Daily archive

January 09, 2018

সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত অসাধারণ একজন প্রেসিডেন্ট— ড. মাহমুদ আহমাদিনেজাদ

অথোর- টপিক- /সুলতান স্টোরি

ঘটনাটা ২০০৮ সালের। ইরানের প্রেসিডেন্টের ছেলের বিয়ে। দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু ঠিক বিয়ের দিন দেখা গেলো অতিথিদের তেমন কোনো সাড়া নেই। তাহলে কি কট্টরপন্থী আখ্যা পাওয়া প্রেসিডেন্টকে বয়কট করতে শুরু করেছে সর্বশ্রেণির মানুষ? এনবিসি নিউজ চ্যানেলের সাংবাদিক বিয়ের বর মাহদিকেই ধরে বসলেন। জানতে পারলেন বিয়েতে মাত্র ৪৫ জন অতিথিকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। তার মধ্যে ২৫ জন নারী এবং ২০ জন পুরুষ। খোদ প্রেসিডেন্টের কাছেই সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন— এটা কি নিরাপত্তাজনিত কারণে? প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত হাসিমুখে বিনয়ের সাথে বললেন— এর চাইতে বেশি মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। দেখা গেছে— বিয়ের অনুষ্ঠানে শুধু কমলা, আপেল, কলা ও ছোট এক টুকরো কেক দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়েছে। এই প্রেসিডেন্টই হলেন ড. মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। পৃথিবীতে এমন অনেক ক্ষমতাধর নির্বাচিত হন বিভিন্ন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে । যথা নিয়মে তারা চলে যান এবং মানুষ তাদের ভুলে যায়, স্মৃতি হাতড়েও খুঁজে পায় না। এর ব্যতিক্রম যারা রয়েছেন আহমাদিনেজাদ তাদের অন্যতম। তিনি তার জীবনের সূচনালগ্ন থেকেই এমন সব নজির উপহার দিয়েছেন, যা কেবল ইসলামের সোনালী যুগের স্বর্ণমানবদের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় ।

তিনি ক্ষমতা বা অবস্থানের থেকে কাজটিকেই সবচে’ বেশি গুরুত্ব দিতেন। ধরুন, তিনি একটি তেহরান শহরের মেয়র। তার কাজ কী— তার থেকেও বেশি বিবেচনা করছেন সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম কাজটি কী। তাই তিনি সকাল বেলা নিজ হাতে তেহরানের রাস্তা ঝাড়ু দিতেন ।

আশির দশকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সময়ও মাহমুদ ছিলেন একজন সক্রিয় কর্মী। ১৯৭০ সালের শেষের দিকে ‘সারকর্ড’ শহরের মেয়রের উপদেষ্টা হিসেবে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন বলা হয়, ১৯৭৯ সালে আমেরিকান দূতাবাস আক্রমণ করে ৫৩ জন কূটনীতিককে বন্দী করা হাজারো আহমেদিনেজাদ ছিলেন একজন। ১৯৮০ সালে তিনি আর্মিতে যোগদান করেন। পরে তিনি তুর্কী বর্ডারের কাছে ‘মাকু’ শহরের মেয়র পদে নিযুক্ত হন। ১৯৯০-এর শেষের দিকে ডক্টরেট করা অবস্থায় নতুন প্রদেশ তিনি ‘আরদাবিল’ শহরের গভর্নর পদে নিযুক্ত হন। কিন্তু খাতামি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে তাকে অপসারণ করা হয়, তাই তিনি আবার শিক্ষকতায় ফিরে আসেন। ধীরে ধীরে তিনি হার্ডলাইন রেভুলেশনারি গার্ডের বিশেষ বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন। এবং এরপরই তিনি রাজনীতিতে তুমুলভাবে আত্মপ্রকাশ করেন।

২০০৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হন তেহরানের। এ-সময় শহরের মিউনিসিপ্যালিটি অফিসগুলোতে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা আলাদা এলিভেটর স্থাপন, শহরের ট্রাফিক সিস্টেমে পরিবর্তন, গরিবদের জন্য ফ্রি স্যুপের ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে ধর্মীয় মুল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া, তেহরানের ঝাড়ুদারদের সাথে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া এবং সর্বপরি তার অতি সহজ সরল জীবন যাপনের কারণে তিনি আলোচনায় আসেন এবং আস্তে আস্তে ইরানিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

যাইহোক, ২০০৫ সালে আহমাদিনেজাদ ৬২% ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। নির্বাচনী প্রচারণায় তার স্লোগান ছিল— এটা সম্ভব এবং আমরা এটা করতে পারি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে তিনি মন্তব্য করেন— ইরানের উন্নতির জন্য যুক্তরাস্ট্রের সাহায্যের কোনও প্রয়োজন নেই। তার এই কথা সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হন। কিপ রিডিং…

গো টু টপ