Tag archive

ফয়সল চৌধুরী

এক ডিমের মসজিদ



ফয়সল চৌধুরী। লোকমুখে প্রচার পৃথিবীতে একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বেঙ্গির মা নামে এক মহিলা। ‘ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়’ প্রবাদ বাক্যটি যেমন সত্য, তেমনি লক্ষ্য যদি থাকে আপনার অটুট একদিন সফলতা আসবেই। কবি গুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে হয় ‘ছোট ছোট বালু কণা, বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তুলে মাহাদেশ সাগর অতল। এই কবিতাটুকু পড়লে মনে হয় কবিগুরুর কোন বাস্তব ঘটনা থেকেই কবিতাটি রচনা করেছিলেন। তেমনি আচার্য্যজনক এক ঘটনা ঘটেছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন এক মহিলা। তাকে সবাই ‘বেঙ্গির মা’ বলে ডাকলেও একটি মহৎ উদ্দ্যোগ নিয়ে এক আন্ডা (ডিম) গড়ে তুলেছেন একটি মসজিদ। এলাকাবাসী নাম দিয়েছেন এক আন্ডা’র মসজিদ। মসজিদটির নাম এখন সবার মুখে। এক আন্ডা থেকে কি ভাবে এক মসজিদ সে কথা শুনলে সবাই অবাক হন। মানুষের অসাধ্য কিছু নেই, মানুষ সাধনা করে আকাশে উড়েছে, পৌঁছেছে চাঁদের দেশে। তেমনি এক বেঙ্গির মা বাংলাদেশে জন্ম দিয়েছে এক ইতিহাস। আর তার রেখে যাওয়া স্মৃতি দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ আসে বেঙ্গির এক আন্ড’র (ডিম) মসজিদ দেখতে।

জানা যায়, জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের প্রজাতপুর গ্রামের তৎকালীন এক কৃষক সরফ উল্লার স্ত্রী বেঙ্গির মা ১৯০২ ইং, ১৩০৭ বাংলায় প্রজাতপুর ও লালপুর দুটি গ্রামের মাধ্যবর্তী স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদ নির্মাণের শেষে এলাকাবাসীকে জড়িত করে মসজিদটির নাম করণ করেন ‘এক আন্ডা (ডিম)র মসজিদ’। তখন মসজিদের নামকরণ নিয়ে জনতার মধ্যে প্রশ্ন জাগলে তিনি ঘটনাটি খুলে বলেন। বেঙ্গির মা এলাকাবাসীকে জানান, তিনি একটি মুরগীর ডিম মসজিদের নামে মান্যত করে রাখেন। ঐ ডিমটি থেকে মুরগীর উতলে দিলে তা থেকে একটি বাচ্চার জন্ম হয়। পরবর্তীতে ঐ বাচ্চাটি বড় হলে তা থেকে আরো ৭টি ডিম হয়। পরবর্তীতে ঐ ৭টি ডিম থেকে ৭টি বাচ্চার জন্ম হয়। এভাবে এক পর্যায়ে মুরগীর খামার গড়ে তুলেন। ঐ খামারের মুরগী বিক্রি করে বেঙ্গির মা টাকা জমাতে থাকেন। তৎকালীন সময়ে তিনি এক লক্ষ টাকা জমা করে মসজিদটি তার স্বামীর মাধ্যমে নির্মাণ করে দেন। বেঙ্গির মা ছিলেন নিঃসন্তান। ঘটনা এলাকায় জানাজানি হওয়ার পরে মসজিদটির নাম সর্বত্র ছড়িয়ে পরে। মসজিদ নির্মাণের শত বছর অতিবাহিত হলেও এখন এ কাহিনী সবার মুখে মুখে। অনেকই মনে করেন একটি আন্ড (ডিম) থেকে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘটনা ইতিহাসে এই প্রথম। তাও আবার একজন মহিলা কর্তৃক মসজিদ নির্মাণ সবাইকে অবাক করেছে। প্রজাতপুর ও লালপুর গ্রামবাসী ২০০৯ সালে মসজিদটির বর্ধিত অংশ সংস্কার করেছেন। কিন্তু বেঙ্গির মার মুল মসজিদটি এখনও বিদ্যমান রয়েছে। চলতি বছরে মসজিদটি নতুন করে রং করা হয়েছে।

এক আন্ডা (ডিম) এর মসজিদের খতিব মাওলানা আলমাছ উদ্দিন বলেন, আমি মসজিদ নির্মাণে বেঙ্গির মার এক এন্ডার গল্প শুনে অবাক হয়েছি। ইচ্ছা থাকলে মানুষ কিনা করতে পারে। তার ছেলে সন্তান না থাকলেও এই মসজিদটি পৃথিবী যতদিন থাকবে ততদিন স্বাক্ষী হয়ে রবে। বেঙ্গির মার প-পৌত্র প্রজাতপুর গ্রামের রাকিল হোসেন বলেন আমার পুর্ব পুরুষ নিঃসন্তান সরফ উল্লার স্ত্রী বেঙ্গির মা এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা। আমি আমার বাবার কাছ থেকে শুনেছি পরিদাদী বেঙ্গির মা একটি আন্ডা থেকেই এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে এলাকাবাসী কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করে মসজিদের সুন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য সংস্কার করেছেন। মসজিদের মোতাওল্লী লন্ডন প্রবাসী আব্দুল হারিছ। কিন্তু তিনি দেশের বাহিরে থাকায় থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। প্রজাতপুর গ্রামের প্রবীণ উলফর উল্লাহ বলেন, আমাদের গ্রামের বেঙ্গির মা এমন একটি কাজ করেছেন, যা সারা জীবনেও ভুলার মত নয়। আমি বেঙ্গির মার কাছ থেকে শুনেছিলাম তিনি একটি ডিম থেকে একটি মুরগীর খামাড় গড়ে তুলেছিলেন। ঐ খামারের একটি টাকাও তার সংসারের কাজে ব্যয় করেন নি। সম্পূর্ণ টাকা দিয়ে মসজিদ নির্মাণ করেন। কিপ রিডিং…

গো টু টপ