Monthly archive

December 2017

ফিলিস্তিনি গল্প— পোস্টারে সেঁটে থাকা সেই মেয়েটি

অথোর- টপিক- লিটারেচার/লিড স্টোরি

মূল— দিমা শাইবানি। ভাষান্তর— মনযূরুল হক


ক্ল্যারিফিকেশন— এ গল্পটি একজন আরব নারীর জীবন কাহিনী অবলম্বনে রচিত। এই মহিয়সী নারীর নাম ‘হানা শাইবানি’। ফিলিস্তিন মুক্তিযুদ্ধে শহিদ প্রথম ইরাকি যোদ্ধা।

হানা শাইবানি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪২ সালের ২৭ আগস্ট। ১৯৫৬ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাথ পার্টির সদস্য হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ১৯৫৮ সালে পার্টির মহিলা সদস্যাদের নেত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৬১ সালের দিকে দুর্নীতির ঘটনার প্রতিবাদে তিনি বাথ পার্টি ত্যাগ করেন এবং ইয়াসির আরাফাতসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত করে ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনে যোগদান করেন। ১৭ মার্চ ১৯৭০ সালে তিনি আন্দোলনরত অবস্থায় মাত্র ২৮ বছর বয়সে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।


সবাই বলে আমি নাকি আজন্মই খুব গল্পপ্রিয় মানুষ। আমার নিজের কাছেও তা-ই মনে হয়। গল্প শুনতে সব সময়ই বিশেষ ভালো লাগে আমার। ভালো লাগে শোনাতেও। কিন্তু ভূত-প্রেতের অহেতুক কিসসায় আমার বিরক্তি ভীষণ। শিশুরা কেউ যদি আমার কাছে গল্প শুনতে আসে, তাহলে আমি তাদের সেই সব কাহিনী গল্পের মতো করে সাজিয়ে বলি, যা তাদের মন-মগজকে শুধরে সুস্থ চিন্তার পথ তৈরি করে দেয়।

বহু মনমাতানো গল্পকথা মুখস্ত ছিলো আমার। হয়তো ছেলেবেলায় শুনেছি, অথবা শিশুতোষ বইগুলোতে পড়েছি। কিন্তু এক্ষণে বয়সকালের সব সূত্রাদি ছিঁড়েফুঁড়ে উপর্যুপরি নাবছিলাম একটি স্বপ্ন জাগানিয়া সুরের সন্ধানে। কাউকে শোনাতে নয়, নিজেই স্মরণ করতে চাইছিলাম যে, কী ঘটেছিলো তখন।

আমার চিরদিনের অভ্যাস, ছোট ছোট বিষয় থেকে গল্পের সূত্র খুঁজে বের করা। যেমন, বাড়িতে ভিক্ষুক এসেছে। আমি ভাবতাম, কেনো সে ভিক্ষা করছে। হয়তো তাকেই সেটা জিজ্ঞেস করতাম। অথবা তার পিছু লেগে থাকতাম, তার জীবনের গল্পটা উদ্ধার করার জন্যে। কিংবা হয়তো দেখা যেতো, রাস্তায় একটা চশমা পড়ে আছে। সেই চশমাটা কার হতে পারে, কী করে ফেলে গেলো, এ নিয়ে ভাবনার অন্ত ছিলো না আমার। সংবাদপত্রের বিজ্ঞপ্তি, বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠায় লেখা উপহার বাক্য, বাড়ির পাশের মরে যাওয়া যাইতুন গাছটার রোপনকর্তা, অথবা পুরোনো সুটকেসে নেকড়ার মতো ময়লা হয়ে থাকা এক খ- কাপড়রই হতে পারতো আমার গল্পের উৎস সন্ধানের বিষয়। বাড়ির মানুষ, পড়শি, স্বজন, পথের অপরিচিত যেই হোক কারো কাছে কোনো গল্প বা ঘটনা জানতে চাইতে আমার কোনো সংকোচ ছিলো না কখনোই। ফলে অল্প বয়সেই নানান গল্পের একটা ভা-ার জমা হয়ে গেছে আমার স্মৃতিতে।

গল্পের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণেই কখনো কখনো একটা গল্পের সঙ্গে আরেকটা গল্পের সূত্র জোড়া লেগে গিয়ে মাঝমধ্যে এমন কিম্ভূত পরিস্থিতিরও উদয় হতো যে, আমি রীতিমতো লজ্জায় পড়ে যেতাম। অনক সময় রাশি রাশি গল্পের স্তূপের তলে চাপা পড়ে থাকা কোনো একটা গল্প মগজ নাড়া দিয়ে যেতো। কিন্তু মাথা থেকে মুখে আনতে গিয়েই লাগতো গোলমাল। অর্থাৎ মাথায় আছে, কিন্তু মনে আসছে না। অথবা মনেও আসছে কিন্তু ধরে রাখতে পারছি না বেশিক্ষণ।

আজো মনে হচ্ছে, তেমন কিছু একটা ঘটেছে। আমি মনে করতে চাইছি। অথচ মনে আসছে না। আবার একটু একটু করে মনে আসছে। কিন্তু মুখে আসছে না। বাসার সামনের দেয়ালে নানুর লাগানো পোস্টারটা দেখে পুরোনো একটা গল্প চাগিয়ে উঠতে চাইছে। বারংবার চোখের পাতায় ভেসে উঠছে তেমনই একটা মলিন পোস্টার। দেয়ালে সাঁটা বিবর্ণ একটা ছবি। তাতে কিছু হরফ, লাল কালিতে লেখা কতগুলো অক্ষর জ¦ল জ¦ল করছে যেনো।

আমি মনে হয় নানুর সাথে কোনো শপিং মলে গিয়েছিলাম সেদিন। কী কী কিনেছিলাম মনে নেই। তবে এইটুকু মনে আছে যে, আমাদের কারো হাতে কোনো শপিং ব্যাগ ছিলো না। হয়তো কিছুই কিনি নি। নানুর সাথে ঘুরতে বেড়ানোই উদ্দেশ্য ছিলো শুধু। মনে পড়ছে, নানু আমার হাত ধরে আছেন, আর আমরা এক পা এক পা করে সিঁড়ি ভেঙ্গে নামছি। শপিংমলের বাইরে এসে আমি নানুর হাতটা ছেড়ে দিলাম। কারণ আমি সেখানের দেয়ালে একটা মেয়ের পোস্টার দেখতে পাচ্ছিলাম। একটা কিশোরী মেয়ের ছবি আঁকা পোস্টার। সম্ভবত আমার বয়েসিই হবে মেয়েটা।

আশ্চর্য হয়েই পোস্টারটার সামনে দাঁড়ালাম আমি। একটা কিশোরী মেয়ে কী করে এমন একটা পোস্টারে জায়গা করে নিলো ভেবে পাচ্ছিলাম না আমি। ঈর্ষায় জ্বলে গেলো ভেতরটা। আরো একটু কাছাকাছি হয়ে পোস্টারের লেখাগুলো পড়তে চেষ্টা করলাম আমি। তাতে লেখা ছিলো— “মৃত্যু অবশ্যই আসবে, কিন্তু উপযুক্ত মূল্য না পেলে মৃত্যুকে কিছুতেই বরণ করা উচিত নয়; আর স্বাধীনতার চেয়ে উপযুক্তমূল্য আর কিছুই হতে পারে না।”

অবাক হয়ে গেলাম আমি। আমার মতো একটা মেয়ে কী করে এতো কঠিন কথা বলতে পারে! অনেকগুলো পোস্টার দেয়ালটা জুড়ে। বিচিত্র বিজ্ঞাপনে ঠাসা দেয়ালটা। তবে সবচে’ সুন্দর ছিলো সম্ভবত এই পোস্টারটাই। একটা নয়, পর পর একসাথে চার-পাঁচটা পোস্টার ছিলো এই একই ছবি আর লেখা দিয়ে তৈরি। কেউ দেখে ফেললে বকবে, সে ভয়ের কথা না ভেবেই একটা পোস্টার টেনে নামিয়ে আনলাম আমি। এবং দুহাতে মুড়ে জামার হাতার ভেতরে লম্বালম্বি ঢুকিয়ে রাখলাম, যেনো হঠাৎ করেই কেউ বুঝতে না পারে যে, আমার কাছে কিছু একটা আছে।

হ্যাঁ, এখন আমার স্পষ্ট মনে পড়ছে ঘটনাটা। রাতে পড়ার রুমে বসে আমি চুপি চুপি পোস্টারটা বের করে আবার টেবিলে রাখলাম। অথচ সেটা কোনো গোপন বিষয় ছিলো না। তবু আমার মনে হলো, এটা দেখলে অন্যরা হয়তো অযাচিত ভেবে আমাকে বোকা বলতে পারে। হয়তো আমার ভাইয়েরা হাসাহাসি করবে আর আমার বোকামি সবাইকে বলে বেড়াবে। খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে লাগলাম পোস্টারের রঙ, ছবি আর লেখাগুলো। হতে পারে তখন কিছু বাদ পড়ে গেছে যা আমার পড়া হয় নি। চারকোণা একটা পোস্টার। চারপাশে সাদা-কালো ডোরাকাটা আল্পনা আঁকা ফ্রেম। ছবিটা পোস্টারের গায়ে কোণাকুণিভাবে লাগানো। মনে হচ্ছে মেয়েটা একটু কাত হয়ে আছে। আর ছবির একেবারে নীচে বড় বড় করে লাল হরফে লেখা— ‘মৃত্যু অবশ্যই আসবে, কিন্তু উপযুক্ত মূল্য না পেলে মৃত্যুকে কিছুতেই বরণ করা উচিত নয়; আর স্বাধীনতার চেয়ে উপযুক্ত মূল্য আর কিছুই হতে পারে না। কিপ রিডিং…

গুগল আপনার যে খবরগুলো রাখে, আপনি কি তা জানেন?

অথোর- টপিক- ইন্টারনেট

লিখেছেন মোজাম্মেল হোসাইন ত্বহা


সারা পৃথিবীতে সম্ভবত আপনাকে সবচেয়ে ভালোভাবে চেনে গুগল এবং ফেসবুক। আপনার নাম, ঠিকানা, বয়স, ভাষা, আপনি সারা জীবনে গুগলে কী কী সার্চ করেছেন, অর্থাৎ আপনার পছন্দের বিষয়গুলো কী কী, ইউটিউবে আপনি কোন ভিডিও কতক্ষণ ধরে দেখেছেন, আপনার কণ্ঠস্বর এবং বাচনভঙ্গি কী রকম, আপনি বছরের কোন দিন কোথায় ছিলেন, আপনি কার সাথে কতগুলো ইমেইল আদান-প্রদান করেছেন, কী কী বিষয়ে চ্যাট করেছেন- এসবই গুগল জানে এবং যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করে রাখে! আপনি যদি গুরুত্বপূর্ণ কেউ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার ভয় পাওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে গুগল আপনার সম্পর্কে এমন প্রোফাইল তৈরি করতে পারবে, যা হয়তো আপনি নিজেও নিজের সম্পর্কে জানেন না।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কেউ না হলেও আপনার সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ। গুগল হয়তো আমার-আপনার মতো সাধারণ ব্যক্তির তথ্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করবে না, কিন্তু আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না অন্য কেউ কখনও আপনার অগোচরে আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে এসব তথ্য জেনে ফেলুক! বিশেষ করে যখন মাত্র দশ মিনিটের জন্য আপনার মোবাইল ফোন বা ব্যক্তিগত কম্পিউটারটির দখল পেলেই যে কারও পক্ষে এই তথ্যগুলো জানা সম্ভব! কাজেই গুগল আপনার সম্পর্কে ঠিক কী কী জানে এবং সেগুলো আপনি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে বা মুছে ফেলতে পারেন, তা জেনে রাখা আপনার নিরাপত্তার জন্যই প্রয়োজনীয়।

গুগল আপনার সম্পর্কে ঠিক কী কী তথ্য সংরক্ষণ করে রেখেছে, সেটা জানতে পারবেন গুগল ড্যাশবোর্ড এবং মাই অ্যাকটিভিটি থেকে। গুগলে লগ-ইন করা অবস্থায় এই লিংকে ক্লিক করলেই গুগল আপনার অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য আপনার সামনে হাজির করবে। এরপর সেখানে থেকে কোন তথ্যগুলো আপনি রাখতে চান, আর কোনগুলো মুছে ফেলতে চান, সেটি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

আপনি সারা জীবনে কী কী সার্চ করেছেন : গুগল এবং সার্চ যেন একে অপরের প্রতিশব্দ। বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের কম্পিউটারের ব্রাউজারেই হোমপেজ হিসেবে গুগল সেট করা। সার্চ করা বোঝাতে অনেকেই এখন ‘গুগল করা’ শব্দ দুটি ব্যবহার করে। কিন্তু আপনি কি জানেন, জিমেইল অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে লগইন করা অবস্থায় এ পর্যন্ত সারা জীবনে আপনি যত হাজার বা লক্ষ বিষয় সার্চ করেছেন, তার সব কিছুই গুগল সংরক্ষণ করে রেখেছে?

আপনার হাজার হাজার সার্চ লিস্ট দেখতে হলে প্রথমে এই লিংক থেকে গুগলের My Activity পেজে যান। এখানে Today সেকশনের নিচে অবস্থিত Search এর উপর ক্লিক করলেই আপনার সকল সার্চ করা বিষয়ের তালিকা সময় অনুযায়ী আপনার সামনে হাজির হবে। সেকশনটির নাম Today হলেও আপনি নিচে নামতে থাকলে ধীরে ধীরে গতকালের, তার আগের দিনের, এভাবে আপনার সর্বপ্রথম সার্চ আইটেম পর্যন্ত দেখতে পারবেন। কিপ রিডিং…

পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভবন কোনটি?

অথোর- টপিক- লিভিং

বুর্জ খলিফা— বর্তমানে পৃথিবীর গগনচুম্বী অট্টালিকা বা উচ্চতম ভবন। ২০১০ সালের যা ৪ জানুয়ারি ভবনটি উদ্বোধন করা হয়েছে। এটি আরব আমিরাতের দুবাই শহরে অবস্থিত। দুবাই টাওয়ার নামেও বেশ পরিচিতি এই ভবনটি। নির্মাণকালে এর বহুল প্রচারিত নাম বুর্জ দুবাই থাকলেও উদ্বোধনকালে নাম পরিবর্তন করে বুর্জ খলিফা রাখা হয়।

জরুরি কিছু তথ্য— ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিলো ২০০৪ সালে। যা ২০০৯ সালে গিয়ে শেষ হয় এবং ২০১০ সালে উদ্বোধন হয়। ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি এতটাই উঁচু যে এর নিচতলা থেকে সর্বোচ্চ তলার মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ভবনটিতে এমনও লিফট আছে যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ মাইল। মুল ভবনটি ২৭১৭ ফিট উচু। ভুমি থেকে উপরে ১৬০ টি ফ্লোর আছে। নিচে মানে বেইজমেন্ট আছে ১টি। প্রায় ৩০০০ গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা আছে।

নির্মাণ করলো যারা— বুর্জ খলিফার মালিকানা দুবাইয়ের একটি আধা সরকারি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি এমিরাত প্রোপার্টিজ। এর স্থপতি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের অড্রিয়ান স্মিথ। এর নকশা প্রণয়নকারী হলো যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্কিডমোর ওয়িংস অ্যান্ড মেরিল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং, বেলজিয়ামের বিইএসআই এক্স গ্রুপ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্বটেক। প্রায় দুই কোটি ২০ লাখ শ্রম ঘণ্টা লেগেছে ভবনটি নির্মাণে। এ প্রকল্পে জড়িত ছিলেন ৩৮০ জন দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ। কিপ রিডিং…

ভিন্ন ধারার ইসলাম প্রচারক— ডা. জাকির নায়েক

অথোর- টপিক- /লিড স্টোরি

গ্রেট প্রিচার অব ইসলাম— ০১


ইসলাম শ্রেষ্ঠ ধর্ম। কুরআনে এই কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। ইসলামকে অসহনশীল হিসেবে তকমা দেয়া হয়, এটা আসলেই তাই, কিন্তু তা দুর্নীতি, বৈষম্য, অবিচার, ব্যাভিচার, মাদক এবং সকল খারাপ বিষয়বস্তুর প্রতি। ইসলাম হল সবচেয়ে “সহনশীল” ধর্ম, যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের মূল্যবোধের প্রতি সমর্থন ঠিক থাকে। এমনটাই বলেন ডা. জাকির নায়েক।

ডা. জাকির নায়েক। তিনি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম একজন ইসলাম ধর্মের প্রচারক। মানুষকে বিভিন্নভাবে ধর্মের পথে আহ্বান করাই তার কাজ। কখনো হয়তো তিনি বিভিন্ন ধর্মতত্ত্বের ব্যাখ্যা করে বা বিভিন্ন ধর্মের তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইসলামের অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করে মানুষকে ইসলামের পথে আহ্বান করছেন। আবার কখনো হয়তো কুরাআন হাদিসের আলোকে মানুষকে সঠিক পথের দিকে আহ্বান করছেন। থমাস ব্লম হানসেন লিখেছেন যে, ডা. জাকিরের ধর্মপ্রচার কর্মকা- মুসলিমদের মাঝে তাকে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তার আলোচনার বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে কয়েকটি হল, “ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞান”, “ইসলাম ও খ্রিস্টধর্ম”, এবং “ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ”।

জন্ম ও শিক্ষাকার্যক্রম : ১৯৬৫ সালের ১৮ অক্টোবর ভারতের মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার মূল নাম হচ্ছে, জাকির আবদুল করিম নায়েক। তিনি মুম্বাইয়ের সেন্ট পিটার’স হাই স্কুল (আই.সি.এস.ই) থেকে মাধ্যমিক এবং চেল্লারাম কলেজ, মুম্বাই থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর টপিওয়ালা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, নায়ের হসপিটাল, মুম্বাই থেকে পড়াশুনার পর মুম্বাই ইউনিভার্সিটি থেকে চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেন।

কিপ রিডিং…

১০টি বিখ্যাত শহরের ১০টি প্রচীনতম ছবি!

অথোর- টপিক- ফটোগ্রাফি

১৮২৬ সালে ফরাসী বিজ্ঞানী জোসেফ নিসেফর নিয়েপ্স হেলিওগ্রাফ প্রক্রিয়ায় ছবি তোলার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এর কয়েক বছরের মধ্যেই তার সহযোগী এবং আরেক ফরাসী ফটোগ্রাফার এবং উদ্ভাবক লুই ড্যাগার যখন অপেক্ষাকৃত দ্রুতগতিতে ড্যাগারোটাইপ প্রক্রিয়ায় ছবি তোলার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, তখন থেকেই দেশে দেশে ফটোগ্রাফাররা ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন আকর্ষণীয় দৃশ্যগুলোকে ফ্রেমে বন্দী করে রাখার উদ্দেশ্যে। স্বাভাবিকভাবেই প্রথমদিকে তোলা ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বিশ্বের প্রধান প্রধান শহরগুলোর বিখ্যাত স্থাপনা, প্রধান চত্বর, অথবা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো। ফিচারটি লিখেছেন মোজাম্মেল হোসাইন তোহা

জেরুজালেম/আল-কুদস : ১৮৪৪ সালে তোলা এই ছবিটি আল-কুদসের কোব্বাতুস সাখরা তথা ডোম অফ দ্য রকের সবচেয়ে প্রাচীন ছবি। সে সময় আল-কুদস ছিল উসমানীয় (অটোমান) সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছোট একটি শহর, যার জনসংখ্যা ছিল মাত্র ১৫,০০০। ছবিটি তুলেছিলেন ফরাসী ফটোগ্রাফার জোসেফ ফিলিবার্ট গিরো ডি প্রাঞ্জে। মূল ছবিটি ১৮৪৪ সালে তোলা হলেও তার সন্ধান পাওয়া যায় ১৯২০ সালে, তার মৃত্যুর বহু বছর পর, তার স্টোর রুম থেকে। গিরো ডি প্রাঞ্জে মধ্যপ্রাচ্যের স্থাপত্যের প্রতি বিশেষ আগ্রহী ছিলেন। ছবি তোলার প্রযুক্তি আবিষ্কারের পরপরই তিনি ফরাসী চিত্রশিল্পী এবং উদ্ভাবক লুই ড্যাগারের কাছ থেকে ড্যাগারোটাইপ পদ্ধতিতে ছবি তোলার উপর প্রশিক্ষণ নেন এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপত্যের প্রায় ৯০০ ছবি তোলেন।


১৮৪৪ সালে তোলা জেরুজালেমের প্রাচীনতম ছবি


কিপ রিডিং…

মিশরের গ্রেট পিরামিডের নির্মাণ রহস্য

অথোর- টপিক- হেরিটেজ

লিখেছেন সাকিব মুস্তাবি


মিশর নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পিরামিডের ছবি। নীলনদের তীরে  সুপ্রাচীনকালে গড়ে ওঠা মিশরীয় সভ্যতার অনেকগুলো অনন্য নিদর্শনের মধ্যে নিঃসন্দেহে পিরামিড সবচেয়ে বিস্ময়কর ও রহস্যময়। প্রায় ৫০০০ বছর ধরে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই পিরামিডকে ঘিরে। এমনকি আজকের আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও খুঁজে পাওয়া যায়নি পিরামিডের অনেক রহস্যের কূল কিনারা। তাই প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চার্যের অন্যতম মিশরের পিরামিডের উপর সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনটি।

যে কারণে নির্মাণ করা হয় পিরামিড : প্রাচীন মিশরীয়দের ধর্ম বিশ্বাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল পরকালে বিশ্বাস। তারা বিশ্বাস করতেন মৃত্যু হল নশ্বর দেহ থেকে পরকালে আত্মার স্থানান্তর। সেখানেও একটি জগত রয়েছে। সেখানেও প্রয়োজন হবে ধন, দৌলত ও অন্যান্য জাগতিক বিষয়াদির। তাই রাজা ও রাণীদের মৃত্যুর পর মৃতদেহের সাথে সাথে দিয়ে দেওয়া হত সোনা, রূপা ও মূল্যবান রত্নাদি। তাঁদের দেহকে সংরক্ষণ করা হত মমি বানিয়ে এবং হত্যা করা হত তাঁদের দাস দাসীদের যাতে পরকালে সেবার অভাব না হয়। কিন্তু সমস্যা হল এই মমি ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী একটি নিরাপদ স্থানে না রাখলে চুরি হয়ে যাওয়ার ভয় আছে। তাই পিরামড তৈরিরও আগে নির্মাণ করা হত ট্রপিজয়েড আকৃতির মাস্তাবা নামক সমাধি। কিন্তু প্রাচীনকালে রডের ব্যবহার ছিল না। সেকারণে এই মাস্তাবাগুলো বেশি উঁচু বানানো ছিল অসম্ভব। তাই কালক্রমে এই মাস্তাবাগুলোর পরিবর্তে স্টেপ পিরামিডের ডিজাইন গৃহীত হতে লাগল। এর পেছনের মূল কারণ পিরামিডের জ্যামিতিক গঠন। আমরা জানি কোন বিল্ডিং এর পুরো ওজন তার ভিত্তির উপর পড়ে। তাই উচ্চতা যত বেশি হবে ভিত্তি হতে হবে তত শক্ত। পিরামিডের ক্ষেত্রফল উচ্চতার সাথে সাথে হ্রাস পেতে থাকে। পিরামিডের ভিত্তির ক্ষেত্রফল উপরের স্তরগুলোর চেয়ে বেশি হওয়ায় এর উপর চাপও পড়ে কম এবং স্থাপনাটি শক্তিশালী হয়। তাই অনেক উঁচু সমাধি নির্মাণের একমাত্র রাস্তা ছিল পিরামিড শেপের ডিজাইন গ্রহণ করা।

প্রথম দিকের পিরামডগুলো ছিল অমসৃণ স্টেপ পিরামড যেগুলো মিশরের প্রথম তিনটি মহান রাজবংশের আমলে নির্মাণ হত। তবে চতুর্থ রাজবংশের সময় থেকে নির্মাণ করা শুরু হল প্রকৃত পিরামিড আকৃতির সমাধি। এছাড়া পিরামিডের উচ্চতা ক্রম হ্রাসমান হওয়ায় এর আরও একটি দার্শনিক তাৎপর্য ছিল। মনে করা হত পিরামিডগুলো যেন ক্রমেই মিলিয়ে যাচ্ছে পরজগতের পানে। পিরামিডের আর্কিটেক্টরা ছিলেন প্রাচীন মিশরীয় পুরোহিত যারা ইমহোটেপ নামে পরিচিত ছিলেন। এ থেকে বোঝা যায় তাঁদের কাজ শুধু আধ্যাত্মিক জগতেই সীমাবদ্ধ ছিলনা বরং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিও ছিল পুরোহিত কেন্দ্রিক। কিপ রিডিং…

বিবিসি স্পোর্টস পারসোনালিটি অব দ্য ইয়ার— স্যার মু ফারাহ

অথোর- টপিক- /স্পোর্টস

ইয়াং সুলতান— ০১


২০১৭ সালের বিবিসি স্পোর্টস পারসোনালিটি অব দ্য ইয়ার পুরস্কার জয়ী হয়েছেন ব্রিটিশ মুসলিম নাগরিক স্যার মু ফারাহ। ১১ জন প্রার্থীকে পিছনে ফেলে এই পর্বে পুরস্কার তুলে নেন তিনি। ফারাহ সর্বমোট ৮৩,৫২৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন এবং ৮০,৫৬৭ ভোট নিয়ে সুপারবাইকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জনাথন রিয়া দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। এই প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয়েছেন প্যারাঅলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন জোনি র‌্যাকক।

লিভারপুলে আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়া হয় এই পুরস্কার। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলেও একটি লাইভ ভিডিওতে তার অনুভূতি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিশ্বের এতো বড় বড় খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করাটা সত্যি আনন্দের। এই পুরস্কার অর্জন করতে আমার প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমি আসা করছি তরুণ প্রজন্মও আমার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কঠিন পরিশ্রম করতে শিখবে।

তিনি তার অর্জনে ইসলামের ভূমিকার কথাও বলেছেন। তিনি বলেন, আপনাদেরকে অবশ্যই আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। সবকিছুই কোন একটি কারণে হয়ে থাকে, যাতে করে আপনি সমস্যায় না পড়েন। আমি মনে করি, আমি যেমন সবকিছুই হালকাভাবে নেই, সকলেরই সবকিছু হালকাভাবে নিতে হবে। এটি অবশ্যই মুসলিম হওয়া এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত। কুরআনে বলা আছে, সব কাজেই আমাদেরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এইজন্যেই আমিও আমার ট্রেনিং-এ পরিশ্রম করেছি, এবং এটি আমাকে এই পর্যায়ে এনে দিতে সাহায্য করেছে। আমি সাধারণত দৌঁড়ানোর আগে নামাজ পড়ি আল্লাহর কাছে দোআ করি এবং মনে করি আমি এতদূর আসার জন্য এটাই সব থেকে বড় ভূমিকা।

কিপ রিডিং…

২০১৭ সাল জুড়ে যে সাতটি বিষয় গুগলে সবচেয়ে বেশি সার্চ করা হয়েছে

অথোর- টপিক- ইন্টারনেট

বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশিবার সার্চ করা ব্যক্তিদের তালিকায় এক নম্বরেই আছে মডেল সাবিলা নুর।


বিশ্বব্যাপী মানুষ ২০১৭ সাল জুড়ে সবচেয়ে বেশি কী কী বিষয় সার্চ করেছে গুগুলে। স্বয়ং সার্চ ইঞ্জিন গুগল তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সাধারণভাবে বিভিন্ন বিষয় সার্চ করার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এবং বিভিন্ন দেশ থেকে সার্চ করা সেরা দশটি বিষয়ের তালিকাও রয়েছে এতে। ২০১৭ সাল জুড়ে গুগলে সবচেয়ে বেশি সার্চ করা বিষয়গুলো নিয়ে আজকের আয়োজন।

এক. আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে বেশি সার্চ করা হয়েছে হারিকেন ঝড় ইরমার নাম (Hurricane Irma)। এ বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে প্রলয়ঙ্করী ঝড়টি আঘাত হেনেছিল যুক্তরাষ্ট্রে। এরপরেই আছে যথাক্রমে আইফোন ৮ (iPhone 8) এবং আইফোন এক্স (iPhone X)। বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি সার্চ করা ব্যক্তির তালিকায় প্রথমেই আছে ম্যাট লয়ারের (Matt Lauer) নাম। এই মার্কিন সাংবাদিক এবং টিভি উপস্থাপক তার সহকর্মীদেরকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে বছর জুড়ে আলোচিত ছিলেন। তার নাম একইসাথে বিশ্বজুড়ে সার্চ করা সাধারণ তালিকায়ও চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে। এছাড়াও সবচেয়ে বেশি সার্চ করা ব্যক্তিদের তালিকায় অন্য যারা স্থান পেয়েছে, তাদের অধিকাংশই যৌন কেলেংকারির দায়ে অভিযুক্ত। তালিকার অন্য কয়েকজন হলেন Meghan Markle, Nadia Toffa, Harvey Weinstein, Kevin Spacey প্রমুখ।

দুই. সেলিব্রেটিদের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশিবার সার্চ করা হয়েছে মেগান মার্কেলের (Meghan Markle) নাম। গত নভেম্বরে ব্রিটিশ রাজপুত্র হ্যারির সাথে মার্কেলের বাগদান সম্পন্ন হওয়ার কালে তিনি আলোচনার শীর্ষে উঠে আসেন। আলোচিত অন্যান্য তারকারা হলেন Kevin Spacey, Gal Gadot, Louis C.K., Meryl Streep প্রমুখ। কিপ রিডিং…

আনিসুল হক— একজন আলোকিত নগরপিতা

অথোর- টপিক- /লিড স্টোরি/সুলতান স্টোরি

জীবনের সাফল্যের নেপথ্যে তার মায়ের অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করতে গিয়ে তিনি নিজেই বলেছেন, জীবনে সাফল্য অর্জনের পথে প্রত্যেকটা মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গাটা কি জানো? সেটা হচ্ছে মায়ের দোয়া।


এই তো মাত্র কয়টা দিন আগের কথা। হঠাৎ-ই খবর এলো তিনি আর নেই। তিনি আমাদের সবাইকে ছেড়ে মহান রবের ডাকে সাড়া দিনে চলে গেছেন। তিনি আর কখনো আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন না। আমাদের এই ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে সারাক্ষণই তিনি কত চেষ্টাই না করেছেন। আমাদের এই শহরের যেকোন সংকটে রাত নেই, দিন নেই ছুটে গিয়েছেন। এতো ছোটাছুটি করতেন। কিন্তু  এই ছোটাছুটি বাবদ তিনি কখনও সরকারি অর্থ ব্যয় করতেন না। এমনকি নিজের প্রাপ্ত বেতনও দিয়ে দিতেন কর্মচারীদের।

বলছি সদ্যপ্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের কথা। তিনি শুধু মেয়রই ছিলেন না, ছিলেন নগরের অভিভাবক, নগরপিতা। একজন মেয়র হয়েও তিনি যেন ছিলেন সকলের স্বজন, একান্ত প্রিয়জন। পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন, স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়েও চলছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ-ই যেন সবকিছু থমকে গেলো! তিনি আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেলেন।

একজন আনিসুল হক : তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং টেলিভিশন উপস্থাপক। তিনি বিজিএমই-এর সভাপতি ছিলেন, পরে এফবিসিসিআইর সভাপতি হন। পরবর্তীতে সার্ক চেম্বারের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৫২ সালে চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালী জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তার শৈশবের বেশ কিছু সময় কাটে তার নানাবাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। সেখানেই তার প্রথমিক লেখাপড়। এর পরে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন এবং সর্বশেষ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।

একজন মায়ের দোয়া এবং আনিসুল হক : আনিসুল হকে জীবনের সাফল্যের নেপথ্যে তার মায়ের অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করতে গিয়ে তিনি নিজেই বলেছেন, জীবনে সাফল্য অর্জনের পথে প্রত্যেকটা মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গাটা কি জানো? সেটা হচ্ছে মায়ের দোয়া। সেই মা আমার মা, সেই মা তোমার মা, সেই মা সবার মা; সব মায়ের এক চেহারা। আমার মায়ের গল্পটা বলি। আমার মা খুব একটা শিক্ষিত ছিলেন না। আমার কিছু হলেই আমি মায়ের কাছে গিয়ে বলতাম, “আমার গায়ের ওপর একটা পা রাখো তো, আর আমাকে একটা ফুঁ দাও!” আমার জীবন এখনও ফুঁ’য়ের ওপর চলছে। আমি যখন মেট্রিক পরীক্ষা দিচ্ছি, একটা পরীক্ষার আগে আমার খুব জ্বর, একশো চার ডিগ্রী হবে। সকালবেলা উঠে আমি বললাম, মা, আমি তো পরীক্ষা দিতে পারবো না। মা বললেন, এটা কি হয় নাকি রে বাবা, পরীক্ষা না দিলে তুমি এক বছর পিছিয়ে যাবে না? আমি বললাম, আমার তো কোন উপায় নেই, আমি চোখে কিছু দেখছি না। উনি অনেক দোয়াটোয়া পড়ে আমাকে ফুঁ দিলেন, আমার হাত ধরে বললেন, চলো যাই। তিন ঘন্টার পরীক্ষা দুই ঘন্টা লিখে বেরিয়ে এলাম, বাইরে চিন্তত মুখে মা বসে আছেন। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, সবকিছু ঠিকঠাক লিখেছো? আমি বললাম, না মা, চৌত্রিশের উত্তর করে এসেছি। মা বললেন, পাশ কতোতে? আমি বললাম, তেত্রিশ। তোমার ফুঁ’তে আর কাজ হবে না মা। উনি বললেন, কাজ না হোক, এবার নামাজ পড়ে একটা ফুঁ দেই। মা সেখানে নামাজ পড়লেন দুই রাকাত, তারপর ফুঁ দিলেন সারা গায়ে। হয়তো এটা একটা কাকতালীয় ব্যপার হতেই পারে, কিন্ত পরীক্ষায় আমি চৌত্রিশে চৌত্রিশই পেয়েছিলাম!

এখনও কোন বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলে আমি মায়ের কবরের কাছে গিয়ে দাঁড়াই। মেয়র নির্বাচন করার প্রস্তাব যখন আমাকে দেয়া হলো, আমি খুবই বিপদে পড়ে গেলাম। এত কঠিণ একটা কাজ আমাকে দিয়ে হবে কিনা, এসব নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমার বাবার বয়স পঁচানব্বই, বাবাকে গিয়ে বললাম, বাবা, কি করবো? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান যে আমি মেয়র হই। বাবা বললেন, “তোমার মায়ের কাছে যাও। মায়ের কবরের কাছে গিয়ে দাঁড়াও, নিজেই বুঝতে পারবে কোনটা করা উচিত।” এটা একটা শক্তি, অন্যরকম একটা শক্তি। মানুষকে সাহসী করে তোলে।

কিপ রিডিং…

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ডিজিটাল আর্কাইভ

অথোর- টপিক- মেমোরিয়াল

মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোনো অবান্তর ঘটনা পিন করা হলে কিংবা পিনকৃত ঘটনাটির সত্যতা না পাওয়া গেলে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাপ থেকে মুছে ফেলা হবে।


দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের লাখো ইতিহাস ও ঘটনাকে এক সুতোয় গাঁথতে মুক্তিযুদ্ধের ওপর সর্ববৃহৎ ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে প্রিয় লিমিটেড। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে রাখার এ উদ্যোগের নাম দেয়া হয়েছে প্রিয় মুক্তি পিন। ডিসেম্বরজুড়ে দেশের ৬৪ জেলায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে ও প্রিয়.কমের সরাসরি তত্ত্বাবধানে মুক্তিযুদ্ধের ছোটবড় ঘটনাগুলোকে শনাক্ত করে অজানা ও ক্ষয়িষ্ণু প্রায় ইতিহাসকে দীপ্তিময় করে তোলা হবে। এসব ঘটনা ও ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা হবে বাংলাদেশের ডিজিটাল মানচিত্রের ওপর। এ ডিজিটাল আর্কাইভ ইতিহাসকে পৌঁছে দেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে, যাতে প্রজন্মান্তরে আমাদের অমূল্য মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রামের ঘটনা হারিয়ে না যায়। এ ব্যাপারে প্রিয় লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাকারিয়া স্বপন বলেন, সর্বস্তরের বাংলাদেশি নাগরিককে এই উদ্যোগে সংযুক্ত করতে ডিসেম্বর থেকে প্রিয় মুক্তি পিন সফটওয়্যারটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে রাখা হবে। উন্মুক্ত করা হবে মোবাইল অ্যাপ।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে আগ্রহী যে কেউ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুক্তি পিন ম্যাপের মাধ্যমে প্রকাশ করে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই ডিজিটাল আর্কাইভের অংশ হতে পারবেন। প্রিয়.কমের নিজস্ব বিচারক প্যানেল পিনদাতাদের দেয়া প্রতিটি পিনের সত্যতা নিশ্চিত করবে। সাধারণ মানুষের দেওয়া পিনগুলোর সত্যতা ও যথার্থচা যাচাই করার জন্য প্রফেসর ড.আনিসুজ্জামান, প্রফেসর ড.কায়কোবাদ, প্রফেসর ড.মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ড.গওহর রিজভীর মতো আরও বিশেষ কিছু ব্যাক্তিত্বদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছে প্রিয় লিমিটেড। যারা সঠিক পিন দেবেন তাদের পিনগুলোকে ম্যাপেই ভ্যারিফাই করে দেয়া হবে। কিপ রিডিং…

গো টু টপ