Tag archive

বাংলাদেশ প্রতিদিন

ঘরে ঘরে বোমা আতঙ্ক!


নিম্ন, মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ফ্রিজ, এসি ও গ্যাস সিলিন্ডর ব্যবহার করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ত্রুটিপূর্ণ পণ্য মানেই ঝুঁকিপূর্ণ। কম দামে নিম্নমানের পণ্য কিনে ব্যবহার করায় নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনছে।


আলী আজম : ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে নিম্নমানের ফ্রিজ, এসি ও গ্যাস সিলিন্ডার। মানহীন ও নিম্নমানের একেকটি সিলিন্ডার একেকটি বোমায় রূপ নিয়েছে; যা নিমিষেই ধ্বংস করতে পারে বাসাবাড়ি, দোকানপাট, অফিস-আদালত, যানবাহনসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এসব পণ্য মানুষের জীবনের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠেছে। এমনসব সিলিন্ডার ব্যবহারে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব নিম্নমানের সিলিন্ডার ছেড়ে মানসম্মত সিলিন্ডার ব্যবহার করলে দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিএনজি সিলিন্ডারে প্রতি বর্গইঞ্চিতে ৩২০০ পাউন্ড চাপে গ্যাস ভরা হয়। গ্যাস সিলিন্ডার সঠিক মানের না হলে যে কোনো সময় গাড়ি ভয়াবহ বোমা হয়ে বিস্ফোরণ ঘটার আশঙ্কা থাকে। এদিকে গৃহস্থালি বা দোকানের কাজে ব্যবহূত বেশকিছু এলপিজি সিলিন্ডারও বিস্ফোরণ ঘটছে। নিম্ন ও মানহীন সিলিন্ডার ব্যবহার করায় নিরাপদ রান্নাঘর হয়ে উঠেছে বিপজ্জনক।

জানা গেছে, রি-টেস্টের মেয়াদোত্তীর্ণ দেড় লাখেরও বেশি গাড়ি বিপজ্জনক সিলিন্ডার নিয়ে রাস্তায় চলছে। নিম্নমানের সিলিন্ডার ও কিটস ব্যবহার এবং পাঁচ বছর পরপর রি-টেস্ট করার নিয়ম না মেনে গাড়িচালকরা জীবন্ত বোমা নিয়ে যানবাহন চালাচ্ছেন। যা চালকসহ গাড়ির যাত্রী ও পথচারীদের জীবনের জন্যও হুমকি। প্রায়ই ঘটছে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। সর্বশেষ শনিবার বিকালে পুরান ঢাকার লালবাগ চৌরাস্তায় মিঠাই নামের একটি বেকারিতে ফ্রিজের কমপ্রেসার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সাতজন দগ্ধসহ নয়জন আহত হন। এর মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কিপ রিডিং…

আবার রমরমা এমএলএম ব্যবসা

সাঈদুর রহমান রিমন : গ্রাহকদের প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারক মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) প্রতিষ্ঠান ‘আইসিএল গ্রুপ’ও অবশেষে উধাও হয়ে গেল। পুরানা পল্টনের দেওয়ান কমপ্লেক্সে আইডিয়েল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা সব গা ঢাকা দিয়েছেন। বিজয়নগরের টেপা কমপ্লেক্সে আইসিএল গ্রুপের অফিসে ঝুলছে তালা। অন্যান্য স্থানের ৩৪টি শাখা কার্যালয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, সংস্থাটির কর্ণধার এম এন এইচ শফিকুর রহমান ও তার সহযোগীরা এরই মধ্যে শক্তিমানদের ছত্রচ্ছায়ায় বহাল তবিয়তেই টিকে রয়েছেন। কিন্তু এর আগেই আইসিএল গ্রুপের অধিকাংশ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাচারে সক্ষম হন তারা। প্রতারক চক্রটির মূল হোতারা সেখানেই গড়ে তুলেছেন নিজেদের সেকেন্ড হোম।

শুধু আইসিএল নয়, গত কয়েক মাসে একইভাবে গ্রাহকদের শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রায় দুই ডজন ‘এমএলএম প্রতারক’ কোম্পানি গা ঢাকা দেয়। তারা হুন্ডির মাধ্যমে অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকা পাচার করে সপরিবারে নিজেরাও পাড়ি জমিয়েছে বিদেশে। হাজার হাজার অসহায় মানুষকে নিঃস্ব করে লুটে নেওয়া টাকায় প্রতারকরা গড়ে তুলেছেন নিরাপদ আবাস, অভিজাত জীবন। আরও অর্ধশতাধিক এমএলএম প্রতারক টাকা পাচার ও দেশত্যাগের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি ‘দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা’র তালিকা বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়েও প্রতারকদের বিদেশ পালানো বন্ধ করা যাচ্ছে না। থামানো যাচ্ছে না এমএলএম নামের ভুঁইফোড় হায় হায় কোম্পানিগুলোর প্রতারণা-জালিয়াতি।

ইউনিপেটুইউ, ডেসটিনি-২০০০, ইউনিগেটটুইউসহ শতাধিক এমএলএম কোম্পানির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময়ও আইসিএল থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা বাধা-নিষেধের মধ্যেই আইসিএল ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা আমানত সংগ্রহে সক্ষম হয়। প্রতারণা প্রতিষ্ঠান আইসিএলের মাত্র ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ দৃশ্যমান থাকলেও বাকি সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার হদিস পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। ঢাকা, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইসিএলের জমি ও সম্পদের বেশির ভাগই গোপনে বিক্রি করে টাকা পাচার করা হয়েছে মালয়েশিয়ায়। রাজধানীর বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লার মিঞাবাজার, ধনিজকরা, চৌদ্দগ্রামসহ অন্যান্য স্থানে থাকা আইসিএলের বাকি সম্পদও বিক্রির পাঁয়তারা চলছে। এভাবেই সাধারণ মানুষের কষ্টে জমানো আমানত লুটে নিয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারকরা রাতারাতি উধাও হয়ে যাচ্ছে। প্রতারক চক্র অবাধে কোটি কোটি টাকা লুটে নেওয়ার পরই কেবল হইচই হয়, চলে নানা ভঙ্গিমায় তদন্ত। একপর্যায়ে সবকিছুই চাপা পড়ে যায়। কিন্তু প্রভাবশালী এসব লুটেরা প্রতারক বরাবরই থেকে যায় বহাল তবিয়তে। শুধু থামে না সর্বস্ব হারানো লোকজনের হাহাকার, কষ্টকান্না।


অতিসম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও এমএলএম প্রতারণার ব্যাপারে জরুরিভাবে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এসব সিদ্ধান্ত, সুপারিশ, বিশেষ নির্দেশনা কোনো কিছুই কার্যকর হচ্ছে না। ফলে বন্ধ হচ্ছে না এমএলএম প্রতারণা, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা লুটে নেওয়ার বাণিজ্য।


কিপ রিডিং…

গো টু টপ