দ্য সুলতান

এডিটরিয়াল

রাজবিবেকের কাঠগড়ায় মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত

নবিওয়ালা দাওয়াত পৌঁছাতে ‘প্রযুক্তির আওয়াজ’ গ্রহণ করতে অসুবিধা কোথায়?

অথোর- টপিক- অপিনিয়ন

মাইক যেমন একটি প্রযুক্তি, ইন্টারনেটও তেমনি একটি প্রযুক্তি। মাইকের তুলনায় অনেক বেশি গতিময়, সহজ এবং ক্রিয়াশীল ইন্টারনেট। দূর থেকে দূরান্তে, দৃষ্টিসীমার ওপারে বাণী পৌছানোর ক্ষমতাও রাখে এই ইন্টারনেট। ইন্টারনেট-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ইজতেমার বাণী বিশ্বদরবারে পৌছে দেওয়া সম্ভব মুর্হূতেই। নবীওয়ালা দাওয়াত পৌঁছাতে ‘মাইকের আওয়াজ’ যেখানে গ্রহণ করা হচ্ছে, ‘প্রযুক্তির আওয়াজ’ গ্রহণ করতে সেখানে অসুবিধা কোথায়? লিখেছেন মিরাজ রহমান


ইন্টারনেট— গত শতাব্দীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠতম আবিস্কার। ইন্টারনেটের কল্যাণে গোটা পৃথিবী এখন একই সুতোয় গাঁথা। হাজার মাইল দূরের মানুষের সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনায়েসেই যোগাযোগ করা যায়। কথা বলা যায়, শেয়ার করা যায় অনুভূতি; এমনটি দেখাও যায়। বিশ্বব্যাপি তথ্য আদান-প্রদান; ব্যক্তিগত, সামাজিক, ব্যবসায়িক, ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় যে কোনো প্রকার যোগাযোগকে সহজ ও গতিময় করতে ইন্টারনেটের বিকল্প নেই। আর এই ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রাথমিক স্তর হলো ওয়েবসাইট। যাকে সহজ বাংলায় ইন্টারনেটভিত্তিক ঠিকানা বলা যায়। একেকটি ডোমেইনের আন্ডারে হাজার হাজার পেইজের ওয়েবসাইট নির্মাণ করা সম্ভব। আর ডোমেইন হলো ওয়েব ঠিকানা হিসেবে ব্যবহৃত একটি নাম। প্রত্যেকটি বাড়ির যেমন একটি হাউজিং-হোল্ডিং নম্বর থাকে, ডোমেইন হলো যে রকম একটি নাম-নম্বর। ২০১১ সালের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইন্টারনেটে মোট রেজিস্ট্রি করা ডোমেইনের সংখ্যা ৫৫ কোটি। (সূত্র : staticbrain.com) যার একেকটি ডোমেইনের আন্ডারে রয়েছে হাজার হাজার পৃষ্ঠার, লক্ষ-কোটি বিষয়ভিত্তিক অসংখ্য-অগণিত তথ্য সমৃদ্ধ ওয়েব সাইট এবং এসব ওয়েব সাইটের রয়েছে মিলিয়ন-বিলিয়ন দর্শক। ২০১২ সালের একটি পরিসংখ্যানে দেখানো হয়েছে শুধুমাত্র এশিয়াতে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০৭৭ মিলিয়ন বা প্রায় ১০৮ কোটি। একই সময় বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো প্রায় আশি লাখ। (সূত্র : internetworldstats.com)

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যার বৃদ্ধিগতি কেবল উর্ধ্বমমুখীই নয়, যে কোনো প্রকার গাণিতিক হিসেবকেও হার মানায় এই বৃদ্ধিগতি। বর্তমান বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের চেহারা হচ্ছে— প্রত্যেকজন মোবাইল ব্যবহারকারীই একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। মোট কথা গোটা বিশ্বব্যাপি মিলিয়ন-বিলিয়ন মানুষের কাছে কোনো তথ্য-বার্তা খুব অল্প সময়ে পৌছে দেওয়ার জন্য ইন্টারনেটের বিকল্প নেই। অন্যান্য বিষয় ও তথ্যের  মতো ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইসলাম প্রচারের বিষয়টি খুবই উর্বর ও যুগোপযুগী। হজরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে শেষ নবি হজরত মুহাম্মাদ (সা.) পর্যন্ত সব নবি-রাসুলদের দাওয়াতি জীবন পর্যালোচনা করলে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি উঠে আসে, সেটা হলো— প্রত্যেকজন নবি-রাসুলই ছিলেন তৎকালীন যুগোপযুগী বিদ্যা ও তথ্য-প্রযুক্তিতে পারদর্শী । প্রত্যেক নবি-রাসুলই দীনের দাওয়াতের কাজে ব্যবহার করেছেন তৎকালীন যুগশ্রেষ্ঠ মাধ্যম বা প্রযুক্তিকে। বর্তমান যুগ তথ্য-প্রযুক্তির স্বর্ণযুগ। ইন্টারনেট-মিডিয়ার যুগ। প্রযুক্তির উৎকর্ষময় এই যুগে ইসলামের প্রচার-প্রসারের কাজে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ইন্টারনেটের গতিময়তাকে কাজে লাগাতে হবে ইসলামের দাওয়াতি কাজে। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদ বলেছেন, ‘ইন্টারনেটের মোকাবিলা করতে হবে ইন্টারনেটের সাহায্যে। কম্পিউটারের মোকাবিলায় কম্পিউটার এবং কলমের মোকাবিলায় কলমের সাহায্যে গ্রহণ করতে হবে। উটের পিঠে চড়ে ‘ল্যান্ডক্রুজারে’র সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়া কখনোই সম্ভব না।’

কিপ রিডিং…

অক্ষুন্ন থাক এই সাফল্য

অথোর- টপিক- অপিনিয়ন

সাফল্যের ২০১৭ : আশার ২০১৮। লিখেছেন কবি ও সাংবাদিক মামুন মুস্তাফা



গত বছর পানামা পেপার্স এবং প্যারাডাইস পেপার্স অফশোর ব্যাংকিংয়ের নামে বিদেশে টাকা পাচারের যে তথ্য প্রকাশ করেছিল, সেখানে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীদের নাম উঠে আসে। এমন এক পরিস্থিতিতে পিপল্স অ্যান্ড পলিটিক্স এক ব্যতিক্রমী প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বিশ্বের ৫ জন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিহ্নিত করা হয়েছে যাদের কোনো দুর্নীতি স্পর্শ করেনি। এদের বিদেশে কোনো ব্যাংক হিসাব নেই, উল্লেখ করার মতো কোনো সম্পদও নেই। সেই তালিকায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী জায়গা করে নিয়েছেন তৃতীয় স্থানে। ১৭৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের কর্মকা- বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা সংস্থাটি মাত্র ১৭ জন সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান পেয়েছেন যারা ৫০ ভাগ দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই গৌরবময় অর্জন বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতিকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর স্থান করে দিয়েছে। তাঁর মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধও তাঁকে দিয়েছে উচ্চ আসন। অর্জন করেছেন ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ ও ‘লেডি অব ঢাকা’ খেতাব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই অর্জন বাংলাদেশকে নতুন মাত্রায় পরিচিতি দিয়েছে, তেমনই আরো কিছু বিষয় রয়েছে যেসব ক্ষেত্রে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতি হিসেবে আমরা অগ্রগণ্য বলে বর্হিবিশ্বে বিবেচিত হচ্ছি।

জাতির গৌরব ৭ মার্চের ভাষণ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি নাম, একটি ইতিহাস। তাঁর জীবন ছিল সংগ্রামমুখর। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন সংগ্রামী নেতা। বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ ৬ দফার প্রণেতাও ছিলেন তিনি। ’৭০-এর নির্বাচনে অংশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে এদেশের গণমানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীকে পরিণত করেন। ১৯৭১-এর ৭ মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উত্তাল সমুদ্রে বঙ্গবন্ধু বজ্রদৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বঙ্গবন্ধুর সেই বক্তব্যকে তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক-সম্বলিত জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ দেওয়া ভাষণকে গত বছর স্বীকৃতি দিল ইউনাইটেড নেশনস এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক এন্ড কালচারাল অরগানাইজেশন (ইউনেস্কো)। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে ইউনেস্কোর ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

৪৬ বছর আগে বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণায় উদ্দীপ্ত ও উজ্জীবিত জাতি স্বাধীনতার মূলমন্ত্র পাঠ করে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ছিনিয়ে আনে দেশের স্বাধীনতা। জাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ পুরুষ বঙ্গবন্ধুর অমর কীর্তি এই স্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গে তাই অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত তাঁর ৭ মার্চের ভাষণ। ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড কর্মসূচির অধীনে আন্তর্জাতিক তালিকায় মোট ৭৮টি দলিলকে অনুমোদন দেওয়া হয়, যার ৪৮তম স্থানে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ঐতিহাসিক এই ভাষণ। ইতিহাসের পাতায় বঙ্গবন্ধু আজ চিরঞ্জীব, তেমনি তাঁর ৭ মার্চের ভাষণও চির জাগরুক হয়ে রইলো।


নতুন ভাবে যাত্রা শুরু করা বর্তমান বছরে তথা ২০১৮-তে দাঁড়িয়ে ২০১৭-এর এসব সাফল্যের সুষ্ঠু বাস্তবায়নই মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। বিশ্বাস করি জাতি হিসেবে বাঙালি অপরাজেয়। অসীম সাহস, শক্তি, সহনশীলতা আর প্রজ্ঞা দিয়ে আমরা আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে সফল হবো। এই হোক নতুন বছরের দৃপ্ত অঙ্গীকার।


কিপ রিডিং…

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ডিজিটাল আর্কাইভ

অথোর- টপিক- মেমোরিয়াল

মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোনো অবান্তর ঘটনা পিন করা হলে কিংবা পিনকৃত ঘটনাটির সত্যতা না পাওয়া গেলে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাপ থেকে মুছে ফেলা হবে।


দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের লাখো ইতিহাস ও ঘটনাকে এক সুতোয় গাঁথতে মুক্তিযুদ্ধের ওপর সর্ববৃহৎ ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে প্রিয় লিমিটেড। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে রাখার এ উদ্যোগের নাম দেয়া হয়েছে প্রিয় মুক্তি পিন। ডিসেম্বরজুড়ে দেশের ৬৪ জেলায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে ও প্রিয়.কমের সরাসরি তত্ত্বাবধানে মুক্তিযুদ্ধের ছোটবড় ঘটনাগুলোকে শনাক্ত করে অজানা ও ক্ষয়িষ্ণু প্রায় ইতিহাসকে দীপ্তিময় করে তোলা হবে। এসব ঘটনা ও ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা হবে বাংলাদেশের ডিজিটাল মানচিত্রের ওপর। এ ডিজিটাল আর্কাইভ ইতিহাসকে পৌঁছে দেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে, যাতে প্রজন্মান্তরে আমাদের অমূল্য মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রামের ঘটনা হারিয়ে না যায়। এ ব্যাপারে প্রিয় লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাকারিয়া স্বপন বলেন, সর্বস্তরের বাংলাদেশি নাগরিককে এই উদ্যোগে সংযুক্ত করতে ডিসেম্বর থেকে প্রিয় মুক্তি পিন সফটওয়্যারটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে রাখা হবে। উন্মুক্ত করা হবে মোবাইল অ্যাপ।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে আগ্রহী যে কেউ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুক্তি পিন ম্যাপের মাধ্যমে প্রকাশ করে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই ডিজিটাল আর্কাইভের অংশ হতে পারবেন। প্রিয়.কমের নিজস্ব বিচারক প্যানেল পিনদাতাদের দেয়া প্রতিটি পিনের সত্যতা নিশ্চিত করবে। সাধারণ মানুষের দেওয়া পিনগুলোর সত্যতা ও যথার্থচা যাচাই করার জন্য প্রফেসর ড.আনিসুজ্জামান, প্রফেসর ড.কায়কোবাদ, প্রফেসর ড.মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ড.গওহর রিজভীর মতো আরও বিশেষ কিছু ব্যাক্তিত্বদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছে প্রিয় লিমিটেড। যারা সঠিক পিন দেবেন তাদের পিনগুলোকে ম্যাপেই ভ্যারিফাই করে দেয়া হবে। কিপ রিডিং…

মহান বিজয় দিবস

অথোর- টপিক- মেমোরিয়াল/লিড স্টোরি

কখন এবং কীভাবে এলো বিজয় দিবস : বিজয় দিবস বাংলাদেশে বিশেষ একটি দিন হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত এবং দেশের সর্বত্র পালন করা হয়। প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে এ দিনটি বিশেষভাবে পালিত হয়। ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই দিনটিকে বাংলাদেশে জাতীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃতি ও অনুমোদন করা হয় এবং সরকারীভাবে এ দিনটিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়।[১]

দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর প্রায় ৯১,৬৩৪ সদস্য বাংলাদেশ ও ভারতের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে।[২]

এর ফলে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। এ উপলক্ষে প্রতি বছর বাংলাদেশে দিবসটি যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য এবং বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়। ১৬ ডিসেম্বর ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা ঘটে। এ ছাড়া জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত সামরিক কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্যরা যোগ দেন।

কুচকাওয়াজের অংশ হিসেবে সালাম গ্রহণ করেন দেশটির প্রধান মাননীয় রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রী। এই কুচকাওয়াজ দেখার জন্য প্রচুরসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে ঢাকার অদূরে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে থাকেন।

হানাদার পাকবাহিনীর আত্মসমপর্ণ : ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানী দখলদার বাহিনী ১৬ ডিসেম্বর যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। সেদিন ঢাকার কেন্দ্রস্থলে রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের পক্ষে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন জেনারেল জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি। তিনি যৌথবাহিনীর প্রধান জেনারেল জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর উপ-সর্বাধিনায়ক ও ডেপুটি চীফ অব স্টাফ গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবদুল করিম খোন্দকার উপস্থিত ছিলেন। তবে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী উপস্থিত ছিলেন না। আত্মসমর্পণ দলিলের ভাষ্য ছিল নিম্নরূপ :

পূর্ব রণাঙ্গনে ভারতীয় ও বাংলাদেশ বাহিনীর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ, লেফটেন্যান্ট-জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে পাকিস্তান পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড বাংলাদেশে অবস্থানরত পাকিস্তানের সকল সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে আত্মসমর্পণে সম্মত হলো। পাকিস্তানের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ সব আধা-সামরিক ও বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে এই আত্মসমর্পণ প্রযোজ্য হবে। এই বাহিনীগুলো যে যেখানে আছে, সেখান থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কর্তৃত্বাধীন নিয়মিত সবচেয়ে নিকটস্থ সেনাদের কাছে অস্ত্রসমর্পণ ও আত্মসমর্পণ করবে। [৩]

এই দলিল স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড লেফটেন্যান্ট-জেনারেল অরোরার নির্দেশের অধীন হবে। নির্দেশ না মানলে তা আত্মসমর্পণের শর্তের লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে এবং তার প্রেক্ষিতে যুদ্ধের স্বীকৃত আইন ও রীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আত্মসমর্পণের শর্তাবলীর অর্থ অথবা ব্যাখ্যা নিয়ে কোনো সংশয় দেখা দিলে, লেফটেন্যান্ট-জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।

লেফটেন্যান্ট-জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আত্মসমর্পণকারী সেনাদের জেনেভা কনভেনশনের বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান দেওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করছেন এবং আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সামরিক ও আধা-সামরিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও সুবিধার অঙ্গীকার করছেন। লেফটেন্যান্ট-জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার অধীন বাহিনীগুলোর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিক, সংখ্যালঘু জাতিসত্তা ও জন্মসূত্রে পশ্চিম পাকিস্তানি ব্যক্তিদের সুরক্ষাও দেওয়া হবে। কিপ রিডিং…

জেরুসালেম তাহলে কার?

অথোর- টপিক- অপিনিয়ন/লিড স্টোরি/হাইলাইটস

কোনো ধর্মমত বিবেচনায় না এনে যদি প্রশ্ন করা হয়— এই মসজিদটি কার? আপনার বাড়ির পাশে কিংবা আপনার ঘরের কাছেই যে মসজিদটি আছে, যেখানে আপনার বাবা কিংবা দাদার দানকৃত ভূমি রয়েছে, সেটা কি আপনার উত্তরাধিকার? কিংবা ওই মন্দিরটি? সেটাও কি একইভাবে আপনার বন্ধু তন্ময় কিংবা সঞ্জয় তাদের মিরাস সম্পত্তি বলে দাবি করতে পারে? আপনার শহরে অবস্থিত গির্জাটি নিয়েও কিন্তু আমরা একই প্রশ্ন করতে পারি। হতে পারে এমন প্রশ্নের মুখে আপনাকে কখনও পড়তে হয় নি, কেননা, এভাবে কেউ প্রশ্ন করে না। চমকানো সুন্দর মসজিদ (একইভাবে মন্দির বা গির্জা) হলে হয়তো সর্বোচ্চ জিজ্ঞেস করা হতে পারে— এটা কে করেছে? আপনার জানা থাকলে অবলীলায় বলে দিলেন— শরফুদ্দিন সান্টু ইত্যাদি। তারপরও যদি কেউ আপনাকে এমন বেমক্কা প্রশ্ন করেই বসে, আপনি তাকে হয়তো নাস্তিক ভাববেন, কিংবা ঈমানের জোর বেশি থাকলে বলবেন— কার আবার? আল্লাহর। ভিন্ন ধর্মের হলে বলবেন— মুসলমানদের।

যদিও মসজিদ কারও ব্যক্তিগত সম্পদ হয় না। মসজিদ আল্লাহর ঘর, বাইতুল্লাহর অংশ। যেখানে মসজিদ একবার নির্মিত হয়ে যায়, কেয়ামত দিবস অবধি সেটা আল্লাহর মালিকানায় চলে যায়। তাই যদি কোনো মসজিদে সাধারণের প্রবেশাধিকার না থাকে, তাহলে সেখানটায় জুমাবারের সালাত আদায় হবে না— এ-ই ইসলামের বিশ্বাস। কেননা, মালিক যেহেতু আল্লাহ, সুতরাং আল্লাহর বান্দা হিসেবে সেখানের কর্তৃত্ব সবার সমান, একক কারও হতে পারে না।

সন্দেহ নেই, উপসনালয়ের ব্যাপারে একই ধরনের বিশ্বাস ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকেই লালন করে পৃথিবীর তাবৎ ধর্মপ্রাণ মানুষ। তাদের নিজেদেরই হাতে গড়া এবাদতগাহ নির্মাণের পর আর তাদের নিজেদের থাকে না, সেখানে শুধু তাদের এবাদতেরই অধিকার থাকে, অন্য কিছু নয়। এবাদতের স্থানটুকু ঈশ্বরের নামে প্রদত্ত পবিত্র ভূমি।



ভিয়া ডলোরোসা, যে-পথে নবী ঈসাকে (আ.) নিজের ক্রস বয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিলো। ছবি  : সংগৃহীত


একই কথা প্রজোয্য জেরুসালেমের ব্যাপারেও। অন্তত তা-ই হওয়া উচিত। সম্ভবত সব মানুষ সেটা জানেও এবং মানেও। কিন্তু জেরুসালেমের ক্ষেত্রে পার্থক্য হলো, অন্য যে-কোনো স্থানের বেলায় যে-ধর্ম যেখানটাকে ‘পবিত্র ভূমি’ বলে স্বীকৃতি দেয়, সেখানটা শুধু সেই ধর্মের লোকদেরই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় থাকে, অন্য ধর্মের লোকেরা অল্প-বিস্তর মতানৈক্য না-থাকলেও শান্তি বজায় রাখার নিমিত্ত সেটা মেনেও নেয়। ছোট ‘পবিত্র ভূমি’ যেমন মসজিদ, মন্দির প্যাগোডা, গির্জা, টেম্পল ইত্যাদির ক্ষেত্রে হাতে গোণা সামান্য কয়েকটি উদাহরণ বাদ দিলে সারা পৃথিবীতেই আপন আপন ধর্মের লোকেরা আধিপত্য বজায় রাখতে পেরেছে। একান্ত তীর্থভূমি নিয়েও খুব একটা বিরোধ বাঁধে না। হিন্দুদের কাশি, বৌদ্ধদের শোয়েডগ প্যাগোডা এবং মুসলমানদের মক্কা-মদিনা নিয়ে কোনো উৎপাত নেই। কিন্তু জেরুসালেমের বিপত্তি এখানেই যে, এই একই ‘পবিত্র ভূমি’ যখন বিশ্বের ধর্মের এবং তিনটিই আসমানি ধর্ম— ইহুদি, খ্রিষ্ট ও ইসলাম। এ-কারণেই জেরুসালেম অনন্য। এখানেই সাধারণ যে-কোনো তীর্থভূমি বা পবিত্র ভূমির সঙ্গে জেরুসালেমের তফাত।

অবশ্য এটা ঠিক যে, আমরা কখনও কখনও কয়েকটি ধর্মের উপাসনালায় পাশাপাশি অবস্থান করতেও দেখি। মসজিদের পাশেই গির্জা। গির্জার ঘন্টার ধ্বনি ও মসজিদের আজান ধ্বনি সেখানে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। মসজিদ কিংবা গির্জাবাসীরা একে অপরের উপাসনালয় দখল করতে যায় না। কিন্তু জেরুসালেমে কী এমন রয়েছে যে, এখানে নিজ নিজ ধর্মের অনুসারীরা কেবল নিজেদের উপাসনালয়ে এবাদত করেই সন্তুষ্ট নয়, বরং এই ভূমিটাই তাদের দখলে রাখতে হবে? অথচ তিন ধর্মই প্রভু হিসেবে আল্লাহকে মান্য করে এবং এটাও বিশ্বাস করে যে, পবিত্র ভূমির মালিকানা কোনো মানুষের নয়—আল্লাহর। তাহলে দ্বন্দ্বটা কিসের? ঈশ্বরের মালিকানা নিয়ে?

এমনও নয় যে, এই দ্বন্দ্ব দুয়েকবার ঘটেই শেষ হয়েছে। বরং জেরুসালেমের দীর্ঘ ইতিহাসে, শহরটি কমপক্ষে দুইবার ধ্বংস হয়েছে, ২৩ বার অবরোধ হয়েছে, ৫২ বার আক্রমণ হয়েছে এবং ৪৪ বার দখল এবং পুনর্দখল হয়েছে।[1]ধর্মের লড়াইয়ের সাথে সাথে এখানে অধর্মের কাজও যে কম হয়েছে, তা নয়। আজও শহরে কোনো প্রত্নতত্ত্ব সন্ধান করতে গেলেই দেখা যায়, কোনো মসজিদের নীচে ইহুদি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ অথবা কোনো গির্জার নীচে দেখা গেলো মসজিদের চিহ্ন। যদি অধর্মই না হবে, তাহলে রোমান খ্রিষ্টানদের হাতে এই শহর ধ্বংস হবে কেনো? খ্রিষ্টানদের পবিত্র ভূমি কী করে খ্রিষ্টানদের হাতেই রক্তাক্ত পারে?

বহু জটিলতা আর বহু প্রশ্ন জড়িয়ে আছে জেরুসালেম কার এই প্রশ্নে সাথে। আমরা ইতিহাস ও বর্তমান জেরুসালেমের পবিত্র নিদর্শনগুলো খুঁজতে খুঁজতে সে-সব প্রশ্ন খতিয়ে দেখার প্রয়াস পাবো।

এক. আজ যেখানে জেরুসালেম নামে বিখ্যাত নগরী উপস্থিত, ইতিহাসের প্রারম্ভে, প্রায় ৫০০০ বছর আগে, সেখানে ছিলো একটি ছোট্ট গ্রাম। উঁচুনিচু মরুভূমির অভ্যন্তরে একটি সবুজ উপত্যকার মধ্যে খেজুর ও জলপাই গাছে ঢাকা গ্রামটিতে ঠিক কী ছিলো যা মোজেস, আব্রাহাম, যিশুখ্রিষ্ট (নবী মুসা, ইব্রাহিম ও ঈসা আ.) থেকে মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সবাইকে আকর্ষণ করে এসেছে? এখানকার মাটিতে কী আছে যা তিন-তিনটে বিরাট ধর্মের জন্ম দিয়েছে?

শহরের গা ঘেঁষে উঁচু টিলা—মাউন্ট অব অলিভ, জলপাই পাহাড়। মুসলিমরা বলে যাইতুন, কোরআনে এই ফলের কসম খেয়েছেন আল্লাহ। জেরুসালেমসহ এ-অঞ্চলের মানুষের অত্যন্ত্র প্রিয় ও প্রধান খাদ্যেরও একটি অলিভ। এই মাউন্ট অব থেকে সারা জেরুসালেম দেখা যায়। দেখা যায় পাথরে গাঁথা ৫০০০ বছরের পুরোনো শহর (Old City) ও তার মধ্যমণি সোনার পাতে মোড়া ডোম অব রক (Dome of the Rock)। ২০০০ বছর আগে নবী ঈসা (আ.) যখন জেরুসালেম দেখেছেন সেই, কেমন ছিলো শহরটা তখন? হয়তো পুরোনো শহরের আশেপাশে তখন ছিলো শুধু কাঁটাঝোপ। আজকের মতো রাস্তাঘাট, অট্টালিকার চিহ্নও ছিলো না। তখনও কি তিনি জানতেন নিয়তি তাকে কোথায় নিয়ে যাবে? ওই জেরুসালেমের মধ্যে দিয়েই ভারি ক্রশ পিঠে চাপিয়ে তাকে বধ্যভূমিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো।



৬-নং স্টপ-এ ভেরোনিকা তৃষ্ণার্ত নবী ঈসাকে আ. জল দিতে চেয়েছিলেন। ছবি : সংগৃহীত


কিপ রিডিং…

জেরুজালেম কেনো এতোটা গুরুত্বপূর্ণ?

অথোর- টপিক- অপিনিয়ন

কুরআন-হাদীসের বর্ণনা ও বাইবেলের বর্ণনাসহ সব দিক দিয়ে দেখলে তিনটি ধর্মের কাছেই জেরুজালেম শহরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর।  মূলত তিন ধর্মের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণেই এই শহরটির এতো গুরুত্বপূর্ণ।


পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো জনবসতিগুলোর অন্যতম একটি হচ্ছে জেরুজালেম। দুনিয়ার এমন কোন সচেতন ও জ্ঞানী মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে যিনি জেরুজালেমের নাম শোনেননি। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত এই শহরটি আয়োতনে খুব বেশি বড় না হলেও বিশ্বরাজনীতির পরিমন্ডলে এর অবস্থান ও ভূমিকা অন্য যে কোন শহরের তুলনায় বেশি। জেরুজালেম পৃথিবীর একমাত্র শহর বা স্থান যেটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ তিনটি ধর্মের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ইয়াহুদী, খ্রিস্টান ও ইসলাম; এই তিন ধর্মের অনুসারীরাই এই শহরটিকে তাদের পবিত্রশহর হিসাবে বিশ্বাস করে এবং সেজন্য শহরটির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের দাবী করে। অন্যান্য কিছু কারণ থাকলেও মূলত এই তিন ধর্মের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণেই এই শহরটির এতো গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত বলা যাক ইহুদী ধর্মের কথা। ইহুদীদের সবথেকে পবিত্র জায়গা বা ইবাদাতস্থল হচ্ছে ওয়েস্টার্ন ওয়াল বা উইলিং ওয়াল। এই দেয়ালটি বাইবেলে বর্ণিত দ্বিতীয় উপাসনালয়ের বাইরের একটি ছোট অংশ। আর এই দ্বিতীয় উপাসনালয়টি মূলত নির্মিত হয়েছে সুলাইমান-এর উপাসনালয়ের স্থানে। দ্বিতীয় উপাসনালয়টিকে বলা হয় সেকেন্ড ট্যাম্পল।  আর আসলটাকে বলা হয় ফার্স্ট ট্যাম্পল। এই উপাসনালয়টি ইহুদিদের প্রাচীন উপাসনালয়গুলোর একটি। পুরো উপাসনালয় এখন না থাকলেও উপাসনালয়ের যে ধ্বংসাবশেষ রয়েছে তারই একটি অংশ হচ্ছে এই দেয়াল। এখানে এসেই ইহুদীরা প্রার্থনা করে। আবার তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী এই শহরেই অবস্থিত হায়কল-ই-সোলাইমান বা সোলাইমানের উপাসনাগৃহ। যা ইসলামের নবী সুলাইমান, যিনি তাদের ভাষায় সোলেমন, তার প্রতিষ্ঠিত। এবং এখানে বসেই রাজত্ব পরিচালনা করেছেন সুলাইমানের বাবা দাঊদ (ডেভিড)।

খ্রিস্টানদের কাছেও এই শহরটি অনেক পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাদের অন্যতম প্রধান চার্চ “চার্চ অব দ্যা হলি সেপালক্রে” এই শহরেই অবস্থিত। এটির অবস্থান পুরোনো দেয়ালের বাইরে। খ্রিস্টানদের বিশ্বাস মতে এই চার্চের জায়গাতেই নাকি ঈসা আ.-এর মৃত্যুর পর মরদেহ আনা হয়েছিলো। এখানেই তার মরদেহ পরিস্কার করে কবরস্থ করা হয়। আবার এখান থেকেই তার পুনর্জন্ম হয়। (ইসলামী বিশ্বাস মোতাবেক ঈসা আ.কে আল্লাহ তা‘আলা জীবিত অবস্থায় উঠিয়ে নিয়ে গেছেন, যে কথা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। তাই খ্রিস্টান বিশ্বাস অনুযায়ী ঈসা আ. মারা গেছেন এবং তাকে কবর দেয়া হয়েছে এবং এখান থেকে আবার পুনর্জন্ম পাওয়ার ঘটনা নিছক তাদের বানানো মিথ্যা কাহিনী। এটি ইসলামী বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিরোধী।) এই গির্জাকে ঘিরেই খ্রিস্টানদের জেরুজালেমপ্রেম বহমান। তাছাড়া এই শহরের কাছেই রয়েছে বেথেলহেম, যেখানে ঈসা আ. (তাদের ভাষায় জেসাস বা যিশু)-এর জন্ম হয়েছিলো এবং তার মা মেরি (মারিয়াম আ.)-এর কবর।

ইসলাম ধর্ম। ইসলাম ধর্মে কাছে জেরুজালেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতের জায়গা। ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয়- উভয় দিক থেকেই জেরুজালেম শহরটি মুসলিমদের নিকটও গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিমদের নিকট জেরুজালেম এতটা গুরুত্ব পাওয়ার কয়েকটি কারণ হলো- এই জেরুজালেমে অবস্থিত রয়েছে মাসজিদুল আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাস, যে মসজিদ কাবা নির্মাণের মাত্র ৪০ বছর পরেই তৈরি করা হয়েছিলো। এবং পরে সুলাইমান (আ.) জীনদের মাধ্যমে পুননির্মাণ করেছিলেন। এই মসজিদের কথা কুরআনেও উল্লেখ রয়েছে। (সূরা বানী ইসরাঈল, ১৭: ০১) এই মসজিদই ছিলো মুসলিমদের প্রথম কিবলা। এই মসজিদের দিকে ফিরেই মুসলিমরা ১৬/১৭ মাস সলাত কায়েম করেছেন। এই মসজিদ থেকেই শেষনবী মুহাম্মাদ (সা.) মিরাজে রওয়ানা দিয়েছিলেন। বিশেষ ছাওয়াবের আশায় এই মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েয। মক্কার মাসজিদে হারাম, মদীনার মাসজিদে নবভী ও জেরুজালেমে অবস্থিত মাসজিদুল আকসা- এই তিনটি মাসজিদ ছাড়া অন্য কোন মাসজিদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বাড়তি ছাওয়াবের আশায় সফর করা নিষেধ। এই মাসজিদে সলাত আদায় করলে তা মক্কা-মদীনার দুই মাসজিদ ছাড়া অন্য যে কোন মাসজিদের তুলনায় ৫০০ গুণ ছাওয়াব বেশি হয়। কিপ রিডিং…

পোপ ফ্রান্সিস কেন এতোটা প্রভাবশালী?

অথোর- টপিক- অপিনিয়ন/হাইলাইটস


আসিফ সোহান। সারা বিশ্বের নজর এখন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিসের দিকে। তার মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফর নিয়ে এখন সরগরম আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। বরাবরই দেখা যায়, পোপকে নিয়ে যতোটা মাতামাতি হয়, অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতা কিংবা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা অথবা বিনোদন জগতের কোনো তারকাকে নিয়েও তা হয় না। কেন পোপ এতো গুরুত্বপূর্ণ? কেন এতোটা প্রভাশালী তিনি? মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে। ওই বিশ্লেষণ অনুযায়ী আন্তঃদেশীয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এবং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রভাবের কারণে তিনি এতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।

রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ। তিনি এমন একটি পদের অধিকারী, যা বিশ্বে অন্য কোনো ধর্মে নেই। বর্তমান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কোনো ধর্মেই এমন অনুক্রমিক কাঠামো নেই, যার ফলে কোনো একজনকে নেতা মানা হয় না। কিন্তু ক্যাথলিক ধর্মে এই কাঠামো রয়েছে। পোপ এমন এক সংগঠনের নেতা, যা প্রায় দুই হাজার বছর পুরনো। সারা বিশ্বের গির্জাগুলোর কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে একটা ক্রমতন্ত্র (চেইন অব কমান্ড) মেনে চলা হয়। আর এই কর্তৃত্বতন্ত্রের নেতৃত্বের ভূমিকা ভ্যাটিকানের। সেই ভ্যাটিকানের শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে পোপ সারা বিশ্বে ক্যাথলিক আদর্শ বিস্তারে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মগুলোতে একাধিক গোষ্ঠী ও নেতা রয়েছেন। কিন্তু ক্যাথলিক ছাড়াও আরো কিছু ধর্মে অনুক্রমিক কাঠামো রয়েছে (অ্যাংলিকান কমিউনিয়ন) কিন্তু এই ধর্মালম্বীদের সংখ্যা ১২০ কোটি ক্যাথলিকদের সঙ্গে কোনো তুলনা হয় না। একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র ভ্যাটিকানের মাধ্যমেই বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিক চার্চের প্রভাব দৃশ্যমান হয়। ভ্যাটিকান বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। ভ্যাটিকানের প্রধান হিসেবে পোপ যখন কোনো দেশ সফর করেন তিনি শুধু ধর্মীয় নেতা থাকেন না, তিনি একটি দেশেরও প্রধান। এর ফলে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানদের চেয়ে পোপের সফর অনন্য হয়ে ওঠে।

ব্রিটেনের রানিও একই সঙ্গে অ্যাংলিকান চার্চ ও কমনওয়েলথের প্রধান। কিন্তু তার প্রভাব পোপের মতো নয়। কারণ পোপের মতো কর্তৃত্ব তার নেই। ফলে ব্রিটেনের রানির তুলনায় পোপের প্রভাব অনেক বেশি।

শুধু আন্তঃদেশীয় নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অংশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নাগরিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে ক্যাথলিক চার্চ। স্থানীয় গির্জাগুলোর নেতৃত্বে থাকেন স্থানীয় বিশপ, আর্চবিশপ ও কার্ডিনালরা। এদের সবাইকে নিয়োগ দেন পোপ নিজে এবং তারা তার কাছেই জবাবদিহি করেন। ফলে এসব স্থানীয় গির্জাগুলো পোপের নির্দেশনা দ্বারা পরিচালিত হয়।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষমতা বাদ দিলেও পোপের রয়েছে মানুষকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা। বিশ্বের মানুষের বড় একটি অংশই ক্যাথলিক গির্জায় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন। এসব গির্জা থেকেই মানুষকে একটি নৈতিক ও অর্থপূর্ণ জীবনযাপনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

কিপ রিডিং…

শিল্পায়ন ছাড়া কোনো দেশ উন্নতি লাভ করতে পারে না : খাজা টিপু সুলতান

অথোর- টপিক- ইন্টারভিউ/লিড স্টোরি

খাজা টিপু সুলতান- বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও আভিজাত্যময় উন্নয়নে তার অবদান ও ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও আভিজাত্যকর বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পাঁচ তারকা হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ সেন্টারের সম্মানিত চেয়ারম্যান তিনি। বাংলাদেশে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য সমগ্র বাংলার পর্যটনপ্রেমীসহ সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি কৃতজ্ঞ। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক অলাভজনকভাবে সমাজ সেবাধর্মী কর্মকা- পরিচালনার প্রত্যয় নিয়ে ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় খাজা মোজাম্মেল হক (রহ.) ফাউন্ডেশন। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে জনকল্যাণকর বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুধীমহলে বেশ সুনাম অর্জন করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। আধ্যাত্মিক সাধনাকে পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করে সমাজসেবা ও মানবকল্যাণধর্মী বিভিন্ন কার্যক্রম আঞ্জাম দিয়ে আসছে এমন প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশে বোধ করি এটাই প্রথম। ফ্রি চিকিৎসাসেবা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা এবং গরীব-অসহায় মানুষের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করে তুলতে নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালিত হয় এই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে। খাজা হজরত ইউনুছ আলী এনায়েতপুরী (রহ.)-এর নেসবতভুক্ত অসহায় কর্মক্ষম মানুষদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এককালীন মূলধন প্রদানের মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করার মাধ্যমে সদকায়ে জারিয়ার মতো মৃত প্রায় একটি ইবাদতকে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উজ্জীবিত করেছেন একজন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। একজন সুফিসাধক। আন্তরিকভাবে নিজ হাতে যিনি পরিচালিত করছেন প্রতিষ্ঠানটি- তিনি আর কেউ নন; তিনি হলেন খাজা মোজাম্মেল হক (রহ.)-এর সুযোগ্য সন্তান, খাজা মোজাম্মেল হক (রহ.) ফাউন্ডেশনের সম্মানিত চেয়ারম্যান খাজা টিপু সুলতান। আধ্যাত্মবাদ চর্চার পাশাপাশি খাজা টিপু সুলতান বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য বিজনেস আইকন। যার ব্যবসায়িক সাফল্যের কথা কেবল এই বঙ্গজমিনে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশেও সমাদৃত। আধ্যাত্মবাদ চর্চা যার নেশা এবং পর্যটন ব্যবসা তার পেশা। ব্যক্তিগতভাবে খুব স্বচ্ছ-পরিপাটি-সুন্দরতম এক জীবনের মালিক খাজা টিপু সুলতান। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে অসংখ্য-অগণিত আধ্যাত্মিক ভক্ত রয়েছে তার। বাংলাদেশের অন্যতম এই বিজনেস আইকনের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মিরাজ রহমান

গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ সেন্টারকে আপনি কী উদ্দেশ্য নিয়ে নির্মাণ করেছেন?
শিল্পায়ন ছাড়া কোনো দেশ উন্নতি লাভ করতে পারে না। আর এই শিল্পায়ন যদি দেশের আর্থিক উপকারে আসে, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যায় সেই সাথে যদি আবার সেটা মানুষের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে তো কোনো কথাই নেই। আমার আসলে অনেক আগে থেকেই এমন একটি শিল্প তৈরি করার ইচ্ছা ছিল যা মানুষের কল্যাণে আসে এবং সেই সাথে সেটা হবে একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান- সেই অনুপ্রেরণা থেকেই মূলত আমি গ্র্যান্ড সুলতান করি। আর আজ দেশ ও দেশের মানুষ এর উপকার পাচ্ছে। এটার কারণে অর্থনৈতিক অনেক সমৃদ্ধি লাভ করেছে। গ্র্যান্ড সুলতানের আশপাশের লোকদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে। তাদের জীবন পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমি একটি কথা বলব সেটা হচ্ছে, পর্যটন শিল্পে আসলে তাদেরই আসা উচিত যাদের শুধু আর্থিক মুনাফা অর্জন করা উদ্দেশ্য থাকে না। পর্দার আড়ালে আরও অনেক মুনাফা আছে সেগুলোও কম নয়। আমরা আসলে জাতিগতভাবে অতিথিপরায়ণ। একজন লোক তার পরিবার নিয়ে আমার গ্র্যান্ড সুলতানে আসবে তাদের সেবা দেওয়া হবে। তারা আনন্দে থাকবে, এটা দেখার মাঝেও অনেক আনন্দ রয়েছে। এই বিষয়টাকেও আমি মুনাফা হিসেবেই দেখব।

আপনি তো দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন বিজনেসের সাথে জড়িত, আমরা আপনার দীর্ঘদিনের এই অভিজ্ঞতা থেকে পর্যটন শিল্পের ভালো-মন্দ বিষয়গুলো একটু জানতে চাচ্ছি।
প্রত্যেকটা শিল্প প্রতিষ্ঠানেই তো কিছু ভালো-মন্দ দিক থাকে। একটি উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় আমাদের দেশে এই ব্যবসায় চ্যালেঞ্জটা অনেক বেশি। আর পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রে এই চ্যালেঞ্জটা আরও বহুগণ বেশি। এই ব্যবসার ভালো দিকটা হলো এখানে উভয় পক্ষেরই ভালো লাগার একটি বিষয় আছে। একটা পরিবার অনেক ব্যস্ততার মাঝেও এখানে এসে থাকছে এবং আল্লাহপাকের সৌন্দর্য উপভোগ করছে- এটা দেখার মাঝে তাদের একটা আলাদা ভালো লাগার আছে। আর যারা এই ধরনের সেবা প্রতিষ্ঠান করেছে তাদের মানুষকে ভালোভাবে সেবা দেওয়া এবং মানুষের স্মৃতিতে থেকে যাওয়ার মাঝেও ভালো লাগার একটি দিক আছে। এই সব বিষয় হচ্ছে পজেটিভ। তবে এর নেগেটিভ দিক হচ্ছে, আমাদের দেশ দরিদ্র হওয়ার কারণে চ্যালেঞ্জটা বেশি। আমাদের মতো উদ্যোক্তাদের জন্য আসলে এই ব্যবসা করা কঠিন। এই ব্যবসায় সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, এই ব্যবসার জন্য কানেক্টিভিটি থাকা দরকার। সেই সাথে উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা থাকা খুবই জরুরি। উন্নত দেশে তো ফোর লাইন রাস্তা কিন্তু এখনও আমরা দুই লাইনে রয়ে গেছি। উন্নত দেশে এখন রাস্তা শুরুই হয় সিক্স লেন থেকে।
যা-হোক আমাদের দেশে যদি আমরা ফোর লেনও করতে পারি তা-ও কম না। এছাড়া মহা সড়কগুলোর ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোতে বিভিন্ন নিয়ম মান্য করা হয়- যা আমাদের দেশে নেই। কিংবা থাকলেও মান্য করা হয় না। সড়ক-মহাসড়কের নিয়মগুলো মানা খুবই প্রয়োজনীয়। সড়ক বড় হলে যাতায়েতে সময় কম লাগবে এবং মহাসড়কে যে সব দুর্ঘটনা হয় সেটাও কম হবে। এ বিষয়গুলোর প্রতি যদি আমাদের সরকার দৃষ্টিপাত করেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন তাহলে শুধু পর্যটন শিল্প নয় আরও অন্যান্য শিল্পের কমপক্ষে তিনগুণ উন্নয়ন সাধিত হবে। এছাড়া আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- যে কোনো শিল্পেই ভালো করার শর্ত হলো দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা না থাকা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকা জরুরি। কিপ রিডিং…

ইসলামিক ব্যাংকিং এবং প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের মাঝে মৌলিক পার্থক্য কী?

অথোর- টপিক- অপিনিয়ন


এম আযীযুল হক : সাধারণত ব্যাংক বলা হয় (অপর বানান: ব্যাঙ্ক) এক ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা সাধারণ মানুষের সঞ্চয় সংগ্রহ করে পুঁজি গড়ে তোলে এবং সেই পুঁজি উদ্যোক্তাদের ধার দিয়ে বিনিয়োগে সাহায্য করে। এছাড়া আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংক দায়িত্ব পালন করে থাকে। আধুনিক পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাংক একটি দেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। দেশ-বিদেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-কে সচল ও কার্যকর রাখতে এর ভূমিকা অপরিসীম। ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্রীয় সঞ্চয়, লেনদেন ইত্যাদির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে এ প্রতিষ্ঠানটি। ব্যাংক ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় সঞ্চিত অর্থ জমা রাখে এবং ঐ অর্থ ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানে ঋণ গ্রহণ করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। নির্দিষ্ট সময় বা মেয়াদান্তে গ্রাহকের জমাকৃত অর্থের ওপর সুদ বা মুনাফা প্রদান করে।
আর Organization of Islammic Conference (OIC) কর্তৃক প্রদত্ত ইসলামী ব্যাংকের একটি সংজ্ঞা রয়েছে, যেটি সবচেয়ে সামগ্রিক ও বিশ্বজনীন। ইসলামী ব্যাংক এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা তার মৌলিক বিধান ও কর্মপদ্ধতির সকল স্তরেই ইসলামী শরিয়াহ নীতিমালা মেনে চলতে বদ্ধ পরিকর এবং কর্মকা-ের সব পর্যায়ে সুদকে বর্জন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই সংজ্ঞার আলোকে ইসলামী ব্যাংকের মৌলিক অবকাঠামো নির্ধারিত হয়- এক. আর্থিক প্রতিষ্ঠান হওয়া। দুই. মৌলিক বিধান ও কর্মপদ্ধতির সকল স্তর ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত হওয়া। তিন. শরিয়াহ নীতিমালা মেনে চলার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর থাকা। চার. কর্মকাণ্ডের সব পর্যায়ে সুদকে বর্জন করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়া।

পার্থক্য হলো- উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরুর মাঝে যেমন বা যতটুকু পার্থক্য রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বা ইসলামিক ব্যাংকিং এবং জেনারেল ব্যাংক বা জেনারেল ব্যাংকিংয়ের মাঝে তেমন পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু আফসোসের বিষয় হচ্ছে- এখন যেভাবে ইসলামিক ব্যাংকিং চর্চা হচ্ছে বা চলছে তাতে এই পার্থক্য জনসম্মুখে প্রকাশিত হচ্ছে না। মূল বিষয় হলো, মানি অ্যান্ড কমোডিটি- দুইটা দুই জিনিস। অর্থনীতির ভাষায় কমোডিটি হলো যার ইউটিলিটি আছে। যা আমাদের প্রয়োজন মিটাতে পারে তা হলো কমোডিটি। যেমন, ধান, চাল ইত্যাদি। এগুলো সরাসরি মানুষের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। আর মানি হলো- সে নিজে কোনো চাহিদা মিটানোর ক্ষমতা রাখে না কিন্তু পরিবর্তিত হয়ে, অন্য জিনিসে রূপান্তরিত হয়ে চাহিদা মিটাতে সক্ষম হয়। টাকা দিয়ে অন্য জিনিস এনে চাহিদা মিটানো সম্ভব, কিন্তু টাকা নিজে সরাসরি কোনো চাহিদা মিটাতে সক্ষম নয়।


পার্থক্য হলো- উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরুর মাঝে যেমন বা যতটুকু পার্থক্য রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বা ইসলামিক ব্যাংকিং এবং জেনারেল ব্যাংক বা জেনারেল ব্যাংকিংয়ের মাঝে তেমন পার্থক্য রয়েছে। মূল বিষয় হলো, মানি অ্যান্ড কমোডিটি। কনভেনশনাল ব্যাংক বা সাধারণ ব্যাংক টাকার ব্যবসা করে এবং ইসলামী ব্যাংক কমোডিটির ব্যবসা করে। সাধারণ ব্যাংকের ব্যবসা হচ্ছে মানি টু মানি। আর ইসলামিক ব্যাংকিং হলো বেইজড অন বাইয়া বা ব্যবসা। এখানে মানি টু মানির ব্যবসার কোনো অপশন নেই। 


কিপ রিডিং…

হালাল প্রসাধনী মুসলিম-অমুসলিম সবার জন্য উপকারী : সাইমন

অথোর- টপিক- ইন্টারভিউ/লিড স্টোরি

সাইমন ইমরান হায়দার- তারুণ্যদীপ্ত এন্টারপ্রেইনর। শৈল্পিক মানসিকতাবাহী একজন বিজনেস আইকন। সাইমন ইমরানের পিতার নাম ইউসুফ হায়দার এবং মাতার নাম জাহানারা হায়দার। সাইমনের বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা আর মা গৃহিণী। ১৯৮৩ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন হায়দার। পড়াশুনা করেছেন ধানমন্ডি সরকারি হাই স্কুল, ঢাকা সিটি কলেজ এবং প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়া উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক কোর্স সম্পন্ন করেছেন অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে। ব্যতিক্রমধর্মী ৭ টি প্রতিষ্ঠানের মাদার কোম্পানি সাইমন এ্যানমির সিরিয়াল এন্টারপ্রেইনর ও সম্মানিত চেয়ারম্যান তিনি। ছোটবেলা থেকেই ডিবেটিং, কাউন্সিলিংসহ নানাবিধ সমাজসেবামূলক কাজের সাথে জড়িত সাইমন বর্তমানেও ইনহ্যাবিটেন্ট হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামক একটি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান।

ব্যক্তিগত জীবনে পিতা ইউসুফ হায়দারের একমাত্র সন্তান সাইমনও এখন একমাত্র সন্তান ইয়াশাল হায়দার ইয়াছরিফের পিতা।  সাইমনের স্ত্রী সারাহ চৌধুরী আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর।

সৃজনশীল মানসিকতাকে ব্যবসায় খাটানো এবং সফলতা অর্জন করার শৈল্পিক মানসিকতা নিয়ে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, মিসর, চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভারত, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন সাইমন এবং অর্জন করেছেন বিচিত্র অভিজ্ঞতা। খুব অল্প সময়েই সাইমন কর্তৃক গৃহীত ব্যবসায়িক পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের মার্কেটে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং  বোদ্ধা মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। হালাল প্রসাধনী ও হালাল পণ্যে সাতসতের নিয়ে তার সাথে কথা বলেছেন মিরাজ রহমান

বিভিন্ন ধরনের পণ্যের ব্যবসা থাকতে আপনি হালাল পণ্য বা হালাল কসমেটিক্সের ব্যবসায়  কেন যুক্ত হলেন বা কেন এলেন?

প্রথমত, আমি ব্যবসায়িক দিক থেকে যেটা চিন্তা করি সেটা হলো, বাজারে গ্যাপটা কোথায়? ব্যবসার চাহিদা নির্ণয় করাটাকে আমি প্রথম গুরুত্ব দেই। একটা সময় মানুষ জুতা পরতো না। তখন কী হতো? আমাদের পায়ে ময়লা লেগে থাকতো। কাটার আঁচড় লাগতো। সুতরাং ধীরে ধীরে একটা প্রয়োজন সৃষ্টি হলো এবং এই প্রয়োজন পূরণেই কিন্তু জুতার আবিষ্কার হয়েছে। শুধু জুতা না; এভাবে আপনি যদি যে কোনো পণ্য বা বস্তুকে নিয়ে গবেষণা করেন দেখবেন যে, কোনো না কোনো প্রয়োজন বা চাহিদা থেকেই সে পণ্য বা বস্তুটির প্রসার ঘটেছে এবং এই প্রচার-প্রসারকে কেন্দ্র করে ব্যবসা গড়ে ওঠেছে। এই নীতিকে গাইডলাইন মেনে আমি একটি গ্যাপ আবিষ্কার করেছি এবং সেই গ্যাপটা পূরণের মানসিকতায় হালাল কসমেটিক্সের ব্যবসাটিকে নির্বাচন করেছি। তাছাড়া এই নীতি মেনে যে আমি কেবল এই একটি ব্যবসা করছি এমনটা নয়- আমাদের আরও কিছু ব্যবসা রয়েছে সবগুলো ব্যবসাকেই আমরা এমন কিছু মৌলিক নীতিমালায় গেঁথে পথ চলছি। এছাড়া ব্যবসার দুইটি দিক থাকে- একটি হচ্ছে শুধু লাভের চিন্তা করে ব্যবসা করা। আরেকটা হচ্ছে ব্যবসার মাধ্যমে মানুষের উপকার ও কল্যাণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া। মূলত এই দ্বিতীয় বিষয়টা মাথায় রেখেই আমি বা আমরা কাজ করার চেষ্টা করি। আমাদের ব্যবসার মূলনীতি হলো- পণ্য থেকে আসলে মানুষ কতটা উপকৃত হবে, সেটা প্রাধান্য দেওয়া। আর এই নীতিটাকে গ্রহণ করেছি বলেই হয়তো অন্য অনেক বা বিভিন্ন ব্যবসাকে নির্বাচন না করে হালাল কসমেটিক্সের ব্যবসাকে গ্রহণ করেছি। এরপর আমরা আরও দেখলাম বাংলাদেশে কোনো হালাল ব্র্যান্ডের কসমেটিক্সও নেই। এসব চিন্তা-গবেষণা করার পর আমরা উদ্যোগ নিলাম এবং আমরাই প্রথম বাংলাদেশে হালাল ব্র্যান্ডের কসমেটিক্স নিয়ে এলাম। কিপ রিডিং…

গো টু টপ