কা ও মদিনার পরে জেরুসালেম তথা মসজিদে আল আকসা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা  ও পবিত্র স্থান। জেরুসালেম শহরে অনেক নবীদের আগমন ঘটেছে। এই শহর থেকেই নবী (সা.) মিরাজের উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলেন। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লহপাক ইরশাদ করেছেন,  পবিত্র তিনি যিনি নিয়ে গেছেন এক রাতে নিজের বান্দাকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার পরিবেশকে তিনি বরকতময় করেছেন, যাতে তাকে নিজের কিছু নিদর্শন দেখান। আসলে তিনিই সবকিছুর শ্রোতা ও দ্রষ্টা। (সূরা- বনী ইসরাইল, আয়াত-১) কিপ রিডিং…

নবীজিকে (সা.) আমরা কেনো ভালোবাসবো?

আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন— তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ আমি তার কাছে তার পিতামাতা, সন্তান-সন্ততি ও সকল মানুষ থেকে প্রিয়তর না হবো। [বোখারি, হাদিস ১৫; মুসলিম, হাদিস ৪৪]

আবু হোরাইরা রা. বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন— সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ আমি তার কাছে তার পিতামাতা ও সন্তান থেকে বেশি প্রিয় না হবো। [বোখারি, হাদিস ১৪; নাসায়ি, হাদিস ৫০৩৫]

এই হাদিস দুটি এত স্পষ্ট যে, এর কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় না। হাফেজ ইবনে হাজার রহ. বলেন— কাজি আয়াজের বক্তব্যে রয়েছে, এটা হলো ঈমান বিশুদ্ধ হওয়ার শর্ত। [ফাতহুল বারী, খ- ১, পৃষ্ঠা ৫৯] সুতরাং ইসলামের বিধানমতে নবীজিকে ভালোবাসা ফরজ, নবীজির আনুগত্য করা ফরজ। কথা হলো, ভালোবাসা ফরজ— এ-বিষয়টি ইসলামের গতিপ্রকৃতি যার জানা নেই, তার কাছে অদ্ভুত মনে হবে। সন্দেহ নেই, ভালোবাসা হলো একটি মানবীয় আবেগ। আর আবেগ-অনুভূতি কখনো আদেশ-নিষেধের ছাউনিতে দাখিল হয় না। বলতে গেলে কারও ব্যক্তিক ইচ্ছার পরিধিতেও আসে না। এমনকি নবীজি আপন অন্তরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন— হে আল্লাহ, এটা আমার অংশ, যার মালিক তুমি। সুতরাং যার মালিক তুমি, আমি নই, তার ব্যাপারে আমাকে ভর্ৎসনা করবেন না। [দেখুন— লেখকের কৃত ‘যাওয়াইদুস সুনান আলাস সহিহাইন, হাদিস ৪৫০৪] আয়েশা রা. বলেন— এখানে ‘এটা আমার অংশ’ দ্বারা উদ্দেশ্য ‘কলব’।

ভালোবাসার অনুভূতি তো মানুষের ক্ষমতার আওতাধীন কোনো বিষয় নয় যে, তার ওপর সে কর্তৃত্ব খাটাবে; বরং তা মানুষের হৃদয়ে ধীরে ধীরে আসে ইচ্ছার ক্ষেত্রের বাইরে থেকে। একই সাথে শরীয়তও এটা চায় না যে, অন্তরে এটা আদেশের মাধ্যমে আসুক। কেননা, মানুষ অনেক সময়ই আদেশ পালন করে তাকে বাধ্য করা হয় বলে এবং এই দীনের নীতিমালায় বাধ্যবাধকতা বাতিল হিসেবে গণ্য— দীনের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই। [সূরা বাকারা, আয়াত ২৫৬]

কিন্তু ভালোবাসা হলো, এমন একটা সম্পর্ক, যা মুসলমান এবং নবীর মধ্যে এবং মুসলমান ও তার ধর্মের মধ্যে বন্ধন সৃষ্টি করে। তা এমন নিদর্শন, যা এই পদ্ধতিতে সৃষ্টফল ব্যতীত মানুষের সম্পর্ক তা বুঝতে পারে না। [লেখকের কৃত ‘আন আযওয়াই আলা দিরাসাতিস সীরাহ’, পৃষ্ঠা ১৬-১৮]

কিভাবে ভালোবাসা হবে

প্রশ্ন আসে— তা হলে এই ভালোবাসার ব্যাখ্যা কীভাবে করবো?

কাজি আয়ায রহ. বলেন— ভালোবাসার প্রকৃতি হলো, মানুষ তার অনুকূল বিষয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তার অনুকূল বিষয়টা তার জন্যে হয়—

এক. হয়তো প্রাপ্তির মাধ্যমে উপভোগ করার জন্যে। যেমন— সুন্দর চেহারা, চমৎকার কণ্ঠ, সুস্বাদু খাবার ও পানীয় এবং এ-ধরনের বিষয়াবলিকে ভালোবাসা; যার প্রতি সকল সুস্থ-স্বভাব ধাবিত হয়। কেননা, এগুলো তার অনুকূল বিষয়।

দুই. অথবা, তার বিবেকবোধ ও আন্তরিক অনুভূতি অভ্যন্তরীণ অবস্থা উপলব্ধি করে তৃপ্তি পাওয়ার জন্যে। যেমন— সজ্জন, ওলামা, বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের ভালোবাসা, যাদের সুন্দর জীবন-কাহিনি ও চমৎকার কৃতকর্মের বিবরণ কিংবদন্তী হয়ে আছে। কেননা, মানুষের স্বভাব এ-জাতীয় লোকদের সম্মোহনে আকৃষ্ট হয়।

তিন. অথবা, তার ভালোবাসাটা কেবলই হবে তাকে কারও অনুগ্রহ ও দান-দক্ষিণা থাকার কারণে। কেননা, অন্তরের স্বভাব হলো, সে তাকেই ভালোবাসবে, যে তার প্রতি অনুগ্রহ করবে।

উপর্যুক্ত সিদ্ধান্ত যখন স্থির হলো, তখন আপনি দেখুন, এই বিষয়গুলি নবী স.-এর ক্ষেত্রেও বিদ্যমান রয়েছে কি না। দেখবেন, ভালোবাসার যে যে তিনটি কারণ রয়েছে তার সবগুলো বৈশিষ্ট্যেরই অধিকারী নবীজি স.।

—দেখুন, বাহ্যিক আকৃতি ও সৌন্দর্যে তিনি অনন্য।

—সচ্চরিত্র ও আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ ।

—তা ছাড়া দেখুন, উম্মাহের প্রতি তার করুণা ও অনুগ্রহের অবদান, দেখুন তার রহম ও দয়া, উম্মাহকে হেদায়াতের পথ দেখানো, তাদের প্রতি তার সীমাহীন মমতা, জাহান্নাম থেকে তাদের পরিত্রাণের বিষয়টি। যার ফলে কোরআনে বিভিন্ন উদ্ধৃতি এসেছে যে, নিশ্চয় তিনি মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল ও দয়াবান, বিশ^বাসীর জন্যে রহমত, তিনি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এবং তিনি আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী তারই নির্দেশে, আর তিনি দীপ্যমান সূর্যালোক।

মুমিনদের প্রতি তার যে অনুগ্রহ, তারচে’ বড় ও মহান অনুগ্রহ কী আছে? যেহেতু, তিনিই হলেন উম্মাহের হেদায়াতের উসিলা, অজ্ঞতা থেকে মুক্তিদাতা, সাফল্যের আহ্বায়ক, প্রতিপালকের সমীপে পৌঁছার মাধ্যম, তাদের সুপারিশকারী ও মুখপাত্র, তাদের সাক্ষী এবং তাদের চিরায়ত আবাস ও চিরস্থায়ী নেয়ামতের ব্যবস্থাপক।

যখন কোনো বাদশাকে তার উত্তম চরিত্রের কারণে, কিংবা কোনো শাসককে তার প্রভাব সৃষ্টিকারী পরিচালনা পদ্ধতির কারণে, অথবা কোনো উপদেশদাতাকে তার জ্ঞান গভীরতা ও উত্তম স্বভাবের কারণে স্বাভাবিকভাবে ভালোবাসা হয়, তাহলে তো নবীজি ভালোবাসা পাবার সর্বোচ্চ অধিকারী এবং হৃদ্যতার সর্বাধিক যোগ্য। কেননা, এই সকল সদগুণ ও স্বভাব-প্রকৃতির চূড়ান্ত স্তর ও পরিপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তার মধ্যে বিরাজমান ছিলো, তাতে সন্দেহের লেশমাত্র কারও নেই। [কাজি আয়ায কৃত ‘আশ-শিফা’, খ- ২, পৃষ্ঠা ৫৭৯-৮১] কিপ রিডিং…

শব্দে শব্দে দীন শেখা : আজান


পরিভাষায় ‘আজান’ হলো- নির্ধারিত শব্দমালা দ্বারা নির্দিষ্ট সময়ে নামাজের জন্য আহ্বান জানানো। (আল মুজামুল ওয়াসীত, লিসানুল আরব) আজানের নাম এ জন্য আজান রাখা হয়েছে, যেহেতু মুয়াজ্জিন‎ সাহেব মানুষদেরকে সালাতের সময় জানিয়ে দেন বা ঘোষণা প্রদান করেন।


মাওলানা মিরাজ রহমান : ‘আজান’ আরবী শব্দ। এর অর্থ হলো- ঘোষণা করা, জানানো, শোনানো, নিদের্শ, আহ্বান করা ইত্যাদি। আজানের আভিধানিক অর্থ কোন জিনিস সম্পর্কে ঘোষণা দেওয়া, আল্লাহ তাআলা বলেন, আর আল্লাহ ও তার রাসূলের পক্ষ থেকে আজান। (সূরা তাওবা: আয়াত ৩) অর্থাৎ ঘোষণা। অন্যত্র তিনি আরো বলেন, আর আমি যথাযথভাবে তোমাদেরকে আজান দিয়ে দিয়েছি। (সূরা আম্বিয়া: আয়াত ১০৯) অর্থাৎ জানিয়ে দিয়েছি ফলে জ্ঞানের দিক দিয়ে আমরা সকলে সমান। [আন-নিহায়া  ফি গারিবিল হাদিস: (১/৩৪), মুগনি লি ইব্‌ন কুদামা: (২/৫৩)]

পরিভাষায় ‘আজান’ হলো- নির্ধারিত শব্দমালা দ্বারা নির্দিষ্ট সময়ে নামাজের জন্য আহ্বান জানানো। (আল মুজামুল ওয়াসীত, লিসানুল আরব) আজানের নাম এ জন্য আজান রাখা হয়েছে, যেহেতু মুয়াজ্জিন‎ সাহেব মানুষদেরকে সালাতের সময় জানিয়ে দেন বা ঘোষণা প্রদান করেন। আজানের আরেক নাম হচ্ছে ‘নিদা’ অর্থাৎ আহ্বান, কারণ মুয়াজ্জিন‎ সাহেব লোকদেরকে ডাকেন ও তাদেরকে সালাতের দিকে আহ্বান করেন।

কিপ রিডিং…

রাসূলুল্লাহ সা. ও মুক্তচিন্তা

বর্তমান বিজ্ঞানোত্তর বিশ্বে সমধিক আদৃত বিষয়সমূহের শীর্ষে সদর্পে অবস্থান করছে যে বিষয়টি, বলা যায় যে তাহলো মুক্তচিন্তা। শিল্পের উৎকর্ষ, সাহিত্যের সৌকর্য, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা, প্রজ্ঞার বিকাশ  ̶  এসবের মৌল গাঠনিক পদার্থ হলো মুক্তচিন্তা। মুক্তচিন্তার অভাব ব্যক্তিকে করে শৃংখলিত, বুদ্ধিকে করে অনুর্বর, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ফেলে রাখে অকর্ষিত বেলাভূমে। মহানবী সা. পার্থিব ও ধর্মীয় উভয় পর্যায়ে গোটা মানব ইতিহাসে সফলতার সর্বোচ্চ চূড়া স্পর্শকারী ব্যক্তি ছিলেন। মাইকেল এইচ হার্ট তার ‘দ্য হানড্রেড’ গ্রন্থের প্রথম ও শীর্ষ ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ সা. সম্পর্কে এভাবেই মূল্যায়ণ করেছেন এবং বলেছেন, ‘He was the only man in history who was supremely successful on both religious and secular levels.’ (The Hundred:3)

ইতিহাসের সার্থকতম ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তাআলা চয়ন করেছেন বৈশ্ব্যিক দূত হিসেবে, তিনি মুক্তচিন্তার জ্যোতি-লাবণ্য ছড়িয়ে যাবেন আমৃত্য, শৃঙ্খলিত বুদ্ধির স্বাধীনতায় পক্ষে সংগ্রাম করে যাবেন জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত, এটাই ছিল স্বাভাবিক। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে মহানবী সা. কীভাবে মুক্তচিন্তা চর্চা করেছেন, মুক্তচিন্তার পক্ষে সংগ্রাম করেছেন, মুক্তচিন্তাকে আশ্রয় দিয়েছেন, আদর করেছেন তা যৌক্তিক আলোচনায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

মুক্তচিন্তা (Free Thought) একটি আধুনিক পরিভাষা। এর মৌল সুর হলো, ‘জ্ঞান ও যুক্তির অনুপস্থিতিতে দাবিকৃত কোন মতকেই সত্য হিসেবে গ্রহণ বা বর্জনা না করা।’ এই সুরকে বিবেচনায় রেখে অগ্রসর হলে দেখা যাবে, মহানবী সা. হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি মুক্তচিন্তার প্রথম রাজপথ নির্মান করেছেন খোদ আল্লাহ তাআলার তত্তাবধানে। এর অন্যতম উদাহরণ, তাদানিন্তন পৃথিবীতে কর্তৃত্বরত সকল চিন্তা-জীবনধারা অশৈশব বর্জন করে অনুসন্ধান করেছেন তিনি নিটোল-অটুট সত্যের- (সূরা আদ্-দুহা)। আরব উপদ্বীপে হাজার বছরের লালিত-আদৃত পৌত্তলিকতার বিপক্ষে চলেছেন তিনি শিশুকাল থেকেই। তাইতো কখনো তাকে দেখা যায়নি কোনো প্রতিমার কাছে প্রার্থনা করতে, এমনকী প্রতিমার নামে জবাইকৃত কোনো পশুর মাংস খেতে, (বুখারী, কিতাবুয যাবাইহ ও ওয়াস্ সাইদ) । কিপ রিডিং…

দোআ কবুলের ৫টি সোনালী সময়!


তখন পেশাদার ব্যভিচারীনী এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজী করা লোক ব্যতিত কোনো মুসলিমের দোআ ব্যর্থ হয় না।


শায়খ আহমাদুল্লাহ | কে না চায় আল্লাহ মহানের কাছে তার দোআটি কবুল হোক? একজন মুমিন মুসলিমের জীবনের মহান প্রভুর দরবারে দোআ-প্রার্থনা এবং আকুতি-রোনাজারি অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কতভাবেই কত সময়ই তো আমরা মহান প্রভুকে ডাকি কিন্তু আমরা কি জানি যে ঠিক কখন কখন একজন মুমিনের কোনো দোআ, কোনো প্রার্থনাই ফিরানো হয়না? আসুন জেনে নেই অমূল্য সোনালী সেই সময়গুলো।

এক. জোহরের পূর্বমুহূর্তে : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চই আসমানের দুয়ারসমূহ খুলে দেওয়া হয় সূর্য মধ্যাকাশ থেকে পশ্চিমাকাশের দিকে হেলে পড়ার সময়। এরপর জোহরের সালাত পর্যন্ত তা আর বন্ধ হয় না। আমি চাই সেই সময়ে আমার কোন ভালো কাজ ওপরে উঠুক। (সহীহুল জামি, ১৫৩২) কিপ রিডিং…

শব্দে শব্দে দীন শেখা : আখিরাত


আখেরাতের কয়েকটি অধ্যায় বা স্তর রয়েছে। মৃত্যু পর সে অধ্যায়গুলো মানুষের জীবনে একটির পর আরেকটি আসে। অধ্যায়গুলো হলো- ১. মৃত্যু। ২. আলমে বরযখ বা কবরের জীবন। ৩. কিয়ামত। ৪. হাশর ও বিচার। ৫. জান্নাত বা জাহান্নাম।


মাওলানা মিরাজ রহমান : আখিরাত একটি আরবি শব্দ। একটি প্রসিদ্ধ ইসলামি পরিভাষা। শাব্দিকভাবে এর অর্থ মানুষের মৃত্যু পরবর্তী জীবন। আখিরাত বলতে মৃত্যুর পর থেকে অনন্তকালের জীবনকে বুঝায়। কবর, হাশর, হিসাব, পুলসিরাত ও জান্নাত-জাহান্নাম সবকিছুই এই একটি শব্দ বা পরিভাষার অন্তর্ভুক্ত।

কোরআন-হাদিসের আলোকে আখিরাত : মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত। পবিত্র কোরআনে এই মর্মে বলা হয়েছে, সেদিন অবশ্যই আসবে যখন মুত্তাকি লোকদের আমি মেহমানের মতো রহমানের দরবারে উপস্থিত করব। আর পাপী অপরাধী লোকদের পিপাসু জানোয়ারের মতো জাহান্নামের দিকে তেড়ে নিয়ে যাবো। সেই সময় লোকেরা কোনো সুপারিশ করতে সক্ষম হবে না তাদের ব্যতীত যারা রহমানের দরবার থেকে প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে। (সূরা মারিয়াম, আয়াত ৮৫-৮৭)

হাদিসে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর নবিকে এ কথা বলতে শুনেছি যে, কিয়ামাতের দিন মানব জাতিকে খালি পায়ে, উলঙ্গ ও খাতনাবিহীন অবস্থায় একত্র করা হবে। আমি আরজ করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এমতাবস্থায় তো নারী-পুরুষ পরস্পর পরস্পরের দিকে তাকাবে। হুজুর (সা.) বললেন, হে আয়েশা! সেদিনকার অবস্থা এত ভয়াবহ হবে যে, পরস্পর পরস্পরের দিকে তাকানোর কোনো কল্পনাই কেউ করবে না। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

কিপ রিডিং…

শব্দে শব্দে দীন শেখা : আকিকা


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো ইরশাদ করেন, যার সন্তান ভূমিষ্ট হয় সে যদি শিশুটির পক্ষ থেকে আকীকা করা পছন্দ করে তাহলে যেন তাই করে। (সুনানে নাসায়ী ২/১৬৭)


মাওলানা মিরাজ রহমান : ইসলামের পরিভাষায় সন্তান জন্মগ্রহণের পর আল্লাহর শুকরিয়া ও আনন্দের বহির্প্রকাশ হিসেবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যে পশু জবাই করা হয়, তাকে আকিকা বলা হয়। আকীকা শব্দটি আরবী। শব্দটি আককুন হতে নির্গত। আভিধানিক অর্থ দীর্ণ করা, ফাঁক করা, খণ্ডিত করা, আলাদা করা। কারো কারো মতে, এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে বিদ্যুতের ঝলক।

সন্তান জন্মগ্রহণের শুকরিয়াস্বরূপ যে পশু যবাই করা হয় তাকে আকীকা বলে। পরিভাষায় আকিকা বলা হয় নবজাতকের মাথায় গজানো প্রথম চুলগুলোকে। সপ্তম দিনে যেহেতু এগুলো মুণ্ডিয়ে মাথা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় এ জন্য এ চুলগুলোকে আকিকা নামে নামকরণ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে মাথা মুণ্ডানোর সময় যে বকরি জবাই করা হয় সেটাকেও আকিকা বলা হয়। (মাযাহেরে হক)

আকিকা ফরজ বা ওয়াজিব নয়; বরং সুন্নত। মোস্তাহাব হলো জন্মের সপ্তম তারিখে আকিকা দিবে। ১৪তম অথবা ২১তম তারিখেও আকিকা করলে সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। আবার সপ্তম তারিখের পূর্বে আকিকা করলে দুরস্ত হবে না। উত্তম হলো সন্তানের জন্মদিবসের আগের দিন আকিকা দেওয়া। যেমন শুক্রবার জন্মদিবস হলে আকিকা হবে যে কোনো বৃহস্পতিবার । (ফাতওয়ায়ে শামী) বার্ধক্য বয়সে আকিকা জায়েজ আছে বটে; কিন্তু তা সুন্নত হিসেবে গৃহীত হবে না। (কিফায়াতুল মুফতি)

কারো আকীকা করা না হলে বড় হয়ে নিজের আকীকা নিজেও করতে পারবে। হজরত আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়ত প্রাপ্তির পর নিজের আকীকা নিজে করেছেন। (প্রাগুক্ত ১/৫২৯; মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস : ৬২০৩; আলমুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকা, ড. হুসামুদ্দীন ইবনে মূসা, জামেয়াতুল  কূদস, পৃ. ১৪২) কিপ রিডিং…

শব্দে শব্দে দীন শেখা : আমির


আমির মানে যেহেতু একজন নেতা, আমির শব্দের অর্থ যেহেতু একজন পথপ্রদর্শক এবং আমির শব্দটির সাথে যেহেতু অঙ্গাঅঙ্গিভাবে অনুসরণ, আনুগত্য ও অনুকরণের কিছু বিষয় জড়িত রয়েছে সুতরাং কাকে আমির মানা যাবে এবং কাকে আমির মানা যাবে না এ ব্যাপারে ইসলামের কিছু দিক-নির্দেশনা রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রথম ও সর্বোচ্চ আমির মূলত আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। এ মর্মে ইসলামে তিনটি দিক নির্দেশনা রয়েছে-


মাওলানা মিরাজ রহমান : আমির শব্দটি আরবি। অর্থ সেনাপতি, শাসক, নেতা, গোত্রপ্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান এমনকি কোনো একটি বিশেষ দলের প্রধানের ক্ষেত্রেও আমির শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়। শব্দটি মূলত একটি ইসলামি পরিভাষা। হাদিস শরিফে বিভিন্ন জায়গায় শব্দটি রাষ্ট্রপ্রধান অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে (আল মুজামুল ওয়াসিত, বুখারি, কিতাবু ফাদাইলিস সাহাবা: বাব: ৮; মুসনাদ, ১ম খণ্ড ১০৯ পৃ.)। সাকিফার সম্মেলনের বিবরণে ‘আমির’ বিশেষণটি মুসলিম রাষ্ট্রের প্রধান অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে (আত তারাবী, ১ম খণ্ড)।

আমির হল মুসলিম বিশ্বে ব্যবহৃত একটি উচ্চ প্রশাসনিক পদবি। আমিরের শাসনাধীন অঞ্চলকে “আমিরাত” বলা হয়। আরবি শব্দ আমিরের আক্ষরিক “নেতা”। স্ত্রীবাচকে একে “আমিরা” বলা হয়। আমির দ্বারা সাধারণ অর্থে নেতা বোঝালেও এটি দ্বারা শাসক বা গভর্নরও বোঝানো হয়, বিশেষত ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে। ১৫৯৩ সালে ফরাসি এমির থেকে এটি ইংরেজি ভাষায় প্রবেশ করে। শুরুর দিকে আমির পদবিটি সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হত। পদবি ছাড়াও আমির শব্দটি মুসলিমদের মধ্যে ব্যক্তি নাম হিসেবে প্রচলিত। এছাড়াও বাংলাদেশে ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দলের প্রধান ব্যক্তিকেও আমির বলা হয়। তাবলীগ জামাত প্রধানকেও আমির বলা হয়। (উইকিপিডিয়া, শব্দ : আমির) কিপ রিডিং…

গো টু টপ