Tag archive

তাবলীগ জামাত

বিশ্ব ইজতেমা, বিশ্ব ইস্তেমা নাকি বিশ্ব এস্তেমা— কোনটি সঠিক উচ্চারণ?

অনেক লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশে ইজতেমা বা ইস্তেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। যা বিশ্ব ইজতেমা বা বিশ্ব ইস্তেমা এবং বিশ্ব এস্তেমা নামে পরিচিত। এ প্রোগ্রাম মহান আল্লাহর এক অশেষ দান আমাদের ছোট্ট এ দেশের জন্য। ইজতেমা শব্দটির বহুবিধ ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়,  কেউ লিখেন ইজতেমা, কারো মুখে উচ্চারিত হয় ইস্তেমা বা এস্তেমা হিসেবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—শব্দটা আসলে কি- বিশ্ব ইজতেমা নাকি বিশ্ব ইস্তেমা অথবা বিশ্ব এস্তেমা?

অনেকে হয়ত ভেবেছি কিন্তু সেভাবে চিন্তা করা হয়ে ওঠে নাই। কোনটাই দোষনীয় নয়। তারপরেও কৌতূহল তো রয়েই যায়, তাই না?

আজ আমরা সেই কৌতূহল দূর করব।

ইজতেমা বা ইস্তেমা দুটিই আরবী শব্দ। ইজতেমা শব্দের অর্থ হল- একত্রিত হওয়া এবং ইস্তেমা বা এস্তেমা শব্দের অর্থ হল- শোনা অর্থাৎ সম্মিলিতভাবে কোনো কিছু শোনাকে ইস্তেমা বলা হয়।

বলতে পারি— বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমার ব্যপারে, ইজতেমা অথবা ইস্তেমা বা এস্তেমা দুটি শব্দের ব্যবহারই শুদ্ধ। কারণ ইজতেমার মাঠে অনেক মানুষ একত্রিত হন, সে দৃষ্টিকোণ থেকে ইজতেমা। অন্যদিকে ইস্তেমার মাঠে অনেক মানুষ একত্র হয়ে ধর্মের কথা শুনে থাকেন, সে দৃষ্টিকোণ থেকে ইস্তেমা বা এস্তেমা ।

কত চমৎকার তাই না?

হুম, এভাবেই আমরা সব কিছু সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করব, তাহলে আমাদের মন সুন্দর থাকবে, দেশ সুন্দর হবে এবং সুন্দর হবে এ জগৎ।

সচেতন পাঠক আবার রেফারেন্স চাইতে পারেন। আল মুনজিদ ও আল মুজামুল ওয়াসিত এ দুটি আরবী অভিধান দেখলে আপনি পেয়ে যাবেন আমার এই ব্যাখ্যার প্রমাণ।

নবিওয়ালা দাওয়াত পৌঁছাতে ‘প্রযুক্তির আওয়াজ’ গ্রহণ করতে অসুবিধা কোথায়?


মাইক যেমন একটি প্রযুক্তি, ইন্টারনেটও তেমনি একটি প্রযুক্তি। মাইকের তুলনায় অনেক বেশি গতিময়, সহজ এবং ক্রিয়াশীল ইন্টারনেট। দূর থেকে দূরান্তে, দৃষ্টিসীমার ওপারে বাণী পৌছানোর ক্ষমতাও রাখে এই ইন্টারনেট। ইন্টারনেট-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ইজতেমার বাণী বিশ্বদরবারে পৌছে দেওয়া সম্ভব মুর্হূতেই। নবীওয়ালা দাওয়াত পৌঁছাতে ‘মাইকের আওয়াজ’ যেখানে গ্রহণ করা হচ্ছে, ‘প্রযুক্তির আওয়াজ’ গ্রহণ করতে সেখানে অসুবিধা কোথায়? লিখেছেন মিরাজ রহমান


ইন্টারনেট— গত শতাব্দীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠতম আবিস্কার। ইন্টারনেটের কল্যাণে গোটা পৃথিবী এখন একই সুতোয় গাঁথা। হাজার মাইল দূরের মানুষের সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনায়েসেই যোগাযোগ করা যায়। কথা বলা যায়, শেয়ার করা যায় অনুভূতি; এমনটি দেখাও যায়। বিশ্বব্যাপি তথ্য আদান-প্রদান; ব্যক্তিগত, সামাজিক, ব্যবসায়িক, ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় যে কোনো প্রকার যোগাযোগকে সহজ ও গতিময় করতে ইন্টারনেটের বিকল্প নেই। আর এই ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রাথমিক স্তর হলো ওয়েবসাইট। যাকে সহজ বাংলায় ইন্টারনেটভিত্তিক ঠিকানা বলা যায়। একেকটি ডোমেইনের আন্ডারে হাজার হাজার পেইজের ওয়েবসাইট নির্মাণ করা সম্ভব। আর ডোমেইন হলো ওয়েব ঠিকানা হিসেবে ব্যবহৃত একটি নাম। প্রত্যেকটি বাড়ির যেমন একটি হাউজিং-হোল্ডিং নম্বর থাকে, ডোমেইন হলো যে রকম একটি নাম-নম্বর। ২০১১ সালের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইন্টারনেটে মোট রেজিস্ট্রি করা ডোমেইনের সংখ্যা ৫৫ কোটি। (সূত্র : staticbrain.com) যার একেকটি ডোমেইনের আন্ডারে রয়েছে হাজার হাজার পৃষ্ঠার, লক্ষ-কোটি বিষয়ভিত্তিক অসংখ্য-অগণিত তথ্য সমৃদ্ধ ওয়েব সাইট এবং এসব ওয়েব সাইটের রয়েছে মিলিয়ন-বিলিয়ন দর্শক। ২০১২ সালের একটি পরিসংখ্যানে দেখানো হয়েছে শুধুমাত্র এশিয়াতে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০৭৭ মিলিয়ন বা প্রায় ১০৮ কোটি। একই সময় বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো প্রায় আশি লাখ। (সূত্র : internetworldstats.com)

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যার বৃদ্ধিগতি কেবল উর্ধ্বমমুখীই নয়, যে কোনো প্রকার গাণিতিক হিসেবকেও হার মানায় এই বৃদ্ধিগতি। বর্তমান বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের চেহারা হচ্ছে— প্রত্যেকজন মোবাইল ব্যবহারকারীই একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। মোট কথা গোটা বিশ্বব্যাপি মিলিয়ন-বিলিয়ন মানুষের কাছে কোনো তথ্য-বার্তা খুব অল্প সময়ে পৌছে দেওয়ার জন্য ইন্টারনেটের বিকল্প নেই। অন্যান্য বিষয় ও তথ্যের  মতো ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইসলাম প্রচারের বিষয়টি খুবই উর্বর ও যুগোপযুগী। হজরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে শেষ নবি হজরত মুহাম্মাদ (সা.) পর্যন্ত সব নবি-রাসুলদের দাওয়াতি জীবন পর্যালোচনা করলে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি উঠে আসে, সেটা হলো— প্রত্যেকজন নবি-রাসুলই ছিলেন তৎকালীন যুগোপযুগী বিদ্যা ও তথ্য-প্রযুক্তিতে পারদর্শী । প্রত্যেক নবি-রাসুলই দীনের দাওয়াতের কাজে ব্যবহার করেছেন তৎকালীন যুগশ্রেষ্ঠ মাধ্যম বা প্রযুক্তিকে। বর্তমান যুগ তথ্য-প্রযুক্তির স্বর্ণযুগ। ইন্টারনেট-মিডিয়ার যুগ। প্রযুক্তির উৎকর্ষময় এই যুগে ইসলামের প্রচার-প্রসারের কাজে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ইন্টারনেটের গতিময়তাকে কাজে লাগাতে হবে ইসলামের দাওয়াতি কাজে। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদ বলেছেন, ‘ইন্টারনেটের মোকাবিলা করতে হবে ইন্টারনেটের সাহায্যে। কম্পিউটারের মোকাবিলায় কম্পিউটার এবং কলমের মোকাবিলায় কলমের সাহায্যে গ্রহণ করতে হবে। উটের পিঠে চড়ে ‘ল্যান্ডক্রুজারে’র সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়া কখনোই সম্ভব না।’

কিপ রিডিং…

গো টু টপ