Tag archive

মুক্তিযুদ্ধ

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ডিজিটাল আর্কাইভ


মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোনো অবান্তর ঘটনা পিন করা হলে কিংবা পিনকৃত ঘটনাটির সত্যতা না পাওয়া গেলে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাপ থেকে মুছে ফেলা হবে।


দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের লাখো ইতিহাস ও ঘটনাকে এক সুতোয় গাঁথতে মুক্তিযুদ্ধের ওপর সর্ববৃহৎ ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে প্রিয় লিমিটেড। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে রাখার এ উদ্যোগের নাম দেয়া হয়েছে প্রিয় মুক্তি পিন। ডিসেম্বরজুড়ে দেশের ৬৪ জেলায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে ও প্রিয়.কমের সরাসরি তত্ত্বাবধানে মুক্তিযুদ্ধের ছোটবড় ঘটনাগুলোকে শনাক্ত করে অজানা ও ক্ষয়িষ্ণু প্রায় ইতিহাসকে দীপ্তিময় করে তোলা হবে। এসব ঘটনা ও ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা হবে বাংলাদেশের ডিজিটাল মানচিত্রের ওপর। এ ডিজিটাল আর্কাইভ ইতিহাসকে পৌঁছে দেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে, যাতে প্রজন্মান্তরে আমাদের অমূল্য মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রামের ঘটনা হারিয়ে না যায়। এ ব্যাপারে প্রিয় লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাকারিয়া স্বপন বলেন, সর্বস্তরের বাংলাদেশি নাগরিককে এই উদ্যোগে সংযুক্ত করতে ডিসেম্বর থেকে প্রিয় মুক্তি পিন সফটওয়্যারটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে রাখা হবে। উন্মুক্ত করা হবে মোবাইল অ্যাপ।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে আগ্রহী যে কেউ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুক্তি পিন ম্যাপের মাধ্যমে প্রকাশ করে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই ডিজিটাল আর্কাইভের অংশ হতে পারবেন। প্রিয়.কমের নিজস্ব বিচারক প্যানেল পিনদাতাদের দেয়া প্রতিটি পিনের সত্যতা নিশ্চিত করবে। সাধারণ মানুষের দেওয়া পিনগুলোর সত্যতা ও যথার্থচা যাচাই করার জন্য প্রফেসর ড.আনিসুজ্জামান, প্রফেসর ড.কায়কোবাদ, প্রফেসর ড.মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ড.গওহর রিজভীর মতো আরও বিশেষ কিছু ব্যাক্তিত্বদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছে প্রিয় লিমিটেড। যারা সঠিক পিন দেবেন তাদের পিনগুলোকে ম্যাপেই ভ্যারিফাই করে দেয়া হবে। কিপ রিডিং…

শিল্প-সাহিত্যে মহান মুক্তিযুদ্ধ

আমাদের জাতীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধ এক আলোকিত অধ্যায়। আমাদের চেতনাজুড়ে ছড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এদেশের স্বাধীনতা। আমাদের শিল্প-সাহিত্য চর্চাকেও স্বাভাবিকভাবে প্রভাবিত করেছে মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর বাংলা সাহিত্যে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে গল্প, কবিতা, ছড়া, উপন্যাস আর নাটক লেখার পালা। গত ৪৫ বছরে আমরা তাই পেয়েছি অসংখ্য মননশীল সাহিত্যকর্ম।

উপন্যাস দিয়েই শুরু করা যাক। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে নানা যৌক্তিক কারণে বদলেছে আমাদের উপন্যাসের প্রেক্ষাপট, পটভূমি। সেইসঙ্গে বদলেছে চরিত্রের চিত্রায়ণের দৃশ্যপট। বলা যায়, স্বাধীনতা পরবর্তীকালে আমাদের ঔপন্যাসিকরা সন্ধান করেছেন এক নতুন শিল্পরীতির। যে রীতিতে তাঁরা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পাশাপাশি জনমানুষের আকাক্সক্ষার চিত্র তুলে ধরেছেন পাঠক সমীপে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসগুলোতে আমরা শুধু গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নিরস্ত্র মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন, অবরুদ্ধ মানুষের যন্ত্রণাদগ্ধ যাপিত জীবন, বন্দি শিবিরে অবর্ণনীয় নিপীড়ন, নারী ধর্ষণের বর্ণনাই পাই না। বরং মানুষের নতুনভাবে জেগে ওঠার বীজমন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতান্ত্রিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রের সার্থক প্রতিফলনও দেখতে পাই। আমাদের উপন্যাসে এ ধারার উল্লেখযোগ্য সংযোজন হচ্ছে আনোয়ার পাশার ‘রাইফেল রোটি আওরাত’, আমজাদ হোসেনের ‘অবেলায় অসময়’, মাহমুদুল হকের ‘জীবন আমার বোন’, সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের ‘জীবনতরু’, শওকত আলীর ‘অবশেষে প্রপাত’ ও ‘যাত্রা’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’, হাসনাত আবদুল হাইয়ের ‘তিমি’, রিজিয়া রহমানের ‘একটি ফুলের জন্য’, রাহাত খানের ‘ছায়া দম্পতি’, শওকত ওসমানের ‘দুই সৈনিক’, ‘জাহান্নাম হইতে বিদায়’ ও ‘নেকড়ে অরণ্য’, রাবেয়া খাতুনের ‘ফেরারি সূর্য’, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘চিলে কোঠার সেপাই’, রশীদ হায়দারের ‘অন্ধকথা মালা’ ও ‘খাচায়’, শামসুর রাহমানের ‘অদ্ভুত আঁধার এক’, আহমদ ছফার ‘ওঙ্কার’, সেলিনা হোসেনের ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, হুমায়ূন আহমেদের ‘দেয়াল’, ইমদাদুল হক মিলনের ‘ঘেরাও’ ও ‘কালো ঘোড়া’, আনিসুল হকের ‘মা’ ইত্যাদি। কিপ রিডিং…

গো টু টপ