Daily archive

December 04, 2017

বিশ্বের প্রথম হিজাবী নারী স্কেটার জাহরা লারির অজানা গল্প

অথোর- টপিক- স্পোর্টস

১০ বছরের সাধনার ফলাফল স্বরুপ আলোর মুখ দেখলেন তিনি এবং অংশ নিলেন আন্তর্জাতিক স্কেটিং প্রতিযোগিতায়। অংশ নিয়ে শুধু ধন্যই হলেন না জাহরা লারি, গড়লেন একাধিক রেকর্ড।

বিশ্বের প্রথম হিজাবী নারীস্কেটার হিসেবে নাম লেখালেন ইতিহাসের পাতায়। অনন্য উচ্চতায় আসিন করতে সক্ষম হলেন নিজ দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতকে । জাহরা লারির হাত ধরে প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্কেটিং ইউনিয়নে (আইএসইউ) সদস্যভুক্ত হলো দেশটি।

যার হাত ধরে এল এত সাফল্য, সেই জাহরার উঠে আসার পথটা কিন্তু মোটেও মসৃণ ছিল না। আজকের এই স্থানে উঠে আসতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তাকে। পাড়ি দিতে হয়েছে অনেক সমস্যা-সঙ্কুল পথ। জাহরা লারি সে সব গল্প শুনলে মনে হয় রূপকথার গল্পকেও হার মানাবে তার এই ইতিহাস। মাত্র ১২ বছর বয়সে স্কেটিং করা শুরু করেন জাহরা। তার স্কেটিংয়ে আসার গল্পটিও মনোমুগ্ধকর। ডিজনি মুভি ‘আইস প্রিন্সেস’ দেখে এই খেলার প্রতি মনোযোগী হন তিনি। ২২ বছরের এই স্কেটার বলেন, ‘সেই সিনেমা দেখে স্কেটার হওয়ার সাধ জাগে আমার। আমাকে এগিয়ে যেতে রোবটের মতো সহায়তা করেছেন আমার বাবা। সমাজ-ঐতিহ্যের কথা ভেবে মাঝে মধ্যেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তবে কখনো জোর করেননি। এখন বাবাই আমার সবচেয়ে বড় ভক্ত-সমর্থক।’ আইসপ্রিন্সেস জাহরা লারির স্কেটিং দেখতে ক্লিক করুন এখানে…

সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১৯৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন জাহরা। মা-বাবার খুব আদুরে সন্তান ছিলেন  তিনি। যখন যা বায়না ধরতেন, আবদার পূরণ করতেন বাবা-মা। একদিন হুট করেই বরফে স্কেটিং করার বায়না ধরেন লারি। তাও মেনে নেন বাবা। এক পর্যায়ে জাহরার এই স্কেটিং বায়না নেশায় পরিণত হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে নেশা বাড়তে থাকে এবং তৈরি হতে থাকে বিখ্যাত স্কেটার হওয়ার ইচ্ছা-স্বপ্ন। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণশীল সমাজ। মুসলিম দেশে। কিছুই দমাতে পারেনি জাহরাকে। অদম্য ইচ্ছায় প্রতি মুহূর্তে পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছেন বিপৎসংকুল পথ।

এরপর তার উঠে আসার পথে বাধা ছিল আমিরাতের ভৌগোলিক অবস্থান। যেখানে বছরের অধিকাংশ সময় প্রখর তাপমাত্রা বিরাজ করে, সেখানে স্কেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখা আকাশ কুসুম কল্পনা বটে। সঙ্গত কারণে দেশটিতে বরফাঞ্চল খুঁজে পাওয়ায় দুষ্কর। তবে কোনো কিছুই তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ নিতে গেছেন দূর-দূরান্তে।

কিপ রিডিং…

গো টু টপ