Daily archive

December 12, 2017

আহারে আমাদের সেই মায়েরা, আহারে আমাদের এই মায়েরা!

অথোর- টপিক- উইমেন/হাইলাইটস

লিখেছেন তারিক সিদ্দিকী


আমাদের মায়েরা বড়ই মায়া ধরে বুকে! তারা সন্তানের অমঙ্গল কামনা করাকে অস্তিমজ্জার বাতিক বলে ভাবেন। তারা তাদের সন্তানকে নিজের মত, আপন মানুসিকতায় বেড়ে উঠার মনোবৃত্তি নিয়ে বেড়ে উঠতে সচেতন ভাবেই প্রলুব্ধ হউন। এমন দৃশ্য প্রায়শই দেখে থাকবেন, ভোরের শুরুতেই রাস্তা ভরে মায়েরা তাদের সন্তানদের নিয়ে কোথাও যাচ্ছেন? ছেলে অথবা মেয়েটির কাঁধে বোঝার মতো স্কুল ব্যাগ দেখেই আপনি বুঝবেন মায়েদের গন্তব্য সীমা। মোটামুটি ৫০ বছর আগেও মায়েদের দৈনন্দিন কাজের সাথে সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বটি তুলনামূলক অভিনব। সেই সব মায়েদের বুকভরা থাকত সন্তানের জন্য শুভ কামনা। খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে গোসলসহ রাতে ঘুম পর্যন্ত মায়ের একটা চোখ খোলাই থাকত (তাঁর ঘুমের মাঝেও) সন্তানের ভাল মন্দের অতন্ত্র প্রহরী রুপে। আপনি এমন বাঙ্গালি পাবেন না- যে কিনা তাঁর জননীর আদরের অন্তহীন প্রশংসায় আকুলিত না হবেন। সে কবি জসিমউদ্দীন হতে পারেন বা ক্ষেপা নজরুল অবধি সকলেই মায়ের কথায় আবেগের উচ্চতায় পৌঁছাবেন। সেই সময়ের মায়েরা অবসরে প্রশংসায়, রাগে-বিরাগে-অভিমান মিশ্রণে আপন আপন পুত্রটির গুণাবলি নিয়ে আবশ্যিকতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতেন আঙিনা আড্ডায়, সে নিশ্চিত। গুণধর বা অগুণ পুত্রটি চোখের আড়াল খুব বেশিক্ষণ হলেই গ্রামের দূর দিয়ে হেটে যাওয়া লোকটির কানে যেত তাঁকে (সন্তান) বাজারে দেখলে যেন মনে করিয়ে দেয় বাড়ি ফেরার কথা। সন্তানের শরীর খারাপ হলে সেসব মায়েদের দিবা রাত্রির নির্ঘুম চোখ জেগেই থাকত। আশ্চর্য সেই মায়েরা!

তফাতটা কোথায়? সময়কে পুরো দোষটা চাপিয়ে দেয়া যায় অথবা যাকে আধুনিকতা বলে তাকেও মায়েদের নিতুই কমতে থাকা সন্তান উপলব্ধি বা আদরের হ্রাস হেতু হিসেবে ভাবা যায়। ক্ষেপে যেতে পারেন অনেকেই এমন শুদ্ধ বচনে। আবার অনেকেই আমার কথায় নিম সায় দেবেন। মায়েরা বদলে গেছেন বা যাচ্ছেন এটা ভাবতে গেলে অনেকটাই বদলে যাওয়া ছেলে মেয়ের মনেও ধাক্কা লাগে। (এখনকার সন্তানেরা মাতৃগর্ভ থেকেই ধাক্কা বিষয়টির সাথে পরিচিত হয়েই জন্মান বলে আমার খেয়াল। বেখালি ভ্রুন পৃথিবীর আলোর মুখ দেখবে কি দেখবে না সেটি অনিশ্চয়তায় আঁতকে থাকে প্রতি মুহূর্তে)

মায়েরা যেন বদলাবার নয়। না ভেবেই বলা যায় আজ যারা এমনটা ভাবছেন কালই হয়ত সে বা তাঁর বোন বা পাশের বাড়ির মেয়েটিই মায়ের রুপ পরিগ্রহ করবে। যে কিনা আধুনিকতর জীবনে পরিপূর্ণ বদলে যাওয়া সামাজিকতায় সাবলিল ছিল। সেই আধুনিক মেয়েটি দীর্ঘ ৯ মাস প্রায় হাঁসফাঁস করে, চারপাশ তিক্ততায় ভরিয়ে হাসপাতালে গিয়ে সার্জারি করে তীব্র যন্ত্রণার অবসানে স্বস্থি পান। সে তীব্র প্রসববেদনা লাঘব করাকে পূর্বের মা কেবলমাত্র স্রষ্ঠা আর নিরক্ষর দাইমার হাতেই ছেড়ে দিতেন আশ্চর্য সাহসের বলে। প্রথম সন্তানের বেলায় সে তীব্র ব্যাথাময় সময়টার মেয়াদ পুরো এক দিনও হতে পারত ক্ষেত্রবিশেষে। হয়তবা নিভৃতে সয়ে যাওয়া সেই তীব্র বেদনার পরমার্থ সেসব মায়েদেরকে প্রকৃতি ঠিক তততাই ভালবাসাময় মাতৃরুপের মাধুর্যে ভরিয়ে তুলতো। মায়ের দুধ খেয়ে বেড়ে উঠা সন্তানকে অনেকটা বীরের প্রতীক রুপে দেখা হয়। এই একটি বিষয়ে আধুনিকতর মায়ের ভিন্ন অভিমত থাকাটা অস্বাভাবিক না হলেও সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের জন্য বুকের দুধের চেয়ে অধিক বা সম পরিমান পুষ্টি সমৃদ্ধ কৌটো দুধের মার্কেট বিস্তৃতি সম্ভাবনাময় হয়ে উঠা নির্ভর করে। আর তাতে পূর্ব মায়ের বুকের দুধ পান করা বীর পুত্রটির চেয়ে কৌটো দুধ পান করা সন্তানটির মেধার তারতম্য ঘটে কিনা সে বিজ্ঞান বা ডাক্তারের উক্তই বা কি হবে, আমি জানিনা। তবে বর্তমান মায়ের আত্ম সচেত্নতাবোধ উপলব্ধ হয়। পূর্বের মায়েরা তাঁর আদরের সন্তানকে বুকের দুধ পান করাতে কার্পণ্য করতেন না, স্কুলে দিয়ে আসা- নিয়ে আশার দায়িত্ব পালন বিরত রাখলেও। আহারে আমাদের সেই মায়েরা, আহারে আমাদের এই মায়েরা! কিপ রিডিং…

গো টু টপ