Tag archive

ইতিহাস

ঢাকায় প্রথম


ইতিহাসের নগরী ঢাকায় কখন কোন জিনিস বা বস্তু প্রথম হয়েছে, তা নিয়ে আমাদের এই আয়োজন— ঢাকায় প্রথম। লিখেছেন আমাতুল্লাহ ইউসরা


প্রথম স্কুল— ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় প্রথম স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন খ্রিস্টান মিশনারি ওয়েন লিওনার্দ। তিনি আয়ারল্যান্ডের অধিবাসী ছিলেন। কম্পানির সৈনিক হিসেবে আসেন ভারতে। মিশনারিদের দাতব্য প্রতিষ্ঠান চালানোর দায়িত্বটাও ছিল তাঁর ওপর। ১৮১৫ সালে ঢাকায় বদলি হয়ে আসার পর ছোট কাটরায় বসতি গেড়েছিলেন তিনি। ১৮১৬ সালে খ্রিস্টান শিশুদের ধর্ম বিষয়ে পাঠদানের জন্য একক প্রচেষ্টায় একটি স্কুল খোলেন। তবে এ স্কুলের নাম জানা যায়নি। ঢাকার প্রথম সরকারি স্কুলের নাম ‘ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল’। ১৮৩৫ সালের ১৫ জুলাই শুধু ঢাকায় নয়, সারা বাংলার প্রথম ‘ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল’ নামে সরকারি স্কুলটির উদ্বোধন করা হয়। এটি পরিচিত পায় ‘ইংলিশ সেমিনারি’ নামে। স্কুলের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছিল আণ্টাঘর ময়দানের পাশে ইংরেজ কুঠিটি। এ স্কুলের প্রথম হেডমাস্টার ছিলেন রিজ এবং অন্য দুজন শিক্ষক ছিলেন প্যারীচরণ সরকার এবং গান। প্রথম বছর এর ছাত্রসংখ্যা ছিল ১৩৬। ১৮৪১ সালে খোলা হয় কলেজ শাখা এবং নাম দেওয়া হয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজ’। কলেজটিতে জুনিয়র এবং সিনিয়র নামে দুটি বিভাগ ছিল। স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পুরান ঢাকায় নির্মিত হয় নিজস্ব ভবন। প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যে ছাত্রসংখ্যা দাঁড়ায় ৩৪৪ জনে। ১৮৫৭-৫৮ সালে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি কোর্স চালু হয়। ১৮৫৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। সিনিয়র বিভাগ পরিণত হয় পূর্ণ কলেজ হিসেবে এবং নামকরণ হয় ঢাকা কলেজ। ওই বছরই অনুমোদন পায় বিশ্ববিদ্যালয়ের। জুনিয়র বিভাগ পরিণত হয় ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয়ে, যা পরিচিতি লাভ করে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল হিসেবে।

প্রথম গাড়ি— রাজধানী ঢাকার নবাব, জমিদার বা বিত্তবানরা যানবাহন হিসেবে ঘোড়ার গাড়িই ব্যবহার করত। এছাড়া আর কোনো বাহন বা যান ছিল না ঢাকায়। আর মালপত্র পরিবহন করা হতো নৌপথে। যাত্রী পরিবহনের জন্য প্রথম গাড়ির প্রচলন করে আর্মেনীয়রা। আর্মেনীয় কোম্পানি ‘সরকোর অ্যান্ড সন্স’ ১৮৫৬ সালে প্রথম ঢাকায় চালু করেছিল ঘোড়ার গাড়ি, যা পরিচিতি পায় ঠিকাগাড়ি নামে। সিরকোর ঠিকাগাড়ির ব্যবসা জমে উঠেছিল এবং কালক্রমে তা হয়ে উঠেছিল ঢাকার প্রধান যানবাহন। এক হিসাবে জানা যায়, ১৮৬৭ সালে ঢাকায় ঠিকাগাড়ির সংখ্যা ছিল ৬০টি, ১৮৭৪ সালে ৩০০ এবং ১৮৮৯ সালের দিকে এর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ছয় শতে। ১৯৩০ সালে ঢাকায় রিকশা চলাচল শুরু হয়। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ‘মোমিন কোম্পানি’র কিছু বাস চলাচল করত ঢাকার রাস্তায়।

ঢাকায় প্রথম ব্যাংকিং ব্যবস্থা— সোনা, রুপা, হীরা, জহরত প্রভৃতি মূল্যবান বস্তু গচ্ছিত রেখে টাকা ধার দেওয়া কিংবা এসব জিনিসপত্র সামান্য লাভে গচ্ছিত রাখার বিধান প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশে চলে আসছিল। সাধারণত সুবর্ণ বণিক, বণিক, কুণ্ডু ও পোদ্দার পদবিধারী মহাজন শ্রেণীর লোকেরা শহর-বন্দর, গঞ্জ-বাজারে গদিঘর প্রতিষ্ঠা করে মাল গচ্ছিত রাখা এবং টাকা ঋণ দেওয়ার কারবার করতেন যা জনসাধারণ্যে ‘পোদ্দারি ব্যবসা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। কর্ম ও পেশাভিত্তিক বাঙালি হিন্দু সমাজে সুবর্ণ বণিকরা সোনার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের পোদ্দারি ব্যবসা ঘিরেই বাংলায় ব্যাংক ব্যবসার গোড়াপত্তন হয়। ১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় প্রথম হিন্দুস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রায় ৭৫ বছর পর ১৮৪৬ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকায় আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়। ‘ঢাকা ব্যাংক’ নামে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি ৫ লাখ টাকা প্রস্তাবিত মূলধন, বিনিয়োগকৃত মূলধন ৩ লাখ এবং প্রতিটি শেয়ারের দাম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করে পধচলা শুরু করে। ড. শরীফ উদ্দিন আহমেদের মতে, ১০ বছর মেয়াদি অংশীদারি চুক্তিপত্রের ভিত্তিতে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ৫০০ টাকা মূল্যের ১ হাজার শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহ করার অনুমতি দেওয়া হয়। শেয়ারগুলো মূলত নীলকর, জমিদার, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও ইংরেজ আমলারা কেনেন। ঢাকা ব্যাংকের উদ্যোক্তা ছিলেন সার্জন জর্জ ল্যাম্ব, জেপি ওয়াইজ, ড. টি এ ওয়াইজ, খাজা আলিমুল্লাহ প্রমুখ। ঢাকার কমিশনার জন ডানবার, সিভিল ডা. ওয়াইজ এবং খাজা আবদুল গনি ছিলেন ব্যাংকের ওসি। সচিবের দায়িত্বে ছিলেন আলেকজান্ডার ফোর্বস। ১০ বছর পর ১৮৫৬ সালে ঢাকার বাইরে বসবাসরত শেয়ারহোল্ডাররা তাদের অংশ বিক্রি করতে চাইলে ব্যাংটি বন্ধ হয়ে যায় (ড. শরীফ উদ্দিন আহমেদের মতে)। তারপর ঢাকায় বসবাসরত শেয়ারহোল্ডাররা বাইরের মালিকদের শেয়ার কিনে নতুন করে ঢাকা ব্যাংক চালু করেন। ১৮৬২ সালে ‘ব্যাংক অব বেঙ্গল’ ঢাকা ব্যাংকের শেয়ার মালিকদের ২ লাখ ৯০ হাজার ৯৯৯ টাকার সমান শেয়ার প্রদান করে ‘ঢাকা ব্যাংক’ কিনে নেয় । এ বছর থেকেই ব্যাংকটি সরকারের পক্ষে সব ট্রেজারি ও ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান শুরু করলে এটা সমগ্র পূর্ব বাংলার একমাত্র সরকারি কোষাগারে পরিণত হয়। মূলত ব্যাংক অব বেঙ্গল তৎকালীন পূর্ববঙ্গের সনাতনী পোদ্দারি ব্যবসার মূলে কুঠারাঘাত করে ।

কিপ রিডিং…

মিশরের গ্রেট পিরামিডের নির্মাণ রহস্য


লিখেছেন সাকিব মুস্তাবি


মিশর নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পিরামিডের ছবি। নীলনদের তীরে  সুপ্রাচীনকালে গড়ে ওঠা মিশরীয় সভ্যতার অনেকগুলো অনন্য নিদর্শনের মধ্যে নিঃসন্দেহে পিরামিড সবচেয়ে বিস্ময়কর ও রহস্যময়। প্রায় ৫০০০ বছর ধরে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই পিরামিডকে ঘিরে। এমনকি আজকের আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও খুঁজে পাওয়া যায়নি পিরামিডের অনেক রহস্যের কূল কিনারা। তাই প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চার্যের অন্যতম মিশরের পিরামিডের উপর সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনটি।

যে কারণে নির্মাণ করা হয় পিরামিড : প্রাচীন মিশরীয়দের ধর্ম বিশ্বাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল পরকালে বিশ্বাস। তারা বিশ্বাস করতেন মৃত্যু হল নশ্বর দেহ থেকে পরকালে আত্মার স্থানান্তর। সেখানেও একটি জগত রয়েছে। সেখানেও প্রয়োজন হবে ধন, দৌলত ও অন্যান্য জাগতিক বিষয়াদির। তাই রাজা ও রাণীদের মৃত্যুর পর মৃতদেহের সাথে সাথে দিয়ে দেওয়া হত সোনা, রূপা ও মূল্যবান রত্নাদি। তাঁদের দেহকে সংরক্ষণ করা হত মমি বানিয়ে এবং হত্যা করা হত তাঁদের দাস দাসীদের যাতে পরকালে সেবার অভাব না হয়। কিন্তু সমস্যা হল এই মমি ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী একটি নিরাপদ স্থানে না রাখলে চুরি হয়ে যাওয়ার ভয় আছে। তাই পিরামড তৈরিরও আগে নির্মাণ করা হত ট্রপিজয়েড আকৃতির মাস্তাবা নামক সমাধি। কিন্তু প্রাচীনকালে রডের ব্যবহার ছিল না। সেকারণে এই মাস্তাবাগুলো বেশি উঁচু বানানো ছিল অসম্ভব। তাই কালক্রমে এই মাস্তাবাগুলোর পরিবর্তে স্টেপ পিরামিডের ডিজাইন গৃহীত হতে লাগল। এর পেছনের মূল কারণ পিরামিডের জ্যামিতিক গঠন। আমরা জানি কোন বিল্ডিং এর পুরো ওজন তার ভিত্তির উপর পড়ে। তাই উচ্চতা যত বেশি হবে ভিত্তি হতে হবে তত শক্ত। পিরামিডের ক্ষেত্রফল উচ্চতার সাথে সাথে হ্রাস পেতে থাকে। পিরামিডের ভিত্তির ক্ষেত্রফল উপরের স্তরগুলোর চেয়ে বেশি হওয়ায় এর উপর চাপও পড়ে কম এবং স্থাপনাটি শক্তিশালী হয়। তাই অনেক উঁচু সমাধি নির্মাণের একমাত্র রাস্তা ছিল পিরামিড শেপের ডিজাইন গ্রহণ করা।

প্রথম দিকের পিরামডগুলো ছিল অমসৃণ স্টেপ পিরামড যেগুলো মিশরের প্রথম তিনটি মহান রাজবংশের আমলে নির্মাণ হত। তবে চতুর্থ রাজবংশের সময় থেকে নির্মাণ করা শুরু হল প্রকৃত পিরামিড আকৃতির সমাধি। এছাড়া পিরামিডের উচ্চতা ক্রম হ্রাসমান হওয়ায় এর আরও একটি দার্শনিক তাৎপর্য ছিল। মনে করা হত পিরামিডগুলো যেন ক্রমেই মিলিয়ে যাচ্ছে পরজগতের পানে। পিরামিডের আর্কিটেক্টরা ছিলেন প্রাচীন মিশরীয় পুরোহিত যারা ইমহোটেপ নামে পরিচিত ছিলেন। এ থেকে বোঝা যায় তাঁদের কাজ শুধু আধ্যাত্মিক জগতেই সীমাবদ্ধ ছিলনা বরং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিও ছিল পুরোহিত কেন্দ্রিক। কিপ রিডিং…

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ডিজিটাল আর্কাইভ


মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোনো অবান্তর ঘটনা পিন করা হলে কিংবা পিনকৃত ঘটনাটির সত্যতা না পাওয়া গেলে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাপ থেকে মুছে ফেলা হবে।


দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের লাখো ইতিহাস ও ঘটনাকে এক সুতোয় গাঁথতে মুক্তিযুদ্ধের ওপর সর্ববৃহৎ ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে প্রিয় লিমিটেড। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে রাখার এ উদ্যোগের নাম দেয়া হয়েছে প্রিয় মুক্তি পিন। ডিসেম্বরজুড়ে দেশের ৬৪ জেলায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে ও প্রিয়.কমের সরাসরি তত্ত্বাবধানে মুক্তিযুদ্ধের ছোটবড় ঘটনাগুলোকে শনাক্ত করে অজানা ও ক্ষয়িষ্ণু প্রায় ইতিহাসকে দীপ্তিময় করে তোলা হবে। এসব ঘটনা ও ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা হবে বাংলাদেশের ডিজিটাল মানচিত্রের ওপর। এ ডিজিটাল আর্কাইভ ইতিহাসকে পৌঁছে দেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে, যাতে প্রজন্মান্তরে আমাদের অমূল্য মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রামের ঘটনা হারিয়ে না যায়। এ ব্যাপারে প্রিয় লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাকারিয়া স্বপন বলেন, সর্বস্তরের বাংলাদেশি নাগরিককে এই উদ্যোগে সংযুক্ত করতে ডিসেম্বর থেকে প্রিয় মুক্তি পিন সফটওয়্যারটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে রাখা হবে। উন্মুক্ত করা হবে মোবাইল অ্যাপ।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে আগ্রহী যে কেউ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুক্তি পিন ম্যাপের মাধ্যমে প্রকাশ করে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই ডিজিটাল আর্কাইভের অংশ হতে পারবেন। প্রিয়.কমের নিজস্ব বিচারক প্যানেল পিনদাতাদের দেয়া প্রতিটি পিনের সত্যতা নিশ্চিত করবে। সাধারণ মানুষের দেওয়া পিনগুলোর সত্যতা ও যথার্থচা যাচাই করার জন্য প্রফেসর ড.আনিসুজ্জামান, প্রফেসর ড.কায়কোবাদ, প্রফেসর ড.মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ড.গওহর রিজভীর মতো আরও বিশেষ কিছু ব্যাক্তিত্বদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছে প্রিয় লিমিটেড। যারা সঠিক পিন দেবেন তাদের পিনগুলোকে ম্যাপেই ভ্যারিফাই করে দেয়া হবে। কিপ রিডিং…

প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নারীর গল্প

বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন লাইব্রেরিটির অবস্থান আধুনিক তিউনিশিয়ায়। কারওয়্যাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশ এই লাইব্রেরি। বিশ্ববিদ্যালয়, এটি সংলগ্ন মসজিদ এবং এই লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠা হয় একত্রে, ৮৬৯ সালে। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন একজন নারী।আজ থেকে প্রায় ১২০০ বছর আগে একজন নারী সমাজের বিকাশের জন্য এতটা অবদান রেখেছেন তা ভাবতেও বিস্ময়ে অভিভূত হই আমরা। তিনি চেয়েছিলেন জ্ঞানচর্চার একটি কেন্দ্র তৈরি হোক। তাই উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সকল সম্পদ ব্যয় করে তিনি তৈরি করেন কারওয়্যাইন বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠা করেন একটি সমৃদ্ধ একটি পাঠাগার।

সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই বিদূষী নারীর নাম ফাতিমা আল ফিহরি। তার বাবা মোহাম্মদ আল ফিরহি ছিলেন একজন সফল বণিক। তিউনিশিয়ার কারওয়্যাইন থেকে তিনি সপরিবারে পাড়ি জমান মরোক্কোর ফেস এ। ফেস তার জন্য ছিল পারিবারিক ব্যবসার দূর্দান্ত একটি জায়গা। ফাতিমা এবং মরিয়ম দুই কন্যাকেই শিক্ষিত করে গড়ে তোলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর উভয়েই বিপুল সম্পদের মালিক হন এবং সমাজের জন্য আত্মনিয়োগে ব্রতি হন। মরিয়ম উদ্যোগ নেন পবিত্র মসজিদ আল-আন্দালাজ নির্মাণে। আর ফাতিমা লক্ষ্য নির্ধারণ করেন আল কারওয়্যাইন নির্মাণের, যা উত্তর আফ্রিকার সবচেয়ে বড় মসজিদ বলে প্রসিদ্ধ। মসজিদ নির্মানের মাঝামঝি সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মানের কাজ শুরু হয়। তার এই মহৎ কীর্তির নামেই এলাকার নাম হয়ে যায় কারওয়্যাইন।
কারওয়্যাইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন আবু আল আব্বাস আল জ্ব্যামী, আবু মাহবুব আল ফাসিসহ বিখ্যাত অনেকে। এর সুনাম বিস্তৃত ছিল শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও। ইউরোপের সংস্কৃতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তথা মুসলিম বিশ্বে অগ্রসর ভূমিকা রাখে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্বের প্রাচীনতম এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনো শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগারটি নানা কারণে ছিল পরিত্যাক্ত। ২০১২ সালে কানাডিয়ান-মরোক্কান স্থাপত্যশিল্পী আজিজা চৌহানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় পাঠাগারটির পুনঃগঠনের। আজিজা বলেন, ‘এই শহরে আমি বেড়ে উঠেছি, থেকেছি ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত। আমার দাদা এই পাঠাগারে পড়াশোনা করতে যেতেন। কিন্তু আমি এখানে কখনোই যাই নি। কারণ জনসাধারণের প্রবেশাধিকার ছিল না এখানে।’

পাঠাগারটিতে ৪ হাজার এরও অধিক বই রয়েছে এবং এর অধিকাংশই ১ হাজার ২০০ বছরের পুরোনো। আজিজাকে এই সময়ে এসেও পাঠাগারের কাজ করতে গিয়ে অনেক কটূক্তি শুনতে হয়। নারী হওয়ার কারণে তিনি শিকার হন হয়রানির। ‘নারী হওয়ার কারণে মানুষ আমাকে পাগল বলতে শুরু করে। কারণ মরোক্কান স্থাপত্যশিল্পীদের সঙ্গে তারা আমাকে মেলাতে পারত না। কিন্তু আমার জন্য কাজটা খুব গর্বের ছিল, কারণ ফেস এর মানুষ বা আমার সন্তানেরা এই পাঠাগারে যেতে পারবে যেখানে তাদের দাদা একসময় এসেছেন, পড়াশোনা করেছেন এবং আইনজীবী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।’

কিপ রিডিং…

গো টু টপ