Tag archive

মনযূরুল হক

ফিলিস্তিনি গল্প— পোস্টারে সেঁটে থাকা সেই মেয়েটি


মূল— দিমা শাইবানি। ভাষান্তর— মনযূরুল হক


ক্ল্যারিফিকেশন— এ গল্পটি একজন আরব নারীর জীবন কাহিনী অবলম্বনে রচিত। এই মহিয়সী নারীর নাম ‘হানা শাইবানি’। ফিলিস্তিন মুক্তিযুদ্ধে শহিদ প্রথম ইরাকি যোদ্ধা।

হানা শাইবানি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪২ সালের ২৭ আগস্ট। ১৯৫৬ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাথ পার্টির সদস্য হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ১৯৫৮ সালে পার্টির মহিলা সদস্যাদের নেত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৬১ সালের দিকে দুর্নীতির ঘটনার প্রতিবাদে তিনি বাথ পার্টি ত্যাগ করেন এবং ইয়াসির আরাফাতসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত করে ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনে যোগদান করেন। ১৭ মার্চ ১৯৭০ সালে তিনি আন্দোলনরত অবস্থায় মাত্র ২৮ বছর বয়সে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।


সবাই বলে আমি নাকি আজন্মই খুব গল্পপ্রিয় মানুষ। আমার নিজের কাছেও তা-ই মনে হয়। গল্প শুনতে সব সময়ই বিশেষ ভালো লাগে আমার। ভালো লাগে শোনাতেও। কিন্তু ভূত-প্রেতের অহেতুক কিসসায় আমার বিরক্তি ভীষণ। শিশুরা কেউ যদি আমার কাছে গল্প শুনতে আসে, তাহলে আমি তাদের সেই সব কাহিনী গল্পের মতো করে সাজিয়ে বলি, যা তাদের মন-মগজকে শুধরে সুস্থ চিন্তার পথ তৈরি করে দেয়।

বহু মনমাতানো গল্পকথা মুখস্ত ছিলো আমার। হয়তো ছেলেবেলায় শুনেছি, অথবা শিশুতোষ বইগুলোতে পড়েছি। কিন্তু এক্ষণে বয়সকালের সব সূত্রাদি ছিঁড়েফুঁড়ে উপর্যুপরি নাবছিলাম একটি স্বপ্ন জাগানিয়া সুরের সন্ধানে। কাউকে শোনাতে নয়, নিজেই স্মরণ করতে চাইছিলাম যে, কী ঘটেছিলো তখন।

আমার চিরদিনের অভ্যাস, ছোট ছোট বিষয় থেকে গল্পের সূত্র খুঁজে বের করা। যেমন, বাড়িতে ভিক্ষুক এসেছে। আমি ভাবতাম, কেনো সে ভিক্ষা করছে। হয়তো তাকেই সেটা জিজ্ঞেস করতাম। অথবা তার পিছু লেগে থাকতাম, তার জীবনের গল্পটা উদ্ধার করার জন্যে। কিংবা হয়তো দেখা যেতো, রাস্তায় একটা চশমা পড়ে আছে। সেই চশমাটা কার হতে পারে, কী করে ফেলে গেলো, এ নিয়ে ভাবনার অন্ত ছিলো না আমার। সংবাদপত্রের বিজ্ঞপ্তি, বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠায় লেখা উপহার বাক্য, বাড়ির পাশের মরে যাওয়া যাইতুন গাছটার রোপনকর্তা, অথবা পুরোনো সুটকেসে নেকড়ার মতো ময়লা হয়ে থাকা এক খ- কাপড়রই হতে পারতো আমার গল্পের উৎস সন্ধানের বিষয়। বাড়ির মানুষ, পড়শি, স্বজন, পথের অপরিচিত যেই হোক কারো কাছে কোনো গল্প বা ঘটনা জানতে চাইতে আমার কোনো সংকোচ ছিলো না কখনোই। ফলে অল্প বয়সেই নানান গল্পের একটা ভা-ার জমা হয়ে গেছে আমার স্মৃতিতে।

গল্পের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণেই কখনো কখনো একটা গল্পের সঙ্গে আরেকটা গল্পের সূত্র জোড়া লেগে গিয়ে মাঝমধ্যে এমন কিম্ভূত পরিস্থিতিরও উদয় হতো যে, আমি রীতিমতো লজ্জায় পড়ে যেতাম। অনক সময় রাশি রাশি গল্পের স্তূপের তলে চাপা পড়ে থাকা কোনো একটা গল্প মগজ নাড়া দিয়ে যেতো। কিন্তু মাথা থেকে মুখে আনতে গিয়েই লাগতো গোলমাল। অর্থাৎ মাথায় আছে, কিন্তু মনে আসছে না। অথবা মনেও আসছে কিন্তু ধরে রাখতে পারছি না বেশিক্ষণ।

আজো মনে হচ্ছে, তেমন কিছু একটা ঘটেছে। আমি মনে করতে চাইছি। অথচ মনে আসছে না। আবার একটু একটু করে মনে আসছে। কিন্তু মুখে আসছে না। বাসার সামনের দেয়ালে নানুর লাগানো পোস্টারটা দেখে পুরোনো একটা গল্প চাগিয়ে উঠতে চাইছে। বারংবার চোখের পাতায় ভেসে উঠছে তেমনই একটা মলিন পোস্টার। দেয়ালে সাঁটা বিবর্ণ একটা ছবি। তাতে কিছু হরফ, লাল কালিতে লেখা কতগুলো অক্ষর জ¦ল জ¦ল করছে যেনো।

আমি মনে হয় নানুর সাথে কোনো শপিং মলে গিয়েছিলাম সেদিন। কী কী কিনেছিলাম মনে নেই। তবে এইটুকু মনে আছে যে, আমাদের কারো হাতে কোনো শপিং ব্যাগ ছিলো না। হয়তো কিছুই কিনি নি। নানুর সাথে ঘুরতে বেড়ানোই উদ্দেশ্য ছিলো শুধু। মনে পড়ছে, নানু আমার হাত ধরে আছেন, আর আমরা এক পা এক পা করে সিঁড়ি ভেঙ্গে নামছি। শপিংমলের বাইরে এসে আমি নানুর হাতটা ছেড়ে দিলাম। কারণ আমি সেখানের দেয়ালে একটা মেয়ের পোস্টার দেখতে পাচ্ছিলাম। একটা কিশোরী মেয়ের ছবি আঁকা পোস্টার। সম্ভবত আমার বয়েসিই হবে মেয়েটা।

আশ্চর্য হয়েই পোস্টারটার সামনে দাঁড়ালাম আমি। একটা কিশোরী মেয়ে কী করে এমন একটা পোস্টারে জায়গা করে নিলো ভেবে পাচ্ছিলাম না আমি। ঈর্ষায় জ্বলে গেলো ভেতরটা। আরো একটু কাছাকাছি হয়ে পোস্টারের লেখাগুলো পড়তে চেষ্টা করলাম আমি। তাতে লেখা ছিলো— “মৃত্যু অবশ্যই আসবে, কিন্তু উপযুক্ত মূল্য না পেলে মৃত্যুকে কিছুতেই বরণ করা উচিত নয়; আর স্বাধীনতার চেয়ে উপযুক্তমূল্য আর কিছুই হতে পারে না।”

অবাক হয়ে গেলাম আমি। আমার মতো একটা মেয়ে কী করে এতো কঠিন কথা বলতে পারে! অনেকগুলো পোস্টার দেয়ালটা জুড়ে। বিচিত্র বিজ্ঞাপনে ঠাসা দেয়ালটা। তবে সবচে’ সুন্দর ছিলো সম্ভবত এই পোস্টারটাই। একটা নয়, পর পর একসাথে চার-পাঁচটা পোস্টার ছিলো এই একই ছবি আর লেখা দিয়ে তৈরি। কেউ দেখে ফেললে বকবে, সে ভয়ের কথা না ভেবেই একটা পোস্টার টেনে নামিয়ে আনলাম আমি। এবং দুহাতে মুড়ে জামার হাতার ভেতরে লম্বালম্বি ঢুকিয়ে রাখলাম, যেনো হঠাৎ করেই কেউ বুঝতে না পারে যে, আমার কাছে কিছু একটা আছে।

হ্যাঁ, এখন আমার স্পষ্ট মনে পড়ছে ঘটনাটা। রাতে পড়ার রুমে বসে আমি চুপি চুপি পোস্টারটা বের করে আবার টেবিলে রাখলাম। অথচ সেটা কোনো গোপন বিষয় ছিলো না। তবু আমার মনে হলো, এটা দেখলে অন্যরা হয়তো অযাচিত ভেবে আমাকে বোকা বলতে পারে। হয়তো আমার ভাইয়েরা হাসাহাসি করবে আর আমার বোকামি সবাইকে বলে বেড়াবে। খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে লাগলাম পোস্টারের রঙ, ছবি আর লেখাগুলো। হতে পারে তখন কিছু বাদ পড়ে গেছে যা আমার পড়া হয় নি। চারকোণা একটা পোস্টার। চারপাশে সাদা-কালো ডোরাকাটা আল্পনা আঁকা ফ্রেম। ছবিটা পোস্টারের গায়ে কোণাকুণিভাবে লাগানো। মনে হচ্ছে মেয়েটা একটু কাত হয়ে আছে। আর ছবির একেবারে নীচে বড় বড় করে লাল হরফে লেখা— ‘মৃত্যু অবশ্যই আসবে, কিন্তু উপযুক্ত মূল্য না পেলে মৃত্যুকে কিছুতেই বরণ করা উচিত নয়; আর স্বাধীনতার চেয়ে উপযুক্ত মূল্য আর কিছুই হতে পারে না। কিপ রিডিং…

এরদোগান— অ্যা গ্রেট সুলতান


দ্য গ্রেট সুলতান— ০১


কবি এবং ফেরিওয়ালা—এ-দুটির মধ্যে সাজুয্য খুঁজে পাওয়া এবং খুঁজতে যাওয়া অসম্ভব এবং সে-ক্ষেত্রে ব্যক্তি যখন হবেন একজন রাজনীতিক, তখন আপনি বিস্মিত হবেন। হতে চাইবেন। ভেবেও বসবেন, আসলে তিনি কবি নন। তিনি রাজনীতিকই বটেন। হয়তো রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে কিংবা কাউকে ডিকটেশান দিয়ে লিখিয়ে দুয়েকবার কাব্য করেছেন। আমরা আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি, অন্তত এরদোগানের বিষয়ে আপনার ভাবনা অমূলক।

এরদোগান শুধু কবি নন, তিনি কবিতার জন্য জেলে খেটেছেন এমন এক সময়ে, যখন তিনি দেশের ক্ষমতাধর একজন। এমনকি তার দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির তখন জয়জয়কার। ২০০২ সালের নভেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিজয়ী হয়েও এরদোগান প্রধানমন্ত্রী হতে পারছেন না। কারণ, ইস্তাম্বুলের মেয়র থাকা অবস্থায় একটা কবিতা পাঠের অপরাধে তিনি শাস্তি ভোগ করছিলেন। শাস্তির মেয়াদ তখনও পূর্ণ হয় নি।

যদিও ২০০৩ সালের ১৪ মার্চ অবশেষে নানা আইনি জটিলতা পেরিয়ে তিনি তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এ-জন্য প্রথমে তার দলের সিনিয়র সদস্য এবং পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ গুলকে তার আসন থেকে পদত্যাগ করে সে-আসনে উপনির্বাচনে নিবাচিত হয়ে পার্লামেন্টে আসতে হয়েছে।

আমরা ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে, যে-কবিতাটি এরদোগান পাঠ করেছেন, তার রচয়িতা তিনি ছিলেন না। তবে তিনি সেনাবহিনীকে ‘দোয়া’ করার অসিলায় তুর্কি জাতীয়তাবাদী কবি জিয়া গোকাল্পের কবিতাটি পাঠ করেছিলেন দক্ষিণ তুরস্কের জনসভায়। সেদিন ছিলো ১৯৯৭ সালের ১২ ডিসেম্বর। Mosques are our barracks. domes our helmets, minarets our bayonets, believers our soldiers—এই হলো কবিতা। যার তর্জমা করলে দাঁড়ায়— মিনার আমাদের বেয়োনেট, গম্বুজ হেলমেট, মসজিদ আমাদের ব্যারাক, মুমিনরা আমাদের সৈন্য। কবিতার শেষে আবার ‘আল্লাহু আকবার’ শব্দগুচ্ছও আছে। সুতরাং খুবই মুসলমানি কবিতা। এই মুসলমানি ছুৎমার্গ থেকে পবিত্র করার জন্য তুরস্কের সেক্যুলার সরকার তাকে প্রায় অর্ধযুগ কারাপ্রকোষ্ঠো আটকে রাখে ।

মনে রাখা দরকার, শুধু মুসলমান নয়, যদিও সে-দেশের আকছার মুসলমান, তবে ধর্মই তুরস্কের ক্ষমতাসীন মানুষের সবচে’ বড় ভীতি ছিল। নাকি এখনও আছে? কেননা, এরদোগানের দল একেপিকে তুরস্কের সেক্যুলার দল বলেই সে-দেশে গণ্য করা হয়। এবং এরদোগানকে তুরস্কের জাতির পিতা (আতুতুর্ক) মোস্তফা কামাল পাশার উত্তসূরিও ভাবা হয়; যিনি ছিলেন আধুনিক তুরস্কের প্রথম রাষ্ট্রপতি। ১৯২২ সালে অটোম্যান সম্রাজ্যের পতন করে ১৯২৩ সালে সেক্যুলার রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। সেক্যুলারিজমকে সে-দেশে কামালিজমও বলা হয়। আতুতুর্ক ঘোষণা দিয়েছিলেন— ধর্ম বলতে কিছুই নেই, ধর্ম হলো মানুষকে শাসন করার একটা পদ্ধতি মাত্র। কোনো জাতির উন্নতির জন্য ধর্মমুক্ত হওয়া ছাড়া কোন পথ নেই । তাই আজ থেকে আমার রাষ্ট্রকে ধর্ম মুক্ত হিসাবে ঘোষণা করলাম। কিপ রিডিং…

পতাকার সাতকাহন


২৩ মার্চ জাতীয় পতাকা দিবস। বিশেষ এই দিবস উপলক্ষে আমাদের বিশেষ আয়োজন- পতাকার সাতকাহন। লিখেছেন মনযূরুল হক


শুরুতেই একটা গল্প বলি। একটি দেশের গল্প। অনেক অ-নে-ক দিন আগের কথা। প্রায় সত্তর বছর! চমৎকার একটা দেশ। সুন্দর একটি পতাকা আছে তার। সেই পতাকার জমিন সাজাতে আকাশ থেকে ছিনিয়ে আনা হল একফালি চাঁদ। তারপর…কেটে গেলো বহুদিন। কিন্তু কোথায় যেনো একটু অপূর্ণতার আড়ালে মলিন হয়ে থাকে চাঁদের পৃথিবী। কিছুতেই যেনো তাল মিলছে না। দেশের শিল্পী-আঁকিয়েরা ভেবে বললেন, একটা তারকার অভাবেই চাঁদকে বেমানান লাগে। রাজা শুনলেন এবং বুঝলেন। হুকুম দিলেন চাঁদের কোলে একটি শুভ্র তারকা বসিয়ে পতাকার জমিন যথার্থ সুন্দর করা হোক। হ্যাঁ, তাই হয়েছে। আর এর ফলেই সেদেশের পতাকা হয়েছে, সুন্দর। ভয়াবহ সুন্দর।

এই সুন্দর পতাকার অধিকারীরা একবার এক কা- করে বসল। কেউ জানে না, সবাই গভীর ঘুমে মগ্ন। এমন সময় নিজেদেরই পূর্বদিকের একটি ভূখণ্ডের ওপর বড়ই নির্মমভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। সুন্দরের ভেলকিতে চেতনাহীন মানুষ জেগে উঠতে উঠতেই নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে তাদেরকে অভিনব কৌশলে। সঙ্গে সমান তালে চলতে থাকে মানবীদের অঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইজ্জতের লুণ্ঠন। কেন? এর উত্তর পেতে সময় লেগেছে দীর্ঘ নয়টি মাস। হয়তো তারা ভেবেছিলো, তারা পশ্চিমের আর তাদের পতাকা সুন্দর বলে সবকিছুকেই সুন্দর মেনে নেবে সবাই। তাদের শোষণ, তাদের অধিকার হরণ, তাদের ভাষা, তাদের জাতীয়তা- সব।

এই অনধিকার বলপ্রয়োগ, এই অমানবিক সৌন্দর্যবোধের বিরুদ্ধে বেঁকে বসেছিলো তাদেরই অপর অংশ, পূর্বভূখণ্ড; চাঁদ-তারা খচিত সুন্দর পতাকায় যাদেরও অংশ ছিলো। তাই নিদারুণ মাশুল গুণতে হয় ‘অসুন্দর’ বলে দমিয়ে রাখা এই ভূখ-ের মানুষকে।

তারপর, কী হয়! তা বোধ হয় আর না বললেও চলে। অবিকল্পিত যুদ্ধ। সেই নয় মাস। যদিও সে দীর্ঘ সময়ে কেবল অন্ধকার ছেয়ে থাকা রাতই এসেছিলো। আর রাতগুলোতে অনেকবার চাঁদও উঠেছে আকাশে। তারাও ছড়িয়েছে জোছনা। তবু নয়মাস পর দেখা গেলো সে দেশের গল্পের যবনিকা হয়ে গেছে। শুরু হয়েছে অন্য এক দেশের গল্পকথা।

কেননা, রাতের দীর্ঘপথ পেরিয়ে সূর্যের উদয় হয়েছে ততদিনে। প্রভাতের রক্তরাঙা সূর্য। সেই নতুন দেশের জন্যও একটি পতাকার প্রয়োজন ছিলো। তবে না, সেই দেশের পতাকাটি আকাশ থেকে কেড়ে আনা তারায় সাজানো হয় নি। বাঁকা চাঁদ বসিয়ে সৌন্দর্য বাড়ানোর চেষ্টাও করা হয়নি। সেই দেশের পতাকা তৈরি হল সবুজ ঘাসের মধ্যে রক্তলাল একটি বড় বৃত্ত দিয়ে। এই বৃত্তটা কেন? এটা হলো নয়মাস ধরে ক্ষরিত রক্তের রঙ এবং পূবাকাশের সূর্য। কেন পূবাকাশের সূর্য? কারণ, পশ্চিম দেশের লোকেরা যদি পশ্চিমাকাশের প্রথম উদিত হওয়া ক্ষীণ চাঁদ কেড়ে নিয়ে ওদের পতাকায় বসিয়ে দিতে পারে, তবে তারা কেন পূব দেশের মানুষ হয়ে ভোরের উদীয়মান পূবাকাশের সূর্যকে ছিনিয়ে আনতে পারবে না? হ্যাঁ, পেরেছে তারা। তারা মানে কিন্তু আমরা। আমরা মানে কিন্তু বাংলাদেশিরা। মানে যারা পশ্চিম পাকিস্তানের চাঁদ-তারার বিরুদ্ধে লড়াই করে লাল-সবুজের পতাকার স্বত্ব পেয়েছি, তারা। তাইতো আজ আমাদের পতাকা আরো সুন্দর। আরো মর্মস্পর্শী। চাঁদের চেয়ে অনেক বেশি আলোময়। পতাকার যেহেতু এত হেতু, তাহলে আজ পতাকা নিয়েই কথা হোক।
কিপ রিডিং…

নারীদের সফলতার রহস্যের ব্য়ান তুমি সৌভাগ্যের রানী


তুমি সৌভাগ্যের রানী। বইটি লেখা হয়েছে মূলত একজন ঈমানদার নারীকে দীনের সৌভাগ্য এবং আল্লাহর করুণা ও দক্ষিণা নিসিক্ত করে দেয়ার উদ্দেশ্যে। এই বই বিষাদগ্রস্ত ও হতাশায় নিমজ্জিত হৃদয়গুলোকে আশা ও আনন্দের আঁচলে জড়িয়ে নেবে। এই বইটি তার পাঠককে ডেকে ডেকে বলে ধৈর্য ধরো এবং আল্লাহর কাছে প্রতিদান পাবার আশা রাখো। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যেয়ো না। মহান আল্লাহ তোমার জন্য সর্বাস্থায় তোমা সাথে আছেন। আল্লাহই তোমার সহায়ক, তোমার বন্ধু। সুতরাং তোমরা তার উপর আশা রাখ।

বাংলাদেশে বইটি প্রকাশ করেছে, আকিকপাবলিকেশন্স এদারায়েকুরআন। ১১/১ ইসলামী টাওয়ার, বাংলা বাজার ঢাকা। ফোন নম্বর: ৯৫৮৯৮৫২ ও ০১৭২৪-৬০৪১৩৬। এই প্রকাশনি বইটি প্রথম প্রকাশ করে ২০১৫ সালে। বইটি রকমারি.কম থেকে কিনতে প্রবেশ করুন এই লিঙ্কে…
কিপ রিডিং…

বিষ্ণুপ্রিয়া : একটি প্রেমবতী ভাষার আখ্যান


আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হলো— বিষ্ণুপ্রিয়া আদতে ছিলো বিষ্ণুপুরীয়া । অর্থাৎ ভারতের মণিপুর রাজ্যের বিষ্ণুপুর থেকে উদ্ভূৎ শব্দটি; যেখানে বিষ্ণুপ্রিয়ারা সংখ্যায় প্রবল ছিলো । বিষ্ণুপ্রিয়ার সুদেষ্ণা সিংহকে দুনিয়ার পয়লা আদিবাসী ভাষাশহিদ বলা হয় । ১৬ মার্চকে বিষ্ণুপ্রিয়া ভাষার ‘মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।


বিষ্ণুপ্রিয়া— কী চমৎকার একটি ভাষার নাম । বুকে আগলে রাখা প্রেয়সীর মতো সুন্দর । লেখার শুরুতে আপনাদের আরও চমৎকার দুটি তথ্য দিচ্ছি—

এক. বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মণিপুরি সম্প্রদায়ের মানুষ । তার মাতৃভাষা বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি । [1] দুই. পৃথিবীর ইতিহাসে কেবল দুটি ভাষার জন্যে মানুষকে লড়াই করতে হয়েছে রক্ত দিয়ে— বাংলা ও বিষ্ণুপ্রিয়া । এ ছাড়া তামিল ও কন্নাড়া ভাষাসহ আরও কয়েকটি ভাষার জন্যে লড়াই করতে হয়েছে মানুষকে । কিন্তু রক্ত দেয়ার কৃতিত্ব কেবল এ দুটিরই । বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরিদের তাদের মাতৃভাষার স্বীকৃতির জন্য যে কঠিন সংগ্রাম করতে হয়েছে, সে-সংগ্রাম বাংলাভাষা আন্দোলনের চেয়েও দীর্ঘতর । আমরা সে-আলোচনায় একটু পরে আসবো । কিপ রিডিং…

সিলেটি নাগরী : সুফিদের হাতে গড়া অনন্য বর্ণমালা

গো টু টপ