Tag archive

ডোনাল্ড ট্রাম্প

জেরুসালেম তাহলে কার?

কোনো ধর্মমত বিবেচনায় না এনে যদি প্রশ্ন করা হয়— এই মসজিদটি কার? আপনার বাড়ির পাশে কিংবা আপনার ঘরের কাছেই যে মসজিদটি আছে, যেখানে আপনার বাবা কিংবা দাদার দানকৃত ভূমি রয়েছে, সেটা কি আপনার উত্তরাধিকার? কিংবা ওই মন্দিরটি? সেটাও কি একইভাবে আপনার বন্ধু তন্ময় কিংবা সঞ্জয় তাদের মিরাস সম্পত্তি বলে দাবি করতে পারে? আপনার শহরে অবস্থিত গির্জাটি নিয়েও কিন্তু আমরা একই প্রশ্ন করতে পারি। হতে পারে এমন প্রশ্নের মুখে আপনাকে কখনও পড়তে হয় নি, কেননা, এভাবে কেউ প্রশ্ন করে না। চমকানো সুন্দর মসজিদ (একইভাবে মন্দির বা গির্জা) হলে হয়তো সর্বোচ্চ জিজ্ঞেস করা হতে পারে— এটা কে করেছে? আপনার জানা থাকলে অবলীলায় বলে দিলেন— শরফুদ্দিন সান্টু ইত্যাদি। তারপরও যদি কেউ আপনাকে এমন বেমক্কা প্রশ্ন করেই বসে, আপনি তাকে হয়তো নাস্তিক ভাববেন, কিংবা ঈমানের জোর বেশি থাকলে বলবেন— কার আবার? আল্লাহর। ভিন্ন ধর্মের হলে বলবেন— মুসলমানদের।

যদিও মসজিদ কারও ব্যক্তিগত সম্পদ হয় না। মসজিদ আল্লাহর ঘর, বাইতুল্লাহর অংশ। যেখানে মসজিদ একবার নির্মিত হয়ে যায়, কেয়ামত দিবস অবধি সেটা আল্লাহর মালিকানায় চলে যায়। তাই যদি কোনো মসজিদে সাধারণের প্রবেশাধিকার না থাকে, তাহলে সেখানটায় জুমাবারের সালাত আদায় হবে না— এ-ই ইসলামের বিশ্বাস। কেননা, মালিক যেহেতু আল্লাহ, সুতরাং আল্লাহর বান্দা হিসেবে সেখানের কর্তৃত্ব সবার সমান, একক কারও হতে পারে না।

সন্দেহ নেই, উপসনালয়ের ব্যাপারে একই ধরনের বিশ্বাস ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকেই লালন করে পৃথিবীর তাবৎ ধর্মপ্রাণ মানুষ। তাদের নিজেদেরই হাতে গড়া এবাদতগাহ নির্মাণের পর আর তাদের নিজেদের থাকে না, সেখানে শুধু তাদের এবাদতেরই অধিকার থাকে, অন্য কিছু নয়। এবাদতের স্থানটুকু ঈশ্বরের নামে প্রদত্ত পবিত্র ভূমি।



ভিয়া ডলোরোসা, যে-পথে নবী ঈসাকে (আ.) নিজের ক্রস বয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিলো। ছবি  : সংগৃহীত


একই কথা প্রজোয্য জেরুসালেমের ব্যাপারেও। অন্তত তা-ই হওয়া উচিত। সম্ভবত সব মানুষ সেটা জানেও এবং মানেও। কিন্তু জেরুসালেমের ক্ষেত্রে পার্থক্য হলো, অন্য যে-কোনো স্থানের বেলায় যে-ধর্ম যেখানটাকে ‘পবিত্র ভূমি’ বলে স্বীকৃতি দেয়, সেখানটা শুধু সেই ধর্মের লোকদেরই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় থাকে, অন্য ধর্মের লোকেরা অল্প-বিস্তর মতানৈক্য না-থাকলেও শান্তি বজায় রাখার নিমিত্ত সেটা মেনেও নেয়। ছোট ‘পবিত্র ভূমি’ যেমন মসজিদ, মন্দির প্যাগোডা, গির্জা, টেম্পল ইত্যাদির ক্ষেত্রে হাতে গোণা সামান্য কয়েকটি উদাহরণ বাদ দিলে সারা পৃথিবীতেই আপন আপন ধর্মের লোকেরা আধিপত্য বজায় রাখতে পেরেছে। একান্ত তীর্থভূমি নিয়েও খুব একটা বিরোধ বাঁধে না। হিন্দুদের কাশি, বৌদ্ধদের শোয়েডগ প্যাগোডা এবং মুসলমানদের মক্কা-মদিনা নিয়ে কোনো উৎপাত নেই। কিন্তু জেরুসালেমের বিপত্তি এখানেই যে, এই একই ‘পবিত্র ভূমি’ যখন বিশ্বের ধর্মের এবং তিনটিই আসমানি ধর্ম— ইহুদি, খ্রিষ্ট ও ইসলাম। এ-কারণেই জেরুসালেম অনন্য। এখানেই সাধারণ যে-কোনো তীর্থভূমি বা পবিত্র ভূমির সঙ্গে জেরুসালেমের তফাত।

অবশ্য এটা ঠিক যে, আমরা কখনও কখনও কয়েকটি ধর্মের উপাসনালায় পাশাপাশি অবস্থান করতেও দেখি। মসজিদের পাশেই গির্জা। গির্জার ঘন্টার ধ্বনি ও মসজিদের আজান ধ্বনি সেখানে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। মসজিদ কিংবা গির্জাবাসীরা একে অপরের উপাসনালয় দখল করতে যায় না। কিন্তু জেরুসালেমে কী এমন রয়েছে যে, এখানে নিজ নিজ ধর্মের অনুসারীরা কেবল নিজেদের উপাসনালয়ে এবাদত করেই সন্তুষ্ট নয়, বরং এই ভূমিটাই তাদের দখলে রাখতে হবে? অথচ তিন ধর্মই প্রভু হিসেবে আল্লাহকে মান্য করে এবং এটাও বিশ্বাস করে যে, পবিত্র ভূমির মালিকানা কোনো মানুষের নয়—আল্লাহর। তাহলে দ্বন্দ্বটা কিসের? ঈশ্বরের মালিকানা নিয়ে?

এমনও নয় যে, এই দ্বন্দ্ব দুয়েকবার ঘটেই শেষ হয়েছে। বরং জেরুসালেমের দীর্ঘ ইতিহাসে, শহরটি কমপক্ষে দুইবার ধ্বংস হয়েছে, ২৩ বার অবরোধ হয়েছে, ৫২ বার আক্রমণ হয়েছে এবং ৪৪ বার দখল এবং পুনর্দখল হয়েছে।[1]ধর্মের লড়াইয়ের সাথে সাথে এখানে অধর্মের কাজও যে কম হয়েছে, তা নয়। আজও শহরে কোনো প্রত্নতত্ত্ব সন্ধান করতে গেলেই দেখা যায়, কোনো মসজিদের নীচে ইহুদি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ অথবা কোনো গির্জার নীচে দেখা গেলো মসজিদের চিহ্ন। যদি অধর্মই না হবে, তাহলে রোমান খ্রিষ্টানদের হাতে এই শহর ধ্বংস হবে কেনো? খ্রিষ্টানদের পবিত্র ভূমি কী করে খ্রিষ্টানদের হাতেই রক্তাক্ত পারে?

বহু জটিলতা আর বহু প্রশ্ন জড়িয়ে আছে জেরুসালেম কার এই প্রশ্নে সাথে। আমরা ইতিহাস ও বর্তমান জেরুসালেমের পবিত্র নিদর্শনগুলো খুঁজতে খুঁজতে সে-সব প্রশ্ন খতিয়ে দেখার প্রয়াস পাবো।

এক. আজ যেখানে জেরুসালেম নামে বিখ্যাত নগরী উপস্থিত, ইতিহাসের প্রারম্ভে, প্রায় ৫০০০ বছর আগে, সেখানে ছিলো একটি ছোট্ট গ্রাম। উঁচুনিচু মরুভূমির অভ্যন্তরে একটি সবুজ উপত্যকার মধ্যে খেজুর ও জলপাই গাছে ঢাকা গ্রামটিতে ঠিক কী ছিলো যা মোজেস, আব্রাহাম, যিশুখ্রিষ্ট (নবী মুসা, ইব্রাহিম ও ঈসা আ.) থেকে মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সবাইকে আকর্ষণ করে এসেছে? এখানকার মাটিতে কী আছে যা তিন-তিনটে বিরাট ধর্মের জন্ম দিয়েছে?

শহরের গা ঘেঁষে উঁচু টিলা—মাউন্ট অব অলিভ, জলপাই পাহাড়। মুসলিমরা বলে যাইতুন, কোরআনে এই ফলের কসম খেয়েছেন আল্লাহ। জেরুসালেমসহ এ-অঞ্চলের মানুষের অত্যন্ত্র প্রিয় ও প্রধান খাদ্যেরও একটি অলিভ। এই মাউন্ট অব থেকে সারা জেরুসালেম দেখা যায়। দেখা যায় পাথরে গাঁথা ৫০০০ বছরের পুরোনো শহর (Old City) ও তার মধ্যমণি সোনার পাতে মোড়া ডোম অব রক (Dome of the Rock)। ২০০০ বছর আগে নবী ঈসা (আ.) যখন জেরুসালেম দেখেছেন সেই, কেমন ছিলো শহরটা তখন? হয়তো পুরোনো শহরের আশেপাশে তখন ছিলো শুধু কাঁটাঝোপ। আজকের মতো রাস্তাঘাট, অট্টালিকার চিহ্নও ছিলো না। তখনও কি তিনি জানতেন নিয়তি তাকে কোথায় নিয়ে যাবে? ওই জেরুসালেমের মধ্যে দিয়েই ভারি ক্রশ পিঠে চাপিয়ে তাকে বধ্যভূমিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো।



৬-নং স্টপ-এ ভেরোনিকা তৃষ্ণার্ত নবী ঈসাকে আ. জল দিতে চেয়েছিলেন। ছবি : সংগৃহীত


কিপ রিডিং…

আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক!

ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেন ​ট্রাম্প

ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে ইরানের ১৩ নাগরিক ও অন্তত ১২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার মার্কিন রাজস্ব বিভাগ এই নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করে।ইরান সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। ওই পরীক্ষার জবাবেই ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সূত্র : সিএনএন

কিপ রিডিং…

পুড়িয়ে দেয়া হলো টেক্সাসের একটি মসজিদ


আমেরিকার নব্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসীন হওয়ার দশদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি মসজিদে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।  আগুনে মসজিদটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ২৯ জানুয়ারি শনিবার ভোরে ‘দ্য ইসলামিক সেন্টার অব ভিক্টোরিয়া’ নামের মসজিদটিতে আগুন দেয়া হয়। খবর এপি,আরটি, নিউইয়র্ক টাইমস। গত শুক্রবার সিরিয়াসহ সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই আদেশ জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টেক্সাসের মসজিদটিতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটল।
কিপ রিডিং…

ট্রাম্প হুইস্কি!

এক বোতল ট্রাম্প হুইস্কি নিলামে প্রায় ৬ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ২০১২ সালে একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে ২৬ বছরের পুরনো গ্লেনড্রোনাক হুইস্কি বোতলজাত করা হয়।

উচ্চমূল্যের এই হুইস্কির বোতলের মোড়কে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষর করেন। যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডেনশায়ারে ট্রাম্প গলফ ইন্টারন্যাশনালের উদ্বোধনীতে অতিথিদের দেয়া হয় এ হুইস্কি। তখন থেকে এটি ট্রাম্প হুইস্কি নামে পরিচিত।

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় শুক্রবার নিলামে কানাডার এক ক্রেতা প্রত্যাশিত মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনে নিয়েছেন বিরল এই হুইস্কির বোতল।

‘ওবামাকেয়ার’ বাঁচানোর শেষ চেষ্টা

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে যাতে তাঁর আলোচিত স্বাস্থ্যনীতি বাতিল করতে না পারেন, সে জন্য শেষ চেষ্টায় নেমেছেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে দলীয় আইনপ্রণেতাদের গতকাল বুধবার এক বৈঠক ডাকেন তিনি।
‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিতি পাওয়া স্বাস্থ্যনীতি বারাক ওবামা সরকারের অন্যতম প্রধান ‘অর্জন’।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জশ আর্নেস্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের সঙ্গে কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন।
‘ওবামাকেয়ার’ ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেই বাতিল করে দিতে পারেন। ট্রাম্প নিজে ও তাঁর রানিং মেট হবু ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স স্পষ্টভাবেই সে কথা বলেছেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জশ আর্নেস্ট গতকাল বলেন, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ওবামা সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মূলত ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ নামের এ স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি বাতিলে রিপাবলিকানদের উদ্যোগ ঠেকাতে কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করবেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার হবু ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত মাইক পেন্স বলেন, ‘আমরা ওবামাকেয়ার বাতিল এবং এর বদলে অন্য কিছু আনার কথা ভাবছি।’ কিপ রিডিং…

গো টু টপ