Daily archive

April 11, 2017

৭০% প্রিন্টিং খরচ কমাবে বিগপ্রিন্ট লেজার টোনার

অথোর- টপিক- প্রডাক্টস রিভিউ

বিগপ্রিন্ট ব্র্যান্ডের নতুন লেজার প্রিন্টার টোনার কার্টিজ বাজারে ছেড়েছে সিস্টেমআই টেকনোলজিস লিমিটেড। যা ব্যবহার করা যাবে এইচপি, ক্যানন, স্যামসাং, ব্রাদার, ডেল, লেক্সমার্ক, কনিকা মিনোলটাসহ যেকোন ব্র্যান্ডের লেজার প্রিন্টারে। স্থানীয় এক রেস্টুরেন্টে সাংবাদিক সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিগপ্রিন্ট টোনার বাজারে ছাড়ার ঘোষনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সিস্টেমআই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাসেল আহমেদ বলেন, বিগপ্রিন্ট টোনার যেকোন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের টোনারের সম পরিমান প্রিন্ট করতে সক্ষম ও অফিসের প্রিন্টিং খরচ সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমাবে। তিনি আরও জানান, বিগপ্রিন্ট টোনার আপাতত ঢাকার যেকোন স্থানে হোম ডেলিভারি করা হবে এবং পর্যাক্রমে সারাদেশে ঘরে বসেই টোনার পাওয়া যাবে। অনুষ্ঠানে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিগপ্রিন্ট টোনার প্রজেক্টের পরিচালক লুৎফুল এহসান ও আমির মো. সাইফুল ইসলাম। কিপ রিডিং…

ইয়াসির আরাফাত : দেশহীন ইতিহাসের নায়ক

অথোর- টপিক- /হাইলাইটস

বাংলাদেশের মুক্তি ও স্বাধীনতা মানে আমাদের মুক্তি ও স্বাধীনতা; আমি আপনাদের আনন্দ আমাদের আনন্দ বলেই অনুভব করি— একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বড় সমর্থক ইয়াসির আরাফাত ১৯৯৭ সালের ২৬ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে এই বক্তব্য দিয়েছিলেন স্বাধীনতা দিবসের মার্চপাস্টে অভিবাদন গ্রহণকালে। তার আগের দিন ২৫ মার্চ স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশে আসেন তিনি । আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আমন্ত্রণে আরেক কিংবদন্তী নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে। ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। পরদিন ২৭ মার্চ তিনি উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা স্মারক ‘শিখা চিরন্তন’ ও মুক্তিযুদ্ধ স্তম্ভ। আজীবন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু এই মহান নেতা একাধিকবার বাংলাদেশ সফর করেন বটে, বহুবার যাত্রা বিরতিও করেছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, কিন্তু এবারের পরে মৃত্যুপর্যন্ত আর এদেশে আসার সুযোগ হয় নি তার। ১৯৭৮ সালে চিন সফরের সময় তিনি বাংলাদেশে যাত্রাবিরতি করলে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেন।[1]


পত্র-পত্রিকা বলে— আরাফাতের জন্ম মিশরের কায়রোতে। কিন্তু আরাফাতের আমৃত্যু দাবি ছিলো— তিনি জন্মেছেন জেরুজালেমে জলপাই বনের ছায়াঘেরা তার মাতৃভূমিতে।


সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের সেই অনুষ্ঠানে সেদিন কয়েক লাখ মানুষের জমায়েত হয়েছিলো। তারা কি আরাফাতকে দেখতে আর তার কথা শুনতে এসেছিলেন? কেমন ছিলেন তিনি? ইতালির বিখ্যাত সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচি আরাফাতের অফিসে সাক্ষাৎকার নিয়ে ফিরে এসে সেই বিবরণ দিয়েছেন সমালোচকের ভঙ্গীতে— একেবারে কাঁটায় কাঁটায় যখন তিনি এলেন, মুহূর্তের জন্যে আমি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিলাম। নিজেকে বললাম— না, এ তিনি হতেই পারেন না। তাকে বেশ তরুণ মনে হচ্ছিলো; অতি সাধারণ। অন্তত: প্রথম দৃষ্টিতে তার মধ্যে এমন কিছু দেখলাম না, যাতে তাকে কতৃত্বের অধিকারী মনে হয়। তার গোঁফ লক্ষ্যণীয়; পুরু এবং সকল আরবের গোঁফের মতোই। কাঁধে ঝুলানো রাইফেল, যা তিনি কখনো খুলে রাখেন না। নিশ্চয় তার খুব প্রিয়। কিছুটা হাস্যকর। উচ্চতায় তিনি বেশ খাটো। আমার মনে হয় পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি। হাত, পা ছোট ছোট, বিশেষ করে মাংসল পা, গুরু নিতম্ব, স্ফীত উদরসহ দেহের ভার রক্ষার পক্ষে বেশ ছোট।

এসব কিছুর উপরে একটা ছোট মাথা। মুখটা যেন ফ্রেমে বাঁধা এবং মুখ দেখেই কেউ বুঝতে পারবে— এই তিনি। ইয়াসির আরাফাত। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বিখ্যাত গেরিলা। বিশ্বজুড়ে বহুল আলোচিত ব্যক্তিত্ব। অন্ধকারে হাজার মানুষের মাঝে খুঁজে পাওয়ার মতো মুখ। একজন অভিনেতার মুখ। শুধু তার শত্রু মোশে দায়ানের এক চোখের আবরণীর মতো তার কালোচশমার কারণেই যে তিনি সবার থেকে ব্যতিক্রম, তা নয়; বরং ব্যতিক্রম তার মুখোশের জন্য। এজন্য তাকে মনে হয় শিকারী পাখি বা ক্রুদ্ধ মোষের মতো।

তার গাল নেই, কপাল নেই। সবু কিছু লাল, পুরু ঠোঁটের সাথে একটা বিরাট মুখম-লে একাকার হয়ে গেছে। একটা উগ্র নাক এবং কালো কাচে আবৃত চোখ দুটো কাউকে সম্মোহিত করবে। এই চোখে তিনি আমাকে দেখছেন, কিছুটা অবচেতনভাবে। নরম ও আদুরে গলায় ইংরেজিতে উচ্চারণ করলেন— ‘গুড ইভনিং। দু’মিনিটের মধ্যে আপনার সাথে বসবো।’ তার কণ্ঠ কিছুটা রমণীয়।

.. কেউ যদি তার পরিচয় না জানে, তাহলে তাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে ভাববে শুধু দেহরক্ষীর কারণে। আমার সঙ্গে এপয়েন্টমেন্ট ছিলো রাত দশটায়।.. নির্ধারিত কক্ষে কয়েকটা চেয়ার, একটা টেবিল। ইয়াসির আরাফাত তার স্বয়ংক্রিয় রাইফেলটা টেবিলে নামিয়ে রাখলেন প্রদর্শনীমূলক ভঙ্গীমায়। সাদা দাঁতে হাসি ছড়িয়ে বসলেন।..[2]

এই সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের মার্চে জর্দানের রাজধানী আম্মানে। কিপ রিডিং…

গো টু টপ