Tag archive

সাহিত্য‌

ফিলিস্তিনি গল্প— ছয় ওয়াক্ত নামাজ


মূল— ইবরাহিম নাসরুল্লাহ । ভাষান্তর— মিরাজ রহমান


সময় তখন দুপুর ২টা বেজে ৩০ কিংবা ৩৫ মিনিট হবে। অজু করার জন্য পানি খুঁজছে আলিফ। বাথরুমে জমিয়ে রাখা পানিও প্রায় শেষ। একটু আগেও একবার অজু করেছিলো সে যোহরের নামাজ আদায় করার জন্য। এখন সে আবার অজু করবে। আবার অজু করার একটি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে এখন। কিন্তু কি সে প্রয়োজন!

আলিফের ছোট বোন শাহেদা জিজ্ঞেস করলো। এই মাত্র না তুমি নামাজ আদায় করে ফিরলে ভাইয়া? আবার অজু করবে কেন তুমি এখন? বার বার অজু করার মতো অত পানি কী এখন আছে আমাদের?

ছোট্ট বোনের অবুঝ মনের প্রশ্ন। যৌক্তিক আবদার। শুধু গাজা এলাকা নয়- সব ফিলিস্তিনিরাই এখন সর্ব সঙ্কটে দিন কাটান। নেই পর্যাপ্ত পানি, নেই কোনো জীবনের আস্থা। অজুর পর অজু করার মতো অবস্থা এখন আর ফিলিস্তিনে নেই। আজকের ফিরিস্তিন। গতকালও যে এলাকাটি নবিদের পদভারে আলোড়িত ছিলো।

আলিফ ভাবলো ওর এই প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। আবার আসল কথাটি বলতেও চাইলো না সে।

আলিফ— আছে আপু মনি। এখন একটি আমল আছে আমার। অজু ছুটে গেছে তো তাই আবার অজু করে আমলটি করতে হবে। পানি কম বলে তো আর বিনা অজুতে আমল করা যাবে না শাহেদা!

শহেদা— আচ্ছা তাহলে যাও। অজু করো এবং আমল করো।

আপন মনে চলে গেল আলিফ। অজু করলো এবং সারি বদ্ধভাবে দাঁড়ানো মানুষদের নিয়ে একটি আমল পূর্ণ করলো।

আলিফ। ফিলিস্তিনের গাজা মহল্লার ২২ বছর বয়সি এক কিশোর। অদম্য তরুণ। সারা অঙ্গ জুড়ে নুর আর নুর। আলো আর আলো। চেহারার আলোর সাথে মিশে একাকার হয়ে আছে পোশাক আশাকের শুভ্র আলো। ব্যবহারের আলো। মানসিকতার শুভ্রতা। ফেরেশতার মতো দেখতে অনেকটা। গাজার ছোট্ট এক ফলের দোকানি আবু আনসারের সন্তান আলিফ। গাজায় প্রতিষ্ঠিত একটি মাদরাসা থেকে হাফেজি শেষ করার পর উচ্চ মাধ্যমিক জামাতের ছাত্র এখন সে। দাদা-দাদি, নানা-নানি, বাবা-মা, ফুপা-ফুপি, খালা-খালু আর ছোট্ট একটি বোন— সব মিলে বেশ বড় একটি পরিবারের একজন ছোট্ট সদস্য আলিফ। ছোট্ট সদস্য হলেও আলিফের সমাদরে মুখরিত গোটা পরিবার। কারণ হলো বংশ পরমপরায় আলফিই একমাত্র সদস্য যে পবিত্র কোরআন হিফজ করেছে। আলিম হচ্ছে। দাদার ইচ্ছা ছিলো তার সন্তানকে আলিম বানাবেন কিন্তু সে স্বপ্ন তার পূরণ হয়নি। আলিফকে নিয়ে তাই তার স্বপ্ন অনেক বড়।


তোমার জানার খুব ইচ্ছা ছিলো নামাজের সময় ছাড়া অসময়ে কী আমল করি আমি! শুধু আমি নই হে বোন আমার! আমরা সব ফিলিস্তিনিরাই এখন প্রতিদিন ছয় ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি। ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার পাঁচ ওয়াক্ত সাথে জানাজার এক ওয়াক্ত নামাজ আমরা এখন প্রতিদিনই আদায় করি। আর আজও আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার পর ষষ্ঠ ওয়াক্তে তোমার জানাজার নামাজ আদায় করছি।


ভাইয়া! তুমি আজো অসময়ে অজু করছো? এখন আবার কোন ওয়াক্তের নামাজ আদায় করবে তুমি? একটু আগেই না তুমি মাগরিবের নামাজ পড়ে এলে?

আলিফকে মাগরিবের নামাজের পর আবার অজু করতে দেখে এক শ্বাসে প্রশ্নগুলো ছুঁড়লো শাহেদা। বড় ভাই আলিফকে খুব পছন্দ করে শাহেদা। সারাক্ষণ শুধু ভাইয়া ভাইয়া জিকির তার। এখন ভাইয়া কি করছে, একটু পরে আলিফ কি করবে? শাহেদার সব জানা থাকা চাই-ই চাই। ভাইয়ার সব কাজ নিয়ে শাহেদার তাই একটু বেশি কৌতুহল।

কি হলো ভাইয়া কিছু বলছো না কেন? আবার অজু করবে কেন তুমি? কি আমল আছে এখন তোমার?

কিপ রিডিং…

বাংলা ভাষার আর্তনাদ


আমিই বাংলাভাষা। আমি তোমাদের মুখে মুখে থাকি। সাথে সাথে থাকি। আমার বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক ভাই। আমাকে নিয়ে তোমরা অভিনয় করতে গিয়ে হিমশিশ খাচ্ছো দেখে আমি নিজেই আমার বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করতে এলাম। একসময় আমি ছিলাম সুঠামদেহের অধিকারী। এখন ভালোমত হাঁটতেই পারি না। আগে সবাই যত্নকরে আমাকে ব্যবহার করতো। এখন অনেকের থেকে আমি বিতারিত। বলোতো আমি কি জোর করে তাদের কাছে এসেছি?


একুশে ফেব্রুয়ারি। একুশে ফেব্রুয়ারি মানেই ক্লাশ বন্ধ। নানা রকম অনুষ্ঠান। দৌড়াদৌড়ি, প্রাণখুলে হাসাহাসি। একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হওয়া। এই দিনটার জন্য সারাবছর অপেক্ষায় থাকে শান্তরা। কারণ একুশে ফেব্রুয়ারির দিন ওদের স্কুলে মজার মজার অনুষ্ঠান হয়। এবারও হবে। ছাত্ররা নানান রকমের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গতবার শান্তরা ভাষা শহীদের অভিনয় করে পুরো স্কুল কাঁপিয়ে দিয়েছিলো।

শান্তরা বলতে শান্ত, রাশু, হাসু আর নিতু। ওরা সালাম, রফিক, বরকত, জাব্বার সেজে চমৎকার অভিনয় করেছিলো। দর্শকরা দারুণ মুগ্ধ হয়েছিলো। স্যাররা খুব প্রশংসা করেছে ওদের। সেখান থেকেই ওদের প্রতি আলাদা ভালোবাসা স্যারদের। দুইদিন আগে হেড স্যার শান্তকে ডেকে নিয়ে বলেন,

: শান্ত, একুশে ফেব্রুয়ারি তো এসে পড়লো।

– জি, মাঝখানে শুধু একটা দিন বাকি।

: আমাদেরকে তো গতবার ভাষাশহীদদের অভিনয় দেখিয়েছিলে। এবার কি অভিনয় করবে তোমরা?

– স্যার, আমরা নিজেরা কোন সিদ্ধান্ত নেইনি এখনো। তবে আপনি কোন বিষয় দিলে আমরা সেই বিষয়েই অভিনয় করে দেখানোর চেষ্টা করবো। কিপ রিডিং…

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস : সাহিত্যের নায়ক

সত্যিকারার্থে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের নায়ক ছিলেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের নবজাগরণের অসাধারণ সূচনা করেছিলো তার সাহিত্যকর্ম। বাঙালি জীবনের চিরন্তন বোধ ও মননের বৈচিত্রময় অনুভবকে তিনি গভীর দৃষ্টিতে নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন।


মহান এ লেখকের সাহিত্যকর্ম পাঠ ও কথা বলার যোগ্য হয়নি এখনো আমি…! তবুও ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বাংলা সাহিত্যের নায়কের জন্মদিবস স্মরণে এইটুকু শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ…


এ জন্যই তার সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী বলেছেন, কি পশ্চিম বাংলা কি বাংলাদেশ সবটা মেলালে তিনি শ্রেষ্ঠ লেখক! আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তার নিজস্ব দায়বদ্ধতা থেকেই পরম মায়ায় সমাজের গরিব শ্রেণী নিষ্পেষিত মানুষের জীবনযাত্রা তুলে এনেছেন।

কিপ রিডিং…

আমার হুরুমামু সৈয়দ মুজতবা আলী | আসমা আব্বাসী

যেন রূপকথার জাদুকর। রম্যরচনার কিংবদন্তি। এমন লেখনী ক’জনের। বাংলাভাষী লাখ লাখ পাঠকের হৃদয়ে সম্রাটের মতো তার অবস্থান। প্রিয়জন হুরুমামু, সিলেটি ভাষায় ছোটজনকে বলা হয় ‘হুরু’। লতাপাতা বুনোফুল বনজঙ্গলের শ্যামলিমা মনু নদীর ঢেউ তোলা সুরধ্বনির মায়াবী পরিবেশের মৌলবীবাজার, সেখানে শহরের মাঝখানে চওড়া একটি রাস্তা, একপাশে সাদা পাথরে কালো হরফে লেখা খান বাহাদুর সৈয়দ সিকান্দার আলী সড়ক। টিনের চাল ইটের দেয়াল, চারপাশে বেলি জবা টগর স্থলপদ্ম গন্ধরাজ মাধবীলতা শিউলি ফুলের সুবাসমাখা বাড়িটিতে জন্ম আমার হুরুমামু সৈয়দ মুজতবা আলীর। কিপ রিডিং…

আমার গানগুলো কি সাহিত্য‌ : বব ডিলান

কালচার ডেস্ক : গেল বছর সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন মার্কিন গায়ক বব ডিলান। তবে তিনি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে যাননি। তাই তাঁর হয়ে পুরস্কারটি গ্রহণ করলেন সুইডেনের মার্কিন রাষ্ট্রদূত। পড়ে শোনানো হলো ডিলানের তীর্যক সম্মতি ভাষণ। ডিলানের সেই লিখিত ভাষণটি তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য : ‘‌শুভ সন্ধ্যা উপস্থিত সবাইকে। সুইডিশ আকাদেমি এবং সমাগত অতিথিদের শুভেচ্ছা। আমি দুঃখিত উপস্থিত থাকতে না পারার জন্য, কিন্তু শারীরিকভাবে না হলেও আমার মন, আত্মা আপনাদের সঙ্গেই রয়েছে!‌


 


আমি সম্মানিত বোধ করছি এই মূল্যবান পুরস্কারটি পেয়ে। কোনোদিন কল্পনাও করতে পারিনি ‘‌সাহিত্য’-‌এ‌ নোবেল পেয়ে যাব!‌ শৈশব থেকেই জানি কোনো কোনো মহারথীরা এই পুরস্কার পেয়ে


 


আসছেন। আমি বাকরুদ্ধ!‌ আমি জানি না তারা কখনও নোবেল লাভের কথা ভেবেছিলেন কি না, কিন্তু আমার স্থির ধারণা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে কেউ যখন কিছু সৃষ্টি করেন, সে গান কবিতা নাটক যাই হোক না কেন, মনে মনে নিশ্চয়ই নোবেল পাওয়ার গোপন স্বপ্ন বহন করেন, যা নিজেরাও জানেন না!‌ কিপলিং, বার্নাড ‘‌শ, টমাস মান, পার্ল বাক, অ্যালবেয়ার কামু, হেমিংওয়ে, এই সমস্ত নোবেল প্রাপকদের লেখনি পড়ে বড় হয়েছি। তাদের সাহিত্য স্কুল কলেজে পাঠ্য। এবার এই দিকপালদের তালিকায় আমার নাম যুক্ত হলো?‌ কিপ রিডিং…

গো টু টপ