দ্য সুলতান

অপিনিয়ন

সংকল্পচিত্তে বাঁধাহীন সত্যভাব বলা ও লেখার সৃষ্টিশীল আয়োজন

সব শিল্পই ইসলামের জন্য কল্যাণকর, যদি তার অপব্যবহার না হয়— ড. মাহাথির মোহাম্মদ


মূল— ড. মাহাথির মোহাম্মদ। ভাষান্তর— মিরাজ রহমান


আধুনিক সব শিল্পকে আমরা শুধু ব্যবসা বা অর্থ উপার্জনের মাধ্যম মনে করি। শিল্পপতিদের প্রাচুর্যময় জীবনের প্রতি আগ্রহী ভেবে অধার্মিক বা কম ধার্মিক আখ্যা দিই। অর্থসম্পদ উপার্জন মানেই আমাদের কাছে প্রতারণা এবং গর্হিত কাজের হাতছানি। আর এ কারণেই সব ধরনের শিল্পকে অনৈসলামিক কর্মকান্ড এবং ইবাদত ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতিবন্ধক মনে করি। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে বিবেচনা করলে আমরা অনুধাবন করতে পারব যে, শিল্প প্রতিষ্ঠান আসলে এক ধরনের মানবসেবা। সব ধরনের শিল্পই প্রকৃতপক্ষে ইসলামের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে, যদি তার অপব্যবহার না হয়। তাবৎ দুনিয়ার আধুনিক সব শিল্পই আমাদের মুসলিম পূর্বসূরীদের হাতে সূচিত। তাদের হাতেই পূর্ণাঙ্গতা পেয়েছে আমাদের আজকের এই শিল্পমাধ্যমগুলো। যান্ত্রিক শিল্প, সমরাস্ত্র শিল্প, খোদাই শিল্প, মৃৎ শিল্প, চর্ম শিল্প, বয়ন শিল্প, হস্তশিল্প, কাগজ শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব শিল্পে মুসলমানদের অবদান অনস্বীকার্য। উদাহরণস্বরূপ কাগজ শিল্পের কথাই বলি। আরব জাহানে সর্বপ্রথম মুসলমানদের হাতে লেখার কাগজ আবিষ্কৃত হয়। তাদের এই আবিষ্কার তখনকার ইউরোপীয় অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করেছে। ৯৭৪ হিজরিতে বাগদাদ শহরের মুসলমানদের এই আবিষ্কার সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। দ্বাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে মুসলমানদের মাধ্যমে কাগজ শিল্পে উৎকর্ষ সাধিত হয়। ১২৭০ হিজরিতে এসে ইতালিতে এই শিল্পের কারখানা প্রতিষ্ঠিত হলে কাগজ শিল্প প্রভূত উন্নয়নের পথ ধরে।

মৃৎ শিল্পের উৎপাদনগত বৈশিষ্ট্য, কারুকাজ এবং শিল্পগত উন্নয়ন পূর্ণাঙ্গতায় আরবীয় ও স্পেনীয় মুসলমানরাই ছিল প্রথম সারির শিল্পী। স্পেনের আটটি শহরের মুসলমানরা মৃৎ শিল্পের মতো রুচিশীল ও লাভজনক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। আরবীয় মুসলমানরা যে কেবল আশ্চর্য ধরনের পাত্র নির্মাণেই পারদর্শী ছিল এমনটা নয়, পাত্রের গায়ে বিভিন্ন নকশা-কারুকাজ আর রঙের ব্যবহারেও তাদের অভাবনীয় প্রতিভা ছিল। কিন্তু আজকালকার অনেক মুসলমান বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমে আমাদের পূর্বসূরীদের অবদান এবং ইসলামের খেদমতকল্পে এসব শিল্পের প্রাসঙ্গিকতার কথা ভুলে গিয়ে বিভিন্ন শিল্পকে কেবল দুনিয়াবি কাজ মনে করছে।

কিপ রিডিং…

নবিওয়ালা দাওয়াত পৌঁছাতে ‘প্রযুক্তির আওয়াজ’ গ্রহণ করতে অসুবিধা কোথায়?


মাইক যেমন একটি প্রযুক্তি, ইন্টারনেটও তেমনি একটি প্রযুক্তি। মাইকের তুলনায় অনেক বেশি গতিময়, সহজ এবং ক্রিয়াশীল ইন্টারনেট। দূর থেকে দূরান্তে, দৃষ্টিসীমার ওপারে বাণী পৌছানোর ক্ষমতাও রাখে এই ইন্টারনেট। ইন্টারনেট-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ইজতেমার বাণী বিশ্বদরবারে পৌছে দেওয়া সম্ভব মুর্হূতেই। নবীওয়ালা দাওয়াত পৌঁছাতে ‘মাইকের আওয়াজ’ যেখানে গ্রহণ করা হচ্ছে, ‘প্রযুক্তির আওয়াজ’ গ্রহণ করতে সেখানে অসুবিধা কোথায়? লিখেছেন মিরাজ রহমান


ইন্টারনেট— গত শতাব্দীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠতম আবিস্কার। ইন্টারনেটের কল্যাণে গোটা পৃথিবী এখন একই সুতোয় গাঁথা। হাজার মাইল দূরের মানুষের সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনায়েসেই যোগাযোগ করা যায়। কথা বলা যায়, শেয়ার করা যায় অনুভূতি; এমনটি দেখাও যায়। বিশ্বব্যাপি তথ্য আদান-প্রদান; ব্যক্তিগত, সামাজিক, ব্যবসায়িক, ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় যে কোনো প্রকার যোগাযোগকে সহজ ও গতিময় করতে ইন্টারনেটের বিকল্প নেই। আর এই ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রাথমিক স্তর হলো ওয়েবসাইট। যাকে সহজ বাংলায় ইন্টারনেটভিত্তিক ঠিকানা বলা যায়। একেকটি ডোমেইনের আন্ডারে হাজার হাজার পেইজের ওয়েবসাইট নির্মাণ করা সম্ভব। আর ডোমেইন হলো ওয়েব ঠিকানা হিসেবে ব্যবহৃত একটি নাম। প্রত্যেকটি বাড়ির যেমন একটি হাউজিং-হোল্ডিং নম্বর থাকে, ডোমেইন হলো যে রকম একটি নাম-নম্বর। ২০১১ সালের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইন্টারনেটে মোট রেজিস্ট্রি করা ডোমেইনের সংখ্যা ৫৫ কোটি। (সূত্র : staticbrain.com) যার একেকটি ডোমেইনের আন্ডারে রয়েছে হাজার হাজার পৃষ্ঠার, লক্ষ-কোটি বিষয়ভিত্তিক অসংখ্য-অগণিত তথ্য সমৃদ্ধ ওয়েব সাইট এবং এসব ওয়েব সাইটের রয়েছে মিলিয়ন-বিলিয়ন দর্শক। ২০১২ সালের একটি পরিসংখ্যানে দেখানো হয়েছে শুধুমাত্র এশিয়াতে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০৭৭ মিলিয়ন বা প্রায় ১০৮ কোটি। একই সময় বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো প্রায় আশি লাখ। (সূত্র : internetworldstats.com)

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যার বৃদ্ধিগতি কেবল উর্ধ্বমমুখীই নয়, যে কোনো প্রকার গাণিতিক হিসেবকেও হার মানায় এই বৃদ্ধিগতি। বর্তমান বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের চেহারা হচ্ছে— প্রত্যেকজন মোবাইল ব্যবহারকারীই একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। মোট কথা গোটা বিশ্বব্যাপি মিলিয়ন-বিলিয়ন মানুষের কাছে কোনো তথ্য-বার্তা খুব অল্প সময়ে পৌছে দেওয়ার জন্য ইন্টারনেটের বিকল্প নেই। অন্যান্য বিষয় ও তথ্যের  মতো ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইসলাম প্রচারের বিষয়টি খুবই উর্বর ও যুগোপযুগী। হজরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে শেষ নবি হজরত মুহাম্মাদ (সা.) পর্যন্ত সব নবি-রাসুলদের দাওয়াতি জীবন পর্যালোচনা করলে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি উঠে আসে, সেটা হলো— প্রত্যেকজন নবি-রাসুলই ছিলেন তৎকালীন যুগোপযুগী বিদ্যা ও তথ্য-প্রযুক্তিতে পারদর্শী । প্রত্যেক নবি-রাসুলই দীনের দাওয়াতের কাজে ব্যবহার করেছেন তৎকালীন যুগশ্রেষ্ঠ মাধ্যম বা প্রযুক্তিকে। বর্তমান যুগ তথ্য-প্রযুক্তির স্বর্ণযুগ। ইন্টারনেট-মিডিয়ার যুগ। প্রযুক্তির উৎকর্ষময় এই যুগে ইসলামের প্রচার-প্রসারের কাজে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ইন্টারনেটের গতিময়তাকে কাজে লাগাতে হবে ইসলামের দাওয়াতি কাজে। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদ বলেছেন, ‘ইন্টারনেটের মোকাবিলা করতে হবে ইন্টারনেটের সাহায্যে। কম্পিউটারের মোকাবিলায় কম্পিউটার এবং কলমের মোকাবিলায় কলমের সাহায্যে গ্রহণ করতে হবে। উটের পিঠে চড়ে ‘ল্যান্ডক্রুজারে’র সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়া কখনোই সম্ভব না।’

কিপ রিডিং…

অক্ষুন্ন থাক এই সাফল্য


সাফল্যের ২০১৭ : আশার ২০১৮। লিখেছেন কবি ও সাংবাদিক মামুন মুস্তাফা



গত বছর পানামা পেপার্স এবং প্যারাডাইস পেপার্স অফশোর ব্যাংকিংয়ের নামে বিদেশে টাকা পাচারের যে তথ্য প্রকাশ করেছিল, সেখানে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীদের নাম উঠে আসে। এমন এক পরিস্থিতিতে পিপল্স অ্যান্ড পলিটিক্স এক ব্যতিক্রমী প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বিশ্বের ৫ জন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিহ্নিত করা হয়েছে যাদের কোনো দুর্নীতি স্পর্শ করেনি। এদের বিদেশে কোনো ব্যাংক হিসাব নেই, উল্লেখ করার মতো কোনো সম্পদও নেই। সেই তালিকায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী জায়গা করে নিয়েছেন তৃতীয় স্থানে। ১৭৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের কর্মকা- বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা সংস্থাটি মাত্র ১৭ জন সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান পেয়েছেন যারা ৫০ ভাগ দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই গৌরবময় অর্জন বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতিকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর স্থান করে দিয়েছে। তাঁর মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধও তাঁকে দিয়েছে উচ্চ আসন। অর্জন করেছেন ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ ও ‘লেডি অব ঢাকা’ খেতাব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই অর্জন বাংলাদেশকে নতুন মাত্রায় পরিচিতি দিয়েছে, তেমনই আরো কিছু বিষয় রয়েছে যেসব ক্ষেত্রে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতি হিসেবে আমরা অগ্রগণ্য বলে বর্হিবিশ্বে বিবেচিত হচ্ছি।

জাতির গৌরব ৭ মার্চের ভাষণ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি নাম, একটি ইতিহাস। তাঁর জীবন ছিল সংগ্রামমুখর। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন সংগ্রামী নেতা। বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ ৬ দফার প্রণেতাও ছিলেন তিনি। ’৭০-এর নির্বাচনে অংশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে এদেশের গণমানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীকে পরিণত করেন। ১৯৭১-এর ৭ মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উত্তাল সমুদ্রে বঙ্গবন্ধু বজ্রদৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বঙ্গবন্ধুর সেই বক্তব্যকে তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক-সম্বলিত জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ দেওয়া ভাষণকে গত বছর স্বীকৃতি দিল ইউনাইটেড নেশনস এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক এন্ড কালচারাল অরগানাইজেশন (ইউনেস্কো)। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে ইউনেস্কোর ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

৪৬ বছর আগে বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণায় উদ্দীপ্ত ও উজ্জীবিত জাতি স্বাধীনতার মূলমন্ত্র পাঠ করে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ছিনিয়ে আনে দেশের স্বাধীনতা। জাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ পুরুষ বঙ্গবন্ধুর অমর কীর্তি এই স্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গে তাই অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত তাঁর ৭ মার্চের ভাষণ। ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড কর্মসূচির অধীনে আন্তর্জাতিক তালিকায় মোট ৭৮টি দলিলকে অনুমোদন দেওয়া হয়, যার ৪৮তম স্থানে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ঐতিহাসিক এই ভাষণ। ইতিহাসের পাতায় বঙ্গবন্ধু আজ চিরঞ্জীব, তেমনি তাঁর ৭ মার্চের ভাষণও চির জাগরুক হয়ে রইলো।


নতুন ভাবে যাত্রা শুরু করা বর্তমান বছরে তথা ২০১৮-তে দাঁড়িয়ে ২০১৭-এর এসব সাফল্যের সুষ্ঠু বাস্তবায়নই মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। বিশ্বাস করি জাতি হিসেবে বাঙালি অপরাজেয়। অসীম সাহস, শক্তি, সহনশীলতা আর প্রজ্ঞা দিয়ে আমরা আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে সফল হবো। এই হোক নতুন বছরের দৃপ্ত অঙ্গীকার।


কিপ রিডিং…

জেরুসালেম তাহলে কার?

কোনো ধর্মমত বিবেচনায় না এনে যদি প্রশ্ন করা হয়— এই মসজিদটি কার? আপনার বাড়ির পাশে কিংবা আপনার ঘরের কাছেই যে মসজিদটি আছে, যেখানে আপনার বাবা কিংবা দাদার দানকৃত ভূমি রয়েছে, সেটা কি আপনার উত্তরাধিকার? কিংবা ওই মন্দিরটি? সেটাও কি একইভাবে আপনার বন্ধু তন্ময় কিংবা সঞ্জয় তাদের মিরাস সম্পত্তি বলে দাবি করতে পারে? আপনার শহরে অবস্থিত গির্জাটি নিয়েও কিন্তু আমরা একই প্রশ্ন করতে পারি। হতে পারে এমন প্রশ্নের মুখে আপনাকে কখনও পড়তে হয় নি, কেননা, এভাবে কেউ প্রশ্ন করে না। চমকানো সুন্দর মসজিদ (একইভাবে মন্দির বা গির্জা) হলে হয়তো সর্বোচ্চ জিজ্ঞেস করা হতে পারে— এটা কে করেছে? আপনার জানা থাকলে অবলীলায় বলে দিলেন— শরফুদ্দিন সান্টু ইত্যাদি। তারপরও যদি কেউ আপনাকে এমন বেমক্কা প্রশ্ন করেই বসে, আপনি তাকে হয়তো নাস্তিক ভাববেন, কিংবা ঈমানের জোর বেশি থাকলে বলবেন— কার আবার? আল্লাহর। ভিন্ন ধর্মের হলে বলবেন— মুসলমানদের।

যদিও মসজিদ কারও ব্যক্তিগত সম্পদ হয় না। মসজিদ আল্লাহর ঘর, বাইতুল্লাহর অংশ। যেখানে মসজিদ একবার নির্মিত হয়ে যায়, কেয়ামত দিবস অবধি সেটা আল্লাহর মালিকানায় চলে যায়। তাই যদি কোনো মসজিদে সাধারণের প্রবেশাধিকার না থাকে, তাহলে সেখানটায় জুমাবারের সালাত আদায় হবে না— এ-ই ইসলামের বিশ্বাস। কেননা, মালিক যেহেতু আল্লাহ, সুতরাং আল্লাহর বান্দা হিসেবে সেখানের কর্তৃত্ব সবার সমান, একক কারও হতে পারে না।

সন্দেহ নেই, উপসনালয়ের ব্যাপারে একই ধরনের বিশ্বাস ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকেই লালন করে পৃথিবীর তাবৎ ধর্মপ্রাণ মানুষ। তাদের নিজেদেরই হাতে গড়া এবাদতগাহ নির্মাণের পর আর তাদের নিজেদের থাকে না, সেখানে শুধু তাদের এবাদতেরই অধিকার থাকে, অন্য কিছু নয়। এবাদতের স্থানটুকু ঈশ্বরের নামে প্রদত্ত পবিত্র ভূমি।



ভিয়া ডলোরোসা, যে-পথে নবী ঈসাকে (আ.) নিজের ক্রস বয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিলো। ছবি  : সংগৃহীত


একই কথা প্রজোয্য জেরুসালেমের ব্যাপারেও। অন্তত তা-ই হওয়া উচিত। সম্ভবত সব মানুষ সেটা জানেও এবং মানেও। কিন্তু জেরুসালেমের ক্ষেত্রে পার্থক্য হলো, অন্য যে-কোনো স্থানের বেলায় যে-ধর্ম যেখানটাকে ‘পবিত্র ভূমি’ বলে স্বীকৃতি দেয়, সেখানটা শুধু সেই ধর্মের লোকদেরই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় থাকে, অন্য ধর্মের লোকেরা অল্প-বিস্তর মতানৈক্য না-থাকলেও শান্তি বজায় রাখার নিমিত্ত সেটা মেনেও নেয়। ছোট ‘পবিত্র ভূমি’ যেমন মসজিদ, মন্দির প্যাগোডা, গির্জা, টেম্পল ইত্যাদির ক্ষেত্রে হাতে গোণা সামান্য কয়েকটি উদাহরণ বাদ দিলে সারা পৃথিবীতেই আপন আপন ধর্মের লোকেরা আধিপত্য বজায় রাখতে পেরেছে। একান্ত তীর্থভূমি নিয়েও খুব একটা বিরোধ বাঁধে না। হিন্দুদের কাশি, বৌদ্ধদের শোয়েডগ প্যাগোডা এবং মুসলমানদের মক্কা-মদিনা নিয়ে কোনো উৎপাত নেই। কিন্তু জেরুসালেমের বিপত্তি এখানেই যে, এই একই ‘পবিত্র ভূমি’ যখন বিশ্বের ধর্মের এবং তিনটিই আসমানি ধর্ম— ইহুদি, খ্রিষ্ট ও ইসলাম। এ-কারণেই জেরুসালেম অনন্য। এখানেই সাধারণ যে-কোনো তীর্থভূমি বা পবিত্র ভূমির সঙ্গে জেরুসালেমের তফাত।

অবশ্য এটা ঠিক যে, আমরা কখনও কখনও কয়েকটি ধর্মের উপাসনালায় পাশাপাশি অবস্থান করতেও দেখি। মসজিদের পাশেই গির্জা। গির্জার ঘন্টার ধ্বনি ও মসজিদের আজান ধ্বনি সেখানে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। মসজিদ কিংবা গির্জাবাসীরা একে অপরের উপাসনালয় দখল করতে যায় না। কিন্তু জেরুসালেমে কী এমন রয়েছে যে, এখানে নিজ নিজ ধর্মের অনুসারীরা কেবল নিজেদের উপাসনালয়ে এবাদত করেই সন্তুষ্ট নয়, বরং এই ভূমিটাই তাদের দখলে রাখতে হবে? অথচ তিন ধর্মই প্রভু হিসেবে আল্লাহকে মান্য করে এবং এটাও বিশ্বাস করে যে, পবিত্র ভূমির মালিকানা কোনো মানুষের নয়—আল্লাহর। তাহলে দ্বন্দ্বটা কিসের? ঈশ্বরের মালিকানা নিয়ে?

এমনও নয় যে, এই দ্বন্দ্ব দুয়েকবার ঘটেই শেষ হয়েছে। বরং জেরুসালেমের দীর্ঘ ইতিহাসে, শহরটি কমপক্ষে দুইবার ধ্বংস হয়েছে, ২৩ বার অবরোধ হয়েছে, ৫২ বার আক্রমণ হয়েছে এবং ৪৪ বার দখল এবং পুনর্দখল হয়েছে।[1]ধর্মের লড়াইয়ের সাথে সাথে এখানে অধর্মের কাজও যে কম হয়েছে, তা নয়। আজও শহরে কোনো প্রত্নতত্ত্ব সন্ধান করতে গেলেই দেখা যায়, কোনো মসজিদের নীচে ইহুদি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ অথবা কোনো গির্জার নীচে দেখা গেলো মসজিদের চিহ্ন। যদি অধর্মই না হবে, তাহলে রোমান খ্রিষ্টানদের হাতে এই শহর ধ্বংস হবে কেনো? খ্রিষ্টানদের পবিত্র ভূমি কী করে খ্রিষ্টানদের হাতেই রক্তাক্ত পারে?

বহু জটিলতা আর বহু প্রশ্ন জড়িয়ে আছে জেরুসালেম কার এই প্রশ্নে সাথে। আমরা ইতিহাস ও বর্তমান জেরুসালেমের পবিত্র নিদর্শনগুলো খুঁজতে খুঁজতে সে-সব প্রশ্ন খতিয়ে দেখার প্রয়াস পাবো।

এক. আজ যেখানে জেরুসালেম নামে বিখ্যাত নগরী উপস্থিত, ইতিহাসের প্রারম্ভে, প্রায় ৫০০০ বছর আগে, সেখানে ছিলো একটি ছোট্ট গ্রাম। উঁচুনিচু মরুভূমির অভ্যন্তরে একটি সবুজ উপত্যকার মধ্যে খেজুর ও জলপাই গাছে ঢাকা গ্রামটিতে ঠিক কী ছিলো যা মোজেস, আব্রাহাম, যিশুখ্রিষ্ট (নবী মুসা, ইব্রাহিম ও ঈসা আ.) থেকে মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সবাইকে আকর্ষণ করে এসেছে? এখানকার মাটিতে কী আছে যা তিন-তিনটে বিরাট ধর্মের জন্ম দিয়েছে?

শহরের গা ঘেঁষে উঁচু টিলা—মাউন্ট অব অলিভ, জলপাই পাহাড়। মুসলিমরা বলে যাইতুন, কোরআনে এই ফলের কসম খেয়েছেন আল্লাহ। জেরুসালেমসহ এ-অঞ্চলের মানুষের অত্যন্ত্র প্রিয় ও প্রধান খাদ্যেরও একটি অলিভ। এই মাউন্ট অব থেকে সারা জেরুসালেম দেখা যায়। দেখা যায় পাথরে গাঁথা ৫০০০ বছরের পুরোনো শহর (Old City) ও তার মধ্যমণি সোনার পাতে মোড়া ডোম অব রক (Dome of the Rock)। ২০০০ বছর আগে নবী ঈসা (আ.) যখন জেরুসালেম দেখেছেন সেই, কেমন ছিলো শহরটা তখন? হয়তো পুরোনো শহরের আশেপাশে তখন ছিলো শুধু কাঁটাঝোপ। আজকের মতো রাস্তাঘাট, অট্টালিকার চিহ্নও ছিলো না। তখনও কি তিনি জানতেন নিয়তি তাকে কোথায় নিয়ে যাবে? ওই জেরুসালেমের মধ্যে দিয়েই ভারি ক্রশ পিঠে চাপিয়ে তাকে বধ্যভূমিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো।



৬-নং স্টপ-এ ভেরোনিকা তৃষ্ণার্ত নবী ঈসাকে আ. জল দিতে চেয়েছিলেন। ছবি : সংগৃহীত


কিপ রিডিং…

জেরুজালেম কেনো এতোটা গুরুত্বপূর্ণ?


কুরআন-হাদীসের বর্ণনা ও বাইবেলের বর্ণনাসহ সব দিক দিয়ে দেখলে তিনটি ধর্মের কাছেই জেরুজালেম শহরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর।  মূলত তিন ধর্মের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণেই এই শহরটির এতো গুরুত্বপূর্ণ।


পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো জনবসতিগুলোর অন্যতম একটি হচ্ছে জেরুজালেম। দুনিয়ার এমন কোন সচেতন ও জ্ঞানী মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে যিনি জেরুজালেমের নাম শোনেননি। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত এই শহরটি আয়োতনে খুব বেশি বড় না হলেও বিশ্বরাজনীতির পরিমন্ডলে এর অবস্থান ও ভূমিকা অন্য যে কোন শহরের তুলনায় বেশি। জেরুজালেম পৃথিবীর একমাত্র শহর বা স্থান যেটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ তিনটি ধর্মের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ইয়াহুদী, খ্রিস্টান ও ইসলাম; এই তিন ধর্মের অনুসারীরাই এই শহরটিকে তাদের পবিত্রশহর হিসাবে বিশ্বাস করে এবং সেজন্য শহরটির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের দাবী করে। অন্যান্য কিছু কারণ থাকলেও মূলত এই তিন ধর্মের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণেই এই শহরটির এতো গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত বলা যাক ইহুদী ধর্মের কথা। ইহুদীদের সবথেকে পবিত্র জায়গা বা ইবাদাতস্থল হচ্ছে ওয়েস্টার্ন ওয়াল বা উইলিং ওয়াল। এই দেয়ালটি বাইবেলে বর্ণিত দ্বিতীয় উপাসনালয়ের বাইরের একটি ছোট অংশ। আর এই দ্বিতীয় উপাসনালয়টি মূলত নির্মিত হয়েছে সুলাইমান-এর উপাসনালয়ের স্থানে। দ্বিতীয় উপাসনালয়টিকে বলা হয় সেকেন্ড ট্যাম্পল।  আর আসলটাকে বলা হয় ফার্স্ট ট্যাম্পল। এই উপাসনালয়টি ইহুদিদের প্রাচীন উপাসনালয়গুলোর একটি। পুরো উপাসনালয় এখন না থাকলেও উপাসনালয়ের যে ধ্বংসাবশেষ রয়েছে তারই একটি অংশ হচ্ছে এই দেয়াল। এখানে এসেই ইহুদীরা প্রার্থনা করে। আবার তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী এই শহরেই অবস্থিত হায়কল-ই-সোলাইমান বা সোলাইমানের উপাসনাগৃহ। যা ইসলামের নবী সুলাইমান, যিনি তাদের ভাষায় সোলেমন, তার প্রতিষ্ঠিত। এবং এখানে বসেই রাজত্ব পরিচালনা করেছেন সুলাইমানের বাবা দাঊদ (ডেভিড)।

খ্রিস্টানদের কাছেও এই শহরটি অনেক পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাদের অন্যতম প্রধান চার্চ “চার্চ অব দ্যা হলি সেপালক্রে” এই শহরেই অবস্থিত। এটির অবস্থান পুরোনো দেয়ালের বাইরে। খ্রিস্টানদের বিশ্বাস মতে এই চার্চের জায়গাতেই নাকি ঈসা আ.-এর মৃত্যুর পর মরদেহ আনা হয়েছিলো। এখানেই তার মরদেহ পরিস্কার করে কবরস্থ করা হয়। আবার এখান থেকেই তার পুনর্জন্ম হয়। (ইসলামী বিশ্বাস মোতাবেক ঈসা আ.কে আল্লাহ তা‘আলা জীবিত অবস্থায় উঠিয়ে নিয়ে গেছেন, যে কথা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। তাই খ্রিস্টান বিশ্বাস অনুযায়ী ঈসা আ. মারা গেছেন এবং তাকে কবর দেয়া হয়েছে এবং এখান থেকে আবার পুনর্জন্ম পাওয়ার ঘটনা নিছক তাদের বানানো মিথ্যা কাহিনী। এটি ইসলামী বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিরোধী।) এই গির্জাকে ঘিরেই খ্রিস্টানদের জেরুজালেমপ্রেম বহমান। তাছাড়া এই শহরের কাছেই রয়েছে বেথেলহেম, যেখানে ঈসা আ. (তাদের ভাষায় জেসাস বা যিশু)-এর জন্ম হয়েছিলো এবং তার মা মেরি (মারিয়াম আ.)-এর কবর।

ইসলাম ধর্ম। ইসলাম ধর্মে কাছে জেরুজালেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতের জায়গা। ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয়- উভয় দিক থেকেই জেরুজালেম শহরটি মুসলিমদের নিকটও গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিমদের নিকট জেরুজালেম এতটা গুরুত্ব পাওয়ার কয়েকটি কারণ হলো- এই জেরুজালেমে অবস্থিত রয়েছে মাসজিদুল আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাস, যে মসজিদ কাবা নির্মাণের মাত্র ৪০ বছর পরেই তৈরি করা হয়েছিলো। এবং পরে সুলাইমান (আ.) জীনদের মাধ্যমে পুননির্মাণ করেছিলেন। এই মসজিদের কথা কুরআনেও উল্লেখ রয়েছে। (সূরা বানী ইসরাঈল, ১৭: ০১) এই মসজিদই ছিলো মুসলিমদের প্রথম কিবলা। এই মসজিদের দিকে ফিরেই মুসলিমরা ১৬/১৭ মাস সলাত কায়েম করেছেন। এই মসজিদ থেকেই শেষনবী মুহাম্মাদ (সা.) মিরাজে রওয়ানা দিয়েছিলেন। বিশেষ ছাওয়াবের আশায় এই মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েয। মক্কার মাসজিদে হারাম, মদীনার মাসজিদে নবভী ও জেরুজালেমে অবস্থিত মাসজিদুল আকসা- এই তিনটি মাসজিদ ছাড়া অন্য কোন মাসজিদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বাড়তি ছাওয়াবের আশায় সফর করা নিষেধ। এই মাসজিদে সলাত আদায় করলে তা মক্কা-মদীনার দুই মাসজিদ ছাড়া অন্য যে কোন মাসজিদের তুলনায় ৫০০ গুণ ছাওয়াব বেশি হয়। কিপ রিডিং…

পোপ ফ্রান্সিস কেন এতোটা প্রভাবশালী?



আসিফ সোহান। সারা বিশ্বের নজর এখন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিসের দিকে। তার মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফর নিয়ে এখন সরগরম আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। বরাবরই দেখা যায়, পোপকে নিয়ে যতোটা মাতামাতি হয়, অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতা কিংবা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা অথবা বিনোদন জগতের কোনো তারকাকে নিয়েও তা হয় না। কেন পোপ এতো গুরুত্বপূর্ণ? কেন এতোটা প্রভাশালী তিনি? মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে। ওই বিশ্লেষণ অনুযায়ী আন্তঃদেশীয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এবং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রভাবের কারণে তিনি এতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।

রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ। তিনি এমন একটি পদের অধিকারী, যা বিশ্বে অন্য কোনো ধর্মে নেই। বর্তমান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কোনো ধর্মেই এমন অনুক্রমিক কাঠামো নেই, যার ফলে কোনো একজনকে নেতা মানা হয় না। কিন্তু ক্যাথলিক ধর্মে এই কাঠামো রয়েছে। পোপ এমন এক সংগঠনের নেতা, যা প্রায় দুই হাজার বছর পুরনো। সারা বিশ্বের গির্জাগুলোর কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে একটা ক্রমতন্ত্র (চেইন অব কমান্ড) মেনে চলা হয়। আর এই কর্তৃত্বতন্ত্রের নেতৃত্বের ভূমিকা ভ্যাটিকানের। সেই ভ্যাটিকানের শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে পোপ সারা বিশ্বে ক্যাথলিক আদর্শ বিস্তারে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মগুলোতে একাধিক গোষ্ঠী ও নেতা রয়েছেন। কিন্তু ক্যাথলিক ছাড়াও আরো কিছু ধর্মে অনুক্রমিক কাঠামো রয়েছে (অ্যাংলিকান কমিউনিয়ন) কিন্তু এই ধর্মালম্বীদের সংখ্যা ১২০ কোটি ক্যাথলিকদের সঙ্গে কোনো তুলনা হয় না। একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র ভ্যাটিকানের মাধ্যমেই বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিক চার্চের প্রভাব দৃশ্যমান হয়। ভ্যাটিকান বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। ভ্যাটিকানের প্রধান হিসেবে পোপ যখন কোনো দেশ সফর করেন তিনি শুধু ধর্মীয় নেতা থাকেন না, তিনি একটি দেশেরও প্রধান। এর ফলে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানদের চেয়ে পোপের সফর অনন্য হয়ে ওঠে।

ব্রিটেনের রানিও একই সঙ্গে অ্যাংলিকান চার্চ ও কমনওয়েলথের প্রধান। কিন্তু তার প্রভাব পোপের মতো নয়। কারণ পোপের মতো কর্তৃত্ব তার নেই। ফলে ব্রিটেনের রানির তুলনায় পোপের প্রভাব অনেক বেশি।

শুধু আন্তঃদেশীয় নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অংশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নাগরিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে ক্যাথলিক চার্চ। স্থানীয় গির্জাগুলোর নেতৃত্বে থাকেন স্থানীয় বিশপ, আর্চবিশপ ও কার্ডিনালরা। এদের সবাইকে নিয়োগ দেন পোপ নিজে এবং তারা তার কাছেই জবাবদিহি করেন। ফলে এসব স্থানীয় গির্জাগুলো পোপের নির্দেশনা দ্বারা পরিচালিত হয়।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষমতা বাদ দিলেও পোপের রয়েছে মানুষকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা। বিশ্বের মানুষের বড় একটি অংশই ক্যাথলিক গির্জায় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন। এসব গির্জা থেকেই মানুষকে একটি নৈতিক ও অর্থপূর্ণ জীবনযাপনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

কিপ রিডিং…

ইসলামিক ব্যাংকিং এবং প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের মাঝে মৌলিক পার্থক্য কী?



এম আযীযুল হক : সাধারণত ব্যাংক বলা হয় (অপর বানান: ব্যাঙ্ক) এক ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা সাধারণ মানুষের সঞ্চয় সংগ্রহ করে পুঁজি গড়ে তোলে এবং সেই পুঁজি উদ্যোক্তাদের ধার দিয়ে বিনিয়োগে সাহায্য করে। এছাড়া আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংক দায়িত্ব পালন করে থাকে। আধুনিক পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাংক একটি দেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। দেশ-বিদেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-কে সচল ও কার্যকর রাখতে এর ভূমিকা অপরিসীম। ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্রীয় সঞ্চয়, লেনদেন ইত্যাদির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে এ প্রতিষ্ঠানটি। ব্যাংক ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় সঞ্চিত অর্থ জমা রাখে এবং ঐ অর্থ ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানে ঋণ গ্রহণ করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। নির্দিষ্ট সময় বা মেয়াদান্তে গ্রাহকের জমাকৃত অর্থের ওপর সুদ বা মুনাফা প্রদান করে।
আর Organization of Islammic Conference (OIC) কর্তৃক প্রদত্ত ইসলামী ব্যাংকের একটি সংজ্ঞা রয়েছে, যেটি সবচেয়ে সামগ্রিক ও বিশ্বজনীন। ইসলামী ব্যাংক এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা তার মৌলিক বিধান ও কর্মপদ্ধতির সকল স্তরেই ইসলামী শরিয়াহ নীতিমালা মেনে চলতে বদ্ধ পরিকর এবং কর্মকা-ের সব পর্যায়ে সুদকে বর্জন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই সংজ্ঞার আলোকে ইসলামী ব্যাংকের মৌলিক অবকাঠামো নির্ধারিত হয়- এক. আর্থিক প্রতিষ্ঠান হওয়া। দুই. মৌলিক বিধান ও কর্মপদ্ধতির সকল স্তর ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত হওয়া। তিন. শরিয়াহ নীতিমালা মেনে চলার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর থাকা। চার. কর্মকাণ্ডের সব পর্যায়ে সুদকে বর্জন করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়া।

পার্থক্য হলো- উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরুর মাঝে যেমন বা যতটুকু পার্থক্য রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বা ইসলামিক ব্যাংকিং এবং জেনারেল ব্যাংক বা জেনারেল ব্যাংকিংয়ের মাঝে তেমন পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু আফসোসের বিষয় হচ্ছে- এখন যেভাবে ইসলামিক ব্যাংকিং চর্চা হচ্ছে বা চলছে তাতে এই পার্থক্য জনসম্মুখে প্রকাশিত হচ্ছে না। মূল বিষয় হলো, মানি অ্যান্ড কমোডিটি- দুইটা দুই জিনিস। অর্থনীতির ভাষায় কমোডিটি হলো যার ইউটিলিটি আছে। যা আমাদের প্রয়োজন মিটাতে পারে তা হলো কমোডিটি। যেমন, ধান, চাল ইত্যাদি। এগুলো সরাসরি মানুষের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। আর মানি হলো- সে নিজে কোনো চাহিদা মিটানোর ক্ষমতা রাখে না কিন্তু পরিবর্তিত হয়ে, অন্য জিনিসে রূপান্তরিত হয়ে চাহিদা মিটাতে সক্ষম হয়। টাকা দিয়ে অন্য জিনিস এনে চাহিদা মিটানো সম্ভব, কিন্তু টাকা নিজে সরাসরি কোনো চাহিদা মিটাতে সক্ষম নয়।


পার্থক্য হলো- উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরুর মাঝে যেমন বা যতটুকু পার্থক্য রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বা ইসলামিক ব্যাংকিং এবং জেনারেল ব্যাংক বা জেনারেল ব্যাংকিংয়ের মাঝে তেমন পার্থক্য রয়েছে। মূল বিষয় হলো, মানি অ্যান্ড কমোডিটি। কনভেনশনাল ব্যাংক বা সাধারণ ব্যাংক টাকার ব্যবসা করে এবং ইসলামী ব্যাংক কমোডিটির ব্যবসা করে। সাধারণ ব্যাংকের ব্যবসা হচ্ছে মানি টু মানি। আর ইসলামিক ব্যাংকিং হলো বেইজড অন বাইয়া বা ব্যবসা। এখানে মানি টু মানির ব্যবসার কোনো অপশন নেই। 


কিপ রিডিং…

ইসলামী নন-লাইফ বীমার উৎস, উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

একিউএম ছফিউল্লাহ আরিফ : বীমার পরিচয়- মানুষের জীবন যাত্রার প্রতিটি পর্যায়ে বিপর্যয়জনিত অনিশ্চয়তা প্রতিকূল প্রভাব বিস্তার করে। অনাকাক্সিক্ষত এবং অপ্রত্যাশিত ঘটনার ফলে সম্পদ ও সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝুঁকি থেকে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা এবং অনিশ্চয়তা থেকে সৃষ্ট ক্ষয় ক্ষতি পূরণ করার চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা বীমা নামে পরিচিত। বীমাকে বহু ব্যক্তির মধ্যে ক্ষতি বণ্টনের সমবায় পন্থা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। বীমা হলো মানুষের জীবন ও সম্পদের ঝুঁকির বিপক্ষে এক ধরনের আর্র্থিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। বীমা হলো ঝুঁকি বণ্টনের একটি সহায়কমূলক ব্যবস্থা। বীমা হলো ভবিষ্যতে ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা প্রদানের মাধ্যমে আগাম ব্যবস্থা।

বীমা হলো দু’ই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত একটি চুক্তি যার মাধ্যমে এক বা একাধিক পক্ষ বীমাকারীর নিকট নির্দিষ্ট অংকের প্রিমিয়াম বা নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদার বিনিময়ে সম্পূর্ণ বা আংশিক ঝুঁকির ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয় এবং বীমাচুক্তিপত্রে উল্লেখিত নির্দিষ্ট কারণে বীমাগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্থ হলে বীমাকারী চুক্তির শর্তানুযায়ী বীমাগ্রহীতা বা তাঁর প্রতিনিধিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষতিপূরণ বা অর্থ প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়।

Prof. Mark R. Greene এর মতে Insurance is an economic institution that reduces risk both to society and to individuals by combining under one management a large group of objects so situated that the aggregate losses to which society is subject become predictable within narrow limits অর্থাৎ “বীমা হলো এমন একটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান যা একটি মাত্র ব্যবস্থাপনার অধীনে বহুসংখ্যক উদ্দেশ্যকে এমনভাবে সমন্বিত করে যাতে করে সমাজ যেসব ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারে সেসবকে সীমিত পরিসরে অনুমানপূর্বক সমাজ ও ব্যক্তি উভয়েরই ঝুঁকি হ্রাস করা যায়।”

Prof. M. N. Mishra বীমার কার্যভিত্তিক সংজ্ঞায় বলেন, Insurance is a co-operative form of distributing a certain risk over a group of persons, who are exposed to it অর্থাৎ “বীমা হচ্ছে এমন এক সমবায়ভিত্তিক যৌথ লোকসান বণ্টন ব্যবস্থা, যেখানে নির্দিষ্ট ঝুঁকিজনিত ক্ষয় ক্ষতি একাধিক সম্পৃক্ত ব্যাক্তির মধ্যে বণ্টন হয় এবং যাঁরা উক্ত ঝুঁকির বিরুদ্ধে নিজেদের বীমাবন্দি করতে সম্মত থাকে।”

প্রখ্যাত বীমা বিশারদ মি. পোর্টার বলেন, Human life is sorunded with lots of danger, creating preventive measure against these dangers is insurance. অর্থাৎ “মানুষের জীবন ও তাঁর কার্যাবলী বিভিন্ন প্রকার বিপদাপদে বেষ্টিত। এসব অজানা বিপদাপদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ব্যবস্থাই হলো বীমা।” সুতরাং একজনের ক্ষতি ভাগাভাগি করে নেয়ার ধারণা থেকে বীমা ব্যবস্থার উদ্ভব। কিপ রিডিং…

শুভ নববর্ষ ১৪২৪ শুভ হোক

“এসো হে বৈশাখ, এসো এসো/তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষরে দাও উড়ায়ে/বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক।/যাক পুরাতন স্মৃতি যাক ভুলে যাওয়া গীতি/অশ্রু বাষ্পে মুছে যাক জরা/অ্গ্নীস্নানে শূচি হোক ধরা।”

রাতের আঁধারের ঘোমটা সরিয়ে ভোরের আকাশ-দশদিগন্তে আলোর নাচন ছড়িয়ে যে সূর্যটা উঠেছে; সে সূর্য সবার জীবনে বয়ে আনুক নতুন এক সুখানুভূতি। স্বাগত হে বাংলা নববর্ষ ১৪২৪। জীবন বাঁকের্ আরও একটা বছরের শেষ হলো, শুরু হলো নতুন আর একটা। দূঃখ-বেদনা আর ব্যাথাহতের পর জীবনের নতুন রূপ দেয়ার এক গভীর প্রত্যয় নিয়ে বৈশাখের রুদ্র পদভারে ঘোষিত নতুনের কেতন উড়িয়ে ১৪২৪ বঙ্গাব্দ আমাদের জীবনে বয়ে আনুক এক নতুন অধ্যায়। বাঙ্গালী সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যে পয়েলা বৈশাখের গুরুত্ব অপরিসীম। নববর্ষকে কেন্দ্র করে আমরা কতইনা স্বপ্ন বুনি। স্বপ্ন বুনি নতুনের, ভবিষ্যতের; প্রত্যাশা করি বিগত বছরের চেয়ে সুন্দরের। এত স্বপ্ন আর প্রত্যাশায় ঘেরা নববর্ষের শুরুটাও যেন হয় বিগত সময়ের চেয়ে আলাদা। আসুননা আমরা সবাই মিলে একটি অনন্য ও ব্যতিক্রমধর্মী বছর শুরু করি। অঙ্গিকার করি পরিবর্তনের-শুধু নিজেকে নয় গোটা সমাজকে, জাতীকে। এরই মানসে নিন্মোক্ত প্রস্তাবের আলোকে আমরা সাজাই নতুন বছরের প্রথম দিনকে; সার্থক করে তুলি এ দিনের গুরুত্বকে।

১. আমাদের প্রথম অঙ্গিকার হোক অন্ততঃ এ নববর্ষ যেন শুধু মাত্র আনন্দ ফূর্তি আর উৎসব-উদযাপনের মধ্যে শেষ হয়ে না যায়। এ সময়ে আমাদের জনগোষ্ঠির মধ্যে বাঙ্গালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য চর্চার যে আগ্রহ দেখা যায় তা যেন দিন শেষ হওয়ার সাথে শেষ হয়ে না যায়।


পরিশেষে একটা কথা বলতে চাই, পয়েলা বৈশাখ শুধু সূচনা করেনি একটি মাসের, আমাদেরকে এনে দিয়েছে একটি নুতন বছর। বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে পয়েলা বৈশাখ এবং নববর্ষ জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ সংস্কৃতি যেন কোন কারণে কুলষিত না হয়, পরিণত না হয় অপসংস্কৃতিতে সে দায়িত্ব আমাদের সকলের। এটা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, একান্ত আপনার ঐতিহ্য। নববর্ষকে কেন্দ্র করে আমাদের সব আয়োজন যেন শুধু ক্ষণিকের আনন্দদায়ক আর উপভোগ্য না হয় বরং নতুন বছরের সূচনার মত নতুন কিছু স্বপ্নেরও যেন সূচনা হয় এ দিনে।


কিপ রিডিং…

রাসূলুল্লাহ সা. ও মুক্তচিন্তা

বর্তমান বিজ্ঞানোত্তর বিশ্বে সমধিক আদৃত বিষয়সমূহের শীর্ষে সদর্পে অবস্থান করছে যে বিষয়টি, বলা যায় যে তাহলো মুক্তচিন্তা। শিল্পের উৎকর্ষ, সাহিত্যের সৌকর্য, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা, প্রজ্ঞার বিকাশ  ̶  এসবের মৌল গাঠনিক পদার্থ হলো মুক্তচিন্তা। মুক্তচিন্তার অভাব ব্যক্তিকে করে শৃংখলিত, বুদ্ধিকে করে অনুর্বর, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ফেলে রাখে অকর্ষিত বেলাভূমে। মহানবী সা. পার্থিব ও ধর্মীয় উভয় পর্যায়ে গোটা মানব ইতিহাসে সফলতার সর্বোচ্চ চূড়া স্পর্শকারী ব্যক্তি ছিলেন। মাইকেল এইচ হার্ট তার ‘দ্য হানড্রেড’ গ্রন্থের প্রথম ও শীর্ষ ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ সা. সম্পর্কে এভাবেই মূল্যায়ণ করেছেন এবং বলেছেন, ‘He was the only man in history who was supremely successful on both religious and secular levels.’ (The Hundred:3)

ইতিহাসের সার্থকতম ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তাআলা চয়ন করেছেন বৈশ্ব্যিক দূত হিসেবে, তিনি মুক্তচিন্তার জ্যোতি-লাবণ্য ছড়িয়ে যাবেন আমৃত্য, শৃঙ্খলিত বুদ্ধির স্বাধীনতায় পক্ষে সংগ্রাম করে যাবেন জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত, এটাই ছিল স্বাভাবিক। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে মহানবী সা. কীভাবে মুক্তচিন্তা চর্চা করেছেন, মুক্তচিন্তার পক্ষে সংগ্রাম করেছেন, মুক্তচিন্তাকে আশ্রয় দিয়েছেন, আদর করেছেন তা যৌক্তিক আলোচনায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

মুক্তচিন্তা (Free Thought) একটি আধুনিক পরিভাষা। এর মৌল সুর হলো, ‘জ্ঞান ও যুক্তির অনুপস্থিতিতে দাবিকৃত কোন মতকেই সত্য হিসেবে গ্রহণ বা বর্জনা না করা।’ এই সুরকে বিবেচনায় রেখে অগ্রসর হলে দেখা যাবে, মহানবী সা. হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি মুক্তচিন্তার প্রথম রাজপথ নির্মান করেছেন খোদ আল্লাহ তাআলার তত্তাবধানে। এর অন্যতম উদাহরণ, তাদানিন্তন পৃথিবীতে কর্তৃত্বরত সকল চিন্তা-জীবনধারা অশৈশব বর্জন করে অনুসন্ধান করেছেন তিনি নিটোল-অটুট সত্যের- (সূরা আদ্-দুহা)। আরব উপদ্বীপে হাজার বছরের লালিত-আদৃত পৌত্তলিকতার বিপক্ষে চলেছেন তিনি শিশুকাল থেকেই। তাইতো কখনো তাকে দেখা যায়নি কোনো প্রতিমার কাছে প্রার্থনা করতে, এমনকী প্রতিমার নামে জবাইকৃত কোনো পশুর মাংস খেতে, (বুখারী, কিতাবুয যাবাইহ ও ওয়াস্ সাইদ) । কিপ রিডিং…

গো টু টপ