দ্য সুলতান

ফলোআপ

সংঘটিত ঘটনার পূর্বাপর বিবরণ ও বিশ্লেষণ

ডিএনসিসি মার্কেটে আগুন : ক্ষতি ৬০০ কোটি

টপনিউজ ডেস্ক :  রাজধানীর গুলশানে ডিএনসিসি মার্কেটে ভয়াবহ আগুনে সহায়-সম্বল হারিয়ে এখন পথে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৬০০ কোটি টাকা।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। কারণ এখনো ধসে পড়া মার্কেটের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে।কোনো কিছুই রক্ষা পায়নি। আকস্মিক এই বিশাল ক্ষতি কীভাবে সামলে উঠবেন তা নিয়ে ভাবতেও পারছেন না ব্যবসায়ীরা। দুই দিন আগেও যারা ছিলেন বিত্তশালী তারা আজ নিঃস্ব।ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের মতে, গান পাউডার ছিটিয়ে হয়তো আগুন লাগানো হয়েছে। নইলে মাত্র ৩০ মিনিটে কী করে একটি এত বড় ভবন ধসে পড়ল! তাদের অভিযোগের তির মেট্রো গ্রুপের দিকে। ব্যবসায়ীরা জানান, অনেক আগে থেকেই কর্তৃপক্ষ তাদেরকে উচ্ছেদ করার জন্য চেষ্টা করছে। এ নিয়ে মামলাও চলছে। এই অগ্নিকাণ্ড একটি ষড়যন্ত্র বলে তারা মনে করেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও প্রথম থেকে গাফিলতি করেছেন বলে তাদের অভিযোগ। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, পুড়িয়ে দেওয়া মার্কেটের দখল যে কোনো মুহূর্তে প্রভাবশালীরা নিয়ে নিতে পারে। এ কারণে তারা মার্কেটের দখল ছাড়তে নারাজ। অনেকে বলেছেন, প্রয়োজনে তাঁবু গেড়ে অবস্থান নেবেন।

এদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলছে, তারা তদন্ত শুরু করেছেন। নাশকতামূলক তৎপরতা হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনেক কিছু বলা সম্ভব নয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লে. কর্নেল মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ‘সব দিক মাথায় রেখেই তদন্ত করা হচ্ছে। এটা নিছক অগ্নিকাণ্ড, নাকি নাশকতা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা দোকানমালিকদের অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছি না। পুড়ে যাওয়া দোকানগুলো থেকে আলামত সংগ্রহ করছি। সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা হবে, কী কারণে অগ্নিকাণ্ড হলো।’

বুধবারও পোড়া মার্কেটের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে ধোঁয়া বের হতে। বাতাসে ছিল পোড়া গন্ধ। কেমিক্যাল পোড়া গন্ধও পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পানি ছিটিয়ে যাচ্ছিলেন। পোড়া মার্কেটের সামনেই রাস্তার ওপর রাতভর ঠায় বসে ছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ মার্কেটের সামনে খোলা জায়গায় বিছানা-বালিশ নিয়ে এসেছেন। সেখানেই তারা অবস্থান করছেন। অনেকে ধ্বংসস্তূপ হাতড়ে বেড়িয়েছেন। আশা, যদি বেঁচে যাওয়া কিছু পাওয়া যায়!

গতকাল বুধবার সকাল থেকে ব্যবসায়ীরা মার্কেটের সামনে জড়ো হতে থাকেন। অনেকেই বেঁচে যাওয়া মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকের আহাজারিতে সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।  দুপুরে মার্কেটে মাইকিং করে বলা হয়, ব্যবসায়ীরা যেন মার্কেট না ছাড়েন। তাদের আশঙ্কা, মার্কেট ছেড়ে দিলে যে কোনো সময় বেদখল হয়ে যেতে পারে। তাদের চোখেমুখে সেই আতঙ্ক স্পষ্ট।

কিপ রিডিং…

গো টু টপ