Tag archive

খাজা টিপু সুলতান

শিল্পায়ন ছাড়া কোনো দেশ উন্নতি লাভ করতে পারে না : খাজা টিপু সুলতান

খাজা টিপু সুলতান- বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও আভিজাত্যময় উন্নয়নে তার অবদান ও ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও আভিজাত্যকর বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পাঁচ তারকা হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ সেন্টারের সম্মানিত চেয়ারম্যান তিনি। বাংলাদেশে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য সমগ্র বাংলার পর্যটনপ্রেমীসহ সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি কৃতজ্ঞ। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক অলাভজনকভাবে সমাজ সেবাধর্মী কর্মকা- পরিচালনার প্রত্যয় নিয়ে ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় খাজা মোজাম্মেল হক (রহ.) ফাউন্ডেশন। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে জনকল্যাণকর বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুধীমহলে বেশ সুনাম অর্জন করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। আধ্যাত্মিক সাধনাকে পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করে সমাজসেবা ও মানবকল্যাণধর্মী বিভিন্ন কার্যক্রম আঞ্জাম দিয়ে আসছে এমন প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশে বোধ করি এটাই প্রথম। ফ্রি চিকিৎসাসেবা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা এবং গরীব-অসহায় মানুষের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করে তুলতে নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালিত হয় এই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে। খাজা হজরত ইউনুছ আলী এনায়েতপুরী (রহ.)-এর নেসবতভুক্ত অসহায় কর্মক্ষম মানুষদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এককালীন মূলধন প্রদানের মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করার মাধ্যমে সদকায়ে জারিয়ার মতো মৃত প্রায় একটি ইবাদতকে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উজ্জীবিত করেছেন একজন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। একজন সুফিসাধক। আন্তরিকভাবে নিজ হাতে যিনি পরিচালিত করছেন প্রতিষ্ঠানটি- তিনি আর কেউ নন; তিনি হলেন খাজা মোজাম্মেল হক (রহ.)-এর সুযোগ্য সন্তান, খাজা মোজাম্মেল হক (রহ.) ফাউন্ডেশনের সম্মানিত চেয়ারম্যান খাজা টিপু সুলতান। আধ্যাত্মবাদ চর্চার পাশাপাশি খাজা টিপু সুলতান বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য বিজনেস আইকন। যার ব্যবসায়িক সাফল্যের কথা কেবল এই বঙ্গজমিনে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশেও সমাদৃত। আধ্যাত্মবাদ চর্চা যার নেশা এবং পর্যটন ব্যবসা তার পেশা। ব্যক্তিগতভাবে খুব স্বচ্ছ-পরিপাটি-সুন্দরতম এক জীবনের মালিক খাজা টিপু সুলতান। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে অসংখ্য-অগণিত আধ্যাত্মিক ভক্ত রয়েছে তার। বাংলাদেশের অন্যতম এই বিজনেস আইকনের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মিরাজ রহমান

গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ সেন্টারকে আপনি কী উদ্দেশ্য নিয়ে নির্মাণ করেছেন?
শিল্পায়ন ছাড়া কোনো দেশ উন্নতি লাভ করতে পারে না। আর এই শিল্পায়ন যদি দেশের আর্থিক উপকারে আসে, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যায় সেই সাথে যদি আবার সেটা মানুষের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে তো কোনো কথাই নেই। আমার আসলে অনেক আগে থেকেই এমন একটি শিল্প তৈরি করার ইচ্ছা ছিল যা মানুষের কল্যাণে আসে এবং সেই সাথে সেটা হবে একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান- সেই অনুপ্রেরণা থেকেই মূলত আমি গ্র্যান্ড সুলতান করি। আর আজ দেশ ও দেশের মানুষ এর উপকার পাচ্ছে। এটার কারণে অর্থনৈতিক অনেক সমৃদ্ধি লাভ করেছে। গ্র্যান্ড সুলতানের আশপাশের লোকদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে। তাদের জীবন পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমি একটি কথা বলব সেটা হচ্ছে, পর্যটন শিল্পে আসলে তাদেরই আসা উচিত যাদের শুধু আর্থিক মুনাফা অর্জন করা উদ্দেশ্য থাকে না। পর্দার আড়ালে আরও অনেক মুনাফা আছে সেগুলোও কম নয়। আমরা আসলে জাতিগতভাবে অতিথিপরায়ণ। একজন লোক তার পরিবার নিয়ে আমার গ্র্যান্ড সুলতানে আসবে তাদের সেবা দেওয়া হবে। তারা আনন্দে থাকবে, এটা দেখার মাঝেও অনেক আনন্দ রয়েছে। এই বিষয়টাকেও আমি মুনাফা হিসেবেই দেখব।

আপনি তো দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন বিজনেসের সাথে জড়িত, আমরা আপনার দীর্ঘদিনের এই অভিজ্ঞতা থেকে পর্যটন শিল্পের ভালো-মন্দ বিষয়গুলো একটু জানতে চাচ্ছি।
প্রত্যেকটা শিল্প প্রতিষ্ঠানেই তো কিছু ভালো-মন্দ দিক থাকে। একটি উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় আমাদের দেশে এই ব্যবসায় চ্যালেঞ্জটা অনেক বেশি। আর পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রে এই চ্যালেঞ্জটা আরও বহুগণ বেশি। এই ব্যবসার ভালো দিকটা হলো এখানে উভয় পক্ষেরই ভালো লাগার একটি বিষয় আছে। একটা পরিবার অনেক ব্যস্ততার মাঝেও এখানে এসে থাকছে এবং আল্লাহপাকের সৌন্দর্য উপভোগ করছে- এটা দেখার মাঝে তাদের একটা আলাদা ভালো লাগার আছে। আর যারা এই ধরনের সেবা প্রতিষ্ঠান করেছে তাদের মানুষকে ভালোভাবে সেবা দেওয়া এবং মানুষের স্মৃতিতে থেকে যাওয়ার মাঝেও ভালো লাগার একটি দিক আছে। এই সব বিষয় হচ্ছে পজেটিভ। তবে এর নেগেটিভ দিক হচ্ছে, আমাদের দেশ দরিদ্র হওয়ার কারণে চ্যালেঞ্জটা বেশি। আমাদের মতো উদ্যোক্তাদের জন্য আসলে এই ব্যবসা করা কঠিন। এই ব্যবসায় সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, এই ব্যবসার জন্য কানেক্টিভিটি থাকা দরকার। সেই সাথে উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা থাকা খুবই জরুরি। উন্নত দেশে তো ফোর লাইন রাস্তা কিন্তু এখনও আমরা দুই লাইনে রয়ে গেছি। উন্নত দেশে এখন রাস্তা শুরুই হয় সিক্স লেন থেকে।
যা-হোক আমাদের দেশে যদি আমরা ফোর লেনও করতে পারি তা-ও কম না। এছাড়া মহা সড়কগুলোর ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোতে বিভিন্ন নিয়ম মান্য করা হয়- যা আমাদের দেশে নেই। কিংবা থাকলেও মান্য করা হয় না। সড়ক-মহাসড়কের নিয়মগুলো মানা খুবই প্রয়োজনীয়। সড়ক বড় হলে যাতায়েতে সময় কম লাগবে এবং মহাসড়কে যে সব দুর্ঘটনা হয় সেটাও কম হবে। এ বিষয়গুলোর প্রতি যদি আমাদের সরকার দৃষ্টিপাত করেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন তাহলে শুধু পর্যটন শিল্প নয় আরও অন্যান্য শিল্পের কমপক্ষে তিনগুণ উন্নয়ন সাধিত হবে। এছাড়া আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- যে কোনো শিল্পেই ভালো করার শর্ত হলো দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা না থাকা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকা জরুরি। কিপ রিডিং…

গো টু টপ