Tag archive

সুলতান স্টোরি

ইমাম আবু হানিফা— বুদ্ধিভিত্তিক জ্ঞানচর্চার পুরোধা


গ্রেট ফকিহ অব ইসলাম— ০১ 


বিশিষ্ট তাবিয়ী বিদগ্ধ আলিম ও ইজতিহাদ জগতের মেহেরবান রাহনুমা ছিলেন হজরত ইমাম আবু হানিফা। জ্ঞান রাজ্যের শ্রেষ্ঠতম গৌরব। তিনিই সর্ব প্রথম পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর বুদ্ধিভিত্তিক গবেষণা কর্মের দুয়ার উম্মোচন করেন এবং মানুষের জীবন ও জগতের সকল পরিবর্তনশীলতার মাঝেও নববী আদর্শের নিখুত অনুসারী হয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক সফলতা অর্জনের পথ প্রদর্শন করেন। আজ মুসলিম উম্মাহর বিভিন্ন ক্ষেত্রে জ্ঞানচর্চার যত দিকপাল আমরা দেখি সবাই তাঁর কাছে ঋণী। সবাই এই ইমাম আবু হানিফার পথ ধরেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি ইসলামের বিশুদ্ধ গবেষণা ও ইজতিহাদের পথিকৃত, তিনি এই মহাজগতের পুরোধা, তিনি ইমাম আজম। পৃথিবীতে সক্রেটিস প্লেটো আইনস্টাইন প্রমুখ বিজ্ঞজন বিশ্বমানবতাকে জ্ঞান ও দর্শনের দীক্ষা দান করেছেন। তাঁরা মানুষের জীবন ও জগত সুডৌল করার পথ ও পদ্ধতি তুলে ধরেছেন। কিন্তু তাঁদের সে সব দর্শন ও দিকনির্দেশনা ছিল একপেশে, একদিকদর্শী ও অপূর্ণ।

তাদের দর্শনে জাগতিক সফলতার বহুবিদ উপকরন বিদ্যমান কিন্তু মানুষের অন্তর, মানুষের মননজগত, মানুষের মওত ও আখিরাতকে অভিষ্পিত পাওয়ার ব্যাপারে সেখানে কোন নির্দেশনা নেই। এক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা অনন্য। এক্ষেত্রে তিনি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি সাদা কালো নির্বিশেষে বিশ্ব মানবতার বিশ্বাস ও আকায়েদ, জ্ঞান ও চেতনা, নৈতিকতাবোধ, আচার আচরণ, দৈনন্দিন জীবন চলার নিখুত পথ ও পাথেয়, ইবাদত বন্দেগী, ওযীফা ওযায়েফ থেকে শুরু করে জীবনের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ ও সফলতার সহজসাধ্য নির্দেশনা পেশ করেন; তার সেই নির্দেশনা সকল পরিবর্তনশীলতার চাকার সাথে সর্বদা খাপ খাইয়ে চলার উপযোগী ও পূর্ণাঙ্গ।


লিখেছেন ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ


কিপ রিডিং…

সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত অসাধারণ একজন প্রেসিডেন্ট— ড. মাহমুদ আহমাদিনেজাদ

ঘটনাটা ২০০৮ সালের। ইরানের প্রেসিডেন্টের ছেলের বিয়ে। দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু ঠিক বিয়ের দিন দেখা গেলো অতিথিদের তেমন কোনো সাড়া নেই। তাহলে কি কট্টরপন্থী আখ্যা পাওয়া প্রেসিডেন্টকে বয়কট করতে শুরু করেছে সর্বশ্রেণির মানুষ? এনবিসি নিউজ চ্যানেলের সাংবাদিক বিয়ের বর মাহদিকেই ধরে বসলেন। জানতে পারলেন বিয়েতে মাত্র ৪৫ জন অতিথিকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। তার মধ্যে ২৫ জন নারী এবং ২০ জন পুরুষ। খোদ প্রেসিডেন্টের কাছেই সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন— এটা কি নিরাপত্তাজনিত কারণে? প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত হাসিমুখে বিনয়ের সাথে বললেন— এর চাইতে বেশি মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। দেখা গেছে— বিয়ের অনুষ্ঠানে শুধু কমলা, আপেল, কলা ও ছোট এক টুকরো কেক দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়েছে। এই প্রেসিডেন্টই হলেন ড. মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। পৃথিবীতে এমন অনেক ক্ষমতাধর নির্বাচিত হন বিভিন্ন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে । যথা নিয়মে তারা চলে যান এবং মানুষ তাদের ভুলে যায়, স্মৃতি হাতড়েও খুঁজে পায় না। এর ব্যতিক্রম যারা রয়েছেন আহমাদিনেজাদ তাদের অন্যতম। তিনি তার জীবনের সূচনালগ্ন থেকেই এমন সব নজির উপহার দিয়েছেন, যা কেবল ইসলামের সোনালী যুগের স্বর্ণমানবদের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় ।

তিনি ক্ষমতা বা অবস্থানের থেকে কাজটিকেই সবচে’ বেশি গুরুত্ব দিতেন। ধরুন, তিনি একটি তেহরান শহরের মেয়র। তার কাজ কী— তার থেকেও বেশি বিবেচনা করছেন সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম কাজটি কী। তাই তিনি সকাল বেলা নিজ হাতে তেহরানের রাস্তা ঝাড়ু দিতেন ।

আশির দশকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সময়ও মাহমুদ ছিলেন একজন সক্রিয় কর্মী। ১৯৭০ সালের শেষের দিকে ‘সারকর্ড’ শহরের মেয়রের উপদেষ্টা হিসেবে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন বলা হয়, ১৯৭৯ সালে আমেরিকান দূতাবাস আক্রমণ করে ৫৩ জন কূটনীতিককে বন্দী করা হাজারো আহমেদিনেজাদ ছিলেন একজন। ১৯৮০ সালে তিনি আর্মিতে যোগদান করেন। পরে তিনি তুর্কী বর্ডারের কাছে ‘মাকু’ শহরের মেয়র পদে নিযুক্ত হন। ১৯৯০-এর শেষের দিকে ডক্টরেট করা অবস্থায় নতুন প্রদেশ তিনি ‘আরদাবিল’ শহরের গভর্নর পদে নিযুক্ত হন। কিন্তু খাতামি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে তাকে অপসারণ করা হয়, তাই তিনি আবার শিক্ষকতায় ফিরে আসেন। ধীরে ধীরে তিনি হার্ডলাইন রেভুলেশনারি গার্ডের বিশেষ বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন। এবং এরপরই তিনি রাজনীতিতে তুমুলভাবে আত্মপ্রকাশ করেন।

২০০৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হন তেহরানের। এ-সময় শহরের মিউনিসিপ্যালিটি অফিসগুলোতে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা আলাদা এলিভেটর স্থাপন, শহরের ট্রাফিক সিস্টেমে পরিবর্তন, গরিবদের জন্য ফ্রি স্যুপের ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে ধর্মীয় মুল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া, তেহরানের ঝাড়ুদারদের সাথে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া এবং সর্বপরি তার অতি সহজ সরল জীবন যাপনের কারণে তিনি আলোচনায় আসেন এবং আস্তে আস্তে ইরানিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

যাইহোক, ২০০৫ সালে আহমাদিনেজাদ ৬২% ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। নির্বাচনী প্রচারণায় তার স্লোগান ছিল— এটা সম্ভব এবং আমরা এটা করতে পারি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে তিনি মন্তব্য করেন— ইরানের উন্নতির জন্য যুক্তরাস্ট্রের সাহায্যের কোনও প্রয়োজন নেই। তার এই কথা সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হন। কিপ রিডিং…

ওস্তাদ নোমান আলী খান— অ্যা গ্রেট টিচার অব হলি কোরআন


গ্রেট প্রিচার অব ইসলাম— ০২


নোমান আলী খান— আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন একজন মুসলিম দাঈ। পবিত্র কুরআনের জ্ঞানে তার অসাধারণ গভীরতা এবং সুন্দর উপস্থাপনা শৈলীর কারণে সমগ্র বিশ্বের মুসলিম তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব। ওস্তাদ নুমান আলী খান যুক্তরাস্ট্রে অবস্থিত বাইয়্যিনাহ ইনস্টিটিউট নামক একটি আরবি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের CEO এবং প্রতিষ্ঠাতা। বায়্যিনাহর কোর্স ফান্ডামেনটালস অফ ক্লাসিক্যাল অ্যারাবিক এবং ডিভাইন স্পিচ -এর প্রধান বক্তা তিনি।

ওস্তাদ নোমান আলী খান বিশ্বাস করেন, মুসলিমদের দায়িত্ব হলো কেবল উন্নত ও সহজ পদ্ধতিতে কুরআনের বাণী পৌঁছে দেয়া; বাকি দায়িত্ব আল্লাহর। তিনিই সব করবেন। একই মাটিতে একই বৃষ্টির পানি পড়ার পরেও যেভাবে ভিন্ন ভিন্ন ফুলের জন্ম হয়, একই ওহী মানুষের কাছে পোঁছাতে পারলে সেরকম হাজার রকমের সম্ভাবনা ও পরিবর্তনের সূচনা হবে।

মুসলিম উম্মাহর ব্যাপারে অন্যরা যেখানে কেবল অভিযোগ আর সমস্যা চিহ্নিত করে, সেখানে নোমান আলী খান দেখেন সম্ভাবনা ও স্বপ্নের দ্বার। তিনি তরুণরে মাঝে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা দেখতে পান। উম্মাহর ৭০ ভাগ তরুণকে যদি কেবল সঠিক অনুপ্রেরণা দেয়া যায়, তার বিশ্বাস, বিশ্বের চেহারাটাই পাল্টে যাবে।

মানুষকে কেবল কুরআন শিক্ষা দিয়েই যিনি বিশ্বকে পরিবর্তন করে দিতে চান, তিনি হচ্ছে বর্তমানের সব থেকে আলোচিত ব্যক্তি নোমান আলী খান। কুরআনের চমৎকার শৈল্পিক সৌন্দর্য উপস্থাপনার জন্যে তিনি বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের মুসলিম তরুণ প্রজন্মের কাছে এক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। সারা বিশ্বের মুসলিম তরুণরা আজ তাকেই ফলো করে এবং তাকে নিজেদের মডেল হিসাবে কল্পনা করে। নিজেদেরকে নোমান আলীর মত করে গড়তে চান। কুরআনের শব্দচয়ন কতটা সৃজনশীল, ভাষা কতটা মনোমুগ্ধকর, অর্থ কতটা যৌক্তিক— এগুলোই নোমান আলী খানের চিন্তাভাবনা ও আলোচনার বিষয়। তার বক্তব্যে কুরআনের অন্তর্গত সৌন্দর্য ও মুজিযা মানুষের চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে ওঠে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সভা-সেমিনার ও অনলাইনে তার বক্তব্য শুনে অসংখ্য মানুষ আলোর পথে আসছে এবং ইসলাম গ্রহণ করছে। তিনি প্রায় ২০টিরও অধিক তাফসীর গ্রন্থ পাঠ করেছেন। ফলে কুরআন নাজিলের ইতিহাস, শব্দচয়নের কারণ, ভাষার অলঙ্কার, অর্থের গভীরতা, যুক্তির প্রখরতা এবং ব্যাকরণগত শুদ্ধতার বিষয়গুলো তাঁর আলোচনায় ফুটে উঠে। কিপ রিডিং…

ভিন্ন ধারার ইসলাম প্রচারক— ডা. জাকির নায়েক


গ্রেট প্রিচার অব ইসলাম— ০১


ইসলাম শ্রেষ্ঠ ধর্ম। কুরআনে এই কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। ইসলামকে অসহনশীল হিসেবে তকমা দেয়া হয়, এটা আসলেই তাই, কিন্তু তা দুর্নীতি, বৈষম্য, অবিচার, ব্যাভিচার, মাদক এবং সকল খারাপ বিষয়বস্তুর প্রতি। ইসলাম হল সবচেয়ে “সহনশীল” ধর্ম, যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের মূল্যবোধের প্রতি সমর্থন ঠিক থাকে। এমনটাই বলেন ডা. জাকির নায়েক।

ডা. জাকির নায়েক। তিনি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম একজন ইসলাম ধর্মের প্রচারক। মানুষকে বিভিন্নভাবে ধর্মের পথে আহ্বান করাই তার কাজ। কখনো হয়তো তিনি বিভিন্ন ধর্মতত্ত্বের ব্যাখ্যা করে বা বিভিন্ন ধর্মের তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইসলামের অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করে মানুষকে ইসলামের পথে আহ্বান করছেন। আবার কখনো হয়তো কুরাআন হাদিসের আলোকে মানুষকে সঠিক পথের দিকে আহ্বান করছেন। থমাস ব্লম হানসেন লিখেছেন যে, ডা. জাকিরের ধর্মপ্রচার কর্মকা- মুসলিমদের মাঝে তাকে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তার আলোচনার বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে কয়েকটি হল, “ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞান”, “ইসলাম ও খ্রিস্টধর্ম”, এবং “ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ”।

জন্ম ও শিক্ষাকার্যক্রম : ১৯৬৫ সালের ১৮ অক্টোবর ভারতের মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার মূল নাম হচ্ছে, জাকির আবদুল করিম নায়েক। তিনি মুম্বাইয়ের সেন্ট পিটার’স হাই স্কুল (আই.সি.এস.ই) থেকে মাধ্যমিক এবং চেল্লারাম কলেজ, মুম্বাই থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর টপিওয়ালা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, নায়ের হসপিটাল, মুম্বাই থেকে পড়াশুনার পর মুম্বাই ইউনিভার্সিটি থেকে চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেন।

কিপ রিডিং…

আনিসুল হক— একজন আলোকিত নগরপিতা


জীবনের সাফল্যের নেপথ্যে তার মায়ের অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করতে গিয়ে তিনি নিজেই বলেছেন, জীবনে সাফল্য অর্জনের পথে প্রত্যেকটা মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গাটা কি জানো? সেটা হচ্ছে মায়ের দোয়া।


এই তো মাত্র কয়টা দিন আগের কথা। হঠাৎ-ই খবর এলো তিনি আর নেই। তিনি আমাদের সবাইকে ছেড়ে মহান রবের ডাকে সাড়া দিনে চলে গেছেন। তিনি আর কখনো আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন না। আমাদের এই ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে সারাক্ষণই তিনি কত চেষ্টাই না করেছেন। আমাদের এই শহরের যেকোন সংকটে রাত নেই, দিন নেই ছুটে গিয়েছেন। এতো ছোটাছুটি করতেন। কিন্তু  এই ছোটাছুটি বাবদ তিনি কখনও সরকারি অর্থ ব্যয় করতেন না। এমনকি নিজের প্রাপ্ত বেতনও দিয়ে দিতেন কর্মচারীদের।

বলছি সদ্যপ্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের কথা। তিনি শুধু মেয়রই ছিলেন না, ছিলেন নগরের অভিভাবক, নগরপিতা। একজন মেয়র হয়েও তিনি যেন ছিলেন সকলের স্বজন, একান্ত প্রিয়জন। পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন, স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়েও চলছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ-ই যেন সবকিছু থমকে গেলো! তিনি আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেলেন।

একজন আনিসুল হক : তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং টেলিভিশন উপস্থাপক। তিনি বিজিএমই-এর সভাপতি ছিলেন, পরে এফবিসিসিআইর সভাপতি হন। পরবর্তীতে সার্ক চেম্বারের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৫২ সালে চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালী জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তার শৈশবের বেশ কিছু সময় কাটে তার নানাবাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। সেখানেই তার প্রথমিক লেখাপড়। এর পরে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন এবং সর্বশেষ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।

একজন মায়ের দোয়া এবং আনিসুল হক : আনিসুল হকে জীবনের সাফল্যের নেপথ্যে তার মায়ের অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করতে গিয়ে তিনি নিজেই বলেছেন, জীবনে সাফল্য অর্জনের পথে প্রত্যেকটা মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গাটা কি জানো? সেটা হচ্ছে মায়ের দোয়া। সেই মা আমার মা, সেই মা তোমার মা, সেই মা সবার মা; সব মায়ের এক চেহারা। আমার মায়ের গল্পটা বলি। আমার মা খুব একটা শিক্ষিত ছিলেন না। আমার কিছু হলেই আমি মায়ের কাছে গিয়ে বলতাম, “আমার গায়ের ওপর একটা পা রাখো তো, আর আমাকে একটা ফুঁ দাও!” আমার জীবন এখনও ফুঁ’য়ের ওপর চলছে। আমি যখন মেট্রিক পরীক্ষা দিচ্ছি, একটা পরীক্ষার আগে আমার খুব জ্বর, একশো চার ডিগ্রী হবে। সকালবেলা উঠে আমি বললাম, মা, আমি তো পরীক্ষা দিতে পারবো না। মা বললেন, এটা কি হয় নাকি রে বাবা, পরীক্ষা না দিলে তুমি এক বছর পিছিয়ে যাবে না? আমি বললাম, আমার তো কোন উপায় নেই, আমি চোখে কিছু দেখছি না। উনি অনেক দোয়াটোয়া পড়ে আমাকে ফুঁ দিলেন, আমার হাত ধরে বললেন, চলো যাই। তিন ঘন্টার পরীক্ষা দুই ঘন্টা লিখে বেরিয়ে এলাম, বাইরে চিন্তত মুখে মা বসে আছেন। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, সবকিছু ঠিকঠাক লিখেছো? আমি বললাম, না মা, চৌত্রিশের উত্তর করে এসেছি। মা বললেন, পাশ কতোতে? আমি বললাম, তেত্রিশ। তোমার ফুঁ’তে আর কাজ হবে না মা। উনি বললেন, কাজ না হোক, এবার নামাজ পড়ে একটা ফুঁ দেই। মা সেখানে নামাজ পড়লেন দুই রাকাত, তারপর ফুঁ দিলেন সারা গায়ে। হয়তো এটা একটা কাকতালীয় ব্যপার হতেই পারে, কিন্ত পরীক্ষায় আমি চৌত্রিশে চৌত্রিশই পেয়েছিলাম!

এখনও কোন বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলে আমি মায়ের কবরের কাছে গিয়ে দাঁড়াই। মেয়র নির্বাচন করার প্রস্তাব যখন আমাকে দেয়া হলো, আমি খুবই বিপদে পড়ে গেলাম। এত কঠিণ একটা কাজ আমাকে দিয়ে হবে কিনা, এসব নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমার বাবার বয়স পঁচানব্বই, বাবাকে গিয়ে বললাম, বাবা, কি করবো? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান যে আমি মেয়র হই। বাবা বললেন, “তোমার মায়ের কাছে যাও। মায়ের কবরের কাছে গিয়ে দাঁড়াও, নিজেই বুঝতে পারবে কোনটা করা উচিত।” এটা একটা শক্তি, অন্যরকম একটা শক্তি। মানুষকে সাহসী করে তোলে।

কিপ রিডিং…

এরদোগান— অ্যা গ্রেট সুলতান


দ্য গ্রেট সুলতান— ০১


কবি এবং ফেরিওয়ালা—এ-দুটির মধ্যে সাজুয্য খুঁজে পাওয়া এবং খুঁজতে যাওয়া অসম্ভব এবং সে-ক্ষেত্রে ব্যক্তি যখন হবেন একজন রাজনীতিক, তখন আপনি বিস্মিত হবেন। হতে চাইবেন। ভেবেও বসবেন, আসলে তিনি কবি নন। তিনি রাজনীতিকই বটেন। হয়তো রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে কিংবা কাউকে ডিকটেশান দিয়ে লিখিয়ে দুয়েকবার কাব্য করেছেন। আমরা আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি, অন্তত এরদোগানের বিষয়ে আপনার ভাবনা অমূলক।

এরদোগান শুধু কবি নন, তিনি কবিতার জন্য জেলে খেটেছেন এমন এক সময়ে, যখন তিনি দেশের ক্ষমতাধর একজন। এমনকি তার দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির তখন জয়জয়কার। ২০০২ সালের নভেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিজয়ী হয়েও এরদোগান প্রধানমন্ত্রী হতে পারছেন না। কারণ, ইস্তাম্বুলের মেয়র থাকা অবস্থায় একটা কবিতা পাঠের অপরাধে তিনি শাস্তি ভোগ করছিলেন। শাস্তির মেয়াদ তখনও পূর্ণ হয় নি।

যদিও ২০০৩ সালের ১৪ মার্চ অবশেষে নানা আইনি জটিলতা পেরিয়ে তিনি তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এ-জন্য প্রথমে তার দলের সিনিয়র সদস্য এবং পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ গুলকে তার আসন থেকে পদত্যাগ করে সে-আসনে উপনির্বাচনে নিবাচিত হয়ে পার্লামেন্টে আসতে হয়েছে।

আমরা ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে, যে-কবিতাটি এরদোগান পাঠ করেছেন, তার রচয়িতা তিনি ছিলেন না। তবে তিনি সেনাবহিনীকে ‘দোয়া’ করার অসিলায় তুর্কি জাতীয়তাবাদী কবি জিয়া গোকাল্পের কবিতাটি পাঠ করেছিলেন দক্ষিণ তুরস্কের জনসভায়। সেদিন ছিলো ১৯৯৭ সালের ১২ ডিসেম্বর। Mosques are our barracks. domes our helmets, minarets our bayonets, believers our soldiers—এই হলো কবিতা। যার তর্জমা করলে দাঁড়ায়— মিনার আমাদের বেয়োনেট, গম্বুজ হেলমেট, মসজিদ আমাদের ব্যারাক, মুমিনরা আমাদের সৈন্য। কবিতার শেষে আবার ‘আল্লাহু আকবার’ শব্দগুচ্ছও আছে। সুতরাং খুবই মুসলমানি কবিতা। এই মুসলমানি ছুৎমার্গ থেকে পবিত্র করার জন্য তুরস্কের সেক্যুলার সরকার তাকে প্রায় অর্ধযুগ কারাপ্রকোষ্ঠো আটকে রাখে ।

মনে রাখা দরকার, শুধু মুসলমান নয়, যদিও সে-দেশের আকছার মুসলমান, তবে ধর্মই তুরস্কের ক্ষমতাসীন মানুষের সবচে’ বড় ভীতি ছিল। নাকি এখনও আছে? কেননা, এরদোগানের দল একেপিকে তুরস্কের সেক্যুলার দল বলেই সে-দেশে গণ্য করা হয়। এবং এরদোগানকে তুরস্কের জাতির পিতা (আতুতুর্ক) মোস্তফা কামাল পাশার উত্তসূরিও ভাবা হয়; যিনি ছিলেন আধুনিক তুরস্কের প্রথম রাষ্ট্রপতি। ১৯২২ সালে অটোম্যান সম্রাজ্যের পতন করে ১৯২৩ সালে সেক্যুলার রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। সেক্যুলারিজমকে সে-দেশে কামালিজমও বলা হয়। আতুতুর্ক ঘোষণা দিয়েছিলেন— ধর্ম বলতে কিছুই নেই, ধর্ম হলো মানুষকে শাসন করার একটা পদ্ধতি মাত্র। কোনো জাতির উন্নতির জন্য ধর্মমুক্ত হওয়া ছাড়া কোন পথ নেই । তাই আজ থেকে আমার রাষ্ট্রকে ধর্ম মুক্ত হিসাবে ঘোষণা করলাম। কিপ রিডিং…

অসত্য তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াকু মিকদাদ


মুসলিম হিরোজ— ০১


এই যুবকের পুরো নাম মিকদাদ ভার্সি। ভুল আর অসত্য তথ্যের বিরুদ্ধে অসম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গত বছর (২০১৬) একটি পত্রিকা যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদন করেছিল। ওই খবর চ্যালেঞ্জ করেন মিকদাদ ভার্সি। তার প্রতিবাদে পত্রিকাটি তাদের সংবাদ সংশোধন করতে বাধ্য হয় । তারপর থেকেই মিকদাদ কোমার বেঁধে মাঠে নেমেছেন।

এমনিতে যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমগুলো প্রায় প্রতিদিনই ইসলাম কিংবা মুসলিমদের নিয়ে কোনো না কোনো সংবাদ প্রকাশ করে। এসব খবরের কত ভাগ সত্য আর কত ভাগ মিথ্যা, সে বিষয়ে সঠিক হিসাব পাওয়া সম্ভব না হলেও বলা যায়— এসব সংবাদের অধিকাংশই ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য নেতিবাচক। সুযোগ পেলেই ‘ইসলাম’ কিংবা ‘মুসলিম’ শব্দগুলো টেনে আনার অভিযোগ আছে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে।

এটাই মিকদাদকে একটি নতুন লড়াই শুরু করার প্রেরণা যুগিয়েছে ।

মিকদাদ প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিম শব্দ দুটির ওপর বিশেষভাবে নজর রাখেন। অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্ট খবরের সত্যতা না পেলে তিনি প্রতিবাদ করেন এবং সেটি প্রত্যাহার বা সংশোধন করতে বাধ্য করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় গত কয়েক মাসে ২০টি সংবাদের সংশোধনী ছেপেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। তাঁর করা আরও ২০টি অভিযোগ বর্তমানে ‘ইন্ডিপেনডেন্ট প্রেস স্ট্যান্ডার্ড অরগানাইজেশন’-এ সুরাহার অপেক্ষায়। মুসলিমদের জড়িয়ে ভুল বা অসত্য সংবাদ দেখলেই অভিযোগ ঠুকে দেন মিকদাদ।

ভুল ও অসত্যের বিরুদ্ধে মিকদাদের এ কার্যক্রম নিয়ে গত ২২ জানুয়ারি সংবাদ প্রচার করে বিবিসি। দ্য গার্ডিয়ানসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। বিবিসির শিরোনাম ছিলো— ‘কোনো ভুল কোরো না’। আর দ্য গার্ডিয়ান শিরোনাম করে— ‘সংবাদমাধ্যমগুলো মুসলিমদের নিয়ে অসত্য খবর ছেপেই যাচ্ছে’। এ পর্যন্ত ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিকদাদের অন্তত ২০ টিরও অধিক প্রতিবাদী লেখা ছেপেছে :

—Stop using other marginalized groups as an excuse to attack Muslim

—The British media shares the blame for Anjem Choudary’s influence

—Muslims like me are asked the same questions after any terrorist attack. For the record, here are our answer

—Isis battle is only propaganda while PM befriends Saudi extremists কিপ রিডিং…

সিঙ্গাপুরের প্রথম মুসলিম নারী প্রেসিডেন্ট হালিমা ইয়াকুব

by


কে এই হালিমা ইয়াকুব? কীভাবে তিনি আজকেই এই অবস্থানে? কেন তিনি সব সময় হিজাব পরেন? তার বংশ পরিচয় কী? কখন কোথায় পড়াশুনা করেছেন- এসব তথ্য জানতে পড়ুন এই ফিচারটি। লিখেছেন মিরাজ রহমান


বিশ্বব্যাপি আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশ্বমিডিয়ার টক অব দ্য উইক এখন এই বিষয়টি। কি সেই বিষয়? বিষয়টি হলো- ৪৭ বছরের ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটছে সিঙ্গাপুরে। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বিশ্বের উন্নয়নশীল অন্যতম রাষ্ট্র সিঙ্গাপুরে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন একজন মুসলিম নারী। প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট, সেই সঙ্গে প্রথম মুসলিম নারী রাষ্ট্রপতি। হালিমা ইয়াকুব- তার পুরো নাম হালিমা বিনতে ইয়াকুব।

দীর্ঘদিন যাবত সিঙ্গাপুরে অবস্থানকারী এবং সিঙ্গাপুরের রাজনীতির সাথে বহুকাল ধরে জড়িত এই নারীকে নিয়ে কূটনৈতিকপাড়াসহ বিশ্বমোঘলদের টেবিল এখন আলোচনামূখর। প্রশ্ন একটাই- কে এই হিজাবি মুসলিম নারী হালিমা? কী তার নেপথ্য পরিচয়? এবং কীভাবেই বা আজকের এই অবস্থানে অধিষ্ঠিত তিনি?

গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার সিঙ্গাপুরের নির্বাচন বিভাগ (ইএলডি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার তালিকাতে থাকা অন্য দুই প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করার মাধ্যমে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে হালিমা ইয়াকুবের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি এখন শতভাগ নিশ্চিত। আরো কোনো বাধা বা কোনো সমস্যা নেই এই প্রক্রিয়ায়। খবর রয়টার্স ও স্ট্রেইটস টাইমসের। এছাড়া প্রায় সব বিশ্বমিডিয়াই কভার করেছে স্টোরিটি।

বাধা বা সমস্যা নেই কিন্তু প্রশ্ন কিন্তু রয়ে গেছে সেই আগেরটাই। কী প্রশ্ন? প্রশ্ন হলো- কে এই হিজাবি মুসলিম নারী হালিমা? কী তার নেপথ্য পরিচয়? এবং কীভাবেই বা আজকের এই অবস্থানে অধিষ্ঠিত তিনি?

প্রশ্নকারীরাসহ মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষ হালিমা ইয়াকুবের জীবনীতথ্য জানা প্রয়োজন। শিক্ষণীয় এবং উৎসাহ জাগানিয়া অনেক তথ্য রয়েছে তার জীবন ধারায়। সামান্য একটি দরিদ্র পরিবার থেকে একটি দেশের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থানে অধিষ্ঠিত হওয়ার নানা নেপথ্য কথন রয়েছে এই জীবনে। রয়েছে ঘাত-প্রতিঘাত আর সমস্যা সঙ্কুল পথ পাড়ি দিয়ে চলা অটল অস্তিত্বের অধিকারীনী একজন নারীর পরিচয়।

অধিকাংশ স্কলারদের দাবি হালিমা মালয় জাতিভুক্ত এবং মালয় জাতিভুক্ত হিসেবেই সংরক্ষণ নীতির আওতায় সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু কারো দাবি ভারতীয় মুসলমান বাবা এবং মালয়েশিয়ান মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া কন্যা সন্তান হালিমা ইয়াকুব। আর মুসলিমরা যেহেতু বাবা বা পিতার বংশের হিসেবে বংশ পরম্পরা বিবেচনা করে সেহেতু হালিমা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী।

উইকিপিডিয়া বলছে, তার পুরা নাম হালিমা বিনতে ইয়াকুব। অর্থাৎ ইয়াকুব তার পিতার নাম আর তিনি ইয়াকুবের কন্যা হালিমা। কুইন স্ট্রিটে ১৯৫৪ সালের ২৩ আগস্ট তার জন্ম। তিনি একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ।

কিপ রিডিং…

ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর অজানা ইতিহাস

আলী আবদুল্লাহ সালেহ- একজন ইয়েমেনী রাজনীতিবিদ। একজন মুসলিম নেতা। প্রসিদ্ধ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। রাষ্ট্রপতি আহমদ আল-ঘশ্মির হত্যার পর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন যিনি। তিনি ১৭ জুলাই ১৯৭৮ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে উত্তর ইয়েমেনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সালের ২২ মে উত্তর ইয়েমেনের সাথে দক্ষিণ ইয়েমেনের মিলিত হওয়ার পর আবদুল্লাহ সালেহ নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য রাজনৈতিক দল জেনারেল পিপলস কংগ্রেসের পার্টি পক্ষ থেকে সাবেক প্রেসিডেন্টের আবদুল্লাহ সালেহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ৭৫ বছর বয়সী এই শক্তিশালী নেতা প্রায় তিন দশক ধরে ইয়েমেন শাসন করার পর ২০১২ সালে রাজনৈতিক চাপের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন।

আলী আব্দুল্লাহ সালেহ ১৯৪২ সালের ২১ মার্চ ইয়েমেনের বেয়াত এল-আহমার গ্রামে একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৮ সালে উত্তর ইয়েমেনী সশস্ত্র বাহিনীতে একটি পদাতিক সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। এরপূর্বে তিনি মালেমা গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর ১৯৬০ সালে উত্তর ইয়েমেন মিলিটারি একাডেমিতে ভর্তি হন। তিন বছর পর ১৯৬৩ সালে, তিনি আমর্ড কর্পসে দ্বিতীয় লেফটেন্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আলী আবদুল্লাহ সালেহ নাসরীর অনুপ্রাণিত আর্মি অভ্যুত্থানে অংশ নেন, যা কিং মুহম্মদ আল-বদরকে অপসারণ ও ইয়েমেন আরবি রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়কেআন্দোলনি ছিল। ১৯৭৮ সালের ১৭  জুলাই ইয়েমেনের আরব প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচন হন। একই সাথে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ও পদাতিক বাহিনীর পদে এবং সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ পদে দায়িত্ব পালন করেন। কিপ রিডিং…

কবি সাইদ সারমাদ : এখনো বেঁচে আছেন!


উপমহাদেশে এক মহাবিস্ময় ছিলেন সারমাদ। কবিতা লিখেছেন, তবে কবিদের মতো ছিলেন না মোটেই। বিবস্ত্র হয়ে ঘুরে বেড়াতেন, অথচ ধর্মের আলখেল্লা জড়ানো সূফিরা তাকে নমস্কার জানাতে কুণ্ঠিত হতো না।


বেঁচে থাকার প্রশ্নটা এলো– কারণ সারমাদকে মারার চেষ্টাটাই হয়েছে সবচে’ বেশি। রাজার কালহাত পড়েছে কবির মাথায়। তারপরও কি বেঁচে থাকা যায় ? সারমাদকে মারতে কোন আয়োজন বাদ রেখেছেন আওরঙ্গজেব ? রাজ্যের যোগ্য উত্তরাধিকারী (ইতিহাস তো সেটাই বলে) ভাইকে হত্যা করেছেন তিনি; কেননা, সে সারমাদের ভীষণ ন্যাওটা ছিলো। নেংটা বাবা তো সারমাদ আগেই ছিলেন, এর ওপর এবার কলঙ্ক রটলো যে, সারমাদ আসলে মুসলিম নয়। তাতে কি ! মুসলিম হতে বয়েই গেছে সারমাদের ! কিন্তু সারমাদ যেহেতু কবি, তাই কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি তার অভিব্যক্তি জানালেন অকপটে–

ও রাজা, শোনো, নেংটা আমি বটে, কিন্তু অসাধু নই তোমার মতো

মসজিদেও যেতে পারি চাইলে কিন্তু তোমার মতো মুসলিম হয়ে নয়

উপমহাদেশে এক মহাবিস্ময় ছিলেন সারমাদ। কবিতা লিখেছেন, তবে কবিদের মতো ছিলেন না মোটেই। বিবস্ত্র হয়ে ঘুরে বেড়াতেন, অথচ ধর্মের আলখেল্লা জড়ানো সূফিরা তাকে নমস্কার জানাতে কুণ্ঠিত হতো না। তিনি হিন্দুদের কাছেও গর্বের ধন বলে বিবেচিত হতেন। অথচ তার পরিচয়ের সূত্র খুঁজতে গেলে বেড়িয়ে আসে, তিনি ছিলেন মূলত আর্মেনিয়ান ইহুদি। ১৬৬১ সালে যখন বাদশা আওরঙ্গজেব তাকে মৃত্যুদ- দিলেন, তারপর  থেকে অন্তত ৩৫০ বছর সারমাদকে এমনভাবে ‘নীলকুঠির চুনের গুদামে’ পুরে রাখা হয় যে, কর্পোরেট লেখকেরা কষ্ট করে তার দেহখানি আর তুলে আনার হিম্মতও পাচ্ছিলেন না। সন্দেহ নেই, আমাদের উপমহাদেশের মুসলিম কিংবা বেদীন সব ঐতিহাসিকেরা কমবেশি আওরঙ্গজেবের ভক্ত আছেন। তারও সঙ্গত কারণ আছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুই অর্থেই আওরঙ্গজেব ভারতবর্ষকে একটা বিত্ত-বৈভবের স্থানে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন। সতেরো শতাব্দিতে পুরো দুনিয়ার মোট জিডিপির চার ভাগের এক ভাগ (৩৭০ বিলিয়নের মধ্যে ৯১ বিলিয়ন) আয় ছিলো তখন ভারতের। বাদশাও এই সুযোগটি যথার্থই ব্যবহার করেছেন। নিজের পিতাকে বন্দি রাখা, ভাইদের হত্যা করা এবং সবশেষে সারমাদের মতো মহাপুরুষকে মৃত্যুদ- দেয়ার পাপ তিনি ঢাকতে চেয়েছেন নিজের সব উন্নতির নেমক ছড়িয়ে। তাই আওরঙ্গজেবে মূর্চ্ছিত ঐতিহাসিকেরা যথেচ্ছা গুণগান গেয়ে সারমাদকে সযত্নে ছেঁটে ফেলে দিয়েছেন তাদের ইতিহাস থেকে। কিপ রিডিং…

গো টু টপ