Tag archive

লিড স্টোরি

২০১৭ সালে সর্বাধিক বিক্রিত ১০টি বাংলা ইসলামী বই

নবী করিম (সা.) এক হাদিসে উল্লেখ করেছেন, এক ঘণ্টা জ্ঞান অর্জন করা সারা রাত ইবাদত করার থেকে উত্তম। এখানে জ্ঞান অর্জন করা বলতে মূলত বই পড়ার ওপর সর্বাধিক তাগিদ দেয়া হয়েছে।

আল্লামা শেখ সাদী বলেছেন, জ্ঞানের জন্য তুমি মোমের মতো গলে যাও। কারণ জ্ঞান ছাড়া তুমি খোদাকে চিনতে পারবে না। একজন সৃষ্টিশীল মানুষ পৃথিবীতে বইয়ের বিকল্প কিছুই চিন্তা করতে পারেন না। সমাজ বদলাতে হলে বই পড়ার বিকল্প নেই। বই মানুষের জীবন সঙ্গী। বই অবসরের প্রিয় বন্ধু। বই পাঠ মানুষকে সত্য পথে চলতে, মানবতার কল্যাণে অনুপ্রাণিত করে। বই সুখের সময় মানুষের পাশে থাকে। দুঃখের সময় মনোবল বাড়াতে সাহায্য করে। যে লোকটি বইকে নিত্যদিনের সঙ্গী বানিয়েছে, সেই লোকটি সমাজের অন্য ১০ জন মানুষ চেয়ে ভিন্ন। তার মন-মনন আলাদা। চিন্তাচেতনা ভিন্ন। সহিষ্ণুতা আর বিশ্বাসের ধরনটাও আলাদা। ইচ্ছা করলেই বিবেক বিক্রি করে তিনি নষ্ট পথে ধাবিত হতে পারেন না। এক কথায় যিনি জ্ঞানী তিনি কখনই সমাজ বিপর্যয়ী কাজে অংশ নিতে পারেন না। একজন পাঠক মাত্রই জ্ঞানের সাধক। সৈয়দ মুজতবা আলী বই পড়া প্রবন্ধে লিখেছেন- বই কিনে কেউ তো কখনো দেউলিয়া হয়নি। বই কেনার বাজেট যদি আপনি তিনগুণও বাড়িয়ে দেন, তবুও তো আপনার দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

বাংলাদেশে গড়ে ওঠা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে বই অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান রকমারি.কম। রকমারি.কম হচ্ছে বাংলাদেশে অন্যতম জনপ্রিয় পণ্য কেনার বা ই-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান। রকমারি.কম বলতে গোটা বাংলার মানুষের কাছে যে কথাটি স্পষ্ট সেটা হলো- বাংলাদেশসহ পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে প্রকাশিত বই ঘরে বসে কিনতে চাইলে রকমারি.কমের বিকল্প নেই। রকমারি.কম থেকে ২০১৭ সালে যে সব বাংলা ইসলামী বই বেশি বিক্রি হয়েছে, তার মধ্য থেকে সর্বাধিক বিক্রিত ১০টি ইসলামী বইয়ের তথ্য নিন্মে তুলে ধরছি।

১০. সিরাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) মহানবীর প্রথম বিশদ জীবনী। বইটির মূল লেখক, ইবনে ইসহাক। আর অনুবাদ করেছেন শহীদ আখন্দ। সিরাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর লেখা বইটি ইবনে ইসহাককে ইতিহাসে অমরত্ব দিয়েছে। ইসলাম ধর্ম, মহানবী (সা.) এবং সে সময়ের আরবের ইতিহাস জানার জন্য সারা পৃথিবীর নিবেদিতপ্রাণ ধর্মানুসারী থেকে নিষ্ঠাবান গবেষক পর্যন্ত সবাই এ বইয়ের কাছে ফিরে ফিরে এসেছেন। অসংখ্য ধর্মীয় ও গবেষণাগ্রন্থের মধ্য দিয়ে নানা ভাষায় এ বইয়ের উদ্ধৃতি ও বিশ্লেষণ পৃথিবীর কোনায় কোনায় ছড়িয়ে পড়েছে। মহানবী (সা.) মৃত্যুর পর লেখা এ বইটি তার প্রথম বিশদ জীবনী। বইটি প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশনী। বইটির মূল-১২৭৫ টাকা। ২০১৭ সালে রকমারি.কম থেকে যে সব ইসলামী বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে, সেই তালিকায় দশম স্থানে রয়েছে এই বইটি। রকমারি.কম থেকে বইটি কিনতে চাইলে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে এবং অর্ডার করুন। কিপ রিডিং…

ক্যামেরার চোখে ঘটনাবহুল ২০১৭


ফিরে দেখা ২০১৭


২০১৭ সালকে বিদায় জানিয়ে ২০১৮ সালে উপস্থিত আমরা।  এভাবেই চলে আসছে এবং চলতে থাকবে- একের পর একটি বছর শেষ হবে এবং শুরু হবে নতুন আরেকটি বছর।  বর্ষপরিক্রমার এই অমোঘ নিয়ম মেনেই চলছে সব।  সামনে এগুচ্ছে পৃথিবী।  ভারি হচ্ছে অভিজ্ঞতার ইতিহাস। সমৃদ্ধ হচ্ছে আগামীর পথচলা।  পেছনে ফেলা আসা বছরগুলোকে কি আমরা ভুলে যাই নাকি স্মরণ রাখি? সাদাসিদে উত্তর হলো- একেবারে ভুলেও যাই না আবার খুব বেশি স্মরণ রাখি না। যখন যতটুকু প্রয়োজন স্মরণ রেখে সামনে এগিয়ে চলা।

প্রত্যেকটি বছরই গুরুত্বপূর্ণ।  প্রতি বছরেই ঘটনাবহুল অনেক ইতিহাসের জন্ম হয়।  ২০১৭ সালও তার ব্যতিক্রময় নয়। এ বছরটিতে বিশ্বব্যাপি অনেক ঘটনা ঘটেছে। অনেক আয়োজন-উৎসব এবং উদ্ভব-আবিস্কারে স্নাত হয়েছে বিগত বছরের প্রতিটি মাস, প্রায় প্রতিটি দিন।  ২০১৭ সালে সংঘঠিত উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলীর ছবিনির্ভর ফিচার- ক্যামেরার চোখে ঘটনাবহুল ২০১৭। দ্য নিউ ইর্য়ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ছবি ও তথ্য নিয়ে ফিচারটি তৈরি করেছেন মিরাজ রহমান

জানুয়ারি

১।  নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের অভিষেক অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প।

২।  অভিষেক অনুষ্ঠানে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

৩।  নারীদের বিক্ষোভ মিছিলে দান করার জন্যে ‘পুশি হ্যাট’ বানাচ্ছেন কিছু স্বেচ্ছাসেবক।

৪।  অভিষেক অনুষ্ঠানে ‘মাই ওয়ে’ গানে নাচছেন ট্রাম্প এবং মেলেনিয়া।

৫। ওয়াশিংটনে নারীদের বিক্ষোভ মিছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ত হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেকের পরই সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ বিক্ষোভকারী এতে অংশগ্রহণ করে।

৬।  প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতাগ্রহণের প্রতিবাদে ন্যাশনাল মলের দিকে লক্ষ লক্ষ মানুষের বিক্ষোভ যাত্রা।

৭।  মসুলকে সম্পূর্ণরূপে আইএস মুক্ত করার অভিযান চলাকালে আত্মঘাতী বোমা হামলার পরবর্তী মুহূর্ত পরীক্ষা করছে ইরাকি সেনাবাহিনী।

৮।  সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিবাদে ডালাস-ফোর্ট ওর্থ বিমানবন্দরে নামাজ পড়ছেন কিছু অভিবাসী।

৯। ‘দ্য ফোর টেম্পেরামেন্টস’ এর জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিউ ইয়র্ক সিটি ব্যালে কর্পোরেশনের একজন সদস্য। কিপ রিডিং…

২০১৭ সালে বাংলাদেশে যে ১০টি বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে

উইকিপিডিয়ার ভাষায়, বই— বলতে লেখা, ছাপানো অক্ষর বা ছবিবিশিষ্ট কাগজ বা অন্য কোনও মাধ্যমের তৈরি পাতলা শীটের সমষ্টি বোঝায় যা এক ধারে বাঁধা থাকে এবং রক্ষামূলক মলাটের ভেতরে আবদ্ধ থাকে। এর প্রতিটি পাতলা শিটকে পৃষ্ঠা বা পাতা বলে। বইয়ের সমার্থক শব্দ গ্রন্থ, কিতাব। যে ব্যক্তি বই লিখেন তাকে লেখক বলে।

বিশ্বের প্রতিটি দেশে প্রায় সব ভাষাতেই নানা বিষয়ের বই রয়েছে। বাংলা ভাষাতেও এর ব্যাতিক্রম নয়। বাংলাদেশ নামক ছোট্ট এই দেশে বাংলা ভাষায় গ্রন্থ প্রকাশনা ও বিক্রির ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। হালে এসে প্রযুক্তির ডানায় ভর করে বই বিক্রির পদ্ধতিতে গতি এসেছে। সহজ হয়েছে বই ক্রয় করার পদ্ধতি। বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার মাধ্যমে অতীতের তুলনায় বাংলা ভাষায় প্রকাশিত বইয়ের বিক্রিও বেড়েছে, এমনটাই মতামত ব্যক্ত করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশে গড়ে ওঠা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে বই অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান রকমারি.কম। রকমারি.কম হচ্ছে বাংলাদেশে অন্যতম জনপ্রিয় পণ্য কেনার বা ই-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান। রকমারি.কম বলতে গোটা বাংলার মানুষের কাছে যে কথাটি স্পষ্ট সেটা হলো— বাংলাদেশসহ পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে প্রকাশিত বই ঘরে বসে কিনতে চাইলে রকমারি.কমের বিকল্প নেই। এছাড়া বই ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে রকমারি.কমকে বাংলার অ্যামাজনও বলা হয়।

রকমারি.কম থেকে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে যে সব বই বেশি বিক্রি হয়েছে, তার মধ্য থেকে সর্বাধিক বিক্রিত ১০টি বইয়ের তথ্য নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন— ২০১৭ সালে বাংলাদেশে যে ১০টি বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। ফিচারটি তৈরি করেছেন আমাতুল্লাহ ইউসরা। তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন রকমারি.কমের হেড অফ কমিউনিকেশন এন্ড ইনবাউন্ড মার্কেটিং মাহমুদুল হাসান সাদি

১০. শেষ চিঠি। বইটি লিখেছেন আয়েশা ফয়েজ। জীবনী ও স্মৃতিচারণ ক্যাটাগরির বই এটি। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত একুশে বইমেলাতে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে তাম্রলিপি। বইটির মূল্য ১৬০ টাকা। প্রচ্ছদ করেছেন আহসান হাবীব। ২০১৭ সালে রকমারি.কম থেকে যে সব বাংলা বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে, তার তালিকার দশম স্থানে রয়েছে এই বইটি। আয়েশা ফয়েজ বিখ্যাত একজন রত্নগর্ভা মা। তার ছেলেরা হলেন হুমায়ুন আহমেদ, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল এবং আহসান হাবীব। রকমারি.কম থেকে বইটি কিনতে চাইলে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে এবং অর্ডার করুন। কিপ রিডিং…

ফিলিস্তিনি গল্প— পোস্টারে সেঁটে থাকা সেই মেয়েটি


মূল— দিমা শাইবানি। ভাষান্তর— মনযূরুল হক


ক্ল্যারিফিকেশন— এ গল্পটি একজন আরব নারীর জীবন কাহিনী অবলম্বনে রচিত। এই মহিয়সী নারীর নাম ‘হানা শাইবানি’। ফিলিস্তিন মুক্তিযুদ্ধে শহিদ প্রথম ইরাকি যোদ্ধা।

হানা শাইবানি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪২ সালের ২৭ আগস্ট। ১৯৫৬ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাথ পার্টির সদস্য হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ১৯৫৮ সালে পার্টির মহিলা সদস্যাদের নেত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৬১ সালের দিকে দুর্নীতির ঘটনার প্রতিবাদে তিনি বাথ পার্টি ত্যাগ করেন এবং ইয়াসির আরাফাতসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত করে ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনে যোগদান করেন। ১৭ মার্চ ১৯৭০ সালে তিনি আন্দোলনরত অবস্থায় মাত্র ২৮ বছর বয়সে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।


সবাই বলে আমি নাকি আজন্মই খুব গল্পপ্রিয় মানুষ। আমার নিজের কাছেও তা-ই মনে হয়। গল্প শুনতে সব সময়ই বিশেষ ভালো লাগে আমার। ভালো লাগে শোনাতেও। কিন্তু ভূত-প্রেতের অহেতুক কিসসায় আমার বিরক্তি ভীষণ। শিশুরা কেউ যদি আমার কাছে গল্প শুনতে আসে, তাহলে আমি তাদের সেই সব কাহিনী গল্পের মতো করে সাজিয়ে বলি, যা তাদের মন-মগজকে শুধরে সুস্থ চিন্তার পথ তৈরি করে দেয়।

বহু মনমাতানো গল্পকথা মুখস্ত ছিলো আমার। হয়তো ছেলেবেলায় শুনেছি, অথবা শিশুতোষ বইগুলোতে পড়েছি। কিন্তু এক্ষণে বয়সকালের সব সূত্রাদি ছিঁড়েফুঁড়ে উপর্যুপরি নাবছিলাম একটি স্বপ্ন জাগানিয়া সুরের সন্ধানে। কাউকে শোনাতে নয়, নিজেই স্মরণ করতে চাইছিলাম যে, কী ঘটেছিলো তখন।

আমার চিরদিনের অভ্যাস, ছোট ছোট বিষয় থেকে গল্পের সূত্র খুঁজে বের করা। যেমন, বাড়িতে ভিক্ষুক এসেছে। আমি ভাবতাম, কেনো সে ভিক্ষা করছে। হয়তো তাকেই সেটা জিজ্ঞেস করতাম। অথবা তার পিছু লেগে থাকতাম, তার জীবনের গল্পটা উদ্ধার করার জন্যে। কিংবা হয়তো দেখা যেতো, রাস্তায় একটা চশমা পড়ে আছে। সেই চশমাটা কার হতে পারে, কী করে ফেলে গেলো, এ নিয়ে ভাবনার অন্ত ছিলো না আমার। সংবাদপত্রের বিজ্ঞপ্তি, বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠায় লেখা উপহার বাক্য, বাড়ির পাশের মরে যাওয়া যাইতুন গাছটার রোপনকর্তা, অথবা পুরোনো সুটকেসে নেকড়ার মতো ময়লা হয়ে থাকা এক খ- কাপড়রই হতে পারতো আমার গল্পের উৎস সন্ধানের বিষয়। বাড়ির মানুষ, পড়শি, স্বজন, পথের অপরিচিত যেই হোক কারো কাছে কোনো গল্প বা ঘটনা জানতে চাইতে আমার কোনো সংকোচ ছিলো না কখনোই। ফলে অল্প বয়সেই নানান গল্পের একটা ভা-ার জমা হয়ে গেছে আমার স্মৃতিতে।

গল্পের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণেই কখনো কখনো একটা গল্পের সঙ্গে আরেকটা গল্পের সূত্র জোড়া লেগে গিয়ে মাঝমধ্যে এমন কিম্ভূত পরিস্থিতিরও উদয় হতো যে, আমি রীতিমতো লজ্জায় পড়ে যেতাম। অনক সময় রাশি রাশি গল্পের স্তূপের তলে চাপা পড়ে থাকা কোনো একটা গল্প মগজ নাড়া দিয়ে যেতো। কিন্তু মাথা থেকে মুখে আনতে গিয়েই লাগতো গোলমাল। অর্থাৎ মাথায় আছে, কিন্তু মনে আসছে না। অথবা মনেও আসছে কিন্তু ধরে রাখতে পারছি না বেশিক্ষণ।

আজো মনে হচ্ছে, তেমন কিছু একটা ঘটেছে। আমি মনে করতে চাইছি। অথচ মনে আসছে না। আবার একটু একটু করে মনে আসছে। কিন্তু মুখে আসছে না। বাসার সামনের দেয়ালে নানুর লাগানো পোস্টারটা দেখে পুরোনো একটা গল্প চাগিয়ে উঠতে চাইছে। বারংবার চোখের পাতায় ভেসে উঠছে তেমনই একটা মলিন পোস্টার। দেয়ালে সাঁটা বিবর্ণ একটা ছবি। তাতে কিছু হরফ, লাল কালিতে লেখা কতগুলো অক্ষর জ¦ল জ¦ল করছে যেনো।

আমি মনে হয় নানুর সাথে কোনো শপিং মলে গিয়েছিলাম সেদিন। কী কী কিনেছিলাম মনে নেই। তবে এইটুকু মনে আছে যে, আমাদের কারো হাতে কোনো শপিং ব্যাগ ছিলো না। হয়তো কিছুই কিনি নি। নানুর সাথে ঘুরতে বেড়ানোই উদ্দেশ্য ছিলো শুধু। মনে পড়ছে, নানু আমার হাত ধরে আছেন, আর আমরা এক পা এক পা করে সিঁড়ি ভেঙ্গে নামছি। শপিংমলের বাইরে এসে আমি নানুর হাতটা ছেড়ে দিলাম। কারণ আমি সেখানের দেয়ালে একটা মেয়ের পোস্টার দেখতে পাচ্ছিলাম। একটা কিশোরী মেয়ের ছবি আঁকা পোস্টার। সম্ভবত আমার বয়েসিই হবে মেয়েটা।

আশ্চর্য হয়েই পোস্টারটার সামনে দাঁড়ালাম আমি। একটা কিশোরী মেয়ে কী করে এমন একটা পোস্টারে জায়গা করে নিলো ভেবে পাচ্ছিলাম না আমি। ঈর্ষায় জ্বলে গেলো ভেতরটা। আরো একটু কাছাকাছি হয়ে পোস্টারের লেখাগুলো পড়তে চেষ্টা করলাম আমি। তাতে লেখা ছিলো— “মৃত্যু অবশ্যই আসবে, কিন্তু উপযুক্ত মূল্য না পেলে মৃত্যুকে কিছুতেই বরণ করা উচিত নয়; আর স্বাধীনতার চেয়ে উপযুক্তমূল্য আর কিছুই হতে পারে না।”

অবাক হয়ে গেলাম আমি। আমার মতো একটা মেয়ে কী করে এতো কঠিন কথা বলতে পারে! অনেকগুলো পোস্টার দেয়ালটা জুড়ে। বিচিত্র বিজ্ঞাপনে ঠাসা দেয়ালটা। তবে সবচে’ সুন্দর ছিলো সম্ভবত এই পোস্টারটাই। একটা নয়, পর পর একসাথে চার-পাঁচটা পোস্টার ছিলো এই একই ছবি আর লেখা দিয়ে তৈরি। কেউ দেখে ফেললে বকবে, সে ভয়ের কথা না ভেবেই একটা পোস্টার টেনে নামিয়ে আনলাম আমি। এবং দুহাতে মুড়ে জামার হাতার ভেতরে লম্বালম্বি ঢুকিয়ে রাখলাম, যেনো হঠাৎ করেই কেউ বুঝতে না পারে যে, আমার কাছে কিছু একটা আছে।

হ্যাঁ, এখন আমার স্পষ্ট মনে পড়ছে ঘটনাটা। রাতে পড়ার রুমে বসে আমি চুপি চুপি পোস্টারটা বের করে আবার টেবিলে রাখলাম। অথচ সেটা কোনো গোপন বিষয় ছিলো না। তবু আমার মনে হলো, এটা দেখলে অন্যরা হয়তো অযাচিত ভেবে আমাকে বোকা বলতে পারে। হয়তো আমার ভাইয়েরা হাসাহাসি করবে আর আমার বোকামি সবাইকে বলে বেড়াবে। খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে লাগলাম পোস্টারের রঙ, ছবি আর লেখাগুলো। হতে পারে তখন কিছু বাদ পড়ে গেছে যা আমার পড়া হয় নি। চারকোণা একটা পোস্টার। চারপাশে সাদা-কালো ডোরাকাটা আল্পনা আঁকা ফ্রেম। ছবিটা পোস্টারের গায়ে কোণাকুণিভাবে লাগানো। মনে হচ্ছে মেয়েটা একটু কাত হয়ে আছে। আর ছবির একেবারে নীচে বড় বড় করে লাল হরফে লেখা— ‘মৃত্যু অবশ্যই আসবে, কিন্তু উপযুক্ত মূল্য না পেলে মৃত্যুকে কিছুতেই বরণ করা উচিত নয়; আর স্বাধীনতার চেয়ে উপযুক্ত মূল্য আর কিছুই হতে পারে না। কিপ রিডিং…

ভিন্ন ধারার ইসলাম প্রচারক— ডা. জাকির নায়েক


গ্রেট প্রিচার অব ইসলাম— ০১


ইসলাম শ্রেষ্ঠ ধর্ম। কুরআনে এই কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। ইসলামকে অসহনশীল হিসেবে তকমা দেয়া হয়, এটা আসলেই তাই, কিন্তু তা দুর্নীতি, বৈষম্য, অবিচার, ব্যাভিচার, মাদক এবং সকল খারাপ বিষয়বস্তুর প্রতি। ইসলাম হল সবচেয়ে “সহনশীল” ধর্ম, যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের মূল্যবোধের প্রতি সমর্থন ঠিক থাকে। এমনটাই বলেন ডা. জাকির নায়েক।

ডা. জাকির নায়েক। তিনি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম একজন ইসলাম ধর্মের প্রচারক। মানুষকে বিভিন্নভাবে ধর্মের পথে আহ্বান করাই তার কাজ। কখনো হয়তো তিনি বিভিন্ন ধর্মতত্ত্বের ব্যাখ্যা করে বা বিভিন্ন ধর্মের তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইসলামের অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করে মানুষকে ইসলামের পথে আহ্বান করছেন। আবার কখনো হয়তো কুরাআন হাদিসের আলোকে মানুষকে সঠিক পথের দিকে আহ্বান করছেন। থমাস ব্লম হানসেন লিখেছেন যে, ডা. জাকিরের ধর্মপ্রচার কর্মকা- মুসলিমদের মাঝে তাকে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তার আলোচনার বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে কয়েকটি হল, “ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞান”, “ইসলাম ও খ্রিস্টধর্ম”, এবং “ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ”।

জন্ম ও শিক্ষাকার্যক্রম : ১৯৬৫ সালের ১৮ অক্টোবর ভারতের মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার মূল নাম হচ্ছে, জাকির আবদুল করিম নায়েক। তিনি মুম্বাইয়ের সেন্ট পিটার’স হাই স্কুল (আই.সি.এস.ই) থেকে মাধ্যমিক এবং চেল্লারাম কলেজ, মুম্বাই থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর টপিওয়ালা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, নায়ের হসপিটাল, মুম্বাই থেকে পড়াশুনার পর মুম্বাই ইউনিভার্সিটি থেকে চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেন।

কিপ রিডিং…

আনিসুল হক— একজন আলোকিত নগরপিতা


জীবনের সাফল্যের নেপথ্যে তার মায়ের অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করতে গিয়ে তিনি নিজেই বলেছেন, জীবনে সাফল্য অর্জনের পথে প্রত্যেকটা মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গাটা কি জানো? সেটা হচ্ছে মায়ের দোয়া।


এই তো মাত্র কয়টা দিন আগের কথা। হঠাৎ-ই খবর এলো তিনি আর নেই। তিনি আমাদের সবাইকে ছেড়ে মহান রবের ডাকে সাড়া দিনে চলে গেছেন। তিনি আর কখনো আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন না। আমাদের এই ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে সারাক্ষণই তিনি কত চেষ্টাই না করেছেন। আমাদের এই শহরের যেকোন সংকটে রাত নেই, দিন নেই ছুটে গিয়েছেন। এতো ছোটাছুটি করতেন। কিন্তু  এই ছোটাছুটি বাবদ তিনি কখনও সরকারি অর্থ ব্যয় করতেন না। এমনকি নিজের প্রাপ্ত বেতনও দিয়ে দিতেন কর্মচারীদের।

বলছি সদ্যপ্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের কথা। তিনি শুধু মেয়রই ছিলেন না, ছিলেন নগরের অভিভাবক, নগরপিতা। একজন মেয়র হয়েও তিনি যেন ছিলেন সকলের স্বজন, একান্ত প্রিয়জন। পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন, স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়েও চলছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ-ই যেন সবকিছু থমকে গেলো! তিনি আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেলেন।

একজন আনিসুল হক : তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং টেলিভিশন উপস্থাপক। তিনি বিজিএমই-এর সভাপতি ছিলেন, পরে এফবিসিসিআইর সভাপতি হন। পরবর্তীতে সার্ক চেম্বারের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৫২ সালে চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালী জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তার শৈশবের বেশ কিছু সময় কাটে তার নানাবাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। সেখানেই তার প্রথমিক লেখাপড়। এর পরে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন এবং সর্বশেষ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।

একজন মায়ের দোয়া এবং আনিসুল হক : আনিসুল হকে জীবনের সাফল্যের নেপথ্যে তার মায়ের অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করতে গিয়ে তিনি নিজেই বলেছেন, জীবনে সাফল্য অর্জনের পথে প্রত্যেকটা মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গাটা কি জানো? সেটা হচ্ছে মায়ের দোয়া। সেই মা আমার মা, সেই মা তোমার মা, সেই মা সবার মা; সব মায়ের এক চেহারা। আমার মায়ের গল্পটা বলি। আমার মা খুব একটা শিক্ষিত ছিলেন না। আমার কিছু হলেই আমি মায়ের কাছে গিয়ে বলতাম, “আমার গায়ের ওপর একটা পা রাখো তো, আর আমাকে একটা ফুঁ দাও!” আমার জীবন এখনও ফুঁ’য়ের ওপর চলছে। আমি যখন মেট্রিক পরীক্ষা দিচ্ছি, একটা পরীক্ষার আগে আমার খুব জ্বর, একশো চার ডিগ্রী হবে। সকালবেলা উঠে আমি বললাম, মা, আমি তো পরীক্ষা দিতে পারবো না। মা বললেন, এটা কি হয় নাকি রে বাবা, পরীক্ষা না দিলে তুমি এক বছর পিছিয়ে যাবে না? আমি বললাম, আমার তো কোন উপায় নেই, আমি চোখে কিছু দেখছি না। উনি অনেক দোয়াটোয়া পড়ে আমাকে ফুঁ দিলেন, আমার হাত ধরে বললেন, চলো যাই। তিন ঘন্টার পরীক্ষা দুই ঘন্টা লিখে বেরিয়ে এলাম, বাইরে চিন্তত মুখে মা বসে আছেন। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, সবকিছু ঠিকঠাক লিখেছো? আমি বললাম, না মা, চৌত্রিশের উত্তর করে এসেছি। মা বললেন, পাশ কতোতে? আমি বললাম, তেত্রিশ। তোমার ফুঁ’তে আর কাজ হবে না মা। উনি বললেন, কাজ না হোক, এবার নামাজ পড়ে একটা ফুঁ দেই। মা সেখানে নামাজ পড়লেন দুই রাকাত, তারপর ফুঁ দিলেন সারা গায়ে। হয়তো এটা একটা কাকতালীয় ব্যপার হতেই পারে, কিন্ত পরীক্ষায় আমি চৌত্রিশে চৌত্রিশই পেয়েছিলাম!

এখনও কোন বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলে আমি মায়ের কবরের কাছে গিয়ে দাঁড়াই। মেয়র নির্বাচন করার প্রস্তাব যখন আমাকে দেয়া হলো, আমি খুবই বিপদে পড়ে গেলাম। এত কঠিণ একটা কাজ আমাকে দিয়ে হবে কিনা, এসব নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমার বাবার বয়স পঁচানব্বই, বাবাকে গিয়ে বললাম, বাবা, কি করবো? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান যে আমি মেয়র হই। বাবা বললেন, “তোমার মায়ের কাছে যাও। মায়ের কবরের কাছে গিয়ে দাঁড়াও, নিজেই বুঝতে পারবে কোনটা করা উচিত।” এটা একটা শক্তি, অন্যরকম একটা শক্তি। মানুষকে সাহসী করে তোলে।

কিপ রিডিং…

ফিলিস্তিনি গল্প— ছয় ওয়াক্ত নামাজ


মূল— ইবরাহিম নাসরুল্লাহ । ভাষান্তর— মিরাজ রহমান


সময় তখন দুপুর ২টা বেজে ৩০ কিংবা ৩৫ মিনিট হবে। অজু করার জন্য পানি খুঁজছে আলিফ। বাথরুমে জমিয়ে রাখা পানিও প্রায় শেষ। একটু আগেও একবার অজু করেছিলো সে যোহরের নামাজ আদায় করার জন্য। এখন সে আবার অজু করবে। আবার অজু করার একটি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে এখন। কিন্তু কি সে প্রয়োজন!

আলিফের ছোট বোন শাহেদা জিজ্ঞেস করলো। এই মাত্র না তুমি নামাজ আদায় করে ফিরলে ভাইয়া? আবার অজু করবে কেন তুমি এখন? বার বার অজু করার মতো অত পানি কী এখন আছে আমাদের?

ছোট্ট বোনের অবুঝ মনের প্রশ্ন। যৌক্তিক আবদার। শুধু গাজা এলাকা নয়- সব ফিলিস্তিনিরাই এখন সর্ব সঙ্কটে দিন কাটান। নেই পর্যাপ্ত পানি, নেই কোনো জীবনের আস্থা। অজুর পর অজু করার মতো অবস্থা এখন আর ফিলিস্তিনে নেই। আজকের ফিরিস্তিন। গতকালও যে এলাকাটি নবিদের পদভারে আলোড়িত ছিলো।

আলিফ ভাবলো ওর এই প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। আবার আসল কথাটি বলতেও চাইলো না সে।

আলিফ— আছে আপু মনি। এখন একটি আমল আছে আমার। অজু ছুটে গেছে তো তাই আবার অজু করে আমলটি করতে হবে। পানি কম বলে তো আর বিনা অজুতে আমল করা যাবে না শাহেদা!

শহেদা— আচ্ছা তাহলে যাও। অজু করো এবং আমল করো।

আপন মনে চলে গেল আলিফ। অজু করলো এবং সারি বদ্ধভাবে দাঁড়ানো মানুষদের নিয়ে একটি আমল পূর্ণ করলো।

আলিফ। ফিলিস্তিনের গাজা মহল্লার ২২ বছর বয়সি এক কিশোর। অদম্য তরুণ। সারা অঙ্গ জুড়ে নুর আর নুর। আলো আর আলো। চেহারার আলোর সাথে মিশে একাকার হয়ে আছে পোশাক আশাকের শুভ্র আলো। ব্যবহারের আলো। মানসিকতার শুভ্রতা। ফেরেশতার মতো দেখতে অনেকটা। গাজার ছোট্ট এক ফলের দোকানি আবু আনসারের সন্তান আলিফ। গাজায় প্রতিষ্ঠিত একটি মাদরাসা থেকে হাফেজি শেষ করার পর উচ্চ মাধ্যমিক জামাতের ছাত্র এখন সে। দাদা-দাদি, নানা-নানি, বাবা-মা, ফুপা-ফুপি, খালা-খালু আর ছোট্ট একটি বোন— সব মিলে বেশ বড় একটি পরিবারের একজন ছোট্ট সদস্য আলিফ। ছোট্ট সদস্য হলেও আলিফের সমাদরে মুখরিত গোটা পরিবার। কারণ হলো বংশ পরমপরায় আলফিই একমাত্র সদস্য যে পবিত্র কোরআন হিফজ করেছে। আলিম হচ্ছে। দাদার ইচ্ছা ছিলো তার সন্তানকে আলিম বানাবেন কিন্তু সে স্বপ্ন তার পূরণ হয়নি। আলিফকে নিয়ে তাই তার স্বপ্ন অনেক বড়।


তোমার জানার খুব ইচ্ছা ছিলো নামাজের সময় ছাড়া অসময়ে কী আমল করি আমি! শুধু আমি নই হে বোন আমার! আমরা সব ফিলিস্তিনিরাই এখন প্রতিদিন ছয় ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি। ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার পাঁচ ওয়াক্ত সাথে জানাজার এক ওয়াক্ত নামাজ আমরা এখন প্রতিদিনই আদায় করি। আর আজও আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার পর ষষ্ঠ ওয়াক্তে তোমার জানাজার নামাজ আদায় করছি।


ভাইয়া! তুমি আজো অসময়ে অজু করছো? এখন আবার কোন ওয়াক্তের নামাজ আদায় করবে তুমি? একটু আগেই না তুমি মাগরিবের নামাজ পড়ে এলে?

আলিফকে মাগরিবের নামাজের পর আবার অজু করতে দেখে এক শ্বাসে প্রশ্নগুলো ছুঁড়লো শাহেদা। বড় ভাই আলিফকে খুব পছন্দ করে শাহেদা। সারাক্ষণ শুধু ভাইয়া ভাইয়া জিকির তার। এখন ভাইয়া কি করছে, একটু পরে আলিফ কি করবে? শাহেদার সব জানা থাকা চাই-ই চাই। ভাইয়ার সব কাজ নিয়ে শাহেদার তাই একটু বেশি কৌতুহল।

কি হলো ভাইয়া কিছু বলছো না কেন? আবার অজু করবে কেন তুমি? কি আমল আছে এখন তোমার?

কিপ রিডিং…

মহান বিজয় দিবস

কখন এবং কীভাবে এলো বিজয় দিবস : বিজয় দিবস বাংলাদেশে বিশেষ একটি দিন হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত এবং দেশের সর্বত্র পালন করা হয়। প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে এ দিনটি বিশেষভাবে পালিত হয়। ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই দিনটিকে বাংলাদেশে জাতীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃতি ও অনুমোদন করা হয় এবং সরকারীভাবে এ দিনটিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়।[১]

দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর প্রায় ৯১,৬৩৪ সদস্য বাংলাদেশ ও ভারতের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে।[২]

এর ফলে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। এ উপলক্ষে প্রতি বছর বাংলাদেশে দিবসটি যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য এবং বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়। ১৬ ডিসেম্বর ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা ঘটে। এ ছাড়া জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত সামরিক কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্যরা যোগ দেন।

কুচকাওয়াজের অংশ হিসেবে সালাম গ্রহণ করেন দেশটির প্রধান মাননীয় রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রী। এই কুচকাওয়াজ দেখার জন্য প্রচুরসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে ঢাকার অদূরে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে থাকেন।

হানাদার পাকবাহিনীর আত্মসমপর্ণ : ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানী দখলদার বাহিনী ১৬ ডিসেম্বর যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। সেদিন ঢাকার কেন্দ্রস্থলে রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের পক্ষে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন জেনারেল জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি। তিনি যৌথবাহিনীর প্রধান জেনারেল জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর উপ-সর্বাধিনায়ক ও ডেপুটি চীফ অব স্টাফ গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবদুল করিম খোন্দকার উপস্থিত ছিলেন। তবে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী উপস্থিত ছিলেন না। আত্মসমর্পণ দলিলের ভাষ্য ছিল নিম্নরূপ :

পূর্ব রণাঙ্গনে ভারতীয় ও বাংলাদেশ বাহিনীর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ, লেফটেন্যান্ট-জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে পাকিস্তান পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড বাংলাদেশে অবস্থানরত পাকিস্তানের সকল সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে আত্মসমর্পণে সম্মত হলো। পাকিস্তানের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ সব আধা-সামরিক ও বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে এই আত্মসমর্পণ প্রযোজ্য হবে। এই বাহিনীগুলো যে যেখানে আছে, সেখান থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কর্তৃত্বাধীন নিয়মিত সবচেয়ে নিকটস্থ সেনাদের কাছে অস্ত্রসমর্পণ ও আত্মসমর্পণ করবে। [৩]

এই দলিল স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড লেফটেন্যান্ট-জেনারেল অরোরার নির্দেশের অধীন হবে। নির্দেশ না মানলে তা আত্মসমর্পণের শর্তের লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে এবং তার প্রেক্ষিতে যুদ্ধের স্বীকৃত আইন ও রীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আত্মসমর্পণের শর্তাবলীর অর্থ অথবা ব্যাখ্যা নিয়ে কোনো সংশয় দেখা দিলে, লেফটেন্যান্ট-জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।

লেফটেন্যান্ট-জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আত্মসমর্পণকারী সেনাদের জেনেভা কনভেনশনের বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান দেওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করছেন এবং আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সামরিক ও আধা-সামরিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও সুবিধার অঙ্গীকার করছেন। লেফটেন্যান্ট-জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার অধীন বাহিনীগুলোর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিক, সংখ্যালঘু জাতিসত্তা ও জন্মসূত্রে পশ্চিম পাকিস্তানি ব্যক্তিদের সুরক্ষাও দেওয়া হবে। কিপ রিডিং…

এরদোগান— অ্যা গ্রেট সুলতান


দ্য গ্রেট সুলতান— ০১


কবি এবং ফেরিওয়ালা—এ-দুটির মধ্যে সাজুয্য খুঁজে পাওয়া এবং খুঁজতে যাওয়া অসম্ভব এবং সে-ক্ষেত্রে ব্যক্তি যখন হবেন একজন রাজনীতিক, তখন আপনি বিস্মিত হবেন। হতে চাইবেন। ভেবেও বসবেন, আসলে তিনি কবি নন। তিনি রাজনীতিকই বটেন। হয়তো রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে কিংবা কাউকে ডিকটেশান দিয়ে লিখিয়ে দুয়েকবার কাব্য করেছেন। আমরা আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি, অন্তত এরদোগানের বিষয়ে আপনার ভাবনা অমূলক।

এরদোগান শুধু কবি নন, তিনি কবিতার জন্য জেলে খেটেছেন এমন এক সময়ে, যখন তিনি দেশের ক্ষমতাধর একজন। এমনকি তার দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির তখন জয়জয়কার। ২০০২ সালের নভেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিজয়ী হয়েও এরদোগান প্রধানমন্ত্রী হতে পারছেন না। কারণ, ইস্তাম্বুলের মেয়র থাকা অবস্থায় একটা কবিতা পাঠের অপরাধে তিনি শাস্তি ভোগ করছিলেন। শাস্তির মেয়াদ তখনও পূর্ণ হয় নি।

যদিও ২০০৩ সালের ১৪ মার্চ অবশেষে নানা আইনি জটিলতা পেরিয়ে তিনি তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এ-জন্য প্রথমে তার দলের সিনিয়র সদস্য এবং পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ গুলকে তার আসন থেকে পদত্যাগ করে সে-আসনে উপনির্বাচনে নিবাচিত হয়ে পার্লামেন্টে আসতে হয়েছে।

আমরা ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে, যে-কবিতাটি এরদোগান পাঠ করেছেন, তার রচয়িতা তিনি ছিলেন না। তবে তিনি সেনাবহিনীকে ‘দোয়া’ করার অসিলায় তুর্কি জাতীয়তাবাদী কবি জিয়া গোকাল্পের কবিতাটি পাঠ করেছিলেন দক্ষিণ তুরস্কের জনসভায়। সেদিন ছিলো ১৯৯৭ সালের ১২ ডিসেম্বর। Mosques are our barracks. domes our helmets, minarets our bayonets, believers our soldiers—এই হলো কবিতা। যার তর্জমা করলে দাঁড়ায়— মিনার আমাদের বেয়োনেট, গম্বুজ হেলমেট, মসজিদ আমাদের ব্যারাক, মুমিনরা আমাদের সৈন্য। কবিতার শেষে আবার ‘আল্লাহু আকবার’ শব্দগুচ্ছও আছে। সুতরাং খুবই মুসলমানি কবিতা। এই মুসলমানি ছুৎমার্গ থেকে পবিত্র করার জন্য তুরস্কের সেক্যুলার সরকার তাকে প্রায় অর্ধযুগ কারাপ্রকোষ্ঠো আটকে রাখে ।

মনে রাখা দরকার, শুধু মুসলমান নয়, যদিও সে-দেশের আকছার মুসলমান, তবে ধর্মই তুরস্কের ক্ষমতাসীন মানুষের সবচে’ বড় ভীতি ছিল। নাকি এখনও আছে? কেননা, এরদোগানের দল একেপিকে তুরস্কের সেক্যুলার দল বলেই সে-দেশে গণ্য করা হয়। এবং এরদোগানকে তুরস্কের জাতির পিতা (আতুতুর্ক) মোস্তফা কামাল পাশার উত্তসূরিও ভাবা হয়; যিনি ছিলেন আধুনিক তুরস্কের প্রথম রাষ্ট্রপতি। ১৯২২ সালে অটোম্যান সম্রাজ্যের পতন করে ১৯২৩ সালে সেক্যুলার রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। সেক্যুলারিজমকে সে-দেশে কামালিজমও বলা হয়। আতুতুর্ক ঘোষণা দিয়েছিলেন— ধর্ম বলতে কিছুই নেই, ধর্ম হলো মানুষকে শাসন করার একটা পদ্ধতি মাত্র। কোনো জাতির উন্নতির জন্য ধর্মমুক্ত হওয়া ছাড়া কোন পথ নেই । তাই আজ থেকে আমার রাষ্ট্রকে ধর্ম মুক্ত হিসাবে ঘোষণা করলাম। কিপ রিডিং…

অসত্য তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াকু মিকদাদ


মুসলিম হিরোজ— ০১


এই যুবকের পুরো নাম মিকদাদ ভার্সি। ভুল আর অসত্য তথ্যের বিরুদ্ধে অসম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গত বছর (২০১৬) একটি পত্রিকা যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদন করেছিল। ওই খবর চ্যালেঞ্জ করেন মিকদাদ ভার্সি। তার প্রতিবাদে পত্রিকাটি তাদের সংবাদ সংশোধন করতে বাধ্য হয় । তারপর থেকেই মিকদাদ কোমার বেঁধে মাঠে নেমেছেন।

এমনিতে যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমগুলো প্রায় প্রতিদিনই ইসলাম কিংবা মুসলিমদের নিয়ে কোনো না কোনো সংবাদ প্রকাশ করে। এসব খবরের কত ভাগ সত্য আর কত ভাগ মিথ্যা, সে বিষয়ে সঠিক হিসাব পাওয়া সম্ভব না হলেও বলা যায়— এসব সংবাদের অধিকাংশই ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য নেতিবাচক। সুযোগ পেলেই ‘ইসলাম’ কিংবা ‘মুসলিম’ শব্দগুলো টেনে আনার অভিযোগ আছে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে।

এটাই মিকদাদকে একটি নতুন লড়াই শুরু করার প্রেরণা যুগিয়েছে ।

মিকদাদ প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিম শব্দ দুটির ওপর বিশেষভাবে নজর রাখেন। অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্ট খবরের সত্যতা না পেলে তিনি প্রতিবাদ করেন এবং সেটি প্রত্যাহার বা সংশোধন করতে বাধ্য করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় গত কয়েক মাসে ২০টি সংবাদের সংশোধনী ছেপেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। তাঁর করা আরও ২০টি অভিযোগ বর্তমানে ‘ইন্ডিপেনডেন্ট প্রেস স্ট্যান্ডার্ড অরগানাইজেশন’-এ সুরাহার অপেক্ষায়। মুসলিমদের জড়িয়ে ভুল বা অসত্য সংবাদ দেখলেই অভিযোগ ঠুকে দেন মিকদাদ।

ভুল ও অসত্যের বিরুদ্ধে মিকদাদের এ কার্যক্রম নিয়ে গত ২২ জানুয়ারি সংবাদ প্রচার করে বিবিসি। দ্য গার্ডিয়ানসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। বিবিসির শিরোনাম ছিলো— ‘কোনো ভুল কোরো না’। আর দ্য গার্ডিয়ান শিরোনাম করে— ‘সংবাদমাধ্যমগুলো মুসলিমদের নিয়ে অসত্য খবর ছেপেই যাচ্ছে’। এ পর্যন্ত ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিকদাদের অন্তত ২০ টিরও অধিক প্রতিবাদী লেখা ছেপেছে :

—Stop using other marginalized groups as an excuse to attack Muslim

—The British media shares the blame for Anjem Choudary’s influence

—Muslims like me are asked the same questions after any terrorist attack. For the record, here are our answer

—Isis battle is only propaganda while PM befriends Saudi extremists কিপ রিডিং…

গো টু টপ