Daily archive

February 12, 2017

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস : সাহিত্যের নায়ক

অথোর- টপিক- /লিটারেচার

সত্যিকারার্থে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের নায়ক ছিলেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের নবজাগরণের অসাধারণ সূচনা করেছিলো তার সাহিত্যকর্ম। বাঙালি জীবনের চিরন্তন বোধ ও মননের বৈচিত্রময় অনুভবকে তিনি গভীর দৃষ্টিতে নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন।


মহান এ লেখকের সাহিত্যকর্ম পাঠ ও কথা বলার যোগ্য হয়নি এখনো আমি…! তবুও ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বাংলা সাহিত্যের নায়কের জন্মদিবস স্মরণে এইটুকু শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ…


এ জন্যই তার সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী বলেছেন, কি পশ্চিম বাংলা কি বাংলাদেশ সবটা মেলালে তিনি শ্রেষ্ঠ লেখক! আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তার নিজস্ব দায়বদ্ধতা থেকেই পরম মায়ায় সমাজের গরিব শ্রেণী নিষ্পেষিত মানুষের জীবনযাত্রা তুলে এনেছেন।

কিপ রিডিং…

আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা’র ৩০-৩০-৩০ পরামর্শ

অথোর- টপিক- ডেভেলপমেন্ট/হাইলাইটস

জ্যাক মা বলেন, বিশ্বের প্রতিটি সরকারেরই উচিত এ তিনটি ‘৩০’ এর ওপর বিশেষ দৃষ্টি রাখা, তাহলেই বর্তমানের চেয়ে ভবিষ্যৎ হবে অধিক উন্নত।


প্রতি বছর জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেন বিশ্ব নেতারা ও বিশ্বে পরিবর্তন আনা উদ্যোক্তারা। সম্মেলনে ভবিষ্যৎ বিশ্ব কেমন হতে পারে, এ সম্পর্কে ধারণা দেন তারা। বরাবরের মতো  এ বছরের ডাভোস সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেস আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা। সম্মেলনের একটি আলোচনায় ভবিষ্যৎ বিশ্বের জন্য ‘৩০-৩০-৩০’ পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
কিপ রিডিং…

পীর ব্যবসা | তসলিমা নাসরিন

অথোর- টপিক- অপিনিয়ন/হাইলাইটস

বাংলাদেশের দেওয়ানবাগী পীর এখন হাসপাতালে। যে পীর মানুষের রোগ সারানোর জন্য পানি পড়া দিতেন, যেন কাউকে হাসপাতালে না যেতে হয়, সেই তিনিই আজ হাসপাতালে। কেউ কি এখন তাঁকে তাঁর নিজের ‘পানি পড়া’ খেয়ে সুস্থ হওয়ার উপদেশ দিচ্ছে না?


বাংলাদেশে দেখতাম চারদিকে পীর, ভারতে দেখি চারদিকে বাবা। প্রায় সবারই কোনও না কোনও পীর বা বাবা আছে। পীর এবং বাবার পায়ে মানুষ কাড়ি কাড়ি টাকা ঢেলে আসে। টাকা আর আনুগত্যের বিনিময়ে পীর এবং বাবা ভগবান এবং  আল্লাহর কাছে তদবির করে ইহকাল এবং পরকালের সুখ স্বাস্থ্য, আনন্দ আয়েশ, বিত্ত বৈভবের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন বলে মুরিদ এবং ভক্তকূল বিশ্বাস করে। এই বিশ্বাস বড় ভয়ঙ্কর। এই বিশ্বাসের কারণে মানুষ অনেক সময় সর্বস্বান্ত হয়ে যায়,   কিন্তু তারপরও পীর বা বাবার ওপর থেকে মানুষের নির্ভরতা যায় না।

আমার মা ছিলেন নওমহলের এক পীরের মুরিদ। কী করে সেই পীর যে মা’র মগজধোলাই করেছিলেন! সেই পীর যা বলতেন, মা সব বিশ্বাস করতেন। একবার পীর বললেন তিনি মা’কে এবং তাঁর আরও কয়েকজন মুরিদকে উড়িয়ে নিয়ে যাবেন মক্কায়। হ্যাঁ উড়িয়ে, মা’রা কার্পেটের ওপর বসে থাকবেন, কার্পেটই নিজে নিজে উড়ে যাবে পবিত্র শহরটিতে। মা তো রীতিমত সুটকেস গুছিয়ে রেখেছিলেন। বাস্তববাদী মানুষও কী করে অমন অবাস্তব ব্যাপার বিশ্বাস করতে পারেন আমি জানি না। কিপ রিডিং…

অবিকল চর্যাপদের ভাষা রাজবংশী

অথোর- টপিক- অপিনিয়ন/লিড স্টোরি


‘টালত ঘর মোর নাহি পরবেসী,  হাড়িত ভাত নাই, নিতি আবেশী’

বাংলা ভাষার প্রাচীনত্ব প্রমাণ করা হয় চর্যাপদের ভাষা দিয়ে, অথচ ঢেণ্ঢনের লেখা চর্যাপদের ৩৩ তম এই পদটি পড়লে পরিষ্কার মনে হয়— চর্যাপদ বুঝি রাজবংশী ভাষাতেই লেখা।[1] এমন নয়, কাকতালীয়ভাবে চর্যাপদের ভাষাটা রাজবংশীর সাথে মিলে গেছে কিংবা এমনও নয় যে, চর্যাপদের সবটুকু ভাষাই রাজবংশী থেকে নেয়া। বরং বলার বিষয় হলো, চর্যাপদে যে ভাষার সাথে রাজবংশীর মিল রয়েছে, হাজার বছর ধরে এই ভাষাভাষীরা ঠিক সেই ভাষাতেই কথা বলছে, এতটুকু বদল ঘটে নি। অধ্যাপক আহমদ শরীফ যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছেন— “চর্যাপদ আদতে একটা সংগ্রহ। শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর নেপাল রাজদরবারে আমন্ত্রিত হলে এ অঞ্চলে প্রচলিত সহজিয়া পদগুলিকে সংগ্রহ করে ও লিপিবদ্ধ করে নিয়ে যান নেপালে। সংগ্রহের প্রশ্নে তখন বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন ভাষার পদ আসাটাই স্বাভাবিক ছিলো। অর্থাৎ চর্যাপদের সবগুলি পদ একই ভাষায় রচিত নয়। তাই কেউ যদি উপর্যুক্ত পদটি রাজবংশী ভাষায় লিখিত কোনো পংক্তি বলে আপনাকে নিরানব্বভাগ নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে আপনি না মেনে পারবেন না।

রাজবংশী ভাষাকেও বাংলার একটি উপভাষা বলা হয়ে থাকে, যদিও আজকাল অনেক গবেষকই অস্বীকার করেন। ভারতের উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. হরিপদ চক্রবর্তী দেখিয়েছেন— রাজবংশী ভাষায় বাংলা ও অসমির প্রাধান্য থাকলেও ভাষাটিতে অনেকাংশে তিব্বতী-বর্মন গোত্রের অন্তর্গত আদি বোড়োভাষার (বড়ুয়া ভাষার) বহুশব্দ বিদ্যমান রয়েছে। তাই রাজবংশী বাংলা বা অসমিয়ার উপভাষা বা শাখাভাষা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়।[2] এমনকি অনেকে এক কদম এগিয়ে বাংলাকেই রাজবংশীর অপভ্রংশ বলতে চান। সুনীতিকুমার ও ড. রফিকুল ইসলামও বাংলা ভাষায় বোড়ো প্রভাবের কথা উলেখ করেছেন। আবার অনেকের অভিমত— বাঙলা ভাষা রাজবংশী ভাষার সমসাময়িক একটি ভাষার পরের প্রজন্ম। হতে পারে, রাজবংশীর বিকশিত রূপ যখন প্রচলিত তখন তার প্রতিবেশী আরেকটি ভাষা পরবর্তীতে বিকশিত, বিবর্তিত হতে হতে আজকের বাংলা ভাষার রূপ নিয়েছে। ভাষার প্রাচীনত্বের বিবেচনায় এসব দাবিকে সর্বাংশে উড়িয়ে দেয়ারও উপায় নেই। ভাষাবিদদের গবেষণা বলে— রাজবংশী ভাষা ৪৮-৫৫ ভাগ বাংলা, ৪৩-৪৯ ভাগ মৈথিলি ও নেপালি শব্দ দ্বারা গঠিত। আবার অন্যদিকে রাজবংশীকে বুদ্ধানুসারীদের ধর্মীয় ভাষার ‘পালি’র নিকটাত্মীয়ও বলা হয়। হাচিসন ও ডালটনের লেখা থেকে জানা যায়—  ষোল শতকের দ্বিতীয়ার্ধে কোচ রাজা হাজোরের বংশধরগণ ‘কোচ’ ত্যাগ করে ‘রাজবংশী’ গ্রহণ করে। তারপর থেকেই এই ভাষার বিকাশ বৃদ্ধি পায়।


আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি ভাষার যথাসম্ভব সানুপুঙ্খ আলোচনার প্রয়াস পাবো । সত্যিকারের ভাষারূপ এবং ভাষাভাষী মানুষের শিক্ষা ও তিতিক্ষার ফসল তুলে আনতে আমাদের কসুর থাকবে না । পরবর্তী অধ্যায়গুলো দেখতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন । নজর রাখুন দ্য সুলতানে ।


কিপ রিডিং…

গো টু টপ