Monthly archive

September 2017

ইসলামিক ব্যাংকিং এবং প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের মাঝে মৌলিক পার্থক্য কী?

অথোর- টপিক- অপিনিয়ন


এম আযীযুল হক : সাধারণত ব্যাংক বলা হয় (অপর বানান: ব্যাঙ্ক) এক ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা সাধারণ মানুষের সঞ্চয় সংগ্রহ করে পুঁজি গড়ে তোলে এবং সেই পুঁজি উদ্যোক্তাদের ধার দিয়ে বিনিয়োগে সাহায্য করে। এছাড়া আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংক দায়িত্ব পালন করে থাকে। আধুনিক পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাংক একটি দেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। দেশ-বিদেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-কে সচল ও কার্যকর রাখতে এর ভূমিকা অপরিসীম। ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্রীয় সঞ্চয়, লেনদেন ইত্যাদির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে এ প্রতিষ্ঠানটি। ব্যাংক ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় সঞ্চিত অর্থ জমা রাখে এবং ঐ অর্থ ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানে ঋণ গ্রহণ করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। নির্দিষ্ট সময় বা মেয়াদান্তে গ্রাহকের জমাকৃত অর্থের ওপর সুদ বা মুনাফা প্রদান করে।
আর Organization of Islammic Conference (OIC) কর্তৃক প্রদত্ত ইসলামী ব্যাংকের একটি সংজ্ঞা রয়েছে, যেটি সবচেয়ে সামগ্রিক ও বিশ্বজনীন। ইসলামী ব্যাংক এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা তার মৌলিক বিধান ও কর্মপদ্ধতির সকল স্তরেই ইসলামী শরিয়াহ নীতিমালা মেনে চলতে বদ্ধ পরিকর এবং কর্মকা-ের সব পর্যায়ে সুদকে বর্জন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই সংজ্ঞার আলোকে ইসলামী ব্যাংকের মৌলিক অবকাঠামো নির্ধারিত হয়- এক. আর্থিক প্রতিষ্ঠান হওয়া। দুই. মৌলিক বিধান ও কর্মপদ্ধতির সকল স্তর ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত হওয়া। তিন. শরিয়াহ নীতিমালা মেনে চলার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর থাকা। চার. কর্মকাণ্ডের সব পর্যায়ে সুদকে বর্জন করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়া।

পার্থক্য হলো- উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরুর মাঝে যেমন বা যতটুকু পার্থক্য রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বা ইসলামিক ব্যাংকিং এবং জেনারেল ব্যাংক বা জেনারেল ব্যাংকিংয়ের মাঝে তেমন পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু আফসোসের বিষয় হচ্ছে- এখন যেভাবে ইসলামিক ব্যাংকিং চর্চা হচ্ছে বা চলছে তাতে এই পার্থক্য জনসম্মুখে প্রকাশিত হচ্ছে না। মূল বিষয় হলো, মানি অ্যান্ড কমোডিটি- দুইটা দুই জিনিস। অর্থনীতির ভাষায় কমোডিটি হলো যার ইউটিলিটি আছে। যা আমাদের প্রয়োজন মিটাতে পারে তা হলো কমোডিটি। যেমন, ধান, চাল ইত্যাদি। এগুলো সরাসরি মানুষের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। আর মানি হলো- সে নিজে কোনো চাহিদা মিটানোর ক্ষমতা রাখে না কিন্তু পরিবর্তিত হয়ে, অন্য জিনিসে রূপান্তরিত হয়ে চাহিদা মিটাতে সক্ষম হয়। টাকা দিয়ে অন্য জিনিস এনে চাহিদা মিটানো সম্ভব, কিন্তু টাকা নিজে সরাসরি কোনো চাহিদা মিটাতে সক্ষম নয়।


পার্থক্য হলো- উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরুর মাঝে যেমন বা যতটুকু পার্থক্য রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বা ইসলামিক ব্যাংকিং এবং জেনারেল ব্যাংক বা জেনারেল ব্যাংকিংয়ের মাঝে তেমন পার্থক্য রয়েছে। মূল বিষয় হলো, মানি অ্যান্ড কমোডিটি। কনভেনশনাল ব্যাংক বা সাধারণ ব্যাংক টাকার ব্যবসা করে এবং ইসলামী ব্যাংক কমোডিটির ব্যবসা করে। সাধারণ ব্যাংকের ব্যবসা হচ্ছে মানি টু মানি। আর ইসলামিক ব্যাংকিং হলো বেইজড অন বাইয়া বা ব্যবসা। এখানে মানি টু মানির ব্যবসার কোনো অপশন নেই। 


কিপ রিডিং…

হালাল প্রসাধনী মুসলিম-অমুসলিম সবার জন্য উপকারী : সাইমন

অথোর- টপিক- ইন্টারভিউ/লিড স্টোরি

সাইমন ইমরান হায়দার- তারুণ্যদীপ্ত এন্টারপ্রেইনর। শৈল্পিক মানসিকতাবাহী একজন বিজনেস আইকন। সাইমন ইমরানের পিতার নাম ইউসুফ হায়দার এবং মাতার নাম জাহানারা হায়দার। সাইমনের বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা আর মা গৃহিণী। ১৯৮৩ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন হায়দার। পড়াশুনা করেছেন ধানমন্ডি সরকারি হাই স্কুল, ঢাকা সিটি কলেজ এবং প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়া উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক কোর্স সম্পন্ন করেছেন অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে। ব্যতিক্রমধর্মী ৭ টি প্রতিষ্ঠানের মাদার কোম্পানি সাইমন এ্যানমির সিরিয়াল এন্টারপ্রেইনর ও সম্মানিত চেয়ারম্যান তিনি। ছোটবেলা থেকেই ডিবেটিং, কাউন্সিলিংসহ নানাবিধ সমাজসেবামূলক কাজের সাথে জড়িত সাইমন বর্তমানেও ইনহ্যাবিটেন্ট হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামক একটি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান।

ব্যক্তিগত জীবনে পিতা ইউসুফ হায়দারের একমাত্র সন্তান সাইমনও এখন একমাত্র সন্তান ইয়াশাল হায়দার ইয়াছরিফের পিতা।  সাইমনের স্ত্রী সারাহ চৌধুরী আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর।

সৃজনশীল মানসিকতাকে ব্যবসায় খাটানো এবং সফলতা অর্জন করার শৈল্পিক মানসিকতা নিয়ে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, মিসর, চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভারত, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন সাইমন এবং অর্জন করেছেন বিচিত্র অভিজ্ঞতা। খুব অল্প সময়েই সাইমন কর্তৃক গৃহীত ব্যবসায়িক পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের মার্কেটে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং  বোদ্ধা মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। হালাল প্রসাধনী ও হালাল পণ্যে সাতসতের নিয়ে তার সাথে কথা বলেছেন মিরাজ রহমান

বিভিন্ন ধরনের পণ্যের ব্যবসা থাকতে আপনি হালাল পণ্য বা হালাল কসমেটিক্সের ব্যবসায়  কেন যুক্ত হলেন বা কেন এলেন?

প্রথমত, আমি ব্যবসায়িক দিক থেকে যেটা চিন্তা করি সেটা হলো, বাজারে গ্যাপটা কোথায়? ব্যবসার চাহিদা নির্ণয় করাটাকে আমি প্রথম গুরুত্ব দেই। একটা সময় মানুষ জুতা পরতো না। তখন কী হতো? আমাদের পায়ে ময়লা লেগে থাকতো। কাটার আঁচড় লাগতো। সুতরাং ধীরে ধীরে একটা প্রয়োজন সৃষ্টি হলো এবং এই প্রয়োজন পূরণেই কিন্তু জুতার আবিষ্কার হয়েছে। শুধু জুতা না; এভাবে আপনি যদি যে কোনো পণ্য বা বস্তুকে নিয়ে গবেষণা করেন দেখবেন যে, কোনো না কোনো প্রয়োজন বা চাহিদা থেকেই সে পণ্য বা বস্তুটির প্রসার ঘটেছে এবং এই প্রচার-প্রসারকে কেন্দ্র করে ব্যবসা গড়ে ওঠেছে। এই নীতিকে গাইডলাইন মেনে আমি একটি গ্যাপ আবিষ্কার করেছি এবং সেই গ্যাপটা পূরণের মানসিকতায় হালাল কসমেটিক্সের ব্যবসাটিকে নির্বাচন করেছি। তাছাড়া এই নীতি মেনে যে আমি কেবল এই একটি ব্যবসা করছি এমনটা নয়- আমাদের আরও কিছু ব্যবসা রয়েছে সবগুলো ব্যবসাকেই আমরা এমন কিছু মৌলিক নীতিমালায় গেঁথে পথ চলছি। এছাড়া ব্যবসার দুইটি দিক থাকে- একটি হচ্ছে শুধু লাভের চিন্তা করে ব্যবসা করা। আরেকটা হচ্ছে ব্যবসার মাধ্যমে মানুষের উপকার ও কল্যাণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া। মূলত এই দ্বিতীয় বিষয়টা মাথায় রেখেই আমি বা আমরা কাজ করার চেষ্টা করি। আমাদের ব্যবসার মূলনীতি হলো- পণ্য থেকে আসলে মানুষ কতটা উপকৃত হবে, সেটা প্রাধান্য দেওয়া। আর এই নীতিটাকে গ্রহণ করেছি বলেই হয়তো অন্য অনেক বা বিভিন্ন ব্যবসাকে নির্বাচন না করে হালাল কসমেটিক্সের ব্যবসাকে গ্রহণ করেছি। এরপর আমরা আরও দেখলাম বাংলাদেশে কোনো হালাল ব্র্যান্ডের কসমেটিক্সও নেই। এসব চিন্তা-গবেষণা করার পর আমরা উদ্যোগ নিলাম এবং আমরাই প্রথম বাংলাদেশে হালাল ব্র্যান্ডের কসমেটিক্স নিয়ে এলাম। কিপ রিডিং…

গো টু টপ