Tag archive

সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ

ইসলামিক ব্যাংকিং এবং প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের মাঝে মৌলিক পার্থক্য কী?



এম আযীযুল হক : সাধারণত ব্যাংক বলা হয় (অপর বানান: ব্যাঙ্ক) এক ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা সাধারণ মানুষের সঞ্চয় সংগ্রহ করে পুঁজি গড়ে তোলে এবং সেই পুঁজি উদ্যোক্তাদের ধার দিয়ে বিনিয়োগে সাহায্য করে। এছাড়া আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংক দায়িত্ব পালন করে থাকে। আধুনিক পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাংক একটি দেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। দেশ-বিদেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-কে সচল ও কার্যকর রাখতে এর ভূমিকা অপরিসীম। ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্রীয় সঞ্চয়, লেনদেন ইত্যাদির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে এ প্রতিষ্ঠানটি। ব্যাংক ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় সঞ্চিত অর্থ জমা রাখে এবং ঐ অর্থ ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানে ঋণ গ্রহণ করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। নির্দিষ্ট সময় বা মেয়াদান্তে গ্রাহকের জমাকৃত অর্থের ওপর সুদ বা মুনাফা প্রদান করে।
আর Organization of Islammic Conference (OIC) কর্তৃক প্রদত্ত ইসলামী ব্যাংকের একটি সংজ্ঞা রয়েছে, যেটি সবচেয়ে সামগ্রিক ও বিশ্বজনীন। ইসলামী ব্যাংক এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা তার মৌলিক বিধান ও কর্মপদ্ধতির সকল স্তরেই ইসলামী শরিয়াহ নীতিমালা মেনে চলতে বদ্ধ পরিকর এবং কর্মকা-ের সব পর্যায়ে সুদকে বর্জন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই সংজ্ঞার আলোকে ইসলামী ব্যাংকের মৌলিক অবকাঠামো নির্ধারিত হয়- এক. আর্থিক প্রতিষ্ঠান হওয়া। দুই. মৌলিক বিধান ও কর্মপদ্ধতির সকল স্তর ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত হওয়া। তিন. শরিয়াহ নীতিমালা মেনে চলার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর থাকা। চার. কর্মকাণ্ডের সব পর্যায়ে সুদকে বর্জন করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়া।

পার্থক্য হলো- উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরুর মাঝে যেমন বা যতটুকু পার্থক্য রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বা ইসলামিক ব্যাংকিং এবং জেনারেল ব্যাংক বা জেনারেল ব্যাংকিংয়ের মাঝে তেমন পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু আফসোসের বিষয় হচ্ছে- এখন যেভাবে ইসলামিক ব্যাংকিং চর্চা হচ্ছে বা চলছে তাতে এই পার্থক্য জনসম্মুখে প্রকাশিত হচ্ছে না। মূল বিষয় হলো, মানি অ্যান্ড কমোডিটি- দুইটা দুই জিনিস। অর্থনীতির ভাষায় কমোডিটি হলো যার ইউটিলিটি আছে। যা আমাদের প্রয়োজন মিটাতে পারে তা হলো কমোডিটি। যেমন, ধান, চাল ইত্যাদি। এগুলো সরাসরি মানুষের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। আর মানি হলো- সে নিজে কোনো চাহিদা মিটানোর ক্ষমতা রাখে না কিন্তু পরিবর্তিত হয়ে, অন্য জিনিসে রূপান্তরিত হয়ে চাহিদা মিটাতে সক্ষম হয়। টাকা দিয়ে অন্য জিনিস এনে চাহিদা মিটানো সম্ভব, কিন্তু টাকা নিজে সরাসরি কোনো চাহিদা মিটাতে সক্ষম নয়।


পার্থক্য হলো- উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরুর মাঝে যেমন বা যতটুকু পার্থক্য রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বা ইসলামিক ব্যাংকিং এবং জেনারেল ব্যাংক বা জেনারেল ব্যাংকিংয়ের মাঝে তেমন পার্থক্য রয়েছে। মূল বিষয় হলো, মানি অ্যান্ড কমোডিটি। কনভেনশনাল ব্যাংক বা সাধারণ ব্যাংক টাকার ব্যবসা করে এবং ইসলামী ব্যাংক কমোডিটির ব্যবসা করে। সাধারণ ব্যাংকের ব্যবসা হচ্ছে মানি টু মানি। আর ইসলামিক ব্যাংকিং হলো বেইজড অন বাইয়া বা ব্যবসা। এখানে মানি টু মানির ব্যবসার কোনো অপশন নেই। 


কিপ রিডিং…

ইসলামি ব্যাংকিং শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত


প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্বরত মোট ২২জন নির্বাহী কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপি কর্মশালাটি প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণের মাধ্যমে শেষ হয়।


সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ ও ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী “ইসলামী ব্যাংকিং” শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ডের সেক্রেটারি জেনারেল জনাব একিউএম ছফিউল্লাহ্ আরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব মারুফ মনসুর। প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, এবি ব্যাংক লিমিটেড ও আইএফআইএল-এর শরীআহ্ সুপারভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান এবং সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান জনাব এম আযীযুল হক। প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্বরত মোট ২২জন নির্বাহী কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে ইসলামিক ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ সুদমুক্ত আর্থিক কার্যক্রম প্রবর্তনের মাধ্যমে সমাজকে সুদের কুফল থেকে মুক্ত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য, দুর্নীতি -এ সবের মূলে রয়েছে সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা। ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এই বৈষম্য ও অস্থিরতা দূর করা সম্ভব। কিপ রিডিং…

গো টু টপ